চৈত্ররজনী । পর্ব-৩

ওমির কবর জিয়ারত করে মি. প্রভাত ফিরেছে।
ফিরেই রোদেলার রুমে গেলো,মেয়েটা কাল কি হয়ে ছিলো জানতে।অমন ভাবে মাটিতে লুটিয়ে পরেছিলো কেনো।ভাগ্যিস পানির তেষ্টায় বাহিরে বেরিয়ে ছিলো।তা নাহলে কি যে হতো কে জানে।
,
রোদেলা চোখ খুলে নিজেকে আবিষ্কার করলো।নিজের রুমে।কিছুতে মনে করতে পারছে না।কাল কি হয়েছিলো।সব থেকে বড় অবাক হলো।মি. প্রভাতকে দেখে।দু হাত ভাজ করে সটান দাড়িয়ে নিঃসপলক তাকিয়ে দেখছে ওকে।চোখা চোখি হতে রোদেলা দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।
,
মি. প্রভাত এতো সকাল সকাল এখানে কেনো জানতে চাওয়ার জন্য।রোদেলা নরে চরে বসে,
বলল
” আপনি এখানে”
” আমার বাড়ী আমি যেখানে খুশি থাকবো।তাতে তোমাকে কৈফত দিতে হবে।”
মি. প্রভাতের এমন সোজাসুজি অপমানে।রোদেলা খুব কান্না পেলো কেনো পেলো।কেউ বকলে তো ওর কান্না পায় না।উলটো হাসে,প্রচুর হাসে,এমন ভাবে হাসে যেনো ওর কিছু যায় আসে না।
বিছানায় চোখ বুলিয়ে বলল
” ওভ্রাত,সে কোথায়”
মি. প্রভাত বলল,
” বড় ভাবীর ঘরে”
” কখন উঠলো”
বলতে বলতে গায়ের চাদরটা সরিয়ে বিছানা থেকে নিচে নামলো।
” তেমার শরীর ঠিক আছে তো”
” মানে আমার শরীরের আবার কি হবে।ভালোই আছি”
” না কাল রাতে অজ্ঞ্যান হয়ে মেজেতে পরেছিলে।”
” মানে”
মি. প্রভাতের বেশ বিরক্ত লাগলো।বারবার মানে মানে কি?কিছুই কি বুঝে না।
মি. প্রভাত কিছুই বলল না।চড়া মেজাজ দমিয়ে রুম থেকে চলে গেলো।রোদেলা
,
প্রতিদিন রাতে এভাবে ঘুমের মানে কি?
কাল আবার জ্ঞ্যান হারিয়ে পরে গেলো।
শরীর কি দূর্বল।না,ভালোই তো খাবার খাওয়া হয়।
,
বাহিরে বেশ কথার ঝাক বসেছে।শুনলেই বুঝা যায় কেউ একটা এসেছে।দরজার ফাক দিয়ে উকি মেরে দেখে আবার ঘরে ঢুকে পরবো।আমার একদম এই মেহমান ভালো লাগে না।
কথা বলতেও আনকমফর্ট ফিল হয়।ওসব
ওমি আপু ভালো পারতো।
,
হঠাৎ অতিতের সব স্মৃতি মনে পরলো,রোদেলার
টুকটাক বাজবাজি।মারা মারিতে সব সময় ফার্স্ট হতো রোদেলা।আর ওমি বোকার মতো করে মার খেতো।রোদেলার কাছে তা নয়।দুজনেই মারতো কিন্তু জিততো রোদেলা।এতো ভালবাসে যে নিজে ঠকে সব সময় ওকে জিতিয়ে দিতো
রোদেলার গলায় মাছের কাটা বিদলেও দৌড়ে আসে ওমি আপু।একটু ফু দিয়া দে তো।ওমি মুচকি হেসে দোয়া পরে ফু দিয়ে দিতো
কিন্তু এখনও তো আর গলায় কাটা বিদলে দৌড়ে কারো কাছে যাবার নেই
রুমে দেয়ালে টানানো ওমির একটা বড় ফটোর নিচে হাত দিয়ে রোদেলা বলল
–“আমার গলায় অনেক বড় কাটা বিদছে রে আপু।ঢোক গিলতে পারছি না।মুখটা বন্ধ করলে মনে হয় কাটাটা এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়ে।গলগল করে রক্ত বের হবে।তুই যে দোয়া পরে আমার গলায় ফু দিতি।আজও একবার দিবি।,,
,
দরজা খুলে কেউ একজন ভিতরে এলো।রোদেলা হক চকিয়ে ফিরে তাকালো।
রোদেলার মা এসেছে।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে।মায়ের মুখের দিকে।তাহলে মা এসেছে।বাহিরে তাই এতো কথা,রোদেলার মা মেয়েকে রাগি কন্ঠে বলল,
” তুই কি কোনো দিনও আমাদের শান্তি তে থাকতে দিবি না”
প্রতুত্তরে কিছুই বলতে পারছে না রোদেলা।
ওর মা আবার বলল,
” তোকে বিয়ে দিয়ে কি কোনো পাপ করছি আমরা,নিজের ঠিক মতো খেয়াল রাখিস না।বারবার অজ্ঞ্যান হয়ে পরছিস।শোনলাম আগের থেকে ঘুমও নাকি বেরেছে।আগে তো সারারাত জেগে থাকতি।”
মায়ের কথায় কেমন একটা লাগছে।
সত্যিই তো ব্যপারটা আমি নিজেও বুজতে পারছি না।রোদেলাকে কথা না বলতে দেখে।ওর মা স্ব জোরে একটা চর মারলো।
ওর মা বলল,
” তোকে পেটে নিয়ে যে আমি কি পাপ করছি তা আমি বুজতে পারছি”
” মা তুমি যেমন ভাবছো ব্যপারটা ঠিক তেমন না”
” সব বুঝেস্বরী তুই।আমরা তো সব গাধা।
শোন,এরপর যদি এবাড়ী থেকে কোনো অভিযোগ যায় তাহলে আমিই তোকে মেরে সিলিং এ ঝুলিয়ে রাখবো”
রোদেলার মা চলে গেলো।ওর খুব কান্না পাচ্ছে।
কেউ ওকে বুঝে না।কেউ না।
,
মি. প্রভাতের বাবা মা,বিকেলে তাদের গ্রামের বাড়ীতে চলে গেলো।তাদের সাথে দাড়ীয়ে অনেক কথা বলার পর।রুমে এসে দেখলো ওভ্রাত ঘুম থেকে উঠে গেছে।মি. প্রভাত বাড়ীতে তাই ওভ্রাতকে একবার ওনার কাছে নিয়ে যাওয়া যাক।
দরজায় নক করতে,প্রভাত বলল,
“কে??”
“আমি রোদেলা।”
” তুমি এখানে কেন??”
” ভাবী বাজারে গেছেন।আমি কিচেনে ওভ্রাতের খাবার গরম করবো।আপনি কি ওকে একটু নিবেন”
” না”
“না!কেনো ওতো আপনার ছেলে।ওকে আপনার নিজের কাছে রাখতে মনে চায় না।আদর করতে ইচ্ছে করে না”
“না,করে না”
প্রভাত মাথা নিচু করে দশ আঙুল ল্যাপটপের উপর দিয়ে কাজ করছে।আর কথা বলছে,
রোদেলা ফট করেই ওভ্রাতে ওর কোলে দিয়ে বলল,
” পাঁচ মিনিট!! শুধু।নীলা ভাবি থাকলে বলতাম না”
মি.প্রভাত ওভ্রাতকে বিছানায় ছুরে ফেলে দিলো।
” একটা কথা কি তোমার কানে ঢুকে না।তোমাকে আনা হয়েছে শুধু ওর টেইক কেয়ার করার জন্য।তা না পারলে চলে জাবে।ওর হয়ে আন্দোলন করতে আসো কেন।তোমাকে কেউ পা ধরে আটকে রাখে নাই।চলে যেতে চাইলে যাও।ওকে কোনো অরফ্যারেন্জ এ রেখে আসবো।”
রোদেলা স্টাচু হয়ে দাড়ীয়ে রইলো।
নিজের ছেলেকে কেউ অরফ্যন্জে দিতে চায়।
এটা কেমন বাবা,
মি. প্রভাত ওভ্রাতকে একপ্রকার ছুরে বিছানায় ফেলে দিলো।
আশ্চর্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,রোদেলা।
এ কেমন বাবা কে দেখছে সে,এ বাবা কোনো দিনও হতে পারে না।
কান্না করতে করতে ওভ্রাতকে নিয়ে চলো গেলো।
,
আজ রাতে কিছুই খাবনা ভেবে আগে থেকে আমার ঘরে দিয়ে যাওয়া খাবার গুলো বিনে ফেলে প্লেট কিচেনে রেখে আসলাম।
আমার কেনে মনে হয় ওই খাবার খেলেই আমার ঘুম বারে।
নীলা ভাবীর মুখে প্রশান্তির হাসি।
আমিও হাসার চেষ্টা করলাম তবুও হাসি আসছে না।
এই নীলা ভাবীকে আমার একটুও ভালো লাগে না।
,
রাতে কি হয় জানার উৎসাহ নিয়ে জাগলাম।
তবে কিছুই হলো না।
তার মানে কি হ্যলোসলিওসন হয় আমার।
আমি ওমি আপুকে দেখি,
,
রাত জাগায় কিছু তো একটা জিনিস বুজতে পেরেছি।রাতে ঘরের বাহিরে কেউ হাটে।
আমার ভিজিয়ে রাখা দরজাটা ফাক করে দেখে।
না কি এগুলোও হ্যলোসলিওসন।
,
— ইসস রোদেলা।কিসব ভাবছিস।পাগল টাগল হয়ে গেলি না তো।
রোদেলা নিজে নিজেই ভাবছে।নিজেকেই প্রবাদ দিচ্ছে।
,
চোখে আবার সেই ঘুম চলে এলো।
এতো ঘুম কেনো আসে।
দরজা খুলে সাদা শাড়ীতে এক মহিলা।
ভিতরে আসছে,পুরো শরীর অসার হয়ে পরছে।
চোখ টেনে টেনে দেখলাম,ওমি আপু দাড়িয়ে।
ওভ্রাতকে আদর করছে।সেকি আদর,মায়ের আদর এমন হয়।ওভ্রাতের চোখে মুখে সহস্র চুমোয় ভরিয়ে ওর গালে গাল ঘসে আদর করছে।
আর ওভ্রাতর আদর পেয়ে।ওর কোলে শান্ত হয়ে ঘুমচ্ছে।
,
তার মানে খাবারে কোনো ঘুমে ঔষাধ নেই।
সত্যি সত্যি অদৃশ্য শক্তি আছে।সেটা নিশ্চই ওমি আপু।
,
সকালে আমি উঠেও ওভ্রাত টাকে আদর করলাম।সেই রাতের মতো কোলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে আদর খাচ্ছে,আমিও অনেক আদর করলাম।
মা বলতো,,মায়ের গায়ের গন্ধ আসে মাসির শরীর থেকে।
আমিও এই ওভু টার মা।ভাবতে পুরো শরীর একটা অন্য রকম ভালে লাগা ছেয়ে গেছে।এর শীর শীর অনুভুতি শুরু হয়েছে।
,
,
ইঞ্জিনিয়ার সাহেব,
আমি মনে হয় একটা ভুল করে ফেলেছি!!হ্যা ভুল!! অনেক বড় ভুল!!না চাই তেও করে ফেলেছি!!ক্ষমা কি পাওয়া জাবে!!আপনার ক্ষমা চায় কে!!আমি চাই না!!আমি তো ভুল করলে সরি বলি না!!তাই আপনি সরি করলেন কি না!!তাতে আমার যায় আসে না!!হইছে অনেক চরা কথা বলছি এবার বলি!!আমি কি ভুল করেছি!!প্রেমে পরেছি!!হ্যা ভুল দেখেন নাই!!প্রেমে পরেছি??সত্যি সত্যি প্রেমে পরেছি!!
আপনার,থুক্কু,ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের!!!
,
এই টেক্সটা পরে দুপুর আগে অনেক খুশি হতো।
রোদেলার দেওয়া স্বীকৃতি।প্রথম ভলোবাসি বলার ধরন এই মেয়েটার।তখন দিনে কয়েক বার যে এই টেক্সটা পরে মিট মিট করে হেসেছে।ওর নিজেরেই জানা নেই।,
,
আজ আবার দোখতে ইচ্ছা করলো দেখলোও,
দেখার সাথে সাথে দু ফোটা জল গরিয়ে পরলো,চোখ বেয়ে,পৃথীবি এতো নিষ্ঠুর কেনো।
ও নিজেও বুজতে পারে না।যার থাকে না,কিছু থাকে না।যার থাকে, সব থাকে।
,
আয়নার সামনে দাড়ীয়ে আতর মাখছিলো দুপুর।মোবাইলের মেসেজে টুং করে একটা শব্দ হলে।
না আজ কোনো ফোন কল,মেসেজ সে এটেন্ড করবে না।সব তার পিএস কে দিয়ে চেক করাবে।সে সবাই কে বলবে।মি.দুপুর আজ খুবই ব্যস্ত,জরুরি একটা মিটিং এ বসেছে।অনেক বড় ডিল করবে সে।ফরেইনার দের সাথে।
আসলে সব মিথ্যে কথা।ও নিজেকে একটা ভালো পরিবেশে মন খুলে আর মনের সব খতো গুলো আকাশের দিকে তিলে ধরে।তার জীবনের খারাপ অধ্যায় গুলো ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলবে।এমনটা কি করা যায়।এমনটা করলো কজ দুপুর ভালো থাকবে থাক না হলে।কিন্তু রোদেলা যে ওর সবটা জুরে মুঝবে কিভাবে??থাকবে কিভাবে??থাক না,নিজের মতো করে থাক, থাকা তো কোনো অপরাধ না।
,
,
চলবে,,