গল্পঃ ম্যাডাম বৌ । লেখকঃ সাকিব আহমেদ

কলেজ ক্যাম্পাসে নিত্যদিনের মত আড্ডা দিচ্ছিলো শিশির,জুনাইদ আর
সাব্বির।বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে শিশির।ছোটবেলায় মা কে হাড়িয়েছে।তাই একটু
বেপোরোয়া।জুনাইদ আর সাব্বির দুজনই রিলেশন করে।কিন্তু শিশির চির
সিংগেল।কলেজের সব সুন্দরী ললনার ক্রাশ শিশির।বড়লোক বাবার ছেলে তার উপড়ে
দেখতেও মাশাআল্লাহ।কিন্তু শিশির সিংগেল।সে তার মনের মত মেয়ে না পাইলে প্রেম
করবে না।মনের মত মেয়েও পায় না,আর তার প্রেম ও হয় না।

আড্ডার ফাকে এক
সুন্দরী ললনার দিকে গেটের দিকে চোখ পড়ল শিশিরের।রিক্সাওয়ালার সাথে ঝগড়া
করতেছে একটা মেয়ে।মেয়ে বল্লে ভুল হবে।ডানাকাটা পরী।শিশিরের মনে হল কোন পরী
আকাশ থেকে মাটিতে নেমে এসেছে।সাদা ড্রেস এ আরো মেয়েটাকে সুন্দর
লাগতেছে।মেয়েটাকে দেখে শিশিরের বুকের ডান পাশটা কেমন যেন করে উঠল।মনে হচ্ছে
কেউ হাতুড়ী দিয়ে পিটাচ্ছে।
“কিরে থ মেরে গেলি যে???”,শিশিরকে জিগ্যেস করল জুনাইদ।
“দোস্ত আমি শেষ।”,শিশির বলল।
“কি কস!!!চল্লিশা কবে??অন্নেক দিন চল্লিশা খাই না।”এবার সাব্বির বলে উঠল।
“হারামজাদা,এইদিকে আয় চল্লিশা খায়াইতেছি…-শিশির
“কি হইছে ক তো???”-সাব্বির
“ক্রাশ খাইছি”-শিশির।
“কি কস!!তুই ক্রাশ খাইছো!!!”জুনাইদ আর সাব্বির একসাথে বলে উঠল।
-ক্যান,আমি কি ক্রাশ খাইতে পারি না???-শিশির
-সেই ভাগ্যবতী মেয়েটা কেরে??-সাব্বির
-“ঐ দেখ….”শিশির আন্ঙুল উঠিয়ে দেখাল।
“দোস্ত,পরী।”-সাব্বির
“উহু।ডানা কাটা পরী।”-জুনাইদ।
“তোরা বস।আমি আসতেছি।”-শিশির
“কই যাস???”-সাব্বির
“বয়,আইতাছি।”-শিশির
“তাড়াতাড়ি আসিস”-সাব্বির আর জুনাইদ একসাথে বলল।
শিশির ওদের কথার রিপ্লাই না দিয়ই উঠে গেল সুন্দরী ললনার দিকে।যাওয়ার সময়
গাধা ফুল গাছ থেকে একটা ফুল ছিড়ে নিয়ে গেল।কাছে গিয়ে শুনতে পেল ভাংতি নিয়ে
ঝগড়া হইতাছে।কাছে গিয়ে শিশির বলল
-আমার কাছে ভাংতি আছে।
-ধন্যবাদ।
মেয়েটা শিশিরের কাছ থেকে ভাংতি নিয়ে রিক্সা ভাড়া দিয়া চলে যেতে লাগল।শিশির পিছন থেকে ডাক দিল,
-এই যে শুনো।
-জ্বী,আমি!!
-হুমমমম,তুমি।
-বলেন।
-জানো,আমি রাতে ঘুমাইতে পারি না।
-তো আমি কি করতে পারি??
-তুমি কি আমার ঘুম পাড়ানি হবে??
-মানে???
-মানে!!!মানে হচ্ছে আমার আব্বুর একটা বৌমা দরকার।
-তো??
-তুমি কি আমার আব্বুর বৌমা হবে???
-কি!!!আপনি কি বলতে চাচ্ছেন ক্লিয়ারলি বলেন।
-আই লাভ ইউ।
-নাম কি??
-শিশির আহমেদ।
-কোন ইয়ার???
-সেকেন্ড ইয়ার।
-হুমমমমমম।
আর কিছু না বলেই চলে গেল সুন্দরী ললনা।শিশির দাড়িয়ে দাড়িয়ে তার যাওয়া দেখছিলো।কয়েকবার ডাক দিয়েছিল
“এই মেয়ে, তোমার নামটা তো বলে যাও।”
মেয়েটা শিশির কে পাত্তা না দিয়ে চলে গেল।ভাল্লাগতাছে না শিশিরের।আহ কি
ভয়েস।পুরাই পারফেক্ট এই রকম মেয়েই তে শিশির খুজতেছিল।মেয়েটা কে শিশিরের চাই
চাই।
“চল,ক্লাসে যাই।”-শিশির
“মানে???তুই বাংলা ক্লাস করবি??”-সাব্বির
“হুমমম,চল।”-শিশির।
“কোনদিন করছোস বাংলা ক্লাস???-জুনাইদ
“তোরা যাবি??? গেলে আয়, না গেলে থাক।-শিশির
কথাটা বলেই শিশির ক্লাসের দিকে হাটা শুরু করল।ঘন্টা পড়ে গেছে।শিশিরের পিছন পিছন জুনাইদ আর সাব্বির ও হাটা শুরু করল।
ক্লাসে পিছনের দিকের একটা বেন্চিতে বসল ওরা তিনজন।ক্লাসেও ভাল্লাগতাছে না
শিশিরের।ক্লাস থেকে বের হতে যাবে এমন সময় প্রিন্সিপাল স্যার ক্লাসে
ঢুকলেন।পিছন পিছন ওই মেয়েটাও ঢুকল।মেয়েটা দেখেই দাড়ানো বসে পড়ল শিশির।মনে
মনে ভাবতে লাগল যাক মেয়েটা ওদের ক্লাসেই ভর্তি হইছে।যাক,ভালোই
হলো।প্রিন্সিপ্যাল স্যার বল্লেন,
-এই হচ্ছে মিরা।আমাদের কলেজ থেকে
গতবছর বাংলাতে অনার্স শেষ করছে।এইবছর আবার আমাদের কলেজেই বাংলার লেকচারার
নিযুক্ত হইছে।আজ থেকে ইনি তোমাদের বাংলা ক্লাস নিবেন।
প্রিন্সিপালের কথা শুনে শিশির থ।সাথে জুনাইদ আর সাব্বির ও।মেয়েটা মানে মিরা তাদের ম্যাডাম।তারমানে,শিশির ম্যাডাম কে প্রপোজ করছে।
#প্রথম_পর্ব
#দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।