চাঁদ হয়ে রবো

সপিং মলের ভিতর দৌড়োচ্ছে স্বপ্ন , পিছন থেকে স্বপ্নচূড়া বলছে বাবা পড়ে যাবে ব্যথা পাবে বাবা দৌড়তে নেই বলে হঠাৎ থমকে দাড়ায়, পিছন থেকে জরিয়ে একটা বাচ্চা মেয়ে বলছে মা কোথায় যাচ্ছো আমায় ফেলে ।
– স্বপ্নচূড়া পিছনে ফিরেই দেখে মিষ্টি একটা মেয়ে জরিয়ে ধরে আছে, হাটু গড়ে বসে মেয়েটাকে বলে মামুনি তুমি কাকে খজচ্ছো, মা কে।
– সামনেই দৌড়ে এসে এক মহিলা বলছে সরি দিদি ও ভুল করে বলে ফেলেছে রাগ করবেন না , আসলে আপনার শাড়িটা আমার শাড়িটা এক রঙের তাই,
– না না
.
স্বপ্নচূড়া দেখলো মহিলার শাড়ি ওর শাড়ি এক রং নয় শুধু এক ডিজাইনের ও , হাতে এক গাধা চুড়ি সাথে শাখা , পলা, সোনার নোআ , সিথিতে চওরা সিদুঁর , কপালে সিদুঁর দিয়ে বড় টিপ , চুল গুলো খোপা করা বেশ হিন্দু গিরছতের বউ লাগছে।
মহিলা ছোট্ট মেয়ে টাকে বললো
– স্বপ্নচূড়া আসো মামুনি আন্টিকে সরি বলো।
অবাক হয়ে তাকিয়ে ভাবে ওর নাম ও স্বপ্নচূড়া । মহিলাটাকে বললো
– আপনি
.
– আমি সিথি, এই মিষ্টি স্বপ্নের মা।
সিথি নামটা খুব পরিচিত লাখছে কিছু তেই মনে করতে পারছে না যে কোথায় শুনেছে,
স্বপ্নচূড়া বরাবরই মিসুক সভাবের ধর্ম , বর্ণ কখনোই প্রধ্যন্ন্য দেয় না ,
সহজেই সিথির সাথে মিসে গিয়েছে।
কথার মাঝে হঠাৎ পিছন থেকে অন্য কেউ স্বপ্নচূড়াকে জরিয়ে ধরে ,
থমকে দাড়িয়ে ভাবতে থাকে এ স্পর্শ তো ওর খুব চেনা একজন আপন মানুষের
যে আজ থেকে ৪ বছর আগে ওর জীবন থেকে হাড়িয়ে গেছে অতিতের
স্মৃতি গুলো মনে পরতেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিলো ,
চোখের সামনে সব কেমন অস্পষ্ট দেখছে।
পিছনের লোকটা তার মুখ খানিকটা স্বপ্নচূড়ার কানের কাছে এসে মৃদু স্বরে বললো
– স্বপ্নচূড়া
স্বপ্নচূড়ার কাছে যে স্পর্শ খুব পরিচিত লাখছিলো এখন এই কন্ঠ স্বর ও পরিচিত লাগছে , বুঝতে বিন্দু মাত্র ভুল হলো না যে এই স্বপ্নচূড়ার সেই অতিত , ফেলে আসা সেই অতিত ,এখন যেটা দুঃস্বপ্ন এক সময় সেটা স্বপ্নচূড়ার কাছে জীবনে মহা মূল্যবান সময় ছিলো।
স্বপ্নচূড়া মৃদু স্বরে বললো
– শুভ
.
সিথি পরিস্থিতি বুঝতে পারলো তাই বলে উঠলো
– দেখলে দিদি বাবা-মেয়ের একই অবস্থা চোখে মাথা খেয়ে বসে আসে , কিছু মনে করবেন না দিদি
সিথির কথা শুনে শুভ স্বপ্নচূড়াকে ছেড়ে সিথির দিকে তাকালো এবার বুঝতে পারলো ও সিথিকে জরিয়ে ধরেনি , শুভ স্বপ্নচূড়াকে ছেরে সিথির পাশে এসে দাড়ালো , স্বপ্নচূড়াকে সামনে দেখে বুঝতে পারলো যে এতখন যে চিরো চেনা অনুভুতি হচ্ছিলো গোড়ের মাঝে চলে গিয়ে অতিতের সেই নামটা ধিরে মুখে আওরাচ্ছিলো সেই ৯ বছর পুরনো অতিত ওর সামনে এসে দড়িয়েছে ,
.
স্বপ্নচূড়া নিজেকে কোনো রকম সামলে শুভর দিকে তাকালো ,
৪ বছরে শুভোর মাঝে অনেক পরিবর্তন হয়েছে দাড়ি গুলো বেস বড় করে রেখেছে ,
এক সময় স্বপ্নচূড়া চাইতো শুভো এরকমই দাড়ি রাখুক তবে আজ চায় না ,
কারন আজ তো শুভ ওর না অন্য করো।
সেদিন শুভ এটাই নির্বাচন করে ছিলো যে ও স্বপ্নচূড়ার না অন্য কারো
সেদিন শুভর নির্বাচিতা স্বপ্নচূড়া ছিলো না সিথি ছিলো ,
এই সেই সিথি যাকে নির্বাচন করে স্বপ্নচূড়ার থেকে দূরে চলে গিয়ে ছিলো আজ সে বেশ ভালোই আছে যা দেখলে যে কেউ বুঝতে পরবে।
.
– এদিকে স্বপ্নকে কোলে নিয়ে উৎস স্বপ্নচূড়ার পাশে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করে কি তোমার শপিং করা শেষ , তোমার মহারাজ তো যাবে বলে ঠিক করে নিয়েছে তিনি আর থাকবে না তার অভিযোগ তুমি কোনো আবদার পুরোন করোনি সে থাকবে না মল থেকে বাড়ি যাবে
.
উৎসের কথা শুনে স্বপ্নচূড়া উৎসর দিকে ফিরে তাকায় , চোখে পানি টলমল করছে , পারলে ও এখানেই উৎসকে জরিয়ে হাউমাউ করে কান্না করবে একটু হলেও মনের জালা মিটাবে , কিছু না বলেই স্বপ্নচূড়া এক দৌড়ে শপিং মল থেকে বড়িয়ে গাড়িতে উঠে কান্না মুছে বসে আছে যেমন শহরের উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝর বয়ে ঘর-বাড়ি, বড় বড় গাছ ভেঙে যাবার পর শহর যেমন স্থ্যবদোতা থাকে ঠিক তেমন অবস্থা স্বপ্নচূড়ার।
উৎস সামনে শুভকে দাড়ানো দেখে বুঝতে আর বাকি নেই যে স্বপ্নচূড়া এভাবে কেনো করলো
উৎস মল থেকে বেরিয়ে গাড়ির কাছে গিয়ে দেখে স্বপ্নচূড়া গাড়ির ভিতরে বসে আছে , ওর মধ্যে দিয়ে যে কি ঝর বয়ে যাচ্ছে তা উৎসর থেকে অন্য কেউ ভালো বুঝবে না ।
.
স্বপ্নকে স্বপ্নচূড়ার পাশে বসিয়ে ড্রইভিং শিটে গিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করে , গাড়ি চালাচ্ছে ও লুকিং গ্লাস দিয়ে দিয়ে স্বপ্নচূড়াকে দেখছে যার জীবনে স্বপ্ন আর উৎস আসার পর নতুন করে বাচতে শিখেছে এত দিন যাবত স্বপ্ন ওর চোখের আরাল হলে পাগল প্রায় হয়ে যেতো, আজ কি না স্বপ্ন কেও খেয়াল করছে না।
গাড়িটা পার্কিং এ এসে থামতেই স্বপ্নচূড়া গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে বাড়ির ভিতরে চলে গিয়ে নিজের রুমে ঢুকেই দরজা লক করে দিয়ে বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে কান্না করছে
উৎস গাড়ি থেকে স্বপ্নকে নিয়ে উপরে এসে বেড রুমের কাছে গিয়ে দেখে রুম লক করা ভিতর থেকে কোনো শব্দ আসছে না , উৎস দরজা ধাক্কা দিয়ে স্বপ্নচূড়াকে ডাকলো।
উৎসের কোলে স্বপ্ন বললো
.
– আব্বু আম্মুর কি হয়েছে আমাদের সাথে কথা কেনো বলছে না
স্বপ্নকে কিভাবে বলবে যে মায়ের কি হয়েছে এ বেচারা তো বুঝবে না কি হয়েছে
উৎস মায়ের কাছে গিয়ে স্বপ্নকে মায়ের কোলে বসিয়ে বলে আব্বু তুমি দাদি আপুর সাথে খেলা করো ,
স্বপ্ন বাবাকে হ্যা বলে দাদির গলা জরিয়ে মলে কি কি করেছে বলা শুরু করে দিলো ।
উৎস দরজার এপাশে দাড়িয়ে আছে অনেক ক্ষুণ যাবদ স্বপ্নচূড়া দরজা খোলার কোনো নামই নেই ,
এবার স্বপ্নচূড়ার জন্য অনেক চিন্ত হচ্ছে কি করবে কিভাবে যাবে ও স্বপ্নচূড়ার কাছে ,
.
কিছু একটা ভেবেই দৌড়ে গাড়ির কাছে গিয়ে গাড়ির ভিতরে কিছু খুজচ্ছে ,
পেয়েও গেলো ওর বেড রুমের চাবি একটা নিজে কাছে রেখে ছিলো একটা স্বপ্নচূড়ার কাছে ,
কখনো কোনো কারনে একটা হাড়িয়ে গেলে বা লক হয়ে যায় ভেবেই স্বপ্নচূড়া এই চবিটা উৎসর কাছে দেয়,
তখন উৎস বলে ছিলো এসব কোনো কাজেই লাগবে না তুমি থাকতে আমার স্বপ্নচূড়া একাই একশো,
আজ ঠিকই প্রয়োজন পরলো ।
দৌড়ে গিয়ে চাবি দিয়ে লক খুলে দেখে স্বপ্নচূড়া বালিশে মাথা গুজে কান্না করছে।
উৎস স্বপ্নচূড়ার পাশে বসে ওর কাধে হাত রাখতেই স্বপ্নচূড়া উঠে জরিয়ে ধরে হাউ মাউ করে কান্না করছে ,
ধিরে ধিরে নিস্তেজ হয়ে কান্নার শব্দ কমে কেঁপে কেঁপে কান্না করছে ,
কিছুটা এভাবে কেঁদে উৎসর কোলে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পরে ।
.
মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে উৎসর চোখের সামনে অতিতের সেই স্মৃতি গুলো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ,
যে অতিতে কত কিছু লুকিয়ে আছে, নিজের অজান্তেই আওরাচ্ছে
হে অতীত, তুমি ভুবনে ভুবনে কাজ করে যাও গোপনে গোপনে,
মুখর দিনের চপলতা মাঝে স্থির হয়ে তুমি রও হে অতীত, তুমি গোপনে হৃদয়ে কথা কও,কথা কও!
,
,
চলবে…