বিষাদের রঙ নীল | অলিন্দ্রিয়া রুহি

তূজা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছে। হাতে থাকা কাগজের টুকরোটি মাটিতে পড়ে গেল। শরীর এভাবে জোর ছেড়ে দিল কেন! আশ্চর্য… বেসিন এক হাতে আঁকড়ে ধরে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করল তূজা। চোখের পর্দায় লেখাগুলো ভাসছে। . ‘তোমার মধ্যে কী আছে জানো? মাদকতা আছে, নেশা আছে.. তার স্বাদ আমি পেয়েছি, আর বারবার পেতে চাই Continue Reading →

বিষাদের রঙ নীল | পর্ব-২

তূজার চোখ ইতিমধ্যেই ফুলে উঠেছে। মেয়েটা একদম কাঁদতে পারে না। বাবার সবচেয়ে প্রিয় মেয়েটি তূজা, একমাত্র মেয়ে বলে কথা! কখনো সামান্য আঁচড়টাও লাগতে দেননি তিনি। মা যদি বকতো, বাবা মা’কে ধুঁয়ে দিত একদম! এত আদরের মেয়ের চোখে কখনো জলটাও জমতে দেননি। বিয়ের পর চয়নও কখনো এতটা কষ্ট দেয়নি, যতটা আজ Continue Reading →

বিষাদের রঙ নীল | পর্ব-৩

সন্ধ্যের আযান কানে আসতেই দ্রুত পায়ে ছাদ থেকে নিচে নেমে এলো তূজা। চয়নের কাপড় গুলো ভাঁজ করে কাবার্ডে তুলছিল, ঠিক তখনি তনয় এসে আবার রুমে উঁকি দিল পূর্বের ন্যায়, ঢুকল না ভেতরে। -ভাবি, মিজান ভাই আসছে। ডাকে তোমারে। -আচ্ছা। তূজা মাথায় ওড়না টেনে দিল। কাবার্ড লাগিয়ে বসার ঘরের দিকে এগুলো। Continue Reading →

বিষাদের রঙ নীল | পর্ব-৪

-তোমার হয়েছে টা কী! বলো তো! চয়নের প্রশ্ন শুনে তূজা মনে মনে হাসল। আমার কী হয়েছে, তা জেনে তোমার কী প্রয়োজন চয়ন? আমি কী আদৌও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তোমার জন্যে?- কথাগুলো মনে মনে আওড়ালো সে। খেয়েদেয়ে কিছুক্ষণ আগেই ঘরে এসেছে চয়ন। তূজা ঘুমের ভান ধরে শুয়ে ছিল, কিন্তু চয়ন বুঝতে Continue Reading →

বিষাদের রঙ নীল | পর্ব-৫

শ্বাস বন্ধ হয়ে উল্টে উপুড় হয়ে পড়ে রইল তূজা। মুখের এক পাশ দিয়ে লালার মতো পিচ্ছিল পদার্থ গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে। মাঝরাত, সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন। কেউ নেই তূজার মাথার উপর একটা হাত রাখার জন্যে! যে মেয়েটা উড়ন্ত তেলাপোকা দেখে ভয় পেয়ে বাবার পেছনে গিয়ে লুকোতো, যার একটু জ্বরে Continue Reading →

ঘর জামাই

ঘর জামাই হয়েছি বলে তুমি যা খুশি তা বলবে। আর আমার সেইটা মেনে নিতে হবে তা কিন্তু ঠিক নয়। আজ আমাদের বিয়ের প্রথম রাত, আর আজকে এমন কথা বলছো? হ্যা বলছি আর শুনতে হবে, আরে আমিত তোমাকে বিয়ে করতে চায়নি। বাবার জন্য এই বিয়েতে রাঝি হয়ছি। এখন তুমি যাও? বাসর Continue Reading →

ঘর জামাই | পর্ব-০২

ছোট লোকের বাচ্ছা তুই আমারে কিস করলি, তোর সাহুস হল কি করে? দাড়া তোর কিস করার মজা আমি দেখাচ্ছি। কাল সকালে বারান্দায় থেকে বেড় হবিনা তখন তোর কপালে খারাপি আছে। (জুই) আমি:- তুমি আমার বউ আমি তোমার স্বামি, আমার একটা দ্বায়িত্ব বোদ আছেনা। তুমি না বললেও আমি বুঝতে পারছি, তুমি Continue Reading →

জীবন সংসার

বিয়ের পাঁচ বছর পরেও যখন আমি কোনো সন্তানের মা হতে পারলাম না তখন আমার শ্বশুর শাশুড়ি আমার সাথে কথা বলা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এক বাসায় থাকলেও তারা আমার সাথে কখনো কথা বলতো না তবে আমাকে উদ্যেশ্য করে নানা ধরণের আক্রমণাত্মক কথা বলতো। যেগুলো আমার ভিতরটাকে রীতিমত ক্ষতবিক্ষত করতো। আমার Continue Reading →

গল্প-একটি ডিভোর্স লেটার

শুক্রবার দিন আজাদ সকালবেলার হাঁটাহাঁটি শেষ করে ফ্রেশ হয়ে নাশতা খেতে বসেছে। তখন বড় ছেলে আতিকের বউ লোপা এসে একটা খাম দিয়ে বলল, বাবা এ চিঠিটা কাল এসেছে আপনার নামে।দিতে ভুলে গেছি। আজাদ নাশতা শেষ করে আয়েশ করে চায়ে চুমুক দিতে দিতে খামটি খুললো। একটি ডিভোর্স লেটার।থমকে গেল আজাদ। ডিভোর্স Continue Reading →

গল্প-একটি ডিভোর্স লেটার | পর্ব- ০২

সেদিন রাতে ফিরে এসে তুমি একটা কথাও বললে না। কেঁদে আমার চোখমুখ ফুলে লাল হয়েছিল।ভেবেছিলাম হয়ত রাগের মাথায় কাজটি করেছ।এবার হয়ত সরি বলবে।আমাকে অবাক করে দিয়ে তুমি শুয়ে ঘুমিয়ে গেলে।ফিরেও তাকালে না।আমার শ্বাশুড়ি রাতে খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করেছেন।আমি খেতে যাইনি।সকাল বেলা নয়টায় ক্লাস আমার।সারারাত ঘুমাতে পারিনি বলে উঠতে দেরি হয়ে Continue Reading →

গল্প-একটি ডিভোর্স লেটার | পর্ব- ০৩

সকালবেলা আতিক আজাদকে নাশতার টেবিলে না পেয়ে আজাদের ঘরে উঁকি মারল। দেখল এখনো শুয়ে আছে।রাতে মোনা ফোন দিয়েছিল আতিককে।বাবা ঘুমিয়ে পড়েছে বলে আর বলা হয়নি। আতিক ঘরে ঢুকে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ডাকল আজাদকে। আজাদ উঠে বসল।আতিক বলল,এখনো শুয়ে আছ যে? হাটঁতে যাওনা কদিন ধরে। শরীর খারাপ? না।এমনিই। কাল রাতে মা Continue Reading →

কথা দিয়েছিলে ফিরবে | লেখিকা – আলো

বরাবরের মত সাদা শাড়িটা শরীরে জড়িয়ে নিয়ে নিজেকে আয়নায় দেখে চোখের পানি ফালানোটা মনে হয় নিত্যদিনের সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে জুঁইয়ের জীবনে । জীবনের তিনটা বছর যে কিভাবে অতিবাহিত হয়ে গেলো টেরও পায় নি সে । ভালো-মন্দ , হাসি-খুশি এইসবের মাঝে কিভাবে যেন চোখের পলকে তিনটা বছর পার হয়ে গেলো তার Continue Reading →

কথা দিয়েছিলে ফিরবে | পর্ব – ২

ভাড়া বাসা দেখে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় ৮ টা বেজে গেছে । জুঁইয়ের অন্য কোন চিন্তা নেই তার একটাই চিন্তা আর তা হচ্ছে ইফসি । এতটাইম সে তার মেয়েকে ছাড়া থাকে নি । রাজশাহীতে থাকা কালীন অবস্থায় জুঁই অফিসে ইফসিকে নিয়ে যেতো । জুঁইয়ের জীবনটাই সংগ্রামের জীবন । তার Continue Reading →

কথা দিয়েছিলে ফিরবে | পর্ব – ৪

জুঁইয়ের পৃথিবীতে এখন ইফসি ছাড়া কেউ নেই । জুঁইয়ের পুরো দুনিয়া একদিকে ইফসি একদিকে । যদিও ইফসি অযাচিত ভাবেই এসেছিল । মূলত ইফসির জন্যই জুঁইয়ের বেঁচে থাকা । নয়তো জুঁই আগেই শেষ হয়ে যেতো । জুঁইয়ের এখনও মনে পড়ে ইফসি যখন প্রথম তার গর্ভে আসে । মান্থ মিস হয়ে যাওয়ার Continue Reading →

কথা দিয়েছিলে ফিরবে | পর্ব – ৩

অফিসে সারাদিনের ব্যস্ততার পর নতুন বাসার ঝামেলার মাধ্যমে এই কয়েকদিন অনেকটা হাপিয়ে উঠেছে জুঁই । শরীরটাও ইদানীং ভালো না তার । নতুন বাসা পরিষ্কার করা ফার্নিচার সেট-আপ করা সব একা হাতেই করে জুঁই । পরিস্থিতি তাকে এতটাই শক্ত পাথর তৈরি করে দিয়েছে যে তার কাউকেই প্রয়োজন হয় না । তার Continue Reading →

কথা দিয়েছিলে ফিরবে | পর্ব – ৬

নাস্তার টেবিলে বসে থাকা নাফিসের মন খাবারের দিকে নেই । টেবিলে ভরপুর খাবারে । তিন বছর আগে যেই খাবার যোগার করার অজুহাতে একটা মেয়ের বিশ্বাস ভরসা ভালোবাসা সব কিছুকে পায়ে ঠেলে মেয়েটাকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল সে । আজ সেই খাবারের অভাব নেই তার ঘরে । শুধু Continue Reading →

কথা দিয়েছিলে ফিরবে | পর্ব – ৫

অফিসের কেবিনে বসে ভাবছে অনেক কিছুই । পাশের সিটে ছোট্ট ইফসি বসে আছে চুপ করে । ইফসি বড্ড বেশি শান্ত । একদম যেন দ্বিতীয় জুঁই । ইফসি ক্ষুধা লাগলেও কাঁদবে না । আর সে জোরে ব্যাথা না পাওয়া ছাড়া কাঁদে না , আর এমনি পেলেও কাঁদবে না । আসলে আল্লাহ Continue Reading →

কলেজের পিন্সিপাল

আজ আমার প্রথম দিন কলেজে,, কী ভাবছেন ক্লাস করতে আসছি আরে না ভাই ক্লাস করাতে আসছি,, তা কলেজের মধ্যে ডুকলাম,, ( আগে বলে রাখি আমি কিন্ত কলেজের principalহিসাবে জয়েন হয়েছি,, আর বয়স তেমন বেশি না,, কলেজের ছাএদের বয়সি,, এক জায়গায় দেখলাম কিছু ছেলে আর মেয়ে,, একটা ছেলেকে নিয়ে হাসি তামাসা Continue Reading →