গল্পঃ পাগলি বউয়ের রাগি ভালোবাসা

ঘরের চৌকাঠে পা না রাখতেই দেখি,বউ আমার ব্যাগ নিয়ে হনহন করে চলে যাচ্ছে।পিছন থেকে হাত ধরে জিজ্ঞাস করলাম,,,,,,,,,,এই পাগলি কোথায় যাও??

বউঃতোমার সাথে এক টিনের নিচে(ছাদ নাই তো তাই) আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না,,,,
আমিঃকিন্ত আমার অপরাধ??
বউঃকারন তুমি আমাকে কখনো সুখে রাখতে পারবা না!!সত্যি বলতে তুমি জানোই না,কোথায় আমার সুখ?তাই আমি একেবারের জন্য চলে যাচ্ছি,,,,

আমিঃচলে যাচ্ছি,কথাটা শুনার সাথে সাথে তীব্র হাহাকার R শুন্যতা এসে ঘিরে ফেললো পুরো বুকটাকে।আর চোখের কোনে দু ফোটা লবণাক্ত পানির উপস্থিতি টের পেয়ে,তা লুকাতে মাথা নিচু করে পাগলিটাকে বলতে লাগলাম,ঠিকিই বলছ,,,

আসলেই আমার কোন যোগ্যতাই নেই,তোমাকে সুখে রাখার।কারন আমার ঘরের ভাঙা চালের ফাক দিয়ে,যে চাঁদ দেখা যায়।তা জোছনার আলো দিতে পারে না।কারন খুদার্থ পেটে তা,শুধু এক টুকরো ঝলসানো রুটি ছাড়া R কিছুই না।কিন্ত কি করব বল?তুমি ছাড়া পৃথিবীতে বেচে থাকতে হবে ভাবতেই কষ্ট হয়।তাই সার্থপরের মত আঁকড়ে ধরে বাচতে চাই। কিন্ত তুমি চলে যেতে চাইলে,যেত পার।R তোমাকে বাধা দিব না,কারন আমার সেই ক্ষমতা নাই।
হঠাত করে মেয়েটা আমাকে জরিয়ে ধরল,,R আমার ঘামে ভিজা শার্টটা আবার ভিজতে শুর করল।তারমানে মেয়েটা এতক্ষন কাঁদছিল,কিন্ত মাথা নিচু করে ছিলাম বলে বুঝতে পারিনি।এই ফাকে আপনাদের আমার পরিচয়টা দিয়ে দেই,,

আমি ফয়সাল,খুবিই সল্প বেতনে একটা চাকরি করি।মা,বাবা,ছোট বোন গ্রামের বাড়িতে থাকে।R যার সাথে মন মালিন্য চলিছিল,,তিনি হল ধনীর দুলালি আমার একমাএ বউ ফারিহা।২-৩বছর প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খেয়ে আমারা বিয়ে করেছি।তারপর,,,,,,,,,,,
ফারিহা এবার ডেকচি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল,,,,,,
ফারিহাঃএই চিনছো আমাকে??এই জন্য চলে যাচ্চি বুজি?(কিছুটা অভিমানে)
আমিঃতাহলে??
ফারিহাঃসকালে বিছানার পাশে যখন শাড়ি দেখলাম তখন R আমার বুজতে বাকি ছিল না যে,আমার পাগলটা নিজের শার্ট কিনার টাকাটা কোথায় ব্যয় করেছে।
আমিঃকি করব বল?বিয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত তোমার কোন ইচ্ছাই পুরন করতে পারলাম না।কত বড় লোকের মেয়ে তুমি আমার ঘরে এসে,সুখ কি তাই হয়ত ভুলে গেছ!!(আমার কথার মাঝেই ফারিহা আবার বলে উঠল,,,,,,,

ফারিহাঃএই জন্যই চলে যেতে চাইছি,,,সত্যি তুমি যান না,আমার সুখ কোথায়??(অভিমানী সুরে কথাটা বলেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে বুক থেকে সরিয়ে দিল)
আমিঃমানে??(অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম)
ফারিহাঃতুমি কি ভাব,ধন-সম্পদ আর চাকচিক্যতে আমার সুখ?না গো,,,আমার সুখ তো আমার পাগলটার বুকে একটু আশ্রয় খুজে পাওয়ার মাঝে।সেই পাগলটা, যাকে মাঝ রাতে জাগিয়ে,ভালবাস কিনা জিজ্ঞাস করার পরও না রেগে গিয়ে মুশকি হাসি দিয়ে বুকের মাঝে টেনে নিয়ে বলে অনেক ভালবাসি এই পাগলিটাকে।আর তুমি কি ভাব,আমি কিছুই জানি না ?
আমিঃ কি জান?(অবাক হয়ে)
ফারিহাঃপ্রতি রাতে যে,আমার পাগলটা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে R গভীর রাত পর্যন্ত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়!!সেটা,,,(তিপ্তীর হাসি দিয়ে)
আমিঃহায় হায় তার মানে মেয়েটা ঘুমের ভান করে থাকে।কিন্ত সবই জানে!!(মনেমনে)
ফারিহাঃআমি সব কিছুই জানি,কিন্ত না জানার ভান করে শুয়ে থাকি।কেন যান??
আমিঃ(কিছুটা অবাক চোখে) কেন?
ফারিহাঃকারন ঐ আদর টুকু ছাড়া যে,পাগলিটা বাচতে পারবে না।তাই!!
আমিঃতাহলে চলে যাচ্ছিলে কেন?পাগলটাকে ছেড়ে(অভিমানী সুরে)
ফারিহাঃতাহলে আমার পাগলটা আমার কথা মত,নিজের জন্য শার্ট কিনল না কেন???
আমিঃকারন পাগলটা যে,পাগলিটাকে তার মনের মত করে সাজিয়ে সুখ খুজে পায়।তাই
ফারিহাঃঅহ তাই বুজি(দুষ্টু হাসি দিয়ে)নিজের সুখের কথায় শুধু ভাবা হচ্ছে বুজি?এর জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।
আমিঃপাগলিটাকে নিজের বুকের মধ্যে রাখার জন্য সব শাস্তি মাথা পেতে নিতেও রাজি।
ফারিহাঃতাই(মিষ্টি করে হেসে) তাহলে এখন তুমি নিজ হাতে আমাকে শাড়ি R আমার জন্মদিনে তোমার দিয়া কাচের চুড়ি পড়িয়ে দীঘির পার ঘুরতে নিয়ে যাবে।এটাই তোমার শাস্তি,,,,
আমিঃকিইইই?সারা রাত নাইট ডিউটি করে এসে,এই শীতের সকালে দীঘির পার ঘুরতে যেতে হবে!!তার চাইতে চল না জান,তোমাকে একটু আদর করে দেই।খুব ঠান্ডা পড়ছে আজ,,,,,,
ফারিহাঃকি বললি তুই??(পৃথিবীর সমস্ত রাগ নিয়ে,লাল চোখ করে)
আমিঃএই না,,, এখনি যাচ্ছি,,,
ফারিহাঃগুড বয়(রসগোল্লা হাসি দিয়ে)
আমিঃতারপর ফারিহাকে নিজ হাতে শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছি।R মেয়েটা আমার প্রতিবার হাতের ছুয়ায় কেপে কেপে উঠছে।আর আমিও ইচ্ছা করে একটু বেশিই ছুয়ে দিচ্ছি,,
ফারিহাঃএই দুষ্টু আমি কিন্ত সব বুঝতে পারছি!!মতলব কিন্ত সুবিধার মনে হচ্ছে না।R একটু আগে তো রাজিই হচ্ছিলে না।এখন এত রোমান্টিকতা কোথা থেকে আসল, শুনি??
আমিঃআগে কি জানতাম নাকি যে,বউকে শাড়ি পরিয়ে দিতে এত মজা?
ফারিহাঃজানলে কি করতেন সাহেব?
আমিঃজানলে,প্রতি ছয় মাস পর পর তোমার হাত ভেঙে দিতাম,,,(দুষ্টু হাসি দিয়ে)
ফারিহাঃপাগলিটা আমার কথায় এতটায় অবাক হয়েছে যে,ছোটখাট একটা হা করে বলল,,,,কেন?
আমিঃতোমাকে শাড়ি পড়িয়ে দেয়ার ছুতোয় এভাবে কাছে পাওয়ার জন্য গো,,,
ফারিহাঃতাহলে হাত ভাঙতে হবে কেন?
আমিঃতা না হলে,তুমি কি সহজে রাজি হবে নাকি?(ফাজিল মার্কা হাসি দিয়ে)
ফারিহাঃতবে রে শয়তান!!বলেই wwe শুর হয়ে গেল।বউয়ের ধুলাই খাওয়া শেষ করে,ওকে নিয়ে চলে আসলাম দীঘির পাড়,,,অনেকটা অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলাম,প্রকৃতির এই সুন্দর্যের দিকে,,,

স্বচ্ছ দীঘির জলের উপর ধরধবে সাদা কুয়াশা ভেসে বেড়াচ্ছে। (অনেকটা মেঘের ভেলার মত)কিন্ত দীঘির জলের উপর আজ একটাও সাদা বকের দেখা পাচ্ছি না।হয়ত তারাও কুয়াশার চাদর গায়ে জড়িয়ে, নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে প্রকৃতির এই সুন্দর্য্যর মাঝে।আনমনে এসব ভাবতে ভাবতে,ফারিহার হাত ধরে হাটছিলাম।হঠাত ফারিহার কথায় চমকে উঠলাম,,,,,,

ফারিহাঃএই জুতা খুলো,,,
আমিঃমানে??(অবাক হয়ে)
ফারিহাঃমানে জুতা খুলে খালি পায়ে হাট বলছি(রাগান্বিত ভাবে)
আমিঃপরেছি পাগলির প্রেমে,,,তাই পাগলটা পাগলির কথা মতই চলে।পরে বাধ্য ছেলের মত শিশির ভিজা সিক্ত ঘাসের উপর দিয়ে,খালি পায়ে হাটছি।R প্রতিটি কদমে শিউড়ে উঠেছে প্রতিতি শিরা-উপশিরা।তাই কাঁপতে লাগলাম,,,ফারিহা আমার এই অব্যস্থা দেখে, মুশকি হাসি দিয়ে আমার হাতের ভিতর নিজের হাত ঢুকিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেধে নিল আমাকে,,আর আমি মনে মনে ভাবছি,মেয়েটা সত্যিই জানে, কিভাবে কাছে টানতে হয়,,,???তাই আমি মনের সুখে গেয়ে উঠলাম,,

এই পথ যদি না শেষ হয়,তবে কেমন হত তুমি বলত???
ফারিহাঃআমার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে,মুশকি হাসি দিয়ে বলে উঠল,,তুমিই বল???
আমিঃ(আমি ফাজিল মার্কা হাসি দিয়ে বললাম)না তুমি বল,,

[{(জীবনে এমন একটা পাগলি R রাগি ফারিহার সত্যিই খুব প্রযোজন।R যেদিন পেয়ে যাব মনের খাচায় বন্দি করে ভালবাসা দিয়ে পুষে রাখব।যারা আমার মত এখন খুজে পাননি তাদের জন্য শুভ কামনা রইল)}]