চৈত্ররজনী

অবোশেষে বিয়েটা হয়েই গেলো।আমার জীবনের প্রথম বিবাহ।তবে আমার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে।
আমি কারো সতীন হয়ে আসলাম।তাও আবার নিজের বোনের।না আমার বোন বেচে নেই।
তার বাবু হওয়ার কয়েক দিন পর অনেক অসুস্থ হয়ে,পরে তারপর একদিন গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট করে।মারা যায়।তার ছোটো বাচ্চাটা সামলাতে আমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিলো।একপ্রকার জবোর্দস্তি তে।
,
আমি বসে আছি আমাদের জন্য সাজানো।একটা সাদা মাটা বাসর ঘরে।যেখানে।সাদা চাদর।তার উপর।লাল গোলাপ আর গোলাপের পাপড়ি।দিয়ে।সাজানো।
কিছুখন আগে আমার কোলে।ওভ্রাতকে।দিয়ে চলে গেছে।মি. প্রভাতের বড় ভাবী নীলা।ওভ্রাত হলো।ওমি আপু আর মি. প্রভাতের ছেলে।
ছয় মাসের ফুট ফুটে ছেলেটার মুখ দেখে।আমার চোখে জল চলে এলো।এতটুকু ছেলে তার।সব কিছু বুঝার আগেই সব হারালো।ওমি আপুর মৃত্যুর কারন হিসেবে।ওভ্রাতকে দায়ি করছে।মি. প্রভাত।আপুর মৃত্যুর পর থেকে একবারও কাছে টেনে নেয়ন নি ওকে।এই নিঃসপাপ ছেলেটাকে যে কতো কিছু দেখতে হবে এখনও ভাবতে আমার শরীর কাটা দিয়ে যাচ্ছে।
,
ওভ্রাতকে ঘুম পারিয়ে ওর দিকে ঝুকে তাকাতে।
নীলা ভাবী।ঘরে এলো।কয়েকটা উপদেশ মূলক কথা বলল।ওভ্রাতের সম্পর্কে।যেহেতু আমি কিছুই জানি না।তাই ওভ্রাতের ফিটিং বতল সহো ওর সয়ামিল্ক কোথায় আছে।থেকে শুরু করে।সব কিছু বলল।রাতে বারবার উঠে ওর।প্যম্পার চেক করতে বলল।সারাত অনেক কষ্ট হবে বলে।আমাকে বলল।
“ওভ্রাত আজ আমার কাছেই থাক তোমার সারাদিন অনেক ধকল গেছে”
আমি সোজাসুজি বারন করে দিলাম।কারণ আমাকে এখানে শুধু ওভ্রাতকে দেখার জন্যই আনা হয়েছে।তো আমি পারবো।সারা রাত তো জাগা আমার কাছে কোনো ব্যপার না।
এই মোবাইল নামের বস্তুটা আমাকে কতো কতো রাত জাগিয়েছে তা কেবল সে জানে।
তফাত আমি এখন মোবাইলে ক্রুল করবো অথবা গেমস খেলবো।আর আগে দুপুরের সাথে কথা বলতাম।
হ্যা দুপুর আমার বয়ফ্রন্ড।যার ভালোবাসয় হাবুডুবু খাচ্ছিলাম কাল অবদি।আজ আমি অন্য কারো বউ।তবে বিয়ে হবার পর থেকে মি. প্রভাতকে কোথাও দেখিনি।কারন সে তো নামের বিয়ে করেছে।বিয়ের আগে একবার অবস্য বলে ছিলো।
আমার জীবনে ওমির জায়গাটা আমি কাউকে দিতে পারবো না।রোদেলা।
আমার খুব কান্না পাচ্ছে দুপুরের জন্য।তবে।ওভ্রাতের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি চুপ করে সব মেনে নিলাম।
,
নীলা ভাবী রাতের খাবার আমার রুমেই দিয়ে গলো।প্রভাত ভাইয়া নাকি আমাকে আর ওভ্রাতকে দেখতে চায় না।তাই।রুমে বসেই খাবার খেয়ে নিলাম।ওভ্রাত গভির ঘুমে।এক বার দুপুরের কন্ঠ শুনতে ইচ্ছা করছিলো।তাই শতো দিধা কাটিয়ে।ওকে ফোন দিলাম।
ওপাশ থেকে রিং হচ্ছে কেউ ধরবে কিনা সেই আসায় নেই রোদেলা।তবে দুপুরের কন্ঠ একবার শুনতে না পারলে সে নিজেকে।যে কিছুতে শান্ত করতে পারছে না।
ওপাশ থেকে ফোনটা রিসিভ হলো।ভারি কন্ঠে দুপুর বলল।
” কে?? “
রোদেলা ফিসফিসিয়ে বলল।
” আমি রোদেলা বলছি “
দুপুরের কন্ঠে উত্তেজনা ফেটে পরছে।কয়েক দিন পর কথা বললে যা হয় আরকি।
” এই রোদ কোথায় ছিলে বলোতো।আমি তোমাকে কতো ট্রাই করছি”
” এইতো”
” এই তুমি ফিসফিসিয়ে কথা বলছো কেনো।”
” আমার বিয়ে হয়ে গেছে।দুপুর”
দুপুর স্তব্ধ হয়ে দাড়ীয়ে পরলো।
” মজা করছো।আগেও তো করতে।
আমাকে ভয় দেখানোর জন্য।এখন আবার এসব কি কথা।আমি তো বললাম।বাবাকে রাজি করিয়ে ফেলেছি।”
” আর লাভ নেই।আমার সত্যিই বিয়ে হয়েগেছে।”
দুপুর এবার ধপ করে বিছানায় বসে পরলো।
রোদেলা দুপুরের সাথে।সব কিছু বলল।কেনো বিয়ে হয়েছে।কার সাথে বিয়ে হয়েছে সব।
দুপুর শান্ত গলায় বলল।
” এখন কোথায় তুমি”
” ওমি আপুর শ্বশুর বাড়ী”
” তাহলে তো আজ তোমার বাসর।”
” হ্যা”
দুপুর আর একটা কথাও বলতে পারলো না।
যাকে নিয়ে স্বপ্নবুনতো সে আজ অন্য কারো পাশে শুয়ে।তার সাথে কথা বলছে।নিজের মধ্যে ঝর শুরু হলো
খট করে ফোনটা কেটে দিলো দুপুর।
ওয়ালেটে লুকিয়ে রাখা রোদেলার ছবিটা বের করে তার ঠোটে স্পর্শ করলো।বিড়বিড় করে বলল।
এরপর তোমার ছবিতে স্পর্শ করতেও তোমার পারমিশন লাগবে না।কারন তুমি তো কখনও জানতেই পারবে না।
,
রোদেলা।বিছায়নায় এসে বসতে ঘুমে তলিয়ে গেলো।ফোনে গেমস।স্ক্রুল করা কিছু হয়নি।রাত জাগতেও পারেনি।
তবে যখন চোখে ঝাপসা দেখছিলো।
এতোটুকু দেখেছি।কালো কিছু একটা।ঘরে প্রবেশ করেছে।
ওভ্রাতের পাশে বসেছে।ওকে আদর করলো।
হাত তুলে তাকে বাধা দেওয়া শক্তিটুকু নেই।
রোদেলা ঘুমে তলিয়ে গেলো।
,
সকাল সকাল।নীলা ভাবী বেস চরাও হয়ে বলল।
” আগেই বলে ছিলাম।বাচ্চা সামলাতে পারবে না।ওকে আমার কাছে দিতে।দিলে কই।বাচ্চাটা ঘুম থেকে উঠে কতো কান্না করলো।শেষে আমি রুমে গিয়ে দেখি।কান্না করছে”
” সরি ভাবি।বুজতে পারিনি।নেক্সট এমনটা হবে না”
ওভ্রাত কে আমার কোলে দিয়ে ভাবী চলে গেলো।
যাবার পথে বলল
” তুমি রুমে যাও।তোমার ব্রেকফাস্ট ওখানে নিয়ে আসছি।”
আমি গলা উচু করে।চিৎকারের স্বরে জানতে চাইলাম।
” মি. প্রভাত।সে কোথায়”
নীলা ভাবী দৌড়ে এসে বলল
” কি বলছে।স্বামীর নাম মুখে নিচ্ছো কেন।”
” তো কি বলবো।”
” তা যাগগে বলো।যা খুশি। কিন্তু নাম নিবে না।তোমার শ্বাশুড়ি শুনলো সব শেষ।ও প্রভাত!ও তো অফিস চলে গেছে”
” এতো সকাল সকাল”
” সকাল!! সকাল দেখছো কোথায়।এখন তো সকাল এগারোটা বাজে”
” ও সরি।আমি ফ্রেস হয়ে।ওভ্রাতকে খায়িয়ে দি”
,
বিকেলে মি. প্রভাত বাড়ী ফিরলে
আমি ওভ্রাতকে নিয়ে।তার কাছে গেলাম।
ততখনে তিনি ফ্রেস হয়ে।তৈরি হচ্ছিলেন।
বাহিরে বেরনোর জন্য।আমি।ওভ্রাতকে।
ওনার কোলে দিতে ওভ্রাতকে বিছানায় নামিয়ে দিলো।এক প্রকার অবহেলার মতো।
“ওকে কোলে নিচ্ছেন না কেনো”
“আমার ইচ্ছা।ওর মতো ছেলেকে কোলে নিতে আমার গা ঘিনঘিন করে।ও একটা খুনি।আমার ওমিকে খুন করেছে।”
” আপু এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে।এতে ওর দোষ কোথায়।দেখছেন।”
” ওর খাবার বানাতে গিয়েই তো সিলিন্ডার ব্লাস্ট করলো।বাদ দাও আমি তোমার সঙ্গে তর্কে জরাতে চাই না”
“আপনার ভুল ভাঙা দরকার।এই নিঃশপাপ ছেলেটাকে ওর অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে দিবেন না।কাছে টেনে নিন।ওর বাবার অধিকার আদর ওর থেকে কেরে নিবেন না”
” তোমার কি ওর চিন্তা না নিজের স্ত্রীর অধিকার চাই।নিঃলজ্জ মেয়ে”
বলেই রোদেলার গালে একটা স্ব জোরে চর মারলো।কাধ ধরে ঝাকি দিয়ে।মেজেতে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো।
রোদেলার চোখ বেয়ে কয়েক ফোটা জল গরিয়ে পরলো।ওখানে বসে কতখন কান্না করলো বলতে পারে না।ওভ্রাতকে নিয়ে রুমে চলে গেলো।ওদের জন্য বরাদ্দ করা রুমটাতে।
,
,
চলবে,..