সেই বাড়িটা | Writer: Trisha Afrin | পর্বঃ-সপ্তম

হঠাৎ করে কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেলাম আমি ।সামনে তাকিয়ে দেখি ওই লাশটা আমার সামনে দাড়িয়ে আছে।এটা দেখে আমি আবারও সামনে দৌড়ানো শুরু করলাম।এবার আর কিছুতেই পেছনে তাকালাম না।কতদুর এসেছি,কোথাই যাচ্ছি তাও জানি না।নিজের পাটাও যে ঝাঁঝড়া করা সেটা ও খেয়াল নাই।আসলে বিপদে পড়লে কারোর এইসব দিকে খেয়াল থাকেনা।এদিকে বন্ধুদের মুক্ত করার চিন্তাই নিজের কষ্টটা ফিল করতে পারছি না।ঘন ঘন গাছের মধ্য দিয়ে দৌড়াছি যার জন্য সারা গায়েও গাছের ডালপালাই কেটে কেটে যাচ্ছে।যেখানে যেখানে লাগছে সেখান থেকেও রক্ত বের হচ্ছে।এভাবে প্রায় এক ঘন্টার মতো দৌড়ালাম।দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ আবারও কোনো শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খেলাম।সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেললাম আমি।মনে হয় আবার ওই আত্মার কাছে ধরা পড়ে গেলাম।হয়তো আত্মাটা আমার সামনে দাড়িয়ে আছে।আমি আর দৌড়ানোর সাহস খুঁজে পাচ্ছিনা।মনে হচ্ছে দৌড়াতে গেলেই আবার আত্মাটার সামনে গিয়ে পড়ব।বেশ কিছুক্ষণ হলো তবুও কিছুই হলো না।কী ব্যাপার আত্মাটার কোনো সারাশব্দ নেই কেন?? আগে তো তার থেকে গোঙানীর শব্দ আসছিলো।কিন্তু এখন কেন সে চুপ করে আছে??চোখ বন্ধ করেই সামনের দিকে হাত বুলাতে লাগলাম।একি আমার হাতে এমন শক্ত শক্ত কী বাধছে।এটা এত পাথরের মতো শক্ত কেন??মানবদেহ হলে তো নরম থাকত।আস্তে আস্তে চোখ খুললাম আমি।আমার সামনে কালো কিছু একটা দাড়িয়ে আছে।উপরে তাকিয়ে দেখি এই জিনিসটা অনেক উঁচু যেন মাথা সোজা করে দাড়িয়ে আছেন।মোটেও মড়াচড়া করছেনা।মনে হচ্ছে এটা একটা বিশাল দানব।ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখি,, একি এটা তো একটা পাহাড়।রাতের অন্ধকারে এমন কালো দেখাচ্ছিলো।তবে চাদের হালকা আলোতে পাহাড়ের মাথাটা অনেক উজ্বল দেখাচ্ছে।প্রচন্ড উঁচু একটা পাহাড়।ওহ তাহলে আমি এতক্ষণ এই পাহাড়টাকেই আত্মা ভাবছিলাম।”দুরসময়ে মানুষ নিজের ছায়াকেও ভয় পাই”তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আজ নিজেই পেলাম।পেছনে আরো একবার তাকালাম,না কোনো আত্মা নাই।এত কষ্টের মধ্যেও মুখে একটু হাসি ফুটল।আমি নিজের অজান্তে যে পথ দিয়েই আসিনা কেন,ঠিক দিকেই এসেছি।সত্যিই আল্লাহ আছেন।মনে মনে আল্লাহকে একটা শুকরিয়া জানালাম।যতই কষ্ট হোক আমি আমার অনেকগুলো ধাপ থেকে একটা ধাপতো এগুতো পারলাম।তাহলে অয়নের দেখানো এই সেই সূর্যের মায়া পাহাড়।
.
এখন আমার কাজ হলো এই পাহাড় বেয়ে উপরে ওঠা।তারপর নিচে নামলে একটা নদী পড়বে।ওই নদী পাড় হওয়া।পাহাড় বাদ দিয়ে ওপাশে যাওয়ার আর কোনো পথ আছে কিনা দেখলাম।তবে এই পাহাড় পার হওয়া ছাড়া আর কোনো উপাই দেখলাম না।কিন্তু এত বড় পাহাড় আমি পাড় হবো কেমন করে?? এসব ভাবতে ভাবতে আমি পাহাড়ের নিচ দিয়ে সোজা হাটতে লাগলাম।হঠাৎ আমি পড়ে যেতে গেলাম।সাথে সাথে পাহারের উঁচু একটা ডিব আকড়ে ধরলাম।একি আর একটু হলেই তো আমি এই খাদের অতল গহবরে গিয়ে পড়তাম।এখানে এত বড় একটা খাদও আছে??না পাহাড়ে ওঠা কঠিণ ভেবে ছিলাম।তবে এতটা কঠিণ হবে ভাবতেও পারিনি।পাহাড়ের একপাশে আছে বড় একটা খাদ।যদি একবার এই পাহাড় থেকে কেউ পড়ে তাহলে নিচে নয় সে তলিয়ে যাবে এই খাদের অতল গহবরে।তারপর নিচে পড়ে বড় বড় পাথরে যে তার দেহ কী হবে সেটা একমাএ এই খাদটাই বলতে পারে।না তবুও আমাই এই পাহাড় পেরুতেই হবে।তাই এখানে সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে পড়ি।তাই পাহাড়ের গায়ে যে ছোট ছোট খাচ থাকে
তাতে পা দিয়ে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে লাগলাম।অনেক কষ্টে কিছুটা উপরে উঠলাম।কিন্তু হঠাৎ পাহাড়টা বিশাল জোড়ে জোড়ে দুলতে লাগল।যেন এখনই ভেঙে পড়বে এই দৈত্যের মতো পাহাড়।না কিছুতেই আর পারছিনা এই পাহাড়ের সাথে।মনে হচ্ছে ভূমিকম্প হচ্ছে।এমনিতেই পাহাড় উঁচু তার উপরে এভাবে দুলছে তাহলে কতক্ষণ এভাবে আকড়ে ধরে রাখব??বেশ কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে টিকে থাকার পর পাহাড়টি জোড়ে একটা ধাক্কা দিয়ে আমাকে নিচে ফেলে দিলো।তবে নিচে নয় একেবারে খাদের অতল গহবরে।মনে হলো এই পাহাড়টিরও অনেক রাগ জমে আছে আমার উপরে।আমি আস্তে আস্তে খাদের অতল গহবরে তলিয়ে যেতে লাগলাম।
.
না আর পারলাম না।সূর্যের মায়াতেই শেষ পর্যন্ত পড়তে হলো আমায়।আর কোনো আশার আলো নেই।কানের কাছ দিয়ে যেন শো শো বাতাস বয়ে যাচ্ছে।একটু পরেই আমি তলিয়ে যাবো শত শত ফুট নিচে।রক্তাক্ত শরীর নিয়েই পড়ে থাকব ওখানে।আর কখনো ফিরে আসব না আমার রণির কাছে।শেষ দেখাটাও দেখতে পারলাম ওদের।এমনকি ওদেরকে বাচাতে পারলাম না।যানিনা এখন ওদের কি অবস্তা।ওদের কথা ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু করল।একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আকাশের দিকে তাকালাম আমি।তখনই দেখলাম পাহাড়ের গা বেয়ে দড়ির মতো কিছু যেন একটা নেমে আসছে।কী ওই জিনিসটা??কিছুই বুঝতে পারছি না।অনেক দ্রুত নেমে আসছে জিনিসটা।মনে হচ্ছে একটা দড়ি না হয় কোনো গাছের শিকড়।কিন্তু গাছের শিকড় এমন ভাবে আসবে কেন??এক সময় ওটা আমার সামনে চলে আসল।এটা কি জিনিস??না এটা কোনো দড়ি নয় আবার কোনো শিকড়ও নয়।দেখে মনে হচ্ছে কোনো চিকন তরল জাতীয় জিনিস।কিন্তু তরল জিনিস তো আবার নরম হয়।এটা দেখে তো তেমনটাও মনে হচ্ছে না।যাই হোক এটা কোথা থেকে আসল?? এই লম্বা জিনিসটাও আমার সাথে সাথে নিচে নামতে লাগল।মনে হচ্ছে ওটাকে ধরার জন্য কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে আমাকে।কী করব এখন??এটাকে ধরব না কি ধরব না??এটা সূর্যের কোনো চাল নয় তো??এত কিছু ভেবে লাভ নেই একবার ধরেই দেখি কি হয়??এমনিতেই নিচে গেলেও তো মরতে হবে তাই একবার এটাকে ধরেই দেখা যাক।তাই অনেক সাহস নিয়েই এইটাকে আকড়ে ধরলাম আমি।সাথে সাথে ওটা আর নিচে না গিয়ে উপরে উঠা শুরু করল।ওহ,তাহলে নিশ্চয় কেউ আমাকে সাহায্য করার জন্য এটা পাঠিয়েছে।কিন্তু ওই গহীন জঙ্গলে কে আমাকে সাহায্য করবে??ধেতত,এত কিছু কেন ভাবছি আমি?? আবার উপরে উঠতে পারলাম এটাই আমার কত কপাল।একটু পরেই আমি আবার মাঝ পাহাড়ে এসে উঠলাম।যে স্তান থেকে পড়ে গিয়েছিলাম তার কিছুটা উপরে।কিন্তু ওই দড়ি জাতীয় তরল পদার্থকে আর দেখতে পেলাম না।মনে হলো কোথাও উধাও হয়ে গিয়েছে।আমি আবার উপরে উঠতে শুরু করলাম।এবার আর পাহাড় কাঁপছে না ।তাই ভালোভাবেই অনেক উপরে উঠে গেলাম আমি।ঐ তো আর একটু গেলেই পাহাড়ের চূরাই উঠতে পারব।হঠাৎ করে ঘাবড়ে গেলাম আমি।মনে হচ্ছে কোথাও কেউ কান্না করছে।একি মনে হচ্ছে কান্নাটা পাহাড়ের ভেতর থেকে আসছে।তবে একটা কান্নার আওয়াজ নয় অনেকগুলো কান্নার আওয়াজ।মনের ভেতরে একটু ভয় লাগছে।এই নির্জন পাহাড়ে কেই বা কাঁদতে পারে??কোন উংস খুঁজে পাওয়ার আগেই কেন জানিনা মনে হলো আমি পাহাড়ের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি।তাকিয়ে দেখি অসংখ্য কাটা হাত বের হয়েছে পাহাড় থেকে।আর সেই হাত গুলোই আমাকে পাহাড়ের ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।কোনো হাত আমার গলা ধরেছে,কোনো হাত মাজা ধরেছে,আবার কোনো হাত আমার পা ধরে নিচে নিয়ে যাচ্ছে।আগে একটা আত্মার সাথে যেভাবে হোক পেরেছিলাম।কিন্তু এখন এত গুলো শক্তির সাথে কিছুতেই পারছি না।এখন কি করে আমি রক্ষা পাবো এই হাত গুলো থেকে?? আমার কাছে তো তেমন কিছুই নেই।হঠাৎ মনে পড়ল, আমার কাছে তো একটা চাকু আছে।দেখি ওটা দিয়ে কোন কিছু করা যাই কিনা।তাই অনেক কষ্টে চাকুটা নিয়ে ওই হাত গুলোতে আঘাত করতে লাগলাম।হাতগুলো কেটে কেটে রক্ত হতে লাগল।তবুও একটা হাত কেটে গেলে তার পাশ দিয়ে আরও দুটো করে হাত বের হচ্ছে।না এতগুলো হাত আমি কীভাবে নষ্ট করব??তবুও হাল না ছেড়ে হাত গুলোর সাথে মোকাবেলা করতে লাগলাম।হয় এসপার না হয় ওসপার।বেশ কিছুক্ষণ ধরে এমন করার পর অবশেষে হাত গুলো আমাকে ছেড়ে দিয়ে পাহাড়ের ভেতরে চলে গেলো।ওগুলো চলে যাওয়ার পর পরই আমি তারাতারি পাহাড়ের চুরাই উঠে বসলাম।যাক বাবা এতক্ষণ পর হাফ ছেড়ে বাচলাম আমি।ওখানে কিছুক্ষণ বসে উঠতে যাবো তখন পেছনে তাকিয়েই অবাক হয়ে গেলাম আমি।আমার পেছনে পাহাড়ের উপরে কেউ একজন বসে ধ্যান করছে।একটা দাদু বয়সি লোক।যার মুখের দাড়িও অনেক লম্বা এবং সাদা।আমি উনাকে দেখে চুপচাপ দাড়িয়ে আছি।আসলেই এত বড় পাহাড়ে আমি উঠতে গিয়েও কত বিপদ হলো আর উনি একটা মুরুব্বি লোক হয়ে কি করে এখানে থাকতে পারে??উনি আবার সূর্যের কোনো মায়া নন তো??এসব ভাবতে ভাবতে উনি চোখ খুলে আমার দিকে তাকিয়ে মুছকি একটা হাসি দিয়ে বলল,,,
-কি ভাবছিস তুই?? আমি তোর শএু নয়।তুই পড়ে যাচ্ছিলি তাই আমিই ওই মায়া দড়িকে পাঠিয়েছিলাম তোকে উঠানোর জন্য।এই মায়া দড়ি যেখানে থাকে সেখানে অশুভ শক্তির কোনো মায়া কাজে লাগেনা।আর তাই তুই খুব সহজে উপরে উঠতে পেরেছিস।
-হুমম কিন্তু আপনি জানলেন কী করে আমি পরে যাচ্ছিলাম??
-জানি রে জানি।শোন এইটা রাখ(বলেই উনি একটা ছোট কৌটা এগিয়ে দিলো)।এটা তোর সামনে বিপদে কাজে আসতে পারে।
-কী আছে এর ভেতরে??
-এর ভেতরে আছে কিছু পাওডার।তবে এটা যে সে পাওডার নয় এটা পানির উপরের যে কোনো আত্মাকে ধবংস করতে পারে।সামনে জাওয়ার পথে তোর অনেক বিপদ হতে পারে।
-আচ্ছা অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।কিন্তু আপনি জানলেন কী করে আমি ঐদিকে যাবো??কে আপনি বলুন তো??
-শোন তাহলে ।আমি হলাম আক্কাজ হুজুর।এই গ্রামেরই বড় হুজুর আমি।সবসময় আল্লাহর জিকির নিয়ে পড়ে থাকতাম আমি।তোর আগের জন্মের মানুষ আমি।তোরা যখন মারা গেলি তখন তোর আব্বু আমার কাছে আসে।আর বলে ওই ভয়ানক বাড়ীটার ব্যাপারে।কী করে গ্রামটাকে রক্ষা করা যাবে??আমার দেখানো পথেই ওরা সব কিছু করে।আমি বূঝতে পেরেছিলাম তোদের আবার পুনজন্ম হবে।আর তুই পারবি ওই আত্মাগুলোকে ধবংস করতে।তাই তোর বাবাকে সব কিছু শিখিয়ে দিই।তবে তার পরের রাতে তোর বাবা মা মারা যাই।অনেক খারাপভাবে মারা গিয়েছিলো তারা।আর তারপর আমি ধ্যানে বসি এইখানে যাতে আমার আয়ু কিছুটা বাড়ে।তোর পুনজন্ম যেন আমি দেখতে পারি।অনেক দিন ধ্যান করার পরে আল্লাহ আমাকে এই শক্তিটুকু দেই।কিন্তু যখন চোখ খুলি তখন দেখি আমি এই বিরাট পাহাড়ের উপরে।অনেক বার নামার চেষ্টা করেছি তবে পারিনি।আর তারপর আমি আবার ধ্যানে বসি আর জানতে পারি একমাএ তুই আমাকে এইখান থেকে নামাতে পারবি।
-আমি আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না।আর আমিই যে সে মেয়ে সেটা বুঝলেন কীভাবে??
-বুঝতে পারবি সব।তোর বাবা তোকে সবকিছুই বুঝিয়ে দিবে।আর তোর গলাটা দেখি।
আমি উনাকে আমার গলাটা দেখাতেই উনি বলল,,,
-হুমম, এই তো আমার ধারণা ঠিক।তোর গলাই সেই চাঁদের চিহ্ণ।আর পাগলী মেয়ে তুই সে না হলে কিছুতেই এখানে আসতে পারতিস না।এখন আমাকে নিচে নামিয়ে তারপর তুই তোর কাজে যা।
-কিন্তু আমার তো আর ওই পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না।
-লাগবে না মানে??কেন লাগবে না??
-কারণ, আপনিই তো আমার বাবাকে ওই আত্মাগুলোকে ধবংস করার পথ বলে দিয়েছিলেন।তাহলে এখন আপনিই বলবেন সবকিছু।
-দেখ ওসব আমার কিছুই মনে নেই।আমাকে অনেক ধ্যান করতে হয় আর বয়সও তো অনেক হলো তাই না??এখন আমাকে নিচে নামিয়ে দে।
-কিন্তু আপনাকে নিচে নামিয়ে আমি উঠার সময় যদি আবার পড়ে যাই??এখন তো আপনি বাচালেন তো তখন কে বাচাবে আমাকে?? না আমি কিছুতেই আপনাকে নিচে নামাবো না।
-আরে তোর আর কিছুই হবেনা।(বলেই উনি একটা সূরা শিখিয়ে দিলেন)এইটা পড়তে পড়তে উপরে উঠলে কিছুই হবে না তোর।
আচ্ছা,ঠিক আছে চলুন।
…..
……
কিন্তু এবার একটু ঝামেলা হলো।আগে যখন একা এসেছিলাম তখন খাচে খাচে পা দিয়ে উঠেছিলাম।কিন্তু এবার তো আমি একা নয়।সাথে একটা বৃদ্ধ. মানুষও আছে।কী করে নামাবো উনাকে??তাই আমার কাছের চাকুটা দিয়ে আস্তে আস্তে ছোট ছোট গর্ত করে উনাকে নামাতে লাগলাম।আগে আমি নামছি তারপর উনাকে একধাপ করে করে নামাচ্ছি।এভাবে প্রায় ঘন্টা দুই পর উনাকে নিচে নামালাম।উনি নিচে নামতে পেরে অনেক খুশি।আমিও অনেক খুশি এতদিন ধরে একধরনের বন্দি মানুষকে মুক্তি দিতে পেরে।উনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পেছনে ফিরব ঠিক তখনই উনি আমাকে আবার দাড়াতে বললেন,,
-ওহ তোকে তো একটা জিনিস দিতেই ভুলে গেছি।ওটা আমাকে আমানত হিসবে দিয়ে গিয়েছিলো তোর বাবা।
-কী সে জিনিসটা??
উনি তখন উনার থলি থেকে একটা লকেট বের করে বলল,,
-ওইনে এইটা তোর।তোদের বংশের ছেলে মেয়েদের গলাই থাকত এই লকেট।এই লকেটে যে পদোটা দেখছিস ওটার অশেষ গুণ আছে।শুধুমাএ একবারই কাজে দেই এই পদোটা।সেটা পানি হোক বা ডাঙাই হোক।তবে ভুলে যাসনা মাএ একবারই কাজে দিবে এইটা।আমি তোর বাবাকে বলেছিলাম তোরা অতৃপ্ত আত্মা।তাই তোদের ঠিক পুনজন্ম হবে।ওই জন্মে কোনো কাজে আসেনি এটা।তাই তোর বাবা এটা আমার হাতে দিয়ে গিয়েছিলো।
আমি উনার কাছ থেকে ওটা নিয়ে বললাম,,
-আচ্ছা,আমি যাই।আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
-হুমম, যা তবে সাবধানে যাস।যখন তখন বিপদ হবে এইখানে ভুলে যাস না।
.
উনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি আমার পথে পা বাড়ালাম।উনার কথা মতো ওই সূরাটা পড়তে পড়তে উপরে উঠলাম।তবে এবার আর কিছুই হলো না।পাহাড় থেকে নেমে কিছুটা সামনে যেতেই পড়ল ভয়ানক এক নদী।হুমম এই সেই নদী।তাহলে অয়নের কথা মতো একটা জঙ্গল পেরুলাম,পাহাড় পেরুলাম এবার পড়ল নদী।নদী পার হতে পারলেই পড়বে আবার এক ভয়ানক জঙ্গল।জঙ্গলের সূএ ধরে উত্তর দিকে এগুলেই পড়বে #সেই_বাড়িটা।কিন্তু অয়ন বলেছিলো একটা নদী পড়বে।তবে এ তো দেখছি নদী নয় যেন বিরাট একটা সুমদ্র।যাই হোক এখন এইটাই পার হতে হবে।তবে এ নদীটা যেন কেমন একটু অদ্ভুদ।নদীর পানি যেন বিন্দু পরিমান নড়ছে না।নদীর পানি যেন কালো হয়ে আছে।কিন্তু এই নদী আমি পার হবো কীভাবে?? এখানে তো কোনো মাঝি নেই।অবশ্য এখানে সারাদিন থাকলেও কোনো মাঝি আসবে না,কারণ এটা অনেক ভয়ানক জাইগা।তবে নদী পার হতে হলে তো কোনো কিছুর দরকার।এখানে কি তেমন কিছুই নেই যেটা দিয়ে আমি এই নদী পার হতে পারব??
.
আশেপাশে তাকাতেই দেখলাম এখানে অনেক গুলো কলাগাছ আছে।যাক বাবা এখানে কলাগাছ থাকবে সেটা কখনো ভাবিনি।যাই হোক এখন এটা দিয়েই আমার ভেলা বানাতে হবে।এখানেও চাকুটা কাজে লাগল।ভেলা বানানোর শেষ পর্যায়ে চাকুটা ভেঙে গেলো।যাহ বাবা,এটা এবার ভেঙে গেলো??তো যাই হোক শেষ পর্যায়ে ভেঙেছে এটাই ভালো।চাকুটা অনেক কাজেই লাগল।আর চাকুটা অনেক পুরোনো ছিল।এত সময় কাজ করতে পারব ভাবিওনি।যাই হোক পুরোনো ভেবেই তো চাকুটা নিচ্ছিলামই না।গুরুজনদের একটা কথা মনে পড়ে গেলো “ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো” কথাটা সত্যিই গ্রহণযোগ্য।আজ নিজেকেই দিয়ে বুঝলাম।
…..
আর কিছু না ভেবে ভেলাটা ভাসিয়ে দিয়ে ওর উপরে উঠলাম।চারিদিকে তাকালে মনে হচ্ছে এই নদীর কোনো শেষ নেই।অনেক পথই তো পার হলাম কষ্ট করে জানিনা এখানে কী হবে??এত পানির ভেতরে আমার ছোট্ট একটা ভেলা।জানিনা আমার কপালে কী আছে??এটা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আমার চোখ গেলো পানির দিকে।একি পানি তো কালো বর্ণ ছিল।এখন এমন রক্তাক্ত বর্ণ হলো কী করে??নদীর ভেতর থেকে যেন বাসাত বইতে শুরু করল।কিন্তু ঠান্ডা বাসাত নয় যেন জাহান্নামের আগুনের বাতাস।আমার ভেলাটাও এদিক ওদিক দোল খাচ্ছে।হঠাৎ করে প্রচন্ড জোড়ে শুরু হয়ে গেলো আগুনের ফুলকির মতো ঝড় বাতাস।নদীর লাল রক্তের পানিতেও বুদবুদ কাটছে।বাতাসের চাপে আমার ভেলাটাও রক্তের নিচে তলিয়ে যেতে লাগল।……………
.
((চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,))