বৃদ্ধাআশ্রম | লেখক: আকাশ আহম্মেদ | 2য় পর্ব

মৌ আমাদের কে কে ছেড়ে চলে গেলো….আজ থেকে আমি আমার মায়ের আর আমার সন্তানের খেয়াল রাখবো…..অফিস যাবো না প্রয়োজনে…..আমার মামনি টাকে ফিটার খাইয়ে শুইয়ে দিলাম…..ও ঘুমাচ্ছে …..দেখতে একদম মৌ এর মতোই হয়েছে কিন্তু মৌ….মায়ের রুমে একটু যেতে হবে……

মায়ের রুমে আসলাম দেখি মা শুয়ে আছে…..
আমি:কি করছো আম্মু…. ঔষধ খাইছো….
আম্মু:হুম বাবা আমি ঔষধ খাইছি….আমার দাদুভাই কোথায়…?
আমি:এইতো মা ঘুমোচ্ছে…..ওরে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে আসলাম…
আম্মু:মৌ কে দেখছি না ও কোথায়…..
আমি:ওর বাবার শরীরটা খুব খারাপ তাই দেখতে গিয়েছে…..সানজুকে নিতে দিই নি আর আমি ও যেতে পারি নি বাসায় তুমি একা থাকবে কিভাবে……
আম্মু: দেখা বাবা আমি তোর গর্ভধারীনি মা সব বুঝতে পারি আমার কাছে লুকাস কেনো….. আমি জানি বাবা তুই আমাকে খুব ভালোবাসিস….আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আয় বাবা …..তোর আর তোর সন্তান দুজনের জীবনটা না হলে শেষ হয়ে যাবে…..
আমি:না মা তা সম্ভব না আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না…..এটা হয় না …..ও যা খুশি করুক তুমি সারাজীবন তোমার বাসায় থাকবে …..আর আমার কলিজায়…..এই কোটি কোটি টাকার সম্পওির মালিক তুমি মা মৌ না…..
তুমি রেস্ট নাও আমি আমার বাবুনি টাকে দেখে আসি…
আম্মু:আচ্ছা ঠিক আছে বাবা…..
রুমে এসে বিছানায় বসে আছি আমার বাবুনিটা ঘুমাচ্ছে …..নিষ্পাপ মুখ খানা কত মায়াবি আর এই সন্তান মায়ের আদর থেকে বিচ্ছিন্ন আজ…..উপ …. আমি কখনো আমার সন্তান কে তার মায়ের অভাব বুঝতে দেবো না…… বিছানায় শুয়ে আছি আমার সানজু মাকে জড়িয়ে ধরে…..চোখ দিয়ে অঝোরে বন্যা বয়ে যাচ্ছে…..আর ভাবতেছি…..
সেই চারবছর আগের কথা…….
আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম ….একদিন বিকালে রেললাইনে ঘুরতে গিয়েছিলাম তখনই চোখ পড়ে একটা মেয়ের দিকে …..বাতাসে তার খোলা চুল গুলো বার বার উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে……আর সেই মেয়েটি পথ শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছিলো…..যা দেখে আমার খুব ভালো লাগে…..প্রথম দেখায় মেয়েটাকে মনের মধ্যে অনেক টা জায়গা দিয়ে ফেলি…..এর পর থেকে রোজ মেয়েটাকে ফলো করতাম….. কিছু দিন যাবার পরে মেয়েটা বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলো…. হঠাৎ একদিন মেয়েটা কে ফলো করে ওর পিছন পিছন যাচ্ছিলাম ঠিক তখনই মেয়েটা হাঁটা অবস্থায় দাড়ায়……..আমি মেয়েটার হঠাৎ দাড়ানো‌ দেখে অভাক হই….মেয়েটা পিছন ফিরে আমার দিকে এগিয়ে আসতেছে আর আমি মেয়েটার এমন এগিয়ে আসা দেখে দিলাম এক দৌড় মেয়েটা পিছন থেকে এই শুনুন দাড়ান বলতেছি কে শুনে কার কথা আমি একদৌড়ে তো বাসায় এসে পৌছালাম……আর তিন দিন বাসা থেকে বের হল নি খুব ভয় করে মেয়েটা যেভাবে তারা করেছিলো বাবা অল্পের জন্য বাঁচলাম….আজ তিন দিন পর আবার মেয়েটার পথ চেয়ে বসে আছি একটু পর মেয়েটা আসতেছে…..মনে মনে খুব ভয় লাগতেছে….আর আমার হার্টবিট ও বেড়ে গেছে…..
মেয়েটা আমার সামনে এসেই…..
www.jobcareer24.com

 

মেয়েটা:কি হলো সেদিন এভাবে পালালেন কেনো আর এই তিন দিন আসেন নি কেনো….?
আমি একটু অভাক হলাম মনে মনে ভাবলাম এই মেয়েটা তবে আমাকে মিস করলো নাকি…
মেয়েটা:কি হলো কি ভাবতেছেন কথা বলেন না কেনো তিন দিন আসেন নি কেনো…..?
আমি:না মানে খুব ভয় করে ছিলো আসলে আপনি যদি আবার তারা করেন…..
মেয়েটা:হি হি হি হি তাই নাকি….আচ্ছা আপনার নাম কি??
আমি:আমার নাম আকাশ… আপনার …?
মেয়েটা:আমার না মৌ …..এভাবে কথা হতে থাকে ….রোজ একটু একটু কথা হয় পর ধীরে ধীরে কথার পরিমানটা বাড়তে থাকে আর একটা সময় একজন আরেকজনকে খুব ভালোবেসে ফেলি…..দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা খুব ভালোই যাচ্ছিলো…..একদিন মৌ কে বিয়ে মার্কেটে ঘুরছিলাম হঠাৎ মা আমাদের সামনে পড়ে….. আমি তো অভাক অসময়ে ম মার্কেটে আবার আমার সামনে তাও আবার আমার সাথে মৌ…..
আমি:মা তুমি হঠাৎ মার্কেটে….?
আম্মু:একটু কাজ ছিলো তাই আসলাম…..তুই এখানে কেনো তোর ভার্সিটি তে আজকে ক্লাস নাই আর এই মেয়েটা কে ….?
আমি:না মা ক্লাস আছে একটা ক্লাস মিস করলাম….আর ও হচ্ছে মৌ আমার বন্ধু.. মার্কেটে একটা বই কিনতে আসলাম…..
আম্মু:ছিহ আকাশ আর কত মিথ্যা বলবি মার্কেটে লোকে বই কিনতে আসে ….তাহলে লাইব্রেরী কেনো আছে….
আমি:মাথা চুলকিয়ে….না মানে মা…..
আম্মু: হইছে আর মাথা চুলকাতে হবে না ….এখন বাসায় যা আর হুম…. ওরে নিয়ে একদিন বাসায় আসবি…..
আমি:হুমমম (মাথা নাড়িয়ে)
দুর সর্বনাশ করেছে মায়ের সামনে পড়তে হলো ….
মৌ তি খুব খুশি….
আমি:কি ব্যাপার আমার খুব টেনসেন হচ্ছে আর তুমি এতো খুশি কেনো….
মৌ:আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে …. তুমি তো একটা গাঁধা মাকে কখনো বলতে পারতে না আমাদের ভালোবাসার কথা …মা দেখেছে ভালোই হয়েছে….এবার আমাদের বিয়েটা হয়ে যাবে……
আমি মনে মনে হালার ভালোবাসা ….কারো পৌষ মাস আর কারো সর্বনাশ ….. আমি এতো আমার জ্বালায় উনি আছে বিয়ের ধান্দায়……
.
মৌ কে বাসায় পৌছে দিয়ে বাসায় আসলাম…..বাসায় দরজা দিয়ে ঢুকতেই….
.
মা:দারা এক পা এগুবি না….
আমি:কেনো মা আমি কি করলাম…..
মা:কি করলি…..ঐ মেয়েটা কে নিয়ে মার্কেটে ঘুরছিস…
আমি:মা শুনো না আমি না ওকে …..
মা:থাক আমি জানি তোকে বলতে হবে না কিন্তু বাবা আমার মনে হয় কেনো জানিনা মেয়েটা এতো টা ভালো না….
আমি:না না মা মেয়েটা খুব ভালো…..
মা: ঠিক আছে তুই যখন বলছিস …..
আসলে ছোট বেলা থেকে মা আমাকে খুব ভালোবাসে আর এই জন্য মা আমাদের দুজনের সম্পর্কটা মেনে নেয়…..আর কিছু দিনের মধ্যে আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয়…..বিয়ের পরে সব ঠিকঠাক চলছিলো…..আমাদের একটা জন্যা সন্তান হয় সবাই মিলে ভালোবাসার সংসার খুব ভালোই চলতেছে কিন্তু ছয় মাস ধরে মৌ কেমন যেনো হয়ে গেছে আর সারাদিন রাত পাগলামি করে মাকে ও এখন সয্য করতে পারে না কিন্তু একটা সময় ও রাতে আমার কাছে না মায়ের কাছে থাকতো….আর সেই মেয়েটা এমন হয়ে গেছে কেনো বুঝতে পারি না….
ঘোর কাটলো আমার মামনির কান্নার শব্দ পেয়ে…..
ওর বিছানায় হাত দিয়ে দেখি হিসু করে দিয়েছে….. আমি তারাতারি ওর বিছানায় চেন্জ করে নতুন বিছানা করি.. আর মামনিটা কে বুকে জড়িয়ে ধরি………আমার মামনিটা মুচকি মুচকি হাসতেছে কি যে আনন্দ লাগতেছে….হাসিটা ওর মায়ের মতো যতো বার ওর মুখের দিকে তাকাই মৌ এর কথা মনে পড়ে যায়……..
.
আজ এক সপ্তাহ মৌ বাসায় নাই….. আমি আমার মেয়ে আর মায়ের খেয়াল রাখতে ছি…..এই সাতদিনে একবার ও মৌ কে কল দিই নি একবার ও মৌ এর সাথে যোগাযোগ করি নি কিন্তু একটা সময় এই মৌ কে বুকে না জড়ালে ঘুম আসতো না …..এক মুহূর্ত যাকে ছাড়া থাকতে পারতাম না আজ একসপ্তাহ তার সাথে কথা না বলে তার থেকে দূরে আছি কষ্ট হচ্ছে কিন্তু রাতে ঘুমানোর জন্য তো আমার পুচকুটা আছে‌ তাই মৌ এর অভাবটা মনে হচ্ছে না……
সকাল ঘুম থেকে উঠলাম….
এমন সময় লক্ষ্য করলাম আমার ফোনটা বাজতেছে…..
ফোনটা হাতে নিয়ে স্কিনে তাকিয়ে আমি অনেক টা অভাক হলাম……
‌.
.
চলবে…….