প্রেমে পড়া বারণ । পর্ব -০৩

আইসক্রিমটা সব সময় না।
আইসক্রিম নিয়ে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমার আইসক্রিম অনেক পছন্দ, কিন্তু টনসিল প্রব্লেমের জন্য বাসায় আমাকে আইসক্রিম খেতে দেয় না। সামান্য বৃষ্টির ফোঁটা অথবা ঠান্ডা কিছু খেলেই গলা বসে যায়, নয়তো সর্দি-জ্বর বেঁধে যায়।
বাইরে এসে আইসক্রিম খাবো তারও উপায় নেই। রোহান, তাহসিন ওরা খেতে দেয় না, কিন্তু যখন রোহানের সাথে বড় সড় ঝামেলা হয়ে যায়, তখন রোহান একটা আইসক্রিম খাওয়ায়!!
আইসক্রিম হাতে নিয়ে বললাম,
— আইসক্রিম খেলে গলা বসে যাবে, জ্বর আসবে জেনেও তুই আইসক্রিম এনেছিস!? তুই তো শত্রুর চেয়ে কম না!
— আমি কবে তোর বন্ধু ছিলাম?? আর আইসক্রিম খেয়ে মরে গেলে মরে যা…
— শকুনের দোয়ার গরু মরে না। বুঝছিস?
— বুঝছি।
বলে রোহান মিটিমিটি হাসছে।
— হাসছিস কেন?
— দেখ আমাকে দোষ দিতে পারবি না। আমি কিন্তু কিছু বলিনি।
এবার খুশবু, অনিও হাসা শুরু করছে,পাছে আমি রেগে যাই তাই জোরে হাসতে পারছে না।
— কি বলিসনি?
— তুই যে গরু সেটা কিন্তু আমি বলিনি।সবাই সাক্ষী আছে তুই বলেছিস।।
— আর তুই যে শকুন। শকুন কই যায় জানিস? ভাগাড়ে!
— পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে আসবি না।
তুই গরু হলে আমি না হয় শকুনই!!
তোর আইসক্রিম খেলে গলা বসে যায়, বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে জ্বর বেঁধে যায়!
দুই ঘন্টা শাওয়ার নিস কিভাবে?
.
রোহান আমার ছেলেবেলার বন্ধু। বাসায় কত বকা খেয়েছি এই শাওয়ার নিতে গিয়ে। এসব রোহান ভালো করে জানে।
— এটার একটা সিক্রেট টিপস আছে। কাউকে বলি না।
— টিপসটা পাবলিক কর আমরাও শিখি।
— নো ওয়ে… সিক্রেট।।
এমন টুকটাক আড্ডা চলে সারাদিন।
রোহানের সাথে আমার ঝগড়া হয় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে। এমন সব বিষয় নিয়ে ঝগড়া হবে যেগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই, যেসব কথা হিসাবেও ধরা হয় না।
.
সন্ধ্যায় সাদিক আঙ্কেল আর ফুপি আসলো।
আম্মু আঙ্কেলকে সব খুলে বললেন। উনি গম্ভীর হয়ে গেছেন।
কিছুক্ষণ পরে আমাকে ডেকে নিয়ে আনিষার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করলেন।
আনিষা সম্পর্কে যতটুকু জানতাম উনাকে বললাম।
আম্মু বোঝানোর পরে আঙ্কেল বললেন,
— ভাবি, সব বুঝতে পারছি। কিন্তু মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, এখন কিভাবে ওর ফ্যামিলির সাথে কথা বলি?।
— সাদিক ভাই, আনিষার বাবাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। দুটি ছেলে মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যাক সেটা তো কেউ চাইবে না।
— তাহলে এই দায়িত্ব আপনি নিবেন। আপনার উপর ছেড়ে দিলাম। আপনি উনার সাথে যোগাযোগ করুন। তারপর তারা যদি আগ্রহী থাকে তখন না হয় আমিও যাবো।
আঙ্কেল আম্মুকে দায়িত্ব দিলেন।
ঠিক হলো আম্মুর সাথে আমাকে আর রোহানকে নিয়ে যাবে। আম্মু এখানে রোহানকে ছাড়া যাবে না।
আমার আম্মুর আমার থেকে বেশি রোহানের উপর আস্থা।
আম্মু রোহানদের বাসায় গিয়ে কথা বললেন।
.
ফাইজা আন্টি মানে রোহানের আম্মুর সাথে আমার আম্মুর অনেক ভালো সম্পর্ক। প্রতিবেশী হলেও উনারা দুই বোনের মতো চলেন। দুই পরিবারের মধ্যেও অনেক ঘনিষ্ঠতা।
পরদিন শুক্রবার, সকাল দশটার দিকে আমি,আম্মু, রোহান, ফাইজা আন্টি গেলাম আনিষাদের বাসায়।
আম্মু আগেই ফোনে কথা বলেছে আনিষার বাবার সাথে।
আমাদের খুব আপ্যায়ন করলো।
তারপর আনিষার বাবা শফিক সাহেব বললেন,
— আনিষার বিয়ের কথাবার্তা সব ঠিক হয়ে গেছে। আজ সন্ধ্যায় রিং পড়িয়ে বিয়ের ডেইট ফিক্সড করা হবে।
আপনারা যে বিষয়ে কথা বলতে এসেছেন, এখন আপনাদের আমি কি বলতে পারি? বুঝতেই পারছেন।
— ভাই সাহেব… ছেলে মেয়ে দুজনের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। এখন অন্য জায়গায় ওর বিয়ে দিলে ও কি সুখী হবে?
.
আমার অনুরোধ আপনি আরেকটা বার ভেবে দেখুন। রিং তো পড়ানো হয়নি।আর বিয়ের আসরেও কত বিয়ে ভেঙে যায়। খুব দেরি হয়নি এখনো।
আম্মু আনিষার বাবাকে বুঝাতে চেষ্টা করলো।
ফাইজা আন্টি বললেন,
— কিছু মনে করবেন না শফিক সাহেব, আমি এমনিতে ওদের রক্তের কোনো আত্নীয় না। তারপরও ওরা আমার স্বজন। সে হিসাবে তাহসিনকে আমি চিনি। আর এ আমার ছেলে রোহান।রোহানেরও বন্ধু তাহসিন। ছেলে হিসেবে তাহসিনকে অপছন্দ করার মতো কোনো কারণ নেই।
কিন্তু আপনার ভাবনার বিষয় আমি বুঝতে পারছি।
দেখুন আর মাত্র ৫-৬ মাস পরেই তাহসিনের পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে। তারপর সে হয় ওর বাবার বিজনেস দেখবে নয়তো যেকোনো একটা চাকরি পেয়ে যাবে। আর আনিষা মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে।
আপনি যদি ওকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার সুযোগ দিন, এদিকে তাহসিনও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে নেবার সময় পাবে।
.
আমরা তো সব কিছু ছেলে মেয়ের জন্য করছি তাই না? তাহলে ওদের চাওয়া, ভালো লাগা- মন্দ লাগা এ বিষয় গুলো যদি আমরা গার্জিয়ান, পরিবার বুঝতে না পারি তাহলে ওরা কোথায় যাবে?
আন্টি অনেক গুছিয়ে কথাগুলো বোঝালেন।
— আপনার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু আমি যে কথা দিয়ে দিয়েছি। আমার কথার তো একটা মূল্য আছে। তাই না?
আমি চুপচাপ বসে আছি। রোহানও চুপচাপ বসে কথা শুনছে। গুরুজনেরা কথা বলছে সেখানে আমাদের কিছু বলা সাজে না।
কিন্তু আনিষার বাবা কিছুতেই বুঝতে চাইছে না।
রোহান আর চুপ করে থাকতে পারেনি।
— আঙ্কেল… বেয়াদবি না নিলে আমি কি কিছু বলতে পারি?
— হে বাবা.. বলো।
— আঙ্কেল.. আনিষা আপনার মেয়ে। আপনি ওর ভালো চান। আজকে আপনি যদি ওর বিয়েটা অন্য জায়গায় দিন তাতে আনিষার মন ভেঙে যাবে। হয়তো আপনার কথা রাখতে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে করবে। কিন্তু বিয়ে তো দু’এক বছরের ব্যাপার না,সারাজীবনের। হয়তো ভালো ছেলে, সুখে রাখবে , কিন্তু সারাজীবন আনিষা মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাবে।
আর এমনও হতে পারে যে বিয়ে না করে উল্টোপাল্টা কিছু করে বসে??
তখন?
তখন কি হবে সব কিছু দিয়ে? যদি আপনার মেয়েই না থাকে?
আপনার একটা মাত্র মেয়ে, ও যদি কষ্টে থাকে নিশ্চয়ই আপনারাও ভালো থাকবেন না।
প্লিজ আঙ্কেল… একটু ভেবে দেখুন।
রোহানের কথা শুনে আনিষার বাবার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। কিছু সময় মাথা নিচু করে গম্ভীর হয়ে ভাবলেন।
তারপর বললেন,
— তুমি ঠিকই বলেছো বাবা। আমার মেয়ের সুখ আমার কাছে বড়।
তারপর উনি আমাদের সামনে বসে ফোন করে বিয়ে ভেঙে দিলেন।
সাদিক আঙ্কেল আর ফুপিকে আম্মু ফোন করে আসতে বললেন।
উনারা আসার পরে আনিষাকে রিং পড়ালেন।
বিয়ে হবে আনিষার গ্রাজুয়েশন করার পর।
.
তাহসিনের ঝামেলা এতো তাড়াতাড়ি এতো সুন্দর ভাবে মিটে যাওয়ায় সবাই খুব খুশি।।
রোহানের জন্য সম্ভব হয়েছে। ও এতো সুন্দর ভাবে বুঝানোর জন্য শফিক আঙ্কেল রাজি হয়ে গেছেন।
তাহসিন তো রোহানকে জড়িয়ে ধরে পারলে মাথায় তুলে নাচে!!
.
অনেক দিন কোথাও যাওয়া হয় না। ঘুরতে যাওয়ার জন্য মন আকুপাকু করছিলো। এর মধ্যে একদিন খুশবু বললো,
— দুর.. ভাল্লাগেনা।। দুস্ত চল না কোথাও ঘুরে আসি। কতদিন কোথাও যাইনি।
আমরা এখানে সবগুলো নাচুনি বুড়ি,খুশবুর কথায় পেলাম ঢুলে বাড়ি!
— এবার ট্যুরে গেলে ইউনিক কিছু একটা চিন্তা করতে হবে।
ইউনিভার্সিটি লাইফের বেস্ট ট্যুর হবে।(অনি)
রোহান বললো — কই যাওয়া যায় বল তো।
— এবার ট্যুর সিলেট করা যায়।
তাহসিন সাজেস্ট করলো।
— আরে সিলেট তো সেই কবেই ঘুরে আসলাম। এক জায়গায় কতবার যাবি? (খুশবু)
আমি বললাম,
— সিলেট ঘুরেছি ঠিক,কিন্তু চা বাগানে ঘুরে মন ভরেনি। কিছু দিন চা বাগানে থাকতে পারলে ভালো হতো।
অনি লাফিয়ে উঠে বলে — আইডিয়া!
সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে অনির দিকে তাঁকিয়ে আছি।
— আমার ছোট মামা সেখানে একটা বাগানের ম্যানেজার। মামা প্রায়ই যেতে বলে, কিন্তু যাওয়া হয়না।
মামার বাংলো আছে। আমরা সেখানে থাকবে পারবো যতদিন খুশি।
— বাংলো!! চা বাগানের বাংলো মানেই ভৌতিক ব্যাপার স্যাপার।
ওরে বাবা… আমি যাবো না।
নাম শুনেই খুশবুর গলা শুকিয়ে গেছে।
চা বাগানের বাংলো মানেই ভৌতিক ব্যাপার স্যাপার।
রোহান ধমক দিয়ে বললো — ধুর… ভূত বলে কিছু আছে নাকি? আর যদি থাকে তবে তোকে দিয়ে আসবো।
— না ভাই… আমি যাচ্ছি না। তোরা যা।
— তুই যাবি না, তোর ঘাড় যাবে। ( তাহসিন)
— আরে ওসব কিছু নেই রে খুশবু। মামাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তো।
ভয়ের কিছু থাকলে মামা থাকতেন নাকি ওখানে? ( অনি)
— সত্যি নেই তো?
— নেই।
— তাহলে যেতে পারি।
.
কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের যাওয়ার পারমিশন পেয়ে গেলাম। অনির মামার সাথে আব্বু কথা বলার পরে যাবার অনুমতি পেয়েছি। তবে হিয়া আর রিফাতও যাবে আমাদের সঙ্গে।
.
অবশেষে আমরা সিলেটের উদ্দেশ্য রওনা হলাম। আমি, রোহান,খুশবু,অনি, হিয়া,রিফাত, তাহসিন,আনিষা। আমরা সবাই যাচ্ছি তাই আম্মুকে দিয়ে আনিষার বাবার অনুমতি নিয়েছি।
আমরা ট্রেনে যাচ্ছি। সবাই মিলে অনেক মজা করতে করতে অবশেষে সিলেট যখন পৌঁছালাম, তখন প্রায় শেষ বিকেল।
.
স্টেশনে নামার পরে অনির মামার পাঠানো গাড়ি পেয়ে গেলাম।
বাগানে যখন ঢুকলো আমাদের গাড়ি তখন অলরেডি সন্ধ্যা নেমে গেছে। অন্ধকার বাগানের রাস্তায় গাড়ি ছুটছে। বেশ ভেতরে বাংলোটা।
রাত সাড়ে নয়টায় বাংলোয় পৌঁছালাম।
পলাশ মামা আমাদের সবাইকে ওয়েলকাম করলেন।
সারাদিনের জার্নিতে আমরা খুব টায়ার্ড ছিলাম। প্রচন্ড খিদে পেটে। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে সবাই খাওয়াদাওয়া করলাম ।
রান্না + মেন্যু দুটোই জাস্ট অসাধারণ ছিলো, তার সাথে প্রচন্ড খিদে।।
সবাই মোটামুটি রাক্ষসের মতো খাবার পর্ব শেষ করলাম।
তারপর যে যার রুমে চলে গেলাম রেস্ট নিতে।
.
বাংলোটা অনেক বড় হলেও আমাদের প্রত্যেককে আলাদা রুম দেয়ার মতো এতোগুলো রুম নেই।
তাই হিয়া- আনিষা নিলো এক রুম।আনিষা দিয়ার সাথেই কমম্ফোর্ট। অনি আর রিফাত এক রুমে, রোহান আর তাহসিন, আমি আর খুশবু এক রুমে।
এভাবেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা হলো।
.
ঘন্টা খানেক রেস্ট নিয়ে আমরা বাংলোটা ভেতরে আর সামনে একটু ঘুরে দেখলাম। যেহেতু অনেক রাত হয়ে গেছে, তাই আর কোথাও বের হইনি।
এমনিতেই আমাদের ঘুম প্রয়োজন। তাছাড়া দিনের বেলায় ঘুরাঘুরি করার জন্যও এনার্জি থাকা প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সব আনন্দ মাটি হয়ে যাবে।তাই সবাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম।
— আপু.. উঠ না। আম্মু ডাকছে।
অই রিয়া… রিয়া… উঠ না… রিয়া…অই…
— উফফ.. কি হয়েছে? ঘুমাতে দাও না।
আম্মু আর হিয়া ডাকাডাকি করছে। এতো মজার ঘুম রেখে উঠতে ইচ্ছে করছে না।
ও মাগো….. ইসস।।
কে হাতে এভাবে চিমটি কাটলো? আম্মু?
— এখানে তোর আম্মু কোথা থেকে আসছে?
— খুশবু?? তুই এখানে? এতো রাতে? আমার রুমে? আমাদের বাসায়?!!
খুশবু দু’হাতে ধরে আমাকে জোরে একটা ঝাঁকি দিলো।
— আর একটা উল্টো পাল্টা কথা বললে তোর নাক ফাঁটিয়ে দিবো বদমাশ মেয়ে।
এতো ক্ষনে আমার খেয়াল হলো খুশবু আমাদের বাসায় না,পলাশ মামার বাংলোয় আছি আমরা।
— কি হয়েছে রে? এভাবে ঝাঁকি দিলি কেন?
— তো কি করবো? সেই কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি আর তুই আবোল তাবোল বকে যাচ্ছিস!!
এখন বুঝতে পারছি আম্মু আর হিয়া ডাকেনি। খুশবুর ডাকে ঘুম হালকা হওয়ায় স্বপ্ন দেখছিলাম।
— আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে। কি হয়েছে বল..
— অই শোন না… আমার খুব ভয় করছে।
— কিসের ভয়?
.
— চুপ করে শুন… কিসের একটা শব্দ হচ্ছে অনেক সময় থেকে।
— কই কিসের শব্দ?
— চুপ করে শুন নাহ!!
দুজনেই চুপ করে আছি। একটু পরেই শব্দটা শুনতে পেলাম।
— ওইতো… শুনেছিস???!
— হা… তো?
— তো মানে?!… এতো রাতে কি এভাবে একটু পরপর…
খুশবুর কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে।।
— তুই পেঁচার ডাক শোনার জন্য মাঝরাতে ঘুম থেকে টেনে তুলেছিস?!
— ওটা পেঁচা?!!!
— জি মেডাম!
— ওহহ… আমি ভেবে ছিলাম…
খুশবু দাঁত বের করে হাসার চেষ্টা করে।
— কি ভেবে ছিলি..?… ভূত?
খুশবুর দাঁত এবার ভেতরে ঢুকে গেছে। শুকনো মুখ করে মাথা আস্তে আস্তে ঝাঁকিয়ে বললো,
— হুম।
— উফফফ! তুই পড়াশোনা করছিস কিসের জন্য? সাধু বাবার কাছ থেকে তাবিজ নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখ। ভূতেও ধরবে না… পেত্নিও না।
— ওরে বাবারে.. আবার পেত্নি!
খুশবু আমাকে ঝাঁপটে ধরলো।
— কিহ? কি হয়েছে.? খুশবু..
খুশবু আমার কাধে মুখ গুজিয়ে হাত তুলে জানালার দিকে দেখায়।
ওকে জোর করে সোজা করে বসিয়ে জানালার দিকে তাঁকিয়ে প্রথমে আমিও চমকে উঠলাম।
— পেত্নি দেখেছিস?
.
খুশবু আমার দিকে তাঁকিয়ে মাথা ঝাঁকায়।
— আমিও দেখেছি।
— ওরে বাবারে..
ও আবার জাপ্টে ধরে।
— লাত্থি খাবার আগে ছাড় আমাকে। দেখ তোর পেত্নী..!
আমার রাগ দেখে খুশবু আমাকে ছাড়লো।
— দেখ.. ভালো করে তাঁকিয়ে দেখ।
জোর করে ওকে জানালার দিকে ঘুরালাম।
খুশবু আর আমার দুজনেরই ক্রোয়েল চুল।
ঘুম থেকে উঠলে চুল আর চুল থাকে না, বাবুই পাখির বাসা হয়ে যায়।
আমার যা মোটামুটি একটা সাইজে আছে, কিন্তু .. খুশবুর চুল দেখলেই ঝাঁকড়া চুলের বাবড়ি দুলানো কবি নজরুলের কথাই সবার আগে মনে আসবে।
খুশবু সাদা টিশার্ট পড়ে ছিলো।
জানালার পর্দা ফ্যানের বাতাসে সরে গিয়ে গ্লাস দেখা যাচ্ছে। আর ড্রীম লাইটের হালকা নীল আলোয় গ্লাসে নিজেকে দেখেই চিনতে পারেনি!!
খুশবু বুঝতে পারলো ওর বোঁকামি।
তাই আমি আর বেশি কিছু বললাম না।
শুধু কটমট করে বললাম,
— ভালো চাস তো চুপচাপ শুয়ে পড়!
খুশবু বাধ্য মেয়ের মতো গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়লো।
ঘুমে চোখ জ্বলে যাচ্ছে আমার। দ্রুত ঘুম নেমে এসেছে চোখে।।
— অই রিয়া… বইন উঠ। রিয়া.. রিয়া…
সোজা উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম।
— তোর প্রব্লেমটা কি? বল।
— ওয়াশরুমে যাবো। একটু দাঁড়াবি?
— চল।
আমি দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম।
খুশবু চেঁচিয়ে বললো
— ওই দিকে কই যাচ্ছিস?
— কেন? ওয়াশরুমে যাবি না?
— আরে বুদ্ধু… এটাস্টড ওয়াশরুম তো।
— ওওঅঅঅঅঅঅ…. আচ্ছা আচ্ছা। না আমি ভাবলাম ওয়াশরুমটা বাংলোর বাহিরে।;তাই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে বাইরে!!
খুশবু বুঝতে পারলো আমার মেজাজ কোন লেভেলে উঠে গেছে।
— প্লিজ রাগ করিস না। আমার ভীষণ ভয় করছে।
— কিসের ভয়?
— ওয়াশরুম যাবার পরে যদি লাইট অফ হয়ে যায়?
— উফফ… খুশবু…. এবার কিন্তু সত্যিই বাড়াবাড়ি হচ্ছে।
আমি আছি এখানে… যা.. ওয়াশরুমে যা…
— যদি লাইট অফ…
আমার রাগে নিজের মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছে করছে!! ফুস করে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললাম,
— এবার যদি আর একটা কথা বলিস,তবে ভূত – পেত্নী না আমি তো মাথা ভেঙে ফেলবো…
.
চলবে…

আগের পর্ব                                       পরের পর্ব