প্রিয়োতীত

ধোঁয়াটে আশপাশ, ধূসর হয়ে যাওয়া বিকেলে আমি অতীত দেখি;

যে অতীত কথা বলে না,যে অতীতের কোনো রঙ থাকেনা,

যে অতীত শুধু বিবর্ণ হয়ে ভেসে ওঠে স্মৃতির শহরে।

সেই অতীতের ফাঁকে ফাঁকে কিছু ব্যর্থতা জেগে ওঠে,কিছু না পাওয়ার গল্প উঁকি দেয় অমানিশার মত,

কিছু মেঘ নিঃশব্দে হুংকার তুলে বৃষ্টি ঝড়িয়ে যায়।

সেই অতীতের পথে পথে আমি প্রেমিকদের দেখি,

কোনো বাসস্টপের ছাউনিতে দুটো কদম হাতে, ফুটন্ত রক্তজবার মত লাল বেনারসি কিনতে,কিংবা কোনো চুড়ির দোকানে আনাড়ি দরদাম করতে।

আমি প্রেমিকাদেরও দেখি,আয়নার সামনে বসে কপালের টিপ বসাতে,সবুজের আভা মিশ্রিত লাল মেহেদী রাঙ্গাতে,কিংবা বৃষ্টির শব্দ শুনে কদমের অপেক্ষায় থাকতে।অতীত শহরের খুব কাছাকাছি বিষাদ নগরে আরেকটি প্রেমিক দেখি,

কিন্তু কোনো প্রেমিকা দেখিনা।এই প্রেমিকের হাতে কোনো কদম নেই;

নেই কোনো বেনারসি কিংবা গোলাপ, এই প্রেমিকের জন্যে কোনো প্রেমিকার অপেক্ষা নেই; নেই মেহেদী রাঙ্গানোর অজুহাত।

এ প্রেমিক একা; প্রেমের শহর থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বহু আগেই।কোনো এক অপ্সরার প্রেম তাকে চির অপেক্ষার দন্ড দিয়েছে;

ফেলে দিয়েছে বিষাদ নগরে।সমস্ত আকাশ ভেঙে সেদিন তিরস্কার ঝড়েছিল! প্রেমের শহরের অর্ধেকটা পরিণত হয়েছিল বিষাদের অভয়ারণ্যে!

যেদিন ছেড়ে গিয়েছিল দুটি হাত, কোমল একটি চেহারা।

ছেড়ে যাওয়ার সেই বিকেলে জন্মানো শহরটা অতীতে ভাসতে থাকে,কোনো কথা না বলেই ফোঁটা ফোঁটা নোনাজল জমাতে থাকে স্মৃতির কাঁচে।

আমার অতীত দেখা শেষ হয়,শহরের আলো গুলোও আস্তে আস্তে নিভে যায়।প্রেমিকার ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্যটাও ঝাপ্সা হয়,শুধু সেই একলা প্রেমিকের অপেক্ষা আজও শেষ হয় না।