কাছে থেকেও সে অচেনা। পর্ব -২০

জান আমি বাবা হচ্ছি এই খুশিতে আজকে তুমি যা চায়বে তাই পাবে।
বলে ফেলো তো জান কি চাও?
মেহেক প্রিন্সের কথা শুনে বলে, থাক আমার কিছু লাগবে না।
তাছাড়া আমি যা চায়বো দেখা যাবে আপনি তা কখনো দিবেন না।
তখন আমার খারাপ লাগবে এরথেকে এ বিষয়টি বাদ দেওয়া ভালো নয় কি?
প্রিন্স মেহেকের মুখে এমন কথা শুনে,মেহেককে জড়িয়ে ধরে বললো, সোনা তোমাকে ছুঁয়ে কথা দিচ্ছি ।
তোমার ও মুনের মুক্তি এবং তোমার বাবার বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে ছাড়া অন্য যা চাইবে এই মুহূর্তে প্রিন্স মাহমুদের কাছে পেয়ে যাবে।
তুমি নির্ভয়ে যা ইচ্ছে চাও।
আমাকে তুমি বাবা হওয়ার সুখ দিতে যাচ্ছো সে উপলক্ষে তোমার স্বামীর থেকে কিছু পাওয়া তোমার অধিকার জান।
মেহেক প্রিন্সের কথা শুনে বলে, ভেবে বলছেন তো?
ছুঁয়ে কথা দিলে না রাখলেও ক্ষতি হয় তা জানেন তো?
দেখা যাবে আমার ইচ্ছে আপনি রাখতে পারলেন না তখন?
ছুঁয়ে কথা দিলেন যে!
এখন আমার ক্ষতি হয় তাহলে ?
তাছাড়া এখন আমার ক্ষতি মানে আমার পেটের ভিতরে যে আছে তারও ক্ষতি।
মেহেকের কথা শুনে প্রিন্স কিছুটা রেগে বলে , তুমি কিন্তু বেশি বলে ফেলছো!
আর আমি কি জানি আর না জানি তা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
আর ভুলেও আমাদের অনাগত সন্তানকে নিয়ে কিছু বলবে না।
তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।
মেহেক প্রিন্সের ধমক খেয়ে কেঁদে কেঁদে বললো, আমি কি সেধে আপনার কাছে কিছু চেয়েছি।
নিজে দিতে চেয়ে আবার ধমক দিচ্ছেন?
লাগবে না আমার কিছু।
প্রিন্স মেহেকের চোখে পানি দেখে বুকের ভিতরে অস্থির লাগছে।
মনে মনে ভাবছে ছিঃ ছিঃ এরকম একটা খুশির খবর পেয়েও আজকে ওকে কাঁদানো আমার উচিত হয়নি।
কথাটা ভেবে মেহেকের চোখের পানি মুছে , চোখে চুমু দিয়ে সরি বলে।
তারপর মেহেকের কি চায় তা জানতে চেয়েছে?
এদিকে মেহেক চুপচাপ বসে আছে কিছুই বলছে না।
তা দেখে প্রিন্স বললো,জলদি বলে ফেলো না হলে আর এমন সু্যোগ পাবে না। বৌ।
মেহেক প্রিন্সের কথা শুনে মনে মনে ভাবছে,ব্যাটা মাফিয়া। আমি এমন কিছু চায়বে যে তোর অনিচ্ছা সত্ত্বেও দিতে হবে।
দেখা যাবে তোর কথায় শেষপর্যন্ত তুই নিজে ফেসে গেছিস।
এটা ভাবতে যা মজা লাগছে না।
তাছাড়া তোর এই বন্দীখানা থেকে আমি আর মুনতো পালাবোই সাথে তোর জীবন তছনছ করে দিবো।
যাতে আর কখনো কারো সাথে খারাপ কিছু করতে না পারিস।
তোর মতো মাফিয়ার লিডারের সন্তানের মা হবো আমি মেহেক?
তা তোর দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়।
যা তোর মতো লোকের পক্ষেয় দেখা সম্ভব।
এদিকে মুনকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে প্রিন্স বলে উঠল, তাহলে আমার জানের কিছু চায় না তাই তো?
মেহেক তা শুনে সাথে সাথে ইনিয়ে বিনিয়ে বলে, বাবাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
প্রিন্স মেহেকের কথা শুনে রাগ উঠলেও বাচ্চার কথা চিন্তা করে বললো, তোমাকে আগেই বলেছি , মুক্তি এবং বাবার বাসায় যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলতে পারবে না।
সো অন্যকিছু থাকলে বলো?
মেহেক প্রিন্সের কথা শুনে বললো, আমি তো বাবার বাসায় যেতে চায়নি!
বরং বাবাকে দেখতে চেয়েছি।
তাছাড়া বাবাকে দেখতে তার বাসায় যেতে হবে কেন?
বাবাতো এখানে এসেও আমার সাথে দেখা করতে এবং আমাদের সাথে কিছুদিন থাকতে পারে।
প্রিন্স মেহেকের কথা শুনে মনে মনে ভাবছে,মেহেক হঠাৎ সিকান্দার মির্জাকে এখানে আসার কথা বললো কেন?
যে লোককে দেখলে ওর মাথায় রক্ত উঠে যায়।
যাকে নিশ্চিহ্ন করতে ছোট থেকে এ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে এসেছে।
যার জন্য মেহেকের চোখে আজকে আমি হিংস্র মানুষ।
তাকে আসতে বলতে হবে?
কিছু চায়তে বলে ফেঁসে যাচ্ছি না তো?
তাছাড়া এটা কি একটা মেয়ের তার বাবার প্রতি ভালোবাসা নাকি গভীর কোনো ষড়যন্ত্র?
কিন্তু ডাক্তার তো বলেছে এই সময়ে একজন গর্ভবতী মায়ের উপরে শারীরিক ও মানসিক চাপ পড়ে।
সেজন্য ছোট খাটো বিষয়ে গর্ভবতী মা হীনমন্যতায় ভোগে।
যার কারণে কখনো কখনো উদ্ভট আচরণ করতে পারে।
বা উদ্ভট সব ইচ্ছে জাগে।
মেহেকের ওর বাবাকে দেখতে চাওয়া ও কী সে রকম কিছু?
আচ্ছা আমার সন্তানের কথা ভেবে কিছুদিন সিকান্দার মির্জাকে সহ্য করতে পারবো না?
তাছাড়া এখানে এলে সিকান্দার মির্জার উপর কড়া নজরদারি করা যাবে।
ঐ লোক এবার আর কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
কারণ ক্ষতি করার আগেই এই প্রিন্স তার বীষ দাঁত ভেঙে দিতে ভালো করে জানে।
আচ্ছা তাহলে কি আসার অনুমতি দিবো?
প্রিন্স যখন এসব ভাবনাতে বিভোর সে সময়ে মেহেক বলে উঠল,কি হলো বলছেন না কেন?
বাবাকে কিছুদিন এই বাড়িতে আমাদের কাছে থাকতে দিবেন?
মেহেকের কথা শুনে প্রিন্সের ধ্যান ভাঙল।
প্রিন্স নিষেধ করতে যেয়েও মেহেকের অবস্থা বিবেচনা করে বললো, ঠিক আছে তোমার বাবাকে ফোন করে কিছুদিনের জন্য এখানে আসতে বলছি।
মেহেক কথাটা শুনে, টুপ করে প্রিন্সের গালে চুমু দিল।
প্রিন্স তো মেহেকের কান্ডে হতভম্ব হয়ে গেছে!
যে মেয়ে কখনো ইচ্ছে করে ওর কাছে আসে না।
সে কিনা তার গালে চুমু খাচ্ছে ভাবা যায়!
সাধারণ একটা কথা মেনে নেওয়াতে মেহেক এতো খুশি হবে তা প্রিন্স ভাবতেই পারেনি।
মেহেকের খুশীর জন্য প্রিন্স জীবন দিতেও প্রস্তুত।
সেখানে সিকান্দার মির্জাকে বাড়িতে আনা তো সাধারণ ব্যাপার।
কথাটা ভেবে প্রিন্স মেহেকের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট দেখিয়ে বলল,সোনা এখানে একটা লাগবে ।
মেহেক মুচকি হেসে বলল, রাতে দিবো।
প্রিন্স মেহেকের কথা শুনে টাস্কি খেয়েছে।
ইস্ প্রিন্সের জীবনে এতো সুখের মুহূর্ত আসবে কখনও কি ভেবেছে?
ছোট থেকে দেখে এসেছে সব সময় ওর প্রিয় জিনিস মানুষ গুলোকে আঁকড়ে ধরার বা কিছু বোঝার আগেই ওর থেকে দূরে চলে যায়।
তারপর থেকে প্রিন্স নিজের চারপাশে এমন বেড়িকেট তৈরি করেছে ।
যে কখনো নিজের কাছে কাউকে আসতে দেয়নি।
কিন্তু হঠাৎ করে সিকান্দার মির্জাকে দেখে প্রিন্সের অতীতের নিষ্ঠুরতা মনে পড়ে যায়।
ওর আব্বু ও আম্মুর মৃত্যু।
ওর বোনের আর্তনাদ ।
সে সাথে মনে পরে এই পৃথিবীতে বাবা ছাড়াও আরও দু’জন আপনজনদের কথা।
যাদের একজন হচ্ছে ওর ছোট বেলার জীবন সঙ্গী।
চলবে….