অথচ আমি বন্দি ছিলাম বহুদিন

কতদিন শ্বাস নিতে ভুলে গিয়েছিলাম,
আকাশ দেখিনি, চাঁদ দেখিনি, প্রকৃতি দেখিনি!
কেমন দমবন্ধ করা পরিবেশ ছিল,
কেমন করে রোজ একটু থেকে একটু করে হেরে যাচ্ছিলাম নিজের কাছে।

অস্তিত্ব সংকটে ভুগতে ভুগতে মরে যাচ্ছিলাম প্রতিটা ক্ষণে।
দিনের শুরু দেখা হতো না, শেষ ও না।
দুপুর গড়াতো না, বিকেল গড়াতো না,
থমকে ছিলাম আমি।
কলরবের এই শহরে মৃতপ্রায় এক মানুষ।
যেন আদিম আকাক্ষা বিবর্জিত এত পরাজিত সৈনিক।

অথচ তোমার আগমনী গানে মুখর হলো সন্ধ্যা,
আবার ভরে উঠল শহর, ভরে উঠল মন!
আকাশে এখন ডানা মেলে উড়তে ইচ্ছে করে,
চাঁদের জোসনা মনে ভরে দেয়,
নিঃশ্বাস নেই প্রাণভরে।।
এসব তোমারই দান।

প্রিয়,
তুমি প্রিয় হয়ে থেকো।

বুকে চাপা কষ্ট

মাঝরাত্তিরে জ্বলা ল্যামপোস্টের আলোতে সব কিছু কেমন কেমন মনে হয়!
বুকের ভিতর বয়ে যাওয়া নদী টের পায় সেসব কিছু।

ব্যালকনি থেকে রোজ মাঝরাত্তিরে আমি ‘একা’ ল্যামপোস্টকে দেখি।
চারিদিকে কি সুনসান নিরবতা, কোন কথা নেই, শব্দ নেই!
মাঝে মাঝে কেবল নিশুতি পোকার ডাক।

আমি মেলে ধরি নিজেকে,
নিজের ভিতরে রোজ বয়ে চলা নদীকে মাঝরাত্তিরে আমি বের করে আনি।
স্রোতের সাথে ভাসিয়ে দেই আমাকে,
ডুব দেই আমার এই বিষাদ নদীতে।।
ডুবতে ডুবতে আবার ভেসে উঠি।।
বুকের ভিতর ফিসফিস করে কারা যেন কথা কয়,
আমি ঠিক শুনতে পাই না!
মাঝে মাঝে মনে হয় সুখের গল্প, মাঝে মাঝে মনে হয় বিষাদ রচনা।

অগোচরে বয়ে যায় একটি বিষাদনদী,
তার খুব কথা বলতে ইচ্ছে করে ল্যামপোস্টের সাথে।
জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, এত একা একা থেকেও কি তার মন কেমন করে না?
এত আলো দিয়ে ভরে দিতে পারে?
এত শক্তি সে পেল কোথায়?

আস্তে আস্তে ভোর হতে থাকে,
আমি গুটিয়ে নেই নদীটিকে,
আর, আশায় থাকি কোন একদিন বিষাদ নদীর কথা হবে ল্যামপোস্টপের সাথে,
সেও শিখে নেবে কি করে সুখ বিলাতে হয়,
এই এত একা থেকেও কি করে ভালো থাকতে হয়।