বোনের গুন্ডি বান্ধবী

তাজমিনা এই তাজমিনা আমার প্যান্টের পকেটে টাকা ছিলো টাকা কই।(আমি)

–আমি কি জানি।তোর টাকা আমি নেইনি।(বোন)

–তুই নিসনি তো কি ভুত নিছে।(আমি

–তা আমি কি করে যানবো।যা ভাগ এখন।(তাজমিনা)

কি আর করার নিলেও বলবে না।হারামি একটা কেনো যে প্যান্টটা ওকে ধুতে দিলাম।দিয়েই বাশ টা খাইলাম।দূর এখন খালি পকেটেই ক্যাম্পাসে যেতে হবে।যাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে হবে তারপর ক্যাম্পাসে যেতে হবে।ওহহ সরি সরি আমার পরিচয় দিতেই ভুলে গেছি।নাস্তা করতে করতে আপনাদের পরিচয় টা দিয়ে দিই।আমি রবি।আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করছি।আর যার সাথে কথা বলছিলাম নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে কে হয় আমার।তারপরেও বলি ও হলো আমার একমাত্র বোন।পরিচয় দিতে দিতে আমার নাস্তা করা শেষ।এখন ক্যাম্পাসে যেতে হবে।বাসা থেকে ক্যাম্পাসে বেশি দূরে না তাই হেটেই যাচ্ছি ক্যাম্পাসে।আহহহহ কিসের সাথে যেনো ধাক্কা খেয়ে পরে গেলাম।উঠে দেখি একটা পরি থুক্কু মেয়ে।এত্য সুন্দর কেউ হতে পারে আমার চোখই পরছে না।তখনি রিয়াজ ভায়ের গান টা মনে পরে গেলো–
পরে না চোখের পলক
কি তোমার রুপের ঝলক।
দোহায় লাগে মুখটি তোমার একটু আঁচলে ঢাকো।
আমি জ্ঞান হারাব মরে যাব বাচাতে পারবে না কো।
আর এই দিকে মেয়ে তো পুরায় রেগে লাল হয়ে গেছে ওয়াও গাল দুটা পুরায় লাল হয়ে গেছে।ও মোর খোদা আমি তো ক্রাশ খাচ্ছি।এই দিকে মেয়ে আমাকে বকা দিতে শুরু করে দিছে।আমি তো কিছুই শুনি না সব মথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।আর এক পলকে মেয়ের ঠোটের দিকে তাকিয়ে আছি।তখন মেয়েটি হাতে তুরি মারল।তখন আমার হুস ফিরল–

–হ্যালো মিস্টার কথা কি কানে যাই না।তখন থেকে বকে যাচ্ছি কিছু বলছেন না।(অপরিচিতা)

–ও হ্যা কিউট ছেলে দেখলেই ধাক্কা দিতে ইচ্ছে করে না।(আমি)

–ও হ্যালো কি বললেন আর একবার বলেন তো শুনি।ধাক্কা আমি মারছি।(অপরিচিতা)

–তা নই তো কি।নিজে ধাক্কা মেরে আমার মতো নিরিহ পোলারে গালি দিচ্ছেন।(আমি)

–ঐ ঐ আর একটা কথা বললে ঘুশি মেরে নাক ফাটিয়ে দিবো।(অপরিচিতা)

–দিন না দেখি কত পারেন।(আমি)

বলা মাত্র সোজা নাকে ঘুশি মেরে দিলো।

–আউউউউউচচচ
কি মেয়ের বাবা মারতে বললাম বলে সোজা মেরে চলে গেলো।। আর আমি নাক ধরে ক্যাম্পাসে গেলাম। দেখি মৌ, দিপু বসে আছে ওদের কাছে গেলাম।ওহহ এরা হলো আমার বেষ্টু।

–কি রে নাকে হাত দিয়ে আছিস কেন।।(মৌ)

–আরে না এমনি। (আমি)

–কি রে তোর নাক লাল হয়ে আছে কেন।(দিপু)

–আর বলিস না আসতে আসতে হোচট খেয়ে পরে গেছিলাম তাই।(সত্যি টা বললাম না। না হলে সব সময় পচাবে)

–না দেখে তো মনে হচ্ছে কেউ ঘুশি মারছে।(মৌ)

–আরে এই রবিকে মারার ক্ষমতা কারো হয়নি বুঝছিস?(আমি)

–হুম বুঝছি চল এবার ক্লাসে।(দিপু)
তারপর ক্লাসে গেলাম।আরে ক্লাসে ঢুকতেই দেখি বাবা আলি।কি বুঝলেন না তো।আপনারা ভাবছে ক্লাসে আলি বাবা কথায় থেকে আসলো।আসলে বাবা আলি হল আমাদের স্যার। নাম হলো বাবর আলি।আমরা ডাকি বাবা আলি করে।পুরা বরিং ক্লাস একটা। ঢুকছি যখন ক্লাস তো করতে হবেই। বসছি পিছনের সিটে।এমন সময় বাবা আলি বলল–

–রবি দারা।(স্যার)
–জি সার বলুন।(আমি)
–ঐ হারামজাদা সার কি স্যার বলতে পারিস না।(স্যার)
–না সার আমি উচ্চারণ করতে পারি না।(আমি)
–থাক তোক আর উচ্চারণ করতে হবে না।এখন বল ডিসি মেশিন কাকে বলে??(স্যার)

এই রে আমি তো এই বই আমার বাপের জন্মেও খুলে দেখিনি।
কেমনে কমু কেমনে কমু চট করে মাথায় আইডিয়া চলে আসলো।

–সার ডি -তে ডিরেক্ট সি- তে কারেন্ট। এর মানে দারাল যে ডিরেক্ট কারেন্ট দিয়ে যে মেশিন চলে তাকে ডিশি মেশিন বলে।(আমি)

এই শুনে সবাই হাসতে শুরে করে দিছে।বুঝলাম না কি জন্য হাসছে। স্যার তো পুরা ক্ষেপে গেছে।

–ঐ রবি বের হ ক্লাস থেকে।(স্যার)
আমি তো এটায় চাইছিলাম।বের হয়ে আসলাম ক্লাস থেকে।ক্লাস থেকে বের হয়ে পুকুর পাড়ে গেলাম।বসে আছি সময় কাটছে না।একটু পর মৌ,দিপু আসলো —
–ঐ তুই কি সুদরাবি না।(মৌ)
–আমি আবার কি করলাম রে বাবা।(আমি)
–কিছু না চল বাসায় যাবো।(দিপু)
–হু চল। (আমি)
তারপর বাসায় চলে আসলাম।পুরা মান্না ভাইয়ে পার্ট নিলাম।

–আম্মাজান আম্মাজান আপনি বড় মেহের বান।জন্ম দিছেন আমায় আপনার দুদ্ধ কিরছি পান।আম্মাজান……আম্মাজান…(আমি)

–কি হয়ছে চিল্লাছিস কেন।(আম্মু)
–এ আম্মাজান আজ ৫ টা ঘন্টা হয়ে গেলো আপনি আমাকে খেতে দেন না।এ আম্মাজান তুই খেতে দে আম্মাজান।খেতে দিবি না তুই আম্মাজান। ঠিক আছে চলে যাচ্ছি আমি রুমে।(আমি)

–এই তুই সিনেমার ডায়লগ বন্ধ করবি।যা ফ্রেশ হয়ে আয় খেতে দিচ্ছি।(আম্মু)
–হিহিহিহি ওকে আম্মাজান। উউউমমমমমা।(আমি)
তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসলাম।
–আম্মু তাজমিনা কই।এখনো আসেনি???(আমি)
–না রে এখনো আসেনি।(আম্মু)
–ওও আচ্ছা। খেতে দাও খুদা লাগছে।(আমি)
আম্মু খেতে দিলো খেয়ে রুমে এসে সুয়ে পরলাম। কখন যে ঘুমালাম বলতে পারলাম না।ঘুম ভাঙ্গল বোনের ডাকে —
–ভাইয়া উঠ অনেক ঘুমাইছিস।(তাজমিনা)
–হু আর একটু ঘুমায় যা এখন।(আমি)
–না না উঠ অনেক ঘুমায়ছিস।না হলে আবার শরির খারাপ হবে।।।(তাজমিনা)
–তোর জ্বালায় আর বাচি না।শান্তি মতো ঘুমাতেও দিবি না।(আমি)
–হুম যে দিন থাকবো না সে দিন বুঝবি।(তাজমিনা)
–তুই আবার কই যাবি।বিয়ে করার ইচ্ছা হচ্ছে না কি????(আমি)
–ভাইয়া এইবার কিন্তু বেশি বেশি হচ্ছে।(তাজমিনা)
–হুম যা উঠছি।(আমি)
তারপর উঠে ফ্রেশ হয়ে খেলতে গেলাম।খেলে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে চা খাইতে গেলাম দিপু কেও আসতে বললাম।তারপর চা খেয়ে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম তারপর বোনের জন্য চকলেট নিয়ে বাসায় আসলাম। বোন টা আবার চকলেট খুব ভালবাসে। বাসায় এসে ওকে চকলেট গুলো ওকে দিলাম–
–থ্যাংকস ভাইয়া।তুই এত্য ভালো কেনো? (তাজমিনা)
–থাক আর পাম মারতে হবে না যা এখন।(আমি)
ও চলে গে তারপর আমি লিখতে বসলাম। আমি প্রায় দিন লিখি পড়ার কোনো বিষয় না গল্প লিখতে বসি।কিছুখন পর আম্মু খাবার জন্য ডাক দিলো
লিখা বন্ধ করে খেতে গেলাম।খেয়ে এসে সুয়ে সুয়ে ফেসবুকিং করতে করে কখন যে ঘুমে পরছি বলতেই পারি না।সকালে চেঁচামেচির শব্দে শুমে ঘুম বাঙ্গলো।
সাত সকালে কে আবার চেঁচামেচি করছে।চোখ মুছতে মুছতে রুম থেকে বের হয়ে বাসা ঘরে গেলাম। কে আসছে দেখতে চোখ তো আমার মাথার উপরে উঠে গেলো।আরে এই তো……..

চলবে।।।।