কল্পনায় ভালোবাসা

আপনি আবার ফিরে আসবেন কিনা জানি না,
অথচ রোজ রোজ আমি আপনার ফিরে আসার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনি।
দিন শেষে পাখিরাও নীড়ে ফিরে
এই আশাতে বুক বাঁধি।

আপনার আমার আবার টেলিপ্যাথি হবে কিনা জানি না,
তবে রোজ রোজ ফোন হাতে নিয়ে
আমি আপনার একটি ক্ষুদে বার্তা পাওয়ার জন্য অাশা রাখি।
একটি মূমুর্ষ রোগীর পাশে শেষ নিশ্বাস ত্যাগের আগে,
তার নিকট আত্মীয়রা যেভাবে ভরাক্রান্ত মন নিয়ে বসে থাকে।
আমিও তাদের ন্যায়।

আপনার সাথে আমার আবার দেখা হবে কিনা জানি না,
তবে চলার পথে অথবা ভীড়ের মাঝে এখনো আমি থমকে যাই।
আপনার মতো ছিপছাপ গড়নের কোন মানুষ দেখলে,
অথবা আপনার পরনের শার্ট
পরিচিত পারফিউমের ঘ্রানও আমাকে স্বস্তি থাকতে দেয় না।

আপনার সাথে আমার সংসার হবে কিনা জানি না,
তবু রোজ রাতে ঘুমাবার আগে চোখ বন্ধ করে-
কল্পনার জগতে আমি আমাদের একটা ছোট্ট সংসার বুনি।
যেমন ভাবে মধ্যবিওরা তাদের স্বপ্ন বুনে।

এসব আমি কেন করি আমি জানি না!
আমি বলি ভালোবাসা,
লোকে বলে বয়সের দোষ-
পঁচিশ পেরোনোর পর এসব আবেগ আর থাকবে না ।

আমি তাদের কথায় কর্নপাত করি না
আমি পঁচিশে বিশ্বাসী না।
ভালোবাসা,প্রিয় নাম,প্রিয় দিন-
চিরকালই বুক পকেটের কোন এক কোনায় জমা পড়ে রয়।

পঁচিশ বছর হলেই যুবক অথবা যুবতী তার আবেগ ভুলে যায় না,
বরং পয়ষট্টি বছরের বৃদ্ধ অথবা বৃদ্ধাও –
কোন এক পড়ন্ত বিকেলে চোখের সোনালী ফ্রেমের চশমাটা খুলে,
অতীতের স্মৃতি মনে করে
চোখের দুই এক ফোঁটা জল ফেলে,
অথবা ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস।
মনের অগোচরে চিরকাল রয়ে যায় সব
শুধু নির্দিষ্ট বয়সের পর আর তা মন খুলে প্রকাশ করা যায় না।