ব্যার্থ জীবন

নির্মমভাবে ঠকে যাওয়ার পর কিছু মানুষ প্রতিনিয়ত নিজেকে শেষ করে দেবার নেশায় মত্ত থাকে । কখনো স্লিপিং পিল,কখনো সিলিং ফ্যানে রশি টাঙানো,কখনো আবার ব্লেড দিয়ে হাত কেটে রক্তাক্ত করে প্রতিবারই নিজেকে মৃত্যুযন্ত্রণা দেয়।

এতে কিছু মানুষ চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেও বেশিরভাগ মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করতে করতে টিকে থাকে!

দিন যায়,মাস যায়….
এভাবেই কয়েক বছর কেটে যাওয়ার পর এই মানুষটারও জীবন কেটে যায় ক্ষানিকটা স্বাভাবিক গতিতে।
এই ঠকে যাওয়া মানুষটার জীবনেও আবার স্বপ্নরা উঁকি দেয় ।

এই মানুষটাও চায় তার পাশে হাঁটার জন্য একজন বিশ্বস্ত মানুষ
তার এই নির্মমভাবে ঠকে যাওয়ার গল্পটা কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনুক,
তাকেও এবার কেউ বুকের মাঝে শক্ত করে জরিয়ে ধরে ,তার বুকের ভেতরের জমাট বাঁধা পাথরটা সরিয়ে দিক।
তারও ভীষণ ইচ্ছে করে তাকেও এবার কেউ প্রচন্ড রকম ভালোবেসে পরম যত্নে আগলে রাখুক ।
তার জীবনটাও সুন্দর হোক।
কিন্তু,
কিছু কিছু মানুষের ভাগ্য বোধহয় তা চায়না!
কিছু মানুষের জীবন কখনো সবকিছুতেই পূর্ণতা পায় না।
কেবল সবকিছু জুড়ে যা থাকে তার নাম দীর্ঘশ্বাস!
তারপর হেসে হেসেই একসময় নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে,চলুক না বাকি জীবনটা তার নিজস্ব গতিতে ।

অংশ -২

যে কখনো আত্মহত্যার চেষ্টা করেনি সে কখনো বুঝবে না আত্মহত্যার যন্ত্রণা কতটুকু।
যে সমসময় নিঃসঙ্গ দিন কাটায় সে ছাড়া কেউ বুঝবে না আসলেই জীবনে সঙ্গীর গুরুত্ব কতটুকু।
যার মন খুলে কথা বলার মতো কোন বন্ধু নেই সে ছাড়া কেউ বুঝবে না জীবনে একটা বন্ধু কতোটা দরকার ।
জীবন কখনো একটা ঝকঝকে সুন্দর ছবি না,
জীবনে একাকীত্ব,হতাশা,ব্যর্থতা,কষ্ট সবই আছে কিন্তু প্রকাশ ভঙ্গি ভিন্ন ।
কেউ সবসময় হাসিখুশি থাকে,খুব হাসিখুশি ছবি আপলোড করে মানে এই না যে সে প্রকৃতপক্ষে সুখী।
আমারা তো সবাই উপরটা দেখে মানুষকে বিচার করি !
ভিতরের এতো শূন্যতা দেখার আমাদের সময় কই ?
সবাই সুখ খুঁজে অথচ সুখী দেখতে মানুষটারো যে একটা অদৃশ্য ক্ষত আছে তা আমরা কখনো খুঁজি না।
আবার,কখনো সেই ক্ষতের সন্ধান পেলেও আমরা সেই তীব্র ব্যথার ভাগ নিতে চাই না ।
আমরা বরাবরের মতই সুখ সন্ধানী,বড্ড সুখ সন্ধানী ।