কবিতাঃ ব্যাক্তিগত তিুম ও অপেক্ষা

ব্যক্তিগত তুমি

ডায়েরীর পাতা জুড়ে যত গোলাপ জমা আছে,
তার সব পাপড়ি আর্তনাদ করে থেকে থেকে।
তোমার জন্য রোজ কাঁদে তারা।
তুমি শুনতে পাও না, কখনও পাবে ও না।

এক এক করে দিন যাবে, মাস যাবে, বছর পার হবে।
তুমি তোমার গতিতে ছুটতে গিয়ে অতীত ভুলে যাবে।
আমায় ভুলে যাবে, সব ফেলে চলে যাবে ভবিষ্যতে।
আমি ও হয়তো তোমার ফেলে যাওয়া পথ ধরে হারিয়ে যাব বাস্তবের গহ্বরে।

তোমার জন্য ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাবে হয়তো।
তবু তুমি তো আর দেখবে না।
তোমার কষ্ট হবে কি না আমার জন্য,
তাও আর জানতে পারব না।

তুমি একান্তই তোমার হয়ে যাবে, আর আমি আমার।
কেউ কারো কথা আর ভাববো না হয়ত।
তখন ও এমনি করে তোমার জন্যে বুকে ঠিক ব্যথাটা হবে।
এমনি করেই হয়ত সবার অগোচরে ভালবেসে যাব।
ডায়েরীর ভাজে ভাজে জমতে থাকবে আমার একান্ত ব্যক্তিগত “তুমি”।
যে কখনও আমার থেকে দূরে যাবে না।

তোমার অপেক্ষার প্রহরগুলো ভালো আছে ?
শুনেছিলাম তুমি দিন গোনো, একটা দু’টো করে!
ক’দিন হলো তোমার অপেক্ষার?
মাস? বছর? নাকি যুগ পেরিয়েছে?

অপেক্ষার রাত্রিগুলো কি আগের মতো কান্নামুখর হয়?
নাকি, অভ্যাসে পরিণত হয়েছে কাছে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষারা?
শুনেছিলাম তুমি পুড়ে যাও আমাকে ছাড়া?
শুনেছিলাম তোমার পুরোটাই অন্ধকার এখন!
তোমার রাত দিন নাকি অপেক্ষায় কাটে!

তোমার চোখেরা ভালো আছে?
আবার যদি সামনে যাই, চিনতে পারবে ওরা আমাকে?
বলেছিলে ও চোখ নাকি আজন্ম আমাকেই চিনবে!
ওরা আমাকে দেখার অপেক্ষা করে আজও?
তোমার দু’টো হাত?
ওরা আমার হাতের স্পর্শ চায় আজও?
ওরা আজও সেই মায়া মনে রেখেছে কি?

অপেক্ষা

প্রিয়!
বড় জানতে ইচ্ছে করে, তুমি আমাকে মনে রেখে আজও কি আমার অপেক্ষা করো?

আচ্ছা! তুমি কি জানো?
তোমার অপেক্ষায় সাড়া দেব তাই আজও ভিক্ষুকের ন্যায় প্রানভিক্ষে নিয়ে বেঁচে আছি আমি?

কত সহস্র বছর আমার চোখ পুড়ে মরুভূমি, হৃদয় জ্বলে কয়লা, শরীর পুড়ে ছাই।

প্রিয়!
তোমার অপেক্ষার নয়!
একটাবার, শুধু একবার আমি নিজের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চাই।