সুবর্ণলতার চোখে একুশের পুরুষ

বছর ঘুরে আবার একুশ আসে। এবার ও এসেছে। ফাল্গুনের ঘ্রাণে মাতিয়ে আছে সুবর্ণলতার চৌকাঠ ! তার দ্বিধান্বিত এক যৌবন। ফাল্গুনের প্রথম ফোঁটা রক্তপলাশের প্রেমে সে পরে। শিমুলের ডগায় ডগায় তাজা রক্তের প্রবণ! একি? সেদিন তবে কনকলতা,রক্তপলাশ, শিমুল,পারিজাতের রং ছিলো টকটকে অগ্নিশিখা! নাকি ছিলো সঞ্জয়দের রান্নাঘরে অগ্নি উত্তাপের মতো।আচ্ছা, সালামের নিশ্চয়ই Continue Reading →

প্রিয়োতীত

ধোঁয়াটে আশপাশ, ধূসর হয়ে যাওয়া বিকেলে আমি অতীত দেখি; যে অতীত কথা বলে না,যে অতীতের কোনো রঙ থাকেনা, যে অতীত শুধু বিবর্ণ হয়ে ভেসে ওঠে স্মৃতির শহরে। সেই অতীতের ফাঁকে ফাঁকে কিছু ব্যর্থতা জেগে ওঠে,কিছু না পাওয়ার গল্প উঁকি দেয় অমানিশার মত, কিছু মেঘ নিঃশব্দে হুংকার তুলে বৃষ্টি ঝড়িয়ে যায়। Continue Reading →

মরমরা প্রেমিক

প্রেমিককে প্রেমিক বলতে সাতটি পদ্ম ফুঁটে উঠেনা। পদ্ম গুলো মরমরা কিংবা আধমরা। এখনকার প্রেমিকরা পদ্ম আর পদ্মপাতার জল দুটো বোঝোনা। প্রেমিকদের যৌবন হচ্ছে রসাতলে!রস কৌসে প্রেমিকরা কস আর পছন্দ করে না।রসাতলে প্রেমিকরা যৌবন মিটিয়ে নেয়। প্রেমিকদের পদ্মের গন্ধ শুকার নাম বেহালে। আজকের প্রেমিকারা প্রেমিককে দক্ষিণা হাওয়া চুল উঁড়িয়ে জ্ঞাত করতে Continue Reading →

সংক্ষিপ্ত ইতিকথা

তুমি যে মিথ্যে হয়ে গেলে রঞ্জ! একটি দিবস চলে গেলে; আমার স্বপ্নে কেনো এলে না? তুমি বলেছিলে, অভিমান গাঢ় করতে হয় না।তবে, অনুরাগ আমি কার উপর ঝাড়বো? লেবুতলায় নিকুচি করেছে! সে চৈত্রে টাক হয়েছে তো আর গাছ ভর্তি হতে সায় বাদ পরলে। তুমি নেই বলে না? চিঠি লিখতে মন জাগে Continue Reading →

ভালোবাসি বলা হয় না

এই যে তিন রাত্রি আপনাকে ‘ভালোবাসি’ বলি না। সময়ে অসময়ে বিরক্ত করি না। একটা বার্তা লিখতে গিয়ে অনুচ্ছেদ বানিয়ে ফেলি না। কথায় কথায় কাটাকাটি হয় না। গলির মোড়ে আর দাড়িয়ে থাকি না। হয় না কোনো বাহানা! একটি শব্দ বলে শত শত শব্দের ইঙ্গিত দেই না। ফোন কলে ‘এই, সেই’ বলে Continue Reading →

উত্তর নেই

-চাইল কয় কেজি আছে সুজা? -তিন কেজি। আর মুঠ আছে আধা কেজি হয় কি না! -কয় দিন যাইবো জানস? -চাইর দিন। -আইজকা তো চব্বিশ তারিখ। চাইর তারিখের আগে রিক্সা বাইর করা যাইবো না ! সুজা আর কয়ডা দিন বাড়াইয়া খাওন যায় না? এক দিনো এক বেলা খাইলাম! -বেশি গেলে পাঁচ Continue Reading →

কেউ কারো না

নগরীর অলিতে গলিতে আমার নিখোঁজ সংবাদ ছাপিয়ে গেলো! ঠোঁটে মুখে রটে ছিলো একটি মাত্র নাম। বিনামূল্যে পথে হাতে পত্রিকা খাম। হাঁটু ভাঙ্গা মহলে খেদোক্তি হলো।কাকেরা সুর তুললো। ক্যাম্পাসের দেয়ালে টাঙিয়ে দিলো মোটা অক্ষরের শিরোনাম। তবুও যে দুয়ার ডিঙ্গিয়ে দুঃখের সমুদ্রে ডুব দিয়েছিলুম ; সে আমার খোঁজ নিলো না! তার নয়ন Continue Reading →

সুখ পাখির পৃথিবী

পৃথিবীর উদাস কালেসুখপাখিরা নিজেগো কথা হুনবার চায় না! কুড়ি দিন আগেও ,মসজিদের মাইকে রাইত-দিন মজু মুন্সী যাইতো। কুড়ি দিন বাদে, কুড়ি মিনিট পরে পরে কারা জানি মাইকে সাধু ভাষায় কথা কয়! আমি হুনবার পাই নাতিন। বয়স কালেও, সত্তুরের বন্যা, একাত্তুরের যুদ্ধের ঢোল পিডানের লাহান সব বুঝি! ৭০’এর হেই বিশুদবার;রেডিও জুইড়া Continue Reading →

ভাগ্য পোড়া কলসি

আপনি বড় বড় সংখ্যার একখান পছন্দের তালিকা আমার চোক্ষের সামনে ধরলেন; তালিকার এক, দুই, তিন সংখ্যার ,একখানেও আমার অস্তিত্ব নাই ! আমার গুন নাই, চিহ্ন নাই। আপনার তামাশা জোড়া চোক্ষের দিকে চাইয়া, কোনো প্রশ্ন করার খেয়াল আমার হইলো না। ক্যান জানি মুখেমনে কইলাম,আমার একখান আবদার আছে , রাখবেন? আবদারখান হইলো,পছন্দের Continue Reading →

তোমার মতামত পেশ করো

আকাশের মতো উন্মুক্ত আমার চাহনি; অথচ, চোখ মেলে আকাশ দেখার কর্তৃত্ব আমার নেই! সমাজের লালসায় গিট্টু পড়ে, আমার হাওয়ায় উড়ে বেড়ানো কেশে। মুখোশের ভিড়ে আটকে পড়া নিয়মের কাছে থমকে দাঁড়ায় আমার চেতনার জিভ! এক পয়সা মূল্যের সুঁইয়ের পাছায় বাঁধা আমার ঠোঁট। তদানীং, চাইলেই খুলে ফেলতে পারি একেকটি সুতোর বাঁধন! তাও, Continue Reading →

কথোপকথন বিচ্ছেদ

-কি? -এমনি। -পলক ফেলতে জানেন না? -বিলোকন করছি। -কাকে? -আপনি যাকে করেন। -হাসালেন! সে অলিতে গলিতে হাঁটে না। -আপনার চোখ এতো নিম্ন? -অনুভূতিটাই জঘন্য! -তাও,যদি মন নড়ে,যদি দেহ গলে! -তারপর? -তাকে সিন্ধুক বন্দী করে প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলে দিবো। আপনার নগরে পা দিতে চাইলেও পারবে না। -অযৌক্তিক আলাপ! আপনি বুদ্ধিমতী। আপনার Continue Reading →

ওপারে কেমন আছো বাবা

ওপারে কেমন আছো বাবা? খুসখুসের ঔষধটা কে মনে করিয়ে দেয়? তোমার ঘরে ভোর নামে? রাতের সমাপ্তি! আমাকে আর ভোর বেলা পানি গরম করতে উঠতে হয় না। কেমন অনিয়মি দেখো! প্লাস্টিকের মগটা নিতু ভেঙে ফেললো। মা ও কে বকা দিলো না!বললো, ভেঙেছে? ভালো হলো তো। আর কে ব্যবহার করতে আসবে। তুমি Continue Reading →