প্রেমে পড়া বারণ । পর্ব -০১

দরজায় ধুমধাম শব্দে মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
সেই কখন থেকে একটু পরপর দরজায় বিভিন্ন ধরনের শব্দ!
বুঝাই যাচ্ছে কেউ হাতে ধাক্কা দিচ্ছে, আবার লাথিও দিচ্ছে!!
— ভেতরে ঢুকে কি মরে গেছিস? দরজা খুলে বেরিয়ে আয়!
খুল বলছি….! না হলে ভেঙে ফেলবো দরজা!
— উফফফ! ভাল্লাগে না!শান্তিতে শাওয়ার নিবো তারও উপায় নেই!
কিছুক্ষণ পরে দরজা খুললাম।
— কি হয়েছে? দরজা ভেঙে ফেলবে নাকি ?!
— কি হয়েছে?!! আবার জিজ্ঞেস করছিস?তুই শাওয়ার নিতে ঢুকিস নাকি ঘুমাতে?
আম্মুকে পাশ কাটিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে বললাম,
— শুনো আম্মু,ওয়াশরুম বিষয়টা একটা অন্যরকম বিষয়, ওটা তুমি বুঝবে না।
— বুঝা, আমিও বুঝি অন্যরকম বিষয়টা কি!
একটু সরে গিয়ে আম্মুর হাতের দিকে তাঁকিয়ে বললাম,
— হাতের খুন্তিটা নামাও।আমার তাড়া আছে। পরে এসে সব বুঝিয়ে বলবো।
— আগে বল,না বলে এক পাও নড়তে পারবি না।
— চুলায় কি চাঁপিয়ে আসছো! দেখো পোড়া পোড়া গন্ধ আসছে!!
— পুড়ে যাক। আজ পোড়া খাবারই খাওয়াবো।তুই আগে বল,আমি ভালো করে বুঝে নিই!
— ছাড়বেই নাহ!!
আচ্ছা শুনো , তোমরা শাওয়ার নিয়ে চলে আসো! কিন্তু আমার কাছে এটা কি জানো?
চিন্তাগার! গবেষণাগারে হয় গবেষণা আর চিন্তাগারে হয় চিন্তা!!
শাওয়ার নেয়ার সময় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চিন্তা করি, তারপর সিদ্ধান্ত নিই।।এটাকে সোজাসাপটা করে বললে চিন্তার ল্যাব বলতে পারো!
— কিইইই বাথরুম এখন ল্যাব! তাও আবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিন্তা করিস?!!
— হা! করি তো।
কারণ তখন আমি বিশিষ্ট চিন্তাবিদ হয়ে যাই।।
— কি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?
— অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়!
কোন ক্লাস করা যাবে, আর কোন স্যারের এসাইনমেন্ট কবে সাবমিট করতে হবে !
ক্লাস কোনটা না করলেও চলবে! কেমন ছবিটা প্রোফাইলে দিবো!
.
তারপর মনে করো আমার তো সিনেমার নায়িকা হবার খুব ইচ্ছে! কিন্তু তুমি সেটা শুনলেই তো জুতা খুলে দৌড়াও! আমার মনে তো একটা আক্ষেপ থেকেই যায়! তাই না?
এক শ্বাসে কথাগুলো বলে ফেললাম।।
— সিনেমার সাথে শাওয়ারের কি সম্পর্ক?!!
— আছে আছে! শাওয়ার নেবার সময় আমার নিজেকে নায়িকা মনে হয় ।।
আর বাংলা সিনেমার নায়িকারা গাছ ধরে, ঝুলে কিভাবে গান গায়! আমি সেভাবে স্ট্যান্ডে ঝুলে গাইবার চেষ্টা করি।
আমি কিন্তু দারুণ অভিনয় করি আম্মু,কিন্তু তুমি কোনো দিন পাত্তাই দিলে না!
— ফাইজলামি করিস আমার সাথে!!হে….নিয
েকে নায়িকা মনে হয়???
— ওমা! ফাজলামি করবো কেন?? তুমিই তো জিজ্ঞেস করলে!
— জুতা চিনছ?
আমি জানি এবার নির্ঘাত মাইর খাবো আম্মুর হাতে।কিন্তু ভাগ্য ভালো, এমন সময় আব্বু এসে উদ্ধার করলেন।
— কি হয়েছে? এতো চেঁচামেচি কিসের?
— তোমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করো।
শাওয়ারে ঢুকলে দুই ঘন্টার আগে বের হয় না। এতো বড় মেয়ে! ঘরের কাজে একটু সাহায্য করবে তা না! দুই ঘন্টা ধরে শাওয়ার নিবে তারপর খেয়ে চলে যাবে!
আমি তো আছি কাজের বুয়া!
— বাদ দাও তো। তাড়াতাড়ি নাস্তা দাও। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
— যাও দিচ্ছি।
— আর শোনো কালকে একটা ফাইল দিয়ে ছিলাম। কোথায় রেখেছো খুঁজে পাচ্ছি না।
— তা পাবে কেন? আমি তো আছি!!
সারাদিন তোমার রান্নাঘরে পড়ে থাকবো আর সেখানে থেকে তোমার অফিসের ফাইল সামলাবো!
রাগে গড়গড় করতে করতে আম্মু চলে গেলেন।
— হিহিহিহি… আব্বু..
এবার ঘূর্ণিঝড় মনে হচ্ছে তোমার উপর বয়ে যাবে!!
— কেন এসব করিস? কথা শুনিস না কেন??তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়।আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
— আচ্ছা তুমি যাও।পাঁচ মিনিটে আসছি।।
যার যা কাজ থাকুক নাস্তা সবাই একসাথে বসে করবে।এটাই আমাদের বাসার নিয়ম।
নাস্তা করে আব্বু অফিসে চলে যাবার পর রুমে এসে ভার্সিটিতে যাবার জন্য রেডি হচ্ছি।
— আপু, তুই কি ভার্সিটিতে যাচ্ছিস এখন?
— না তো! কেন??
— কোথায় যাচ্ছিস তাহলে?
চোখে কাজল দিতে দিতে বললাম,
— বলা যাবে না, সিক্রেট!
— প্লিজ বল না! কই যাবি?
— বললাম না সিক্রেট! সিক্রেট কাউকে বলতে নেই!
— আমি তোর একটা মাত্র ভাই আমাকে বলবি না?
— একমাত্র ভাই হবি কেন? আমার কি আর কোনো বোন নেই?
— তাতে কি? ভাই তো একা আমিই!!
— ওহহহ! তাই তো!! একদম ভুলে গিয়ে ছিলাম।।
— ধ্যাৎ!! বল না কোথায় যাবি?
— বলবো?
— হুমম।।
— কাউকে বলবি না তো??
— কাউকে বলবো না।
— পাক্কা?
— একদম পাক্কা।।
— আজকে তেমন ইম্পোর্টেন্ট ক্লাস নেই,২-১ টা আছে, তবে করবো না। আজকে একটা প্ল্যান আছে।
— কি প্ল্যান?
— সিনেমা দেখবো, তারপর বাইরে লাঞ্চ করবো।
— তাহসিন ভাইয়ার সাথে?
— হা।।
— আর কেউ যাবে না?
— ধ্যাৎ!! আমি আর তাহসিন যাবো আর কাউকে নিবো কেন? তুই-ই বল নেয়া উচিত?
রিফাত মাথা নেড়ে বললো,
— না
— এইজন্যই কাউকে নিবো না।উচিত হলে নিতাম। তুই কিন্তু কাউকে বলবি না। পাক্কা কথা দিয়েছিস।
— আরে নাহ! কাকে বলবো?? কাউকে বলবো না।।
— That’s like a good boy!!
আচ্ছা, আমি গেলাম।
তড়িঘড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম।
— আপু তোর মোবাইল নিবি না?
— ওহহহ… ভুলেই গিয়ে ছিলাম।
উল্টো দৌড়ে গিয়ে রিফাতের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে আম্মুকে বলে বেরিয়ে এলাম।
— রিয়া… অই রিয়া….
পিছনে ফিরে দেখি তাহসিন হাঁপাতে হাঁপাতে আসছে।
— এভাবে হাঁপাচ্ছিস কেন?
— তোর পেছনে দৌড়ে! কখন থেকে ডাকছি শুনতে পাস না?
— পেয়েছি।।
— তাহলে দাঁড়ালি না কেন?
— ইচ্ছে হয়নি তাই।
— উহহহ…!!! ইচ্ছে হয়নি তা-ই!! কানে কম শুনিস সেটা তো স্বীকার করবি না।
— আমি নাহয় কম শুনি,কিন্তু তুই ষাঁড়ের মতো চেঁচিয়ে ডাকছিস কেন? ফোন করলেই তো হতো।
— তাই তো!! আমি কি বোঁকা!! ইসস… একবার যদি মনে হতো তাহলে তো এভাবে দৌড়াতে হতো না।
তো মহারানী, আপনার মোবাইল খানা কোথায় রাখিয়াছেন? দয়া করে সেটা একবার দেখালে এই বান্দা বড়ই কৃতার্থ হতো!!
তাহসিনের কথায় মনে হচ্ছে কিছু একটা গন্ডগোল আছে।ফোন বের করে দেখি ৮টা মিসড কল!!
অহহ.. এই কাহিনী।।
— ফোন সাইলেন্ট ছিলো। এবার বল কি হইছে?
— চলে বসে বলছি। হাঁপিয়ে গেছি।
— চল।
ফিরে হাঁটা শুরু করলাম।
— অইদিকে কই যাচ্ছিস?
— ক্লাসে যাবি না?
— এই ক্লাস অফ রে..
— কেন?
— মেম চলে গেলেন। কিছু আর্জেন্ট বোধহয়।
— ইসসরে… তোর তো আজ কপাল খারাপ।
— কেন?
— এইযে মেম ক্লাস নিবেন না।মিস হয়ে গেলো মেমের সাথে ক্লাস!!
— তো কি হয়েছে? ক্লাস তো মিস হতেই পারে।
— এ কি শুধু ক্লাস মিস! কারো যে হার্টবিটও মিস হয়ে যায় সে খবর কি আমরা জানি না?
— ওহহ… মেম তো আমার ক্রাশ! সেটা তো সবাই জানে। উনার মতো মেম এর স্টুডেন্ট হতে পেরেছি, এইজন্য নিজেকে লাকি মনে করি।
— তা যা বলেছিস।
চল ক্যান্টিনে যাই।
— নাহ,বাইরে চল। চা খাবি?
— চল।
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের বাইরে অনেক গুলো চায়ের টঙ দোকান আছে। এগুলে তো সারাক্ষণ স্টুডেন্টদের আড্ডা চলছেই।।
আমি আর তাহসিন আমাদের প্রিয় দোকানটায় এসে বসলাম।
ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট আর যত ভালো ফাস্টফুড গ্যালারি, ক্যাফেটেরিয়া থাকুক একদিন এই ছোট্ট চায়ের দোকানটা বড্ড মিস করবো।
.
রাস্তার পাশে বেঞ্চে বসে এমন একটা দোকানের চা খেতে খেতে কতশত আড্ডা দিয়ে প্রায় চার বছর কেটে গেছে। আর এই একটা বছরের দিনগুলো কেটে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ চুকে যাবে।।
কত হাসি কান্না ভালবাসা মিশে আছে এই ছোট চায়ের দোকানে!!
— খোকন… দুইটা চা দে। আমার কিন্তু স্পেশালটা,কড়া লিকার।
— ভাই আপনার স্পেশাল আমার মুখস্থ আছে, তারপরও আপনার মুখে না শুনলে খালি খালি লাগে।।
বলেই খোকন হাসিমুখে চা বানাচ্ছে।
খোকনের বয়স প্রায় পনেরো-ষোলো হবে। খুব হাসিখুশি একটা ছেলে।।
— নিন আপা….
হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপটা নিলাম।
— আহহ…
তাহসিনের তৃপ্তি এই এক চুমুকেই। — খোকন রে… কি চা বানাসরে ভাই??!! একদিন তোর চা না খেলে আমার মাথা ধরে যায়।
— কি যে বলেন ভাই!!
আমি তারপর বললাম,
— কি যেন বলবি?
— ও হা! ভুলেই গেছি। শোন তোকে জরুরি একটা কথা বলবো। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবি।।
— হা। বল।
— আরে বলছি তো।মন দিয়ে শুনবি।।
চায়ের কাপটা সামনে রেখে গালে হাত দিয়ে বললাম,
— মন দিলাম। এবার বল।
— শুন, আমি একটা সিরিয়াস সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। তোর একটা পরামর্শ দরকার।
লাইফের খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত!!
— বুঝলাম। বল শুনি।।
— আনিষার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে!.
— কি বলিস? হুট করে!!
— হা। বুঝতে পারছিনা কি করবো। বাসায় জানাবো তার উপায় নেই। জব নাই, কিছু নাই। এখন যদি বাসায় বলি আব্বু আমাকে জুতাপেটা করে বাসা থেকে বের করবে।
— হিহিহিহি….
— হাসছিস কেন?.?
— কিছু না…. এমনি।
— না বল.. আমি কি বললাম হাসির?
— আরে কিছু না… বললি না আঙ্কেল জুতাপেটা করবে? আমার চোখের সামনে ভাসছে কিভাবে তোকে সাইজ করছে …
চিন্তা করিস না,তোর গন্ডারের চামড়া। জীবনে কম খেয়েছিস? বড় হয়ে আবার নাহয় খেলি, আনিষার জন্য!
— তোর সব কিছুতেই হেঁয়ালি! ধ্যাৎ!!
— আচ্ছা সরি….সরি।।
এবার বল তুই কি করবি ঠিক করেছিস?
— পালিয়ে যাবো।
— কিহ???? তাহসিনের কথা শুনে আমার চোখ কপালে উঠে গেছে।
— হা পালিয়েই যাবো। তাছাড়া আর রাস্তা নেই।
— পালিয়ে যে যাবি বউকে কি খাওয়াবি? কই রাখবি?
— টিউশনির টাকা কিছু আছে, খরচ করা হয়নি।
৫/৬ মাস বাইরে বাসা নিয়ে থাকা যাবে। দরকার হলে বাইক বিক্রি করে দিবো।
আর এর মধ্যে আব্বুকে ম্যানেজ করতে পারলে তো… নো চিন্তা!
— তুই ফুপিকে চিনিস না?! তুই পালিয়ে গেলে তোকে জীবনে ঘরে তুলবে বলে মনে হয় তোর?
— এ ছাড়া আর কি করতে পারি বল? বুদ্ধি দে। আমার মাথায় আপাতত আর কিছু আসছে না। আনিষার বিয়ে হয়ে গেলে কি হবে!!
.
তাহসিন হচ্ছে আমার কাজিন। আমরা সমবয়সী।একই ইউনিভার্সিটিতে ও একই ডিপার্টমেন্টে। তাই ওর সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব।
আর আমার ভাই রিফাতের ধারণা আমাদের মধ্যে প্রেমের একটা সম্পর্ক আছে, যা আমরা কাউকে দেখাই না।
রিফাত মুখে কিছু না বললেও সেটা আমি জানি।
রিফাত এবার ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছে। এখন এডমিশন টেষ্টের জন্য পড়াশোনা করছে।এটাই আপাতত ওর কাজ।।
.
ওহ না! আরও একটা কাজ আছে রিফাতের।।
আম্মুর কাছে আমার যত খবর আছে সব পৌঁছে দেয়া।
আমার স্পাই!!
কিন্তু রিফাত জানে না ওর স্পাই হিয়া।
তিন ভাইবোনের মধ্যে হিয়া ছোট। ছোট বললেও রিফাত আর ওর বয়সের ডিফারেন্স পাঁচ মিনিটের।
হিয়া রিফাতের পাঁচ মিনিটের ছোট। তাই সারাক্ষণ টম আর জেরির মতো একজন আরেকজনের পিছনে লেগেই থাকে।
আর এদিকে বেচারা তাহসিন আনিষায় ডুবে আছে সেই খবর রিফাত জানে না, তবে হিয়া জানে।
আনিষা অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। কয়েকবার দেখেছি মেয়েটাকে। তাহসিন অনেক টেনশনে আছে বুঝতে পারছি।
— এতো তাড়াহুড়োর কি ছিলো? আনিষার গ্রেজুয়েশনই শেষ হয়নি।।
— কে বুঝাবে ওর বাবা-মাকে? রিলেশনের কথা ওর বাসায় জেনে গেছে। তাই আরও তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্থা করেছে।
— তুই একবার ফুপিকে বুঝিয়ে বল। দেখ ফুপি কি বলে। তারপর অন্য চিন্তা করা যাবে।
— বলবো?
— হা। বলা উচিত।
.
— কি ব্যাপার? খুব সিরিয়াস আলোচনা চলছে মনে হচ্ছে।
রোহানের গলা শুনে পিছনে ফিরে দেখি রোহান আর খুশবু দাঁড়িয়ে আছে।
— হা অনেক সিরিয়াস ইস্যু। আনিষাকে নিয়ে তাহসিন পালিয়ে যাবে। সেই প্ল্যান করছিলাম।
তোরা এতো সময় কই ছিলি?
— ক্যাম্পাসেই ছিলাম। কি রে দোস্ত আমাদের রেখেই প্ল্যান করে ফেললি? দেখিস এই প্ল্যানে পালিয়ে ধরা খাবি।
খুশবুর কথার সাথে রীহান যোগ করলো,
— আরে শালা,পালাতে প্ল্যান করা লাগে? হাত ধরবি আর গাড়িতে উঠে সোজা চিটাগং চলে যাবি। বিয়ে আর হানিমুন একসাথে হয়ে যাবে।
সুযোগে আমরাও ক’দিন বেড়িয়ে আসবো।
অনি এসে একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললো,
— একদম না। হাত ধরবি আর পালাবি! বললেই হলো??
পালাতে হলে ফিল্মি স্টাইলে পালাবি।
ট্রেন স্টেশন ছেড়ে দিয়েছে। ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে….
( অনি হাত দিয়ে দেখাচ্ছে) তুই আর আনিষা ছুটছিস ট্রেনের পিছনে। একটা সময় তুই উঠে যাবি।। আনিষা ছুটবে… ছুটছে… ছুটছে…
.
তুই হাত বাড়িয়ে রাখবি।
আমরা পিছনে থেকে উৎসাহ দিবো…
যাও আনিষা যাও…. আরও জোরে দৌড়াও… জি লো আপনা জিনদেগি!!
ওর বাপে তো বলবে না, আমরাই না হয় এই ডায়লগ দিয়ে দিলাম।
অনির কথা শুনে সবাই হাসতে হাসতে শেষ।।
— দোস্ত, জীবনে একবারই তো পালাবি।তাই না?
আর ভবিষ্যতে নাতি-নাতনিকে পালানোর গল্প শুনাবি। তাই স্মরণীয় আর ফিল্মি স্টাইলেই করবি।( খুশবু)
— তোদের বুদ্ধি নিলে আর পালাতে হবে না। ( তাহসিন)
— যাহ বাবা! ভালো ভালো বুদ্ধি দিলাম আর উল্টো আমাদের?? (রোহান)
— হা… তোদের যা বুদ্ধি!!( তাহসিন)
— হয়েছে.. হয়েছে , এখন ক্লাসে চল। পরে একটা বুদ্ধি বের করা যাবে। আপাতত ফুপিকে বলুক। দেখা যাক ফুপি কি বলে।
রোহান আমার সাথে মত দিলো,
— হা, এটা ঠিক বলেছিস। সিরিয়াসলি দোস্ত,আগে আন্টিকে বল। এটাই সবচেয়ে ভালো হবে। তারপর অন্য চিন্তা।
চল… ক্লাসে যাই।
— তোরা যা, আমি আনিষার সঙ্গে দেখা করতে যাবো।
.
আমি, রোহান,খুশবু,তাহসিন, অনি।।
এই আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেল। প্রায় পাঁচ বছরের বন্ধুত্ব।
আর রোহানের সাথে বন্ধুত্বটা
অনেক পুরানো।
আমরা ছোটবেলা থেকেই এক সাথে পড়াশোনা করছি। একই স্কুল,একই কলেজ, শেষ পর্যন্ত একই ইউনিভার্সিটি!
আর রোহান আমার প্রতিবেশীও। আমাদের বাসার ঠিক একটা বাসা পরেই রোহানের বাসা।
আন্টির চোখে রোহান একটা গাধা,
আঙ্কেলের চোখে গর্দভ।
.
ওর বোনের চোখে… আদরের ভাই।
আর আমাদের চোখে?
প্রতি পাঁচ মিনিটে একটা করে ক্রাশ খাওয়া ছেলে।।
যে উঠতে ক্রাশ খায়,বসতে ক্রাশ খায়।ইভেন রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েও ক্রাশ খায়।
খুশবু হচ্ছে ভেজা বিড়াল।
কিছুই বুঝেনা ভাব,কিন্তু কথা শুনলেই বুঝা যায় উনি কি?
অনি হাসি মুখে মিচকে শয়তান। হাসতে হাসতে সে অনেক কিছুই করতে পারে!
তাহসিন আপাতত গত দুই বছর উঠতে আনিষা বসতে আনিষা।
আর আমি?
নিজের প্রশংসা কিভাবে করি?.?
নাহ থাক। আমি সাদাসিধে মানুষ!!
কত হাসি,আনন্দ, মান,অভিমান, খুনসুটির মধ্য দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বের দিনগুলো কেটে যাচ্ছে…
চলবে….

পরের পর্ব