গল্পঃ ভাড়াটে বউ । পর্ব – ০১

মেয়েটিকে ২ মাসের জন্য বউ হিসাবে ভাড়া করে
এনেছে রিয়ান। মেয়েটির নাম রাইসা। খুব দারিদ্র্য
পরিবারের মেয়ে বিধায়, বাবা চিকিৎসার টাকা জোগাড়
করতে রিয়ানের২ মাসের ভাড়াটে বউ হিসেবে
অভিনয় করার এ্যাগ্রিমেন্টটা হাসি মুখে মেনে
নিয়েছে। অবশ্য এখানে রিয়ানের কোনো
জোর জবরদস্তি ও ছিলোনা।রিয়ান বিরাট
বোড়লোক শামছুল হকের একমাএ পুএ সন্তান, বাবা
– মায়ের আদরের সন্তান বিধায় ছোটবেলা থেকে
কখনো অভাব কিংবা বাস্তবতা এগুলো তাকে স্পর্শ
করতে পারেনি। আর স্পর্শ করতে পারেনি বিধায়
আজ রিয়ানের তার বাস্তবতাকে মেনে নিতে খুব
কষ্ট হচ্ছে। কারো জন্য সে জিবনটাকে বার – বার
থামিয়ে দিতে চাচ্ছে, সুন্দর জিবনটাকে অভিশাপের
কালো অধ্যায়ে পরিনত করে ফেলেছে। দিনরাত
অন্ধকার ঘরে ঘুমোট ভাবে নির্জিবতার আড়ালে
বসে থেকে নিকোটিন আর মদের সাথে বন্ধুত্ব
করছে। মা- বাবার চোখের সামনে সন্তানের এই
দশা, দেখে মিষ্টার শামছুল হক আর সহ্য করতে
পারছিলেন না।
অবশ্য সহ্য করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ও
ছিলো না। কেননা রিয়ান তো তার অতীতটাকে
কোনো মতেই ভুলার চেষ্টা করছেনা। বরং দিন-
দিন আর ও বেশি অতীতটাকে আকড়ে ধরে বাচার
চেষ্টা করছে। আর এই অতীতটাকে ও যতবেশি
আকড়ে ধরবে তত বেশিই ও ক্রমশ শেষ হয়ে
যাবে।রিয়ানের বাবা ছেলের এই অবস্থা আর
দেখতে পারছেনা, কেননা দেখতে – দেখতে
৩ টা বছর পার হয়ে গেছে, অথচ এতো সময়
দেওয়ার পর ও রিয়ান এতোটুকু বদলায় নি। ছেলের
চিন্তায় ক্রমশ মিষ্টার শামছুল হকের শরীর দূর্বল
হয়ে যাচ্ছে। আর এই দূর্বলতার ফলে এবং
ছেলের জন্য অতিরিক্ত টেনশানের ফলে মিষ্টার
শামছুল হক গত ৪ দিন আগে হঠ্যাৎ করে হার্ট
স্টোক করে। ছোটবেলা থেকেই রিয়ানের
কাছে তার রিয়েল হিরো ছিলো তার বাবা। সেই
বাবার অসুস্থতা রিয়ানকে খুব বেশি ইমোশনাল করে
ফেলে। কেননা ও ইতোমধ্যেই নিজের হিয়ার
মাঝে স্হান দেওয়া একজন মানুষকে হারিয়ে
ফেলেছে । বাবাকে ও যদি সেই মানুষটার মতো
হারিয়ে ফেলে, এই চিন্তাদারা আর ভয় ক্রমশ
রিয়ানকে আর বেশি ইমোশনাল করে ফেলে।
আর রিয়ানের এই ইমোশনালটাকেই মিষ্টার শামছুল
হক তার কাজে লাগায়।ডাক্তার মিষ্টার শামছুল হকের
চিকিৎসা করার পর রিয়ানকে এসে বলে — ওনাকে দয়া
করে কখনো উওেজিত করবেন না, কেননা ওনি
যদি আর একবার স্টোক করে তাহলে কিন্তু…
যাইহোক ওনি যা চায় সবসময় তাই করার চেষ্টা
করবেন, যত পারবেন ওনিকে চিন্তা থেকে দূরে
রাখবেন। আর আই থিংক ওনি সবথেকে বেশি
টেনশান আপনাকে নিয়ে করে , কারন ওনির জ্ঞান
ফিরার পর থেকে ওনি বারবার একটা কথাই বলছেন —
রিয়ান, নতুন করে জিবনটাকে শুরু কর বাবা। রিয়ান
এভাবে নিজেকে শেষ করে, ফেলিস না বাবা।
ডাক্তারের কথাগুলো শুনে রিয়ানের চোখ দুটো
লাল হয়ে গেলো, খুব গম্ভীর টাইপের
ছেলে, নিজের কষ্টগুলোকে কখনো কারো
কাছে প্রকাশ করেনা। আর বোধ হয় বিধাথা ওর
নিশ্চুপ চোখ দুটোতে এক ফোটা ও জল
দেয়নি।তাইতো ওর মন আকাশে মেঘেরঘটা
থাকলে ও চোখের মধ্য কখনো বৃষ্টি জড়েনা ।
সেদিন ও নিজেকে এভাবে পাথর করে
রেখেছিলো যেদিন ও নিজের সবথেকে
কাছের মানুষটাকে হারিয়ে ফেলেছিলো।
ডাক্তার রিয়ানের এই নিশ্চুপতা দেখে কাতর স্বরে
রিয়ানকে বলে উঠলো— রিয়ান অতীতে যা
হয়েছিলো প্লিজ ভুলে যাওনা,
রিয়ান তখন অট্রহাসি দিয়ে বলে উঠলো — আপনে
সবকিছু জানার পর ও কিভাবে এটা বলছেন?
— দেখ রিয়ান জিবন কারো জন্য থেমে
থাকেনা,আর হ্যা বিধাথা তোমার ভাগ্য এভাবে
লেখেছে বিধায় তোমার সাথে এমন হয়েছে।
আর তাছাড়া তুমি কি তোমার অতীতের জন্য
তোমার আরেকটা প্রিয় মানুষকে হারাতে চাও,
তোমার মাকে রঙীন শাড়ি থেকে বিধবা শাড়ি
পরনে অবস্থায় দেখতে চাও?
ক্রমশ চুলগুলোকে টানতে– টানতে রিয়ান বলে
উঠলো — না,কখনো না, ডাক্তার।
— তাহলে, প্লিজ বাবার কথাটা শুনো।
ডাক্তারের কথাগুলো শুনে রিয়ান থ হয়ে নিচে
বসে যায়।কেননা গত ২ বছর যাবত রিয়ানের বাবা
রিয়ানের কাছে একটা আবদারেই শুধু করছে — বাবা
বিয়ে কর, বাবা জিবনটাকে নতুন করে শুরু কর। যখনি
রিয়ানকে মিষ্টার শামছুল হক এ কথাগুলো বলতো
তখনি রিয়ান পাগলের মতো আচরন শুরু করতো,
ঘরের জিনিস পএ সব ভেঙে ফেলতো অন্ধকার
ঘরে দোর দিয়ে দিনের পর দিন পার করে
দিতো।
রিয়ানের চোখের সামনে সেই স্মৃতি গুলো
ভেসে আসলো, সাথে আর ও একটা স্মৃতি ও
ভেসে আসলো, কয়েকদিন আগে ও মিষ্টার
শামছুল হক হঠ্যাৎ রিয়ানের ঘরে ঢুকে অঝোর
দ্বারা কেঁদে বলে উঠেছিলো— বাবা আমি যদি
মরে ও যাই তাহলে তোর কাছে আমার দাবি ও
শেষ ইচ্ছে থাকবে —- তুই নিজের জিবনটাকে
নতুন করে শুরু করবি এই ঘর আলো করে একটা
লক্ষী বউ ঘরে আনবি।রিয়ানের এই কথাটি মনে
পড়তেই ও বুঝে গেলো তার বাবাকে সুস্থ করার
মক্ষম উপায়টা কী।
আর এ ও বুঝে গেলো ডাক্তার তাকে কি করতে
বলছে।
— কিন্তু ডাক্তার আপনে তো জানেন আমার পক্ষ
এটা করা সম্ভব না।
—- আমি জানি, কিন্তু তুমি কি চাও তোমার বাবাকে সুস্হ
করতে?
— হুম।
— তাহলে বিয়েটা করে ফেলো।
বিয়ে শব্দটা শুনতেই রিয়ান রাগান্বিত কন্ঠে
ডাক্তারকে বলে উঠলো— নো, ডাক্তার,নো
আমি এটা কখনো করতে পারবোনা।
ডাক্তার তখন বললো — ও রিয়ান কাম ওন, আমি তো
তোমাকে বলি নি তোমার হৃদয়ে অন্য কেউকে
স্হান দেও, আমি শুধু বলেছি তোমার বাবার সুখের
জন্য একটু অভিনয় কর। কেউকে ২ মাসের বউ
হিসাবে ভাড়া কর আন ও।
রিয়ান ডাক্তারের এমন কথায় বলে উঠলো — কিন্তু
এমন মেয়ে কোথায় পাবো, যে দুই মাসের
জন্য আমার ভাড়াটে বউ হিসেবে অভিনয় করবে?
— আমার কাছে আছে।
— মানে!
— তোমার অতো মানে জানা লাগবেনা, তোমার দুই
মাসের ভাড়াটে বউ লাগবে আর মেয়েটার ১ লক্ষ
টাকা লাগবে, ব্যস কাহীনি খতম।
আর আমার মনে হয় দু মাসের মধ্য তোমার বাবা সুস্হ
হয়ে ও যাবে সো তখন না হয় কোনো একটা
অজুহাত দিয়ে তুমি মেয়েটাকে ডির্ভোস দিয়ে দিও
ওকে।
রিয়ান ডাক্তারটির কথায় সম্মতি দেয়, কেননা রিয়ান
তাকে অনেক বেশি বিশ্বাস ও ভরসা করে।
কারন এই ডাক্তারটি রিয়ানদের পারিবারিক ডাক্তার। রিয়ান
তাকে মামা বলে ও ডাকে, ধরতে গেলে রিয়ানের
সাথে তার সম্পর্কটা বন্ধুত্বের মতোই । রিয়ানে
সব খারাপ সিশুয়েশনে বন্ধু হিসেবে দুহাতে এই
ডাক্তার অথ্যাৎ সাঈফেই, রিয়ানকে আগলে
রেখেছে।
আর তাই রিয়ান সাঈফের কথামতো রাইসাকে আজ
বিয়ে করছে। চারপাশে লাল- নীল মরিচ বাতি আর
আনন্দের উল্লাসে বিয়ে হচ্ছে রিয়ান আর রাইসার।
রিয়ানের আত্মীয় – স্বজন সবাই আজ ভীষন
খুশী , আর সবথেকে বেশি খুশী মিষ্টার শামছুল
হক আর তার বউ কেননা তাদের ধারনা হয়তো
তাদের ছেলে আবার আগের মতো স্বাভাবিক
জিবন যাপন করবে। আর রাইসার মায়াবী চেহারা, রুপ
লাবন্য আর, মৃদু কথা শুনে রিয়ানের বাবা- মা ওকে বউ
হিসেবে পেয়ে এতটাই খুশী হয়েছে যে
একবার ও ভুল করে ও জিজ্ঞাসা করেনি, ও কোন
পরিবারের মেয়ে, ও কতটুকু পড়াশুনা করেছে, কিংবা
ওর মা- বাবা কোথায়।
শুধু এক মুখ হাসি নিয়ে প্রানভরে রিয়ানকে আর
রাইসাকে দোয়া করে যায়।
আর রিয়ান মা- বাবার মুখে আজ ৩ বছর পর হাসি
দেখতে পেয়ে রাইসার সাথে হাসি মুখে দিব্যি
অভিনয় করে যাচ্ছে। রাইসা রিয়ানের এই হঠ্যাৎ
বদলে যাওয়াটা দেখে নিজেই নিজেকে বলে
উঠলো — বাবা, এই হট টেমপারেচার হঠ্যাৎ এমন
আইস কুল হলো কেন? কালকেই তো ক্যাফে
আমার সাথে এ্যাগ্রিমেন্ট সাইন করার সময় কি
গম্ভীর কন্ঠে ভাব নিয়ে কথা বলছিলো —
লিসেন আপনাকে বিয়ে করছি শুধু আমার বাবা- মায়ের
সুখের জন্য সো একদম আমাকে ভুল করে ও তুমি
বলবেন না, মনে রাখবেন জাষ্ট আপনার সাথে
আমার ২ মাসের বিয়ে, দুই মাস পর আপনে আপনার
পথে আর আমি আমার পথে, আর হ্যা নিজের সীমা
একদম অতিক্রম করবেননা, আর ও কত কী ব্লা–
ব্লা।
আর এখন আমাকে মিষ্টি করে বলছে — তুমি এই
অবস্থায় কমফোর্টেবল ফিল করছো, রাইসা?
যতসব।
রাইসার এই বিড়বিড়িয়ে কথা বলা রিয়ান কিছুটা বুঝতে
পেরে ভ্রু কুচকে রাইসাকে বলে উঠলো—
হ্যালো আপনে কি কিছু আমাকে বলছেন?
— যাক বাবা একটু আগেই তো আমাকে কী সুন্দর
তুমি বলে কী ডং করলেন। এখন আবার আপনে
তে চলো গেলেন।
— লিসেন একটু আগে আম্মু – আব্বু এখানে
ছিলো বিধায় তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য
এটা করেছি।
—- ও তাই বলুন এই জন্যইতো বলি হট টেম্পারেচার
হঠ্যাৎ আইসকুল হলো কেন ।
রিয়ান কথাটা শুনা মাএই রাগান্বিত কন্ঠে রাইসাকে বলে
উঠলো
— এক্সকিউসমি।
রাইসা রিয়ানের চোখ মুখ দেখেই বুঝে
ফেললো ও ক্ষেপেছে তাই টপিকটা চেন্জ
করার জন্য হাসি মুখে রিয়ানকে বলে উঠলো,
আরে দেখুন সবাই আমাদের ছবিও তুলছে ওই
দিকে খেয়াল করেন, না হলে বুঝে ফেলবে —
কুস তো গড়মিল হে।
— বাচাল।
রিয়ানের বাচাল মন্তব্যটা শুনে রাইসা রাগান্বিত স্বরে
রিয়ানকে বলে উঠলো — আপনে কি, হ্যা একটা
বক রাক্ষস মুখে একটু ও হাসি নেই, জিবনে কি
কখনো হাসতে শিখেননি।
রাইসার এরকম কথায় রিয়ানের হঠ্যাৎ পুরোনো সেই
স্মৃতিগুলো চোখের সামনে চলে আসলো,
একটা সময় ছিলো যখন এই মুখে হাসি ছাড়া বিষাদের
মেঘ কখনোই ঠাই পেতো না। কিন্তু আজ যে
হাসিটা দিয়েছিলো সেই কেড়ে নিয়ে অনেক
দূরে চলে গেলো।
রিয়ানের এসব স্মৃতি মনে পড়তেই ও ককর্শ
কন্ঠে রাইসাকে বললো — ডোন্ট ক্রস ইওর
লিমিট।
কথাটি বলেই জায়গাটি ত্যাগ করে চলে গেলো।
রিয়ানের এরুপ আচরন দেখে রাইসা বলে উঠলো
— বাবা এতো দেখছি পাগলের পাল্লায় পড়লাম,
ভাড়াটে বউ ওকে তোর সাইজ করতেই হবে।
হঠ্যা ৎ রাইসার মনে হলো, পিছন থেকে কেউ
একজন তাকে বলছে
— মা, কোনো সমস্যা হয়েছে?
মেয়েলী কন্ঠটা পেয়ে রাইসা পিছনে তাকিয়ে
দেখে রিয়ানের মামা রাইসার মাথায় আলতো করে
স্পর্শ করে এ কথাটি বলেছে।
রাইসা রিয়ানের মাকে দেখে স্নেহ মাখা কন্ঠে
বলে উঠলো— না, কিছু হয়নি মা।
— তাহলে রিয়ান এভাবে চলে গেলো কেন?
— এমনে।
— ও এরুকুমেই ওকে একটু মা আগের জিবনে
ফিরিয়ে এনো, তাহলে আমি মা সারাজিবন তোমার
কাছে ঋনি থাকবো।
রিয়ানে মা কথাগুলো বলে চোখের জল মুছতে-
মুছতে চলে যায়।
রাইসা তখন বলে উঠলো— এই হট টেম্পারেচার
কে কিভাবে আমি সামলাবো। আল্লাই জানে।
কাজী চলে এসেছে বিয়ে প্রায় সম্পন্ন, তবে
বিয়েটা সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রমশ রিয়ানের চোখে-
মুখে মিথ্যে সুখের যে অভিনয় ছিলো তা
ক্রমান্বয়ে বিষাদের মেঘের কাছে হার
মেনেছে। রিয়ান বারবার রাইসাকে বলতে লাগলো
— দেখুন ভাড়াটে বউ, আপনে কিন্তু আপনার সীমা
কখনোই ক্রস করবেনা।
রিয়ানের বারবার এই কথাটা য় রাইসা প্রচন্ড রেগে
রিয়ানকে বলে উঠলো — আরে মশাই এই কথাটা
আর কয়বার বলবেন? লাইফে কত ছেলে
দেখেছি, কিন্তু আপনার মতো একটা গাদা ও দেখিনি।
– — হ্যালো।
খালি ভাব দেখায় যতসব।
রিয়ান রাইসাকে কিছু বলার আগেই রিয়ানের চাচাতো
বোন মিথিলা দুজনের মাঝে ঢুকে, হাসি মুখে
রাইসাকে উদ্দেশ্য করে বললো—- কি এতো
কথা ভাবি, এখনি তোমাদের এই অবস্হা।
মিথিলার এরুপ মজা রিয়ানের একদমেই পছন্দ হচ্ছেনা,
গম্ভীর কন্ঠে মিথিলাকে রিয়ান বললো— মিথিলা
আমি এসব একদমেই পছন্দ করিনা।
রাইসা তখন রিয়ানকে একটা মুখ বেচকি দিয়ে বলে
উঠলো– না, মিথিলা এসব বলোনা, বরং এখানে দাড়িয়ে
থেকে কারো শোকে নিরবতা পালন কর।
মিথিলা রাইসার এরুপ কথা শুনে হাসতে থাকে, যেই মাএ
রিয়ানের দিকে চোখ পড়ে অমনেই ভয়ে- ভয়ে
রিয়ানকে – স্যরি বলে চলে গেলো।
মিথিলা যাওয়া মাএই রিয়ান রাইসার হাতটাকে শক্ত করে
ধরে বললো— বেশি বাড় বাড়বেন না হ্যা।
রিয়ান এতটাই জোরে রাইসার হাতটা ধরেছিলো যে
রাইসা প্রচুর ব্যাথা পাচ্ছিলো। এতটাই পাচ্ছিলো যে
বাধ্য হয়ে সে রিয়ানকে কাতর স্বরে বলে
উঠলো- ব্যাথা পাচ্ছি আমি।
রিয়ান কথাটি শুনা মাএই হাতটা ছেড়ে চলে যায়। রাইসা
হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে হাতটা অনেক লাল
হয়ে গেছে, প্রচন্ড ব্যাথা করছে। না চাইতে
রাইসার চোখ থেকে এক ফোটা জল গড়িয়ে
পড়লো।
—- কি হলো ভাবি?
গলার আওয়াজ পেয়ে রাইসা
পাশে তাকিয়ে দেখে মিথিলা, দাড়িয়ে আছে।
রাইসা অন্যদিকে তাকিয়ে চোখের জলগুলো
মুছে ফেললো, এবং একটু মুচকি হাসি দিয়ে
মিথিলাকে বললো— কিছু না।
— তাহলে তুমি কাঁদছিলে কেন?
— এমনেই, বাবা- মায়ের কথা একটু মনে পড়েছে।
— থাক ভাবি একদম কাঁদবেনা আর, আর তাছাড়া আজ
থেকে আমরাই তো তোমার আপনজন, বড় মাই
তো আজ থেকে তোমার মা, আর বড় বাবা
তোমার বাবা। আর আমি একমাএ তোমার কিউট
বোন।
রাইসা মিথিলার কথাগুলো শুনে মিথিলাকে জড়িয়ে
ধরলো, আর মনে- মনে ভাবলো — সবাই কতো
ভালো, শুধু রাক্ষসটাই খারাপ, ওর কীসের এতো
কষ্ট, কেনই বশ হঠ্যাৎ করে প্রচুর রেগে যায়।
না, আমাকে জানতেই হবে।
— চলো ভাবি এবার তোমাকে তোমার ঘরে
নিয়ে যেতে বলেছে বড় মা।
— হুম।
রাইসাকে নিয়ে মিথিলা ড্রইং রুমে চলে আসে।
রাইসাকে রিয়ানের মা দেখে অত্যন্ত আদর মাখা
কন্ঠে বলে উঠলো— মা তোমার কোনো
সমস্যা হচ্ছে।
রিয়ানের মায়ের কথা শুনে রাইসা বিড়বিড় করে বলে
উঠলো — শুধু বক রাক্ষস টাকে নিয়েই সমস্যা
হচ্ছে।
–কিছু বললে মা?
— না।
— ও, আচ্ছা রিয়ান কোথায়।
পিছন থেকে রিয়ান তখন বলে উঠলো — এই যে
আমি মা।
রিয়ানের ডাক পেয়ে রাইসা পিছনে তাকিয়ে একটা মুখ
বেচকি দিয়ে বলে উঠলো — শয়তানকা নাম লিয়া অর
শয়তান হাজির।
মিথিলা তখন রাইসাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো
— ভাবি তুমি ভাইয়াকে কি বলোছো আমি কিন্তু শুনে
ফেলেছি।
মিথিলার এই কথাটা শুনে রাইসা একটু ভয় পেয়ে যায়,
ভয়ে- ভয়ে মিথিলাকে বললো– মানে?
— ভয় পেওনা ভাবি আমি তোমার পক্ষ আছি। এসব
দেবদাসকে এগুলো ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
মিথিলা আর রাইসা দুজনেই রিয়ানকে নিয়ে এরুপ
মন্তব্য করতে থাকে, আর খিলখিল করে হাসতে
থাকে। রাইসা আর মিথিলার হাসি দেখে রিয়ান রাগান্বিত
কন্ঠে রাইসাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,—
আমি কী কোনো জোকার যে আমাকে
দেখে এভাবে হাসতে হচ্ছে।
রাইসা রিয়ানের প্রশ্নের উওরে হাসি মুখে বলে
উঠলো — হয়তো তাই।
— ইউ।
— কী হচ্ছে এসব এখনি তোমরা জগড়া করবে
নাকি, চারপাশে কিন্তু অনেক লোক, সো ভাবি চুপ
এন্ড ভাইয়া আপাদত তুমি একটু আইসকুল হওতো।
মিথিলার কথা মতো রিয়ান নিজের রাগটাকে একটু
কন্ট্রোল করে। মিথিলার ভাই অথ্যাৎ রিয়ানের
চাচাতো ভাই রাহুল এসে রিয়ানের হাত ধরে বলে
উঠলো– আরে ভাইয়া তুমি কী আজকে আমাদের
সময় দিবেনা, চলো বাইরে চলো, বাইরে তোমার
অনেক ফ্রেন্ড তোমার অপেক্ষা করছে।
— হুম।
রিয়ান চলে যাওয়ার পর রাইসা মিথিলাকে জিজ্ঞাসা করে
— আচ্চা তোমার ভাইয়া এমন কেন।
—- আস্তে- আস্তে তুমি সব বুঝতে পারবে ভাবি।
এখন ওপরে তোমার রুমে চলো,
রাইসা আর কোনো কথা না বাড়িয়ে মিথিলার হাত ধরে
উপরে যেতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো—
আমি কি এই হট টেম্পারেচারকে ঠিক করতে পারবো?
(চলবে)