প্রেমে পড়া বারণ । পর্ব -০২

কত হাসি,আনন্দ, মান,অভিমান, খুনসুটির মধ্য দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বের দিনগুলো কেটে যাচ্ছে।।
এখানে আড্ডা শেষ করে তাহসিন আনিষার সাথে দেখা করতে গেছে আর আমরা গল্প করতে করতে ক্লাসে যাচ্ছি।
সদ্য কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ফার্স্ট ইয়ারে নতুন যারা ভর্তি হয়েছে তাদের দেখলেই চেনা যায়। আমরা ক্লাসে যাচ্ছি তখন আমাদের সামনে দিয়ে একটা গাড়ি একটু দূরে গিয়ে থামলো।
গাড়ি থেকে একটা সুন্দরী মেয়ে বেরিয়ে আসলো। মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দরী। তার উপর একটা ভাব আছে মেয়েটার। এই ভাবই বলে দিচ্ছে সে নতুন ভর্তি হয়েছে।
এতো বছরের গবেষণায় আমরা একটা জিনিস বুঝেছি;
যারা নতুন ভর্তি হয় তারা প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
একদল আছে যারা একটু সংকোচ করে,গুটিসুটি হয়ে থাকে।
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু সময় নেয়।।
আরেক দল আছে তারা অত্যাধিক সিরিয়াস।
কোনো ক্লাস জীবনেও মিস করে না এবং খুব গম্ভীর একটা ভাব নিয়ে চলে।।
আর স্পেশাল একটা দল থাকে, যারা প্রয়োজনের থেকেও বেশি ভাব নেয়।
তারা ভর্তি হবার পর রাতারাতি গেটআপ বদলে নিয়ে নতুন একটা ভাব নেয়।
ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পরে তারা মনে করে অনেক বড় হয়ে গেছে।
ইউনিভার্সিটিতে পড়ে! ড্যাম কেয়ার… এই ভাব নিয়ে চলে।
এই মেয়েটা তিন নাম্বারে। অর্থাৎ ড্যাম কেয়ার ভাব, ওভার স্মার্ট!
— দেখছিস!! মেয়েটা কত সুন্দরী! কত স্মার্ট।
রোহান মেয়েটাকে দেখেই ক্রাশ খেয়েছে।
— তুই জীবনে শুধরাবি না? এত ছ্যাচড়া ক্যান তুই? ঘণ্টায় ঘন্টায় ক্রাশ খাস!!
— দেখ রিয়া, আমি মোটেও ছ্যাচড়া নই।
— ছ্যাচড়া না! তাহলে কি বিশ্ব প্রেমিক??
— তুই যে আমাকে, ছ্যাচড়া বললি,জীবনে আমি কোনো মেয়ের পিছনে ঘুরেছি,প্রপোজ করেছি?
আমি সুন্দরের পূজারি।চোখের সামনে যা দেখি,সুন্দর লাগলে বলে দেই।
ভিতরে পুষে রাখিনা।
আর আমি কয়টা প্রেম করেছি যে বিশ্ব প্রেমিক হবো?
.
এটা সত্যি যে রোহান ঘন্টায় ঘন্টায় ক্রাশ খায় আর সেই ক্রাশের খবর শুধু আমরাই জানি। কোনো দিন কোনো মেয়েকে প্রপোজ করে নাই,কারো পিছনে ঘুরঘুর করে নাই।
তবে ক্রাশের খবর যেহেতু আমরা জানি তাই আমরাই ওকে পঁচাই।।
তার আরও একটা কারণ আছে। রোহান কখনো কখনো ভাবে এবার একটা প্রেম করবেই। কাউকে ভালো লাগলে প্রপোজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তিন দিন পরে ওর আর প্রপোজ করার মুড থাকে না। কারণ তার অই ক্রাশের এত্তগুলা বেড সাইড ওর চোখে পড়ে!!
তাই বেচারা আজও প্রেমিক হয়ে উঠতে পারেনি।
— তুই ছ্যাচড়াই।। আজ পর্যন্ত সিরিয়াসলি কোনো মেয়ের প্রতি তোর কোনো ফিলিংস আসছে?
— না।
— তাহলে? এই বারবার ক্রাশ খাস সেটা আমার কাছে ছ্যাচড়ামি মনে হয়।
— তুই এতো বেশি বুঝিস ক্যান? ছ্যাচড়ামি কি চিনিস?
— চিনি তো! তুই যেটা করিস সেটাই ছ্যাচড়ামি!
— ভালো হইছে করছি,তোর সমস্যা কি? আমি করলে তোর কি না খেয়ে থাকতে হয়?
— আমার সমস্যা হবে ক্যান?? চোখের সামনে ছ্যাচড়া দেখলে না বলে থাকতে পারিনা বুঝছিস?
— ওরে আমার ভালো মানুষ রে!! যা আমি ছ্যাচড়া। তো কি হয়েছে? আমার সাথে থাকতে তোর গায়ে ফোসকা পড়ে?
— ওরে ভাই, কি শুরু করছিস তোরা? একদিন শান্তিতে থাকতে দিবি না?
খুশবু বিরক্ত হয়ে গেছে এসব শুনতে শুনতে।।
— হা ফোসকা পড়ে। আর খুশবু…. ওকে বল… ও যে একটা ছ্যাচড়া এটা ওরে বুঝিয়ে দে।।
— খুশবু কি বুঝাবে? গায়ে এতো ফোসকা পড়লে থাকিস কেন? কথা বলিস কেন?? আর কথা বলবি না আমার সাথে।
— আমার ঠেকা পড়ছে তোর সাথে কথা বলতে।
— ঠিক আছে দেখবো।
— যা যা.. দেখিস।
— দেখবোই তো। এবার আমি সিরিয়াস। তোর মতো সাইকোর সাথে আমার ফ্রেন্ডশিপ রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।।
— এই, রোহান….
তোর সাথে কথা না বললে আমার কি হবে? প্লিজ এমন করিস না!! তোর সাথে কথা না বললে,ফ্রেন্ডশিপ না থাকলে আমার দম বন্ধ হয়ে যাবে! আমি কান্নাকাটি করে চোখ ফুলিয়ে ফেলবো…. প্লিজ। প্লিজ ফ্রেন্ডশিপ ভেঙে দিস না…..!!
কি ভাবছিস এসব বলবো? আল্লাহ আমাকে বাঁচাবেন তোর সাথে না থাকলে। অন্তত আমাকে তোর এই রাবিশ বকবাস শুনতে হবে না।
— দেখবো আবার শুনতে আসিস কি না!
— ক্লাসে আসছি…. এবার থাম।। কানের পোঁকা মরে গেছে তোদের ঝগড়া শুনে।
অনির কথায় রোহান আর আমি দুজনেই থেমে গেলাম।
আমাদের মধ্যে যা-ই হোক, অন্যদের শুনাবো কেন!!
রোহান ক্লাসে আমার পাশে না বসে একেবারে অন্য পাশে বসেছে।
বাসায় ফেরার সময় অন্যদের সাথে কথা বললেও রোহানের সাথে কথা বলিনি। রোহানও আমার সাথে কথা বলেনি। ও কি ভেবেছে? কথা না বললে আমি মরে যাবো? আমি নিজে গিয়ে কথা বলবো?!! উহহহ….. আমার এতো ঠেকা পড়ে নাই।
.
বাসায় আসতে অন্যদিনের চেয়ে একটু দেরি হয়ে গেছে। রাস্তায় যা জ্যাম, দম তো জ্যামে পড়েই আটকে যায়।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিলাম।তারপর রুম থেকে বেরিয়ে আম্মুর কাছে গেলাম। আম্মু হিয়ার মাথায় এ্যলোভেরা ওয়েল দিয়ে দিচ্ছে আর হিয়া টিভি দেখছে। রিফাত গেইম খেলায় ব্যস্ত।
— আজ এতো দেরি হলো?
— বেশি দেরি হয়নি তো আম্মু। রাস্তার অবস্থা জানো না? একটা জ্যামে আটকা পড়লেই হলো।
— হুম। ভার্সিটিতে ক্লাসটাস হয় নাকি সারাদিন ঘুরাঘুরি করিস?
— ক্লাস তো হয়। মাঝেমধ্যে দু- একটা মিস হয়।
— আজ ক্লাস করে ছিলি?
— হা করেছি।। কেন?
— না এমনি।।
— আম্মু! তুমি এমনি এমনি বলোনি সেটা আমি ভালো করেই জানি।
— আজকে আমার পরিচিত একজন বললো, তোর মতো কাকে দেখেছে একটা ছেলের সাথে, কোন রেস্টুরেন্টের পাশে।
— কে বলেছে?
— কে বলেছে সেটা ইম্পোর্টেন্ট না। তুই ছিলি কি না সেটাই বল।
— ওহহ… হা ছিলাম তো,সিনেমা হলের পাশেও নিশ্চয়ই দেখেছে? তাহসিনের সাথে গিয়ে ছিলাম। সিনেমা হলের পাশের রেস্টুরেন্টে।
হিয়া মুখ টিপে হাসছে।
রিফাত আস্তে আস্তে কখন কেটে পড়েছে!
হিয়া ইশারা দিয়ে দেখালো রিফাতকে। হিয়া না বললেও আমি জানি রিফাত আম্মুকে এসব বলেছে। ও আম্মুকে বলবে জেনেই সকালে ওকে এসব বলে ছিলাম। ও ঠিকই আম্মুর কানে পৌঁছে দিলো!
আম্মুর কাছে কিছু সময় বসে থেকে রিফাতের রুমে গেলাম।
— কি একটা অবস্থা চিন্তা কর!
— কেন আপু? কি হয়েছে?
— আরে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। আজ ক্লাস ফাঁকি দিয়েছি আর আম্মুর পরিচিত কে জানি আমাকে দেখে আম্মুকে বলে দিয়েছে!
— তাই নাকি? সাংঘাতিক কান্ড।
— হুম। অনেক সাংঘাতিক। তুই জানিস কে বলেছে? চিনিস?
— আমি কিভাবে চিনবো? আমি তো জানিই না কে ফোন করে বলেছে!
— হুমম। সেটাও কথা। আচ্ছা থাক,যা সত্যি সেটাই তো বলেছে।
রিফাতের রুম থেকে বেরিয়ে দেখি হিয়া দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাবার অবস্থা!
— কিরে হাসছিস কেন?
— আপু তুই ওকে ডোজ দিলি… ও সেটাই খেলো।
ও নিজে এসব আম্মুকে বলেছে। আমি শুনেছি।
— জানি।
— জানিস?
— হুম।
— কিভাবে?
— কিভাবে আবার? আমি কি কোথাও গিয়েছি নাকি? সকালে খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে ছিলো। তাই এসব বলে ছিলাম, জানতাম আম্মুকে বলে দিবে।
শার্লক হোমস হবার ইচ্ছে আছে রিফাতের,তাই বন্ধুমহলে স্পাই আর বাসায় আমার পিছনে!
স্পাই হতে হলে তীক্ষ বুদ্ধি আর সুক্ষ বিবেচনার প্রয়োজন, কিন্তু রিফাতের মোটা বুদ্ধি! মানে আস্ত একটা মাথামোটা!
.
রিফাতের রুম থেকে এসে এসব ভেবে নিজের মনেই হাসছি। ওর বাচ্চামি দেখলে হাসি পায়। হিয়া ওর সমবয়সী হলেও যথেষ্ট ম্যাচুরিটি আছে।।
সন্ধ্যার আগে গোধূলির আলোয় আমার বেলকনিতে এসে দাঁড়ালাম।
এখানে দাঁড়িয়ে রাস্তায় মানুষের চলাচল দেখছি। অভ্যাসবশত রোহানের বাসার দিকে চোখ গেলো।
রোহানের বাসা আর আমাদের বাসার মাঝে আরেকটা বাসা থাকলেও আমার বেলকনি থেকে রোহানের বাসার অনেকটা দেখা যায়। আর রোহানের রুম,বেলকনি সবটা দেখা যায়। তবে এই সময় রোহান বেলকনিতে থাকবে না।
নিশ্চয়ই এখন বের হয়ে গেছে আড্ডা দিতে!
.
ফালতু একটা! আমার সাথে ভাব দেখায়!
একটু পর হিয়া দু’কাপ চা নিয়ে আসলো।
— আপু… তোর চা।
— দে… ।।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে চেয়ার টেনে বসলাম।
— আপু…
— বল।
— সুস্মিতার সুইসাইড এটেন্ড করে ছিলো!!
— সে কি! কেন??
.
সুস্মিতা হিয়ার ফ্রেন্ড। প্রায়ই বাসায় আসা-যাওয়া করে। ওকে ভালো করেই চিনি।
— ওর ব্রেকাপ হয়ে গেছে। ওর বয়ফ্রেন্ড নাকি আরেকটা রিলেশনে জড়িয়ে গেছে।
— ভালো তো!
— ভালো?
— হা…. ভালো না? একটা রিলেশনে বেচারা বোর হয়ে গেছে, তাই অন্য রিলেশনে নতুনত্ব খুঁজতে গেছে!!
— একটা রিলেশনে থেকে অন্য রিলেশনে জড়ানো যায়?!!
— চাইলেই যায়। যাবে না কেন?
তো বেঁচে আছে না মরে গেছে?
— এক গাদা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ছিলো। ওর আম্মু টের পেয়ে গেছে। তারপর মেডিকেলে নিয়ে ওয়াশ করেছে।
— মরে যাওয়া উচিত ছিলো।।
— কি বলছো তুমি ??
আমার কথায় হিয়া শকড।
— শোন,সবে মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছে। নিশ্চয়ই তার অনেক আগে থেকেই রিলেশনে আছে। সেদিনকার বাচ্চা মেয়ে! প্রেম করে আবার প্রেমিকের জন্য সুইসাইড করতে গেছে!!
এমন ছেলে মেয়ের মরে যাওয়া ভালো না? এরা থেকে কি হবে? ও কি একবার চিন্তা করেছে ওর বাবা-মার কথা? পরিবারের কথা? যদি একবার চিন্তা করতো তাহলে সুইসাইড করতে যেতো না। বাবা-মার জন্য ওর কোনো চিন্তা আছে? এতো কষ্ট করে লালন পালন করলো, এতো আদর যত্নের কোনো মূল্য নেই যার কাছে, তার মরে যাওয়াই উচিত।
হিয়া মন দিয়ে আমার কথা গুলো শুনলো। ও বুঝতে পেরেছে আমি কি বলতে চেয়েছি।
হঠাৎ হিয়া বললো,
— আপু… দেখ। ফুপি না?
— গেইটের দিকে তাঁকিয়ে দেখি ফুপি অটো থেকে নেমে বাসায় ঢুকছে।
দেখে মনে হচ্ছে বেশ হন্তদন্ত হয়ে আসছে।
— তাই তো। চল গিয়ে দেখি।
নিশ্চয়ই তাহসিন আনিষার কথা বলেছে আর ফুপি সেটা আম্মুকে বলতে আসছে।
— তাই নাকি?
তাহসিন ভাইয়া বলে দিলো?!
— আনিষার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আর তাহসিন ওকে নিয়ে পালানোর চিন্তা করছে। আমি বলেছি আগে ফুপিকে জানাতে।
— চলো নিচে যাই।
হিয়া আর আমি নিচে গেলাম। ফুপি আমাকে দেখেই বললো
— ওই তো রিয়া…
— ফুপি…
— তুই তো আমার ভাইজি ছিলি। তুই একবারও বলতে পারলি না?
— কি বলবো?
— তুই সব জানতি। কিন্তু কোনো দিন বলিসনি।
— ফুপি… আমি তোমার ভাইজি, কিন্তু আরও দুইটা পরিচয় আছে আমার।
এক, আমি বোন আর দুই, আমি ওর বন্ধু।। এবার তুমি বলো এক সম্পর্কেরটা গুরুত্ব দিবো নাকি ডাবল সম্পর্কের??
আম্মু একবার আমার দিকে, একবার ফুপির দিকে তাঁকাচ্ছে। ফুপি ভাইজির মধ্যে কি নিয়ে কথা হচ্ছে আম্মু সেটা বুঝতে পারছে না।
রিফাত তিক্ষ চোখে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে।
আম্মু অধৈর্য হয়ে বললো,
— কি হয়েছে আমাকে একটু বলবে শায়না?
কিরে রিয়া… কি হয়েছে?
আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফুপি বললো,
— ভাবি, আমার ছেলেটা শেষ!
— শেষ মানে? কি হয়েছে বলবে তো?
— আজকে বের হয়েছে ভার্সিটিতে যাবে। দুই ঘন্টার মধ্যে বাসায় ফিরে আসছে!
— তো কি হয়েছে? ভালো লাগেনি তাই হয়তো ক্লাস করেনি।
— একা আসলে তো ভালোই ছিলো কিন্তু একা আসেনি।
— তাহলে কার সাথে এসে ছিলো? রিয়ার সাথে বোধহয় বের হয়ে ছিলো।
— আরে নাহ। আমি জিজ্ঞেস করে ছিলাম। রিয়ার সাথে ভার্সিটিতে দেখা করে নাকি চলে আসছে।
— তাহলে কাকে নিয়ে এসেছে??
— ভাবি…. ও সাথে এক মেয়ে নিয়ে আসছে!! ওকে নাকি বিয়ে করবে!!
.
রুমে নিঃশব্দের একটা বোমা ব্লাস্ট হলো।
আর এতে সবচেয়ে বেশি আহত আর শকড হলো আমার গোয়েন্দা ভাই রিফাত!!
ওর তিক্ষ চোখজোড়া বিস্ফোরিত হয়ে গোলআলু হয়ে গেছে।
আম্মু একবার শুধু কটমট করে রিফাতের দিকে তাঁকালো।
এতে রিফাত চুপসে গিয়ে এক সাইডে সরে গেলো।
ফুপি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ফুপির এই ছিঁচ কাঁদুনি স্বভাব আর গেলো নাহ!!
— আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না। কি হয়েছে খুলে বলো।
কি হয়েছে রে?
— তাহসিনের সাথে একটা মেয়ের অনেক দিনের সম্পর্ক। কিন্তু মেয়েটার বাবা সম্পর্কের কথা জেনে ওর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। তাহসিন কোনো উপায় না পেয়ে ফুপির সাথে দেখা করাতে আনিষাকে নিয়ে এসে ছিলো।
— ভাবি,এখন আমি কি করবো?
— তাহসিন যখন সাহস করে তোমার সাথে দেখা করাতে নিয়ে আসছে, আমার মনে হয় তোমার ওর কথাটা ভেবে দেখা উচিত।
— আমার ভাবাভাবি পরে। ওর আব্বু জানতে পারলে কি হবে বুঝতে পারছো? মা-ছেলেকে এক সাথে বাসা থেকে বের করবে!!
— সেটা অবশ্য ঠিক।
আচ্ছা এক কাজ করো, সাদিক ভাইকে নিয়ে কাল একবার আসবে। আমি ফোন করবো উনাকে।
— তুমি সব সামলাতে পারবে ভাবি।আমাকে উদ্ধার করো।।
— আচ্ছা ঠিক আছে তো। কাল দেখা যাবে।
.
আঙ্কেল অনেক রাগি মানুষ হলেও অনেক সুন্দর মনের মানুষ। স্পষ্টভাষী। উনাকে আমার ভীষণ ভালো লাগে। আর আঙ্কেল আমাকে অনেক স্নেহ করেন।
ফুপি আঙ্কেলকে বাঘের মতো ভয় পায়।তবে আঙ্কেল আম্মুকে অনেক সম্মান করেন। আম্মুর কথা ফেলতে পারেন না।
আম্মুর ভরসায় ফুপি ফিরে গেলেন।
.
পরদিন ভার্সিটিতে গেলাম। কিন্তু রোহানকে কোথাও দেখলাম না। এক ক্লাস পরে অফ পিরিয়ডে আমি, খুশবু,অনি বসে আড্ডা দিচ্ছি। তাহসিন আসেনি আজ, রোহানও না।
আড্ডার মধ্যেই রোহান এসে হাজির। হাতে কয়েকটা আইসক্রিম।
— কি করছিস তোরা?
— এতো লেইট করলি যে?( অনি)
— একটা কাজ ছিলো।
নে আইসক্রিম খা। সবাইকে আইসক্রিম দিয়ে আমাকে বললো
— নে তোর চকলেট ফ্লেভার।।
চকলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম আমার অনেক পছন্দ। আর গতকাল যে ঝগড়া হয়ে ছিলো আইসক্রিম গুলো সেই জন্যই, এটা সবাই জানে।
.
এই হচ্ছে রোহান।।
দিনে তিন বার আমার সাথে ঝগড়া করবে, কিন্তু ২৪ ঘন্টার আগেই সে নিজে এসে কথা বলবে আর সাথে আমার প্রিয় আইসক্রিম…
.
চলবে…

আগের পর্ব                                       পরের পর্ব