সুবর্ণলতার চোখে একুশের পুরুষ

বছর ঘুরে আবার একুশ আসে। এবার ও এসেছে।

ফাল্গুনের ঘ্রাণে মাতিয়ে আছে সুবর্ণলতার চৌকাঠ !

তার দ্বিধান্বিত এক যৌবন। ফাল্গুনের প্রথম ফোঁটা রক্তপলাশের প্রেমে সে পরে।

শিমুলের ডগায় ডগায় তাজা রক্তের প্রবণ! একি?

সেদিন তবে কনকলতা,রক্তপলাশ,

শিমুল,পারিজাতের রং ছিলো টকটকে অগ্নিশিখা!

নাকি ছিলো সঞ্জয়দের রান্নাঘরে অগ্নি উত্তাপের মতো।আচ্ছা,

সালামের নিশ্চয়ই ছিলো পুতুল খেলা সঙ্গ? বরকতের প্রাণচঞ্চল রঙ্গ?

রফিকের দেয়াল ঘেঁষে এক পা ভাঙ্গা চেয়ার।

জব্বারের চিঠি লেখা শেষে খুলে যাওয়া দুয়ার।

সুবর্ণলতা গলিতে গলিতে হেডলাইন ছাপিয়ে দেয়,

“ফিরে পেতে চাই তরতাজা রক্তচাষ!

“এই যে,শুনতে পায় অন্তর্গৃহ হতে কান্নার সুবাস।কে কাঁদে?

‘যারা ভাষা,ভাষা’ করে মরণকে মনে করেছিলো পায়ের ধূলো ,

তাদের প্রাণাত্মা! সালামের পুতুল খেলা সঙ্গী? রফিকের দেয়াল ঘেঁষা চেয়ার? ওই বুঝি,জব্বারের তিন টুকরো বর্ণমালার চিঠি!

আচ্ছা,শেষ গুলিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জব্বারের হৃদয় খণ্ডিত হয়েছিলো?

মায়ের ভাষায় লিখে যাওয়া চিঠিটি মা পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারার বেদনায়!

ওরা নিশ্চয়ই এখন ভালো আছে। পারিজাতের ঘ্রাণে রোজ ওদের ঘুম ভাঙ্গে।

রোজ কনকলতার বন্ধনে যুদ্ধে নামে। সুবর্ণলতা পুরুষ খুঁজে।

খুঁজে একুশে ফেব্রুয়ারিকে বুকপিঠে ছিনিয়ে আনার মত পুরুষ।

মায়ের ঠিকানায় শেষ চিঠি পৌঁছে দিতে না পারার মতো ব্যর্থ সুপুরুষ!

পুষ্পস্তবকের পাহাড় ভেঙ্গে দিয়ে, “রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই।

“বলতে দ্বিধাহীন মহাপুরুষ। দেশ জুড়ে শত শত পুরুষ, শত শত রমনীর রুপ।

খুঁজে পাওয়া যায় না শৈশবের কোনো সঙ্গ, খুঁজে পাওয়া যায় না এক চিঠির অপেক্ষারত কোনো মাকে।

আজ কেবল কুকুরের ঠোঁটে শহীদ মিনারে ফুলের তোড়া যায়!

শুধু শহীদ দেখা হয় না। আজ কেবল,

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি “সবাই গায়,

একুশকে অন্তরে কেউ আকড়ে ধরে না।

সুবর্ণলতার কাকপুকুরে এক হাঁটুজল। পুরুষ নামে বহু আছে।

ভাই নামের শহিদ চোখে পড়ে না!

“সুবর্ণলতার চোখে একুশের পুরুষ”