আমি নিতান্ত কালো ছিলাম, ভীষণ রকম কালো

আমি নিতান্ত কালো ছিলাম,

ভীষণ রকম কালো।

আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একদিন একজন বলেছিলো আমার চোখ দুটোতে ডুব দিয়ে সে হারিয়ে যেতে চায়।

কিন্তু ব্যস অতটুকুই। আমার রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার পর ঐ চোখে ডুব দিতে সে আর ফিরে আসেনি।

আমি যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতাম, আমার কোমর পর্যন্ত লম্বা চুল দেখে ওপাড়ার গোঁসাই কাকা বলেছিলো, তোকে আমি আমার ছেলের বউ করে নিয়ে যাবো।

কিন্তু তা অতটুকুতেই শেষ। আমি যখন পুতুল খেলার ছলে সংসার সংসার খেলছিলাম, তখনই গোঁসাই-কাকার ছেলে এসে, আমায় বললো,কিরে?

এইতো গায়ের রং, এই রং নিয়ে আমার বউ হওয়ার স্বাধ জাগে?

ও স্বাধ তুই ভুলে যা, আমি একটা লাল টুকটুকে ফর্সা বউ নিয়েআসবো।

ওপাড়ার বেণীমাধব দূর থেকে আমার গানের গলা শুনে ছুটে এসেছিল।

আমি তার পানে লজ্জা নিয়ে তাকাতেই দেখলাম,তার মুখ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে।

মুখ ফিরিয়ে চলে গেল।।বাবা বড় শখ করে আমার নাম রেখেছিল নন্দীনী।

কিন্তু যখন মোটা টাকা পণ দিয়েও আমার বিয়ে হচ্ছিল না,তখন বললো,

দূর হ মুখপুড়ি,অপয়া কোথাকার।আর যেন এমুখো হোস না।

হইনি আমি আর ওমুখো। একছুটে পালিয়ে গিয়েছিলাম।

তারপর পথের মধ্যে এক অন্ধ যুবক সবশুনে আমায় উদ্ধার করলো।

কিন্তু তাতেই বা কি?উঠতে বসতে অলুক্ষনে,অপয়া আর লাথি-ঝাটা ছাড়া আমার তাও কিছু জুটেনি।

তারপর একদিন আমি সত্যি সত্যি মুক্তি নিলাম। গলায় কলসি বেঁধে ঝাপ দিলাম নদীতে।

ব্যাস হয়ে গেল আমার মুক্তি। কেউ একফোঁটা চোখের জলও ফেলেনি আমার জন্য,,হ্যাঁ,তারপর?

তারপর আমাকে নিয়ে কত্ত কত্ত উপন্যাস, আর কত্ত কত্ত কবিতা রচিত হয়েছে তা দেখে আমার একধরণের হাসিই পেত।

কিন্তু প্রকৃত অর্থেই কি আমাদের কোনো মূল্য আছে?বা ছিল? বা থাকবে?