আশে পাশে । পর্ব -১৪

মুখ টা ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে না। তাই উঠে দাঁড়ায় জুহি। এখন ভালোভাবে দেখতে পাবে সে। তারপর জুহি লোকটিকে দেখে নিজের চোখ কেই বিশ্বাস করতে পারছে না।
জুহি ভাবছে এটা কি করে সম্ভব! যে মানুষটা রোদের এতো আপন জন এতো ভালো বন্ধু। আপন ভাইয়ের মতো। সে কিভাবে পারলো রোদ কে এভাবে ঠকাতে?
জুহি আর কিছুই ভাবতে পারছে না। মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। জুহি তার ফোনে ওদের সব কথা রেকর্ড করে নেয়। আর কয়েক টা ফটো ও তুলে নেয়। তারপর তাড়াতাড়ি করে জুহি রেস্টুরেন্টে থেকে বেরিয়ে বাসায় চলে আসে। বাসায় ঢুকতেই কাব্য আর জুহি দুইজনেই ধাক্কা খায়।
-ওপপপস সরি ভাবী! আমি আসলে খেয়াল করিনি।
-ইট’স ওকে।
-আচ্ছা ভাবী তুমি কোথাও গিয়েছিলে নাকি?
-হ্যাঁ আসলে একটি কাজ ছিলো তো তাই….
-ওও আচ্ছা….
-বাই দ্যা ওয়ে তুমি কোথায় যাচ্ছ?
-কোথাও না। জাস্ট এমনি একটু হাটাহাটি করতে যাচ্ছি।
-ওহ…
তারপর জুহি ভেতরে চলে যায়। আর কাব্য বাহিরে চলে যায়। জুহি রুমে গিয়ে জামা চেঞ্জ করে বেলকনিতে দাঁড়াতেই দেখে শুভ্র ফোনে কথা বলে হেসে হেসে বাসায় ঢুকছে। বেশ খুশিতেই আছে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে জিসানের পিএ সাদ জিসানের কথা মতো ঐ মেয়েটার খবর জানাতে জিসানের কাছে আসে।
-কি হলো সাদ কোনো ডিটেইল জানতে পারলে?
-জ্বী স্যার।
-হ্যাঁ তো বলো কে কে সেই মেয়েটি? কি তার পরিচয়? থাকে কোথায়?
-স্যার মেয়েটি মিস্টার রোদ চৌধুরীর স্ত্রী মিসেস জুহি চৌধুরী!
-হোয়াট……….!
জুহি আর কিছু না ভেবে নিচে চলে যায়। আর কিচেনে রোদের আম্মু আর চাচি কে সাহায্য করে। জুহির মাথায় এখন একটাই চিন্তা রোদ কে কি সব টা বলে দেওয়া উচিত হবে?
আর যদি রোদ সব টা জেনে যায়। নিশ্চিত গন্ডগোল হবেই। পরে সেই লোকটা সতর্ক হয়ে যাবে আর গোপনে ক্ষতি করবে। জুহি বুঝতেই পারছে না আসলে সে এখন ঠিক কি করবে?
রোদ যদি সবটা জেনে ও যায় তার রিয়েকশন কেমন হবে? ওদের খেয়ে ওদের পড়ে আবার ওদের ঐ ক্ষতি করার চিন্তা! ছিহ কেমন মন মানসিকতা ওর। মনুষ্যত্ব হীন পশুর মতো!
জুহি এই ভাবনায় ডুবে যাওয়ার ফলে খেয়াল ই নেই যে ওকে কেউ ডাকছে।
-জুহি… জুহি.. এই জুহি…(সামান্য ধাক্কা দিয়ে)
-হ্যাঁ হ্যাঁ মামনি বলো…
-কি এতো ভাবছিস বল তো।
-না মানে কিছু না।
-এখানে কি তোর থাকতে অসুবিধা হচ্ছে?
-না মামনি সেরকম কিছু না।
-তাহলে কি হয়েছে বল আমাকে!
-কিছু হয় নি তো।
-বলতে চাস না যখন তখন আর জোড় করবো না।
-সত্যি বলছি মামনি। কিছুই হয় নি। জাস্ট এমনি…
-হয়েছে আর বলতে হবে না। রান্না কমপ্লিট। এখন তুই ফ্রেশ হয়ে নে।
-আচ্ছা মামনি।
জুহি ওর রুমে যাওয়ার সময় দেখে শুভ্র এখনো হেসে হেসে ফোনে কারো সাথে কথা বলছে। জুহি শুভ্রর কাছে আসে। শুভ্র জুহি কে দেখে ফোন কেটে দেয়।
-কার ফোন ছিলো ঐ টা?
-ওওই… মানে আমার ক্লাইন্টের…
-ওহ তা শুভ্র ভাইয়া তোমাকে আজকাল একটু বেশি ই খুশি খুশি দেখাচ্ছে কারণ কি বলোতো।
-না কই তেমন কিছু না তো।
-তাহলে কেমন কিছু?
-জুহি তুমি এভাবে কেন কথা বলছো? মনে হচ্ছে কোনো বিষয় নিয়ে আমাকে সন্দেহ করছো? হুম কি ব্যাপার?
-আরে ধুর তোমাকে কি নিয়ে সন্দেহ করবো। আমি তো জাস্ট এমনি ভাবলাম প্রেমে টেমে পড়লে নাকি আবার।
-কি যে বলো না হাহাহা…
-পড়লে ও পড়তে পারো বলা যায় না। আচ্ছা শোনো আমার কাজ আছে গেলাম।
জুহি নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়। ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই রোদের ফোন….
-কি ব্যাপার সাহেব এখন হঠাৎ ফোন।
-তোমার কথা মনে পড়লে তো তাই ফোন দিলাম।
-মন খারাপ?
-না…
-না না বলে হ্যাঁ বলেন। আমি ভালো বুঝেছি আপনি এখনো মন খারাপ করে আছেন… দেখুন যেটা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আর মন খারাপ করে কি হবে? প্লিজ মন খারাপ করে থাকবেন না।
-আরে না। সেসব কথা বাদ দাও লাঞ্চ করছো কিনা বলো?
-না এখনো করি নি আপনি করেছেন?
-হুম। ওকে এবার যাও তাড়াতাড়ি লাঞ্চ করে নাও। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।
-আপনি মন খারাপ করে থাকলে আমি খাবো কি করে।
-ওহহো দেখো আমি মন খারাপ করে নেই। এই দেখো হাসছি এবার হ্যাপি? সো এখন যাও‌ আমি রাখলাম বায়!
-আর…আরে… যা বাবা কেটেই দিলো। এই সবের জন্য দায়ী ও। মানুষ রূপের পশু টার জন্য এসব হয়েছে। (মনে মনে)
জুহি খেতে বসেছে ঠিক। কিন্তুু ঠিকমতো খেতেই পারছে না। মাথায় নানা রকম চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। রোদের আম্মু খেয়াল করেন জুহি খাচ্ছে কম ভাবছে বেশি।
-কি হলো জুহি? খাচ্ছিস না কেন? কি এতো ভাবিস?
-না মামনি ওওই মানে কিছু না। এই তো খাচ্ছি….
-এটা কে খাওয়া বলে?
-আসলে…
-হয়েছে আর বলতে হবে না। এবার চুপচাপ খেয়ে নাও সবাই।
-হুম…
চলবে……