উত্তর নেই

-চাইল কয় কেজি আছে সুজা?

-তিন কেজি।

আর মুঠ আছে আধা কেজি হয় কি না!

-কয় দিন যাইবো জানস?

-চাইর দিন।

-আইজকা তো চব্বিশ তারিখ।

চাইর তারিখের আগে রিক্সা বাইর করা যাইবো না !

সুজা আর কয়ডা দিন বাড়াইয়া খাওন যায় না?

এক দিনো এক বেলা খাইলাম!

-বেশি গেলে পাঁচ দিন।

পোলাডা তো তিন বেলাই দুইডা খায়।

-আর তুই?

বুকে যে দুধের মাইয়া!

পেটে ভাত না থাকলে ওরে খাওয়াবি কি?

-সরকার কি আমাগো রে কিছু দিবো না?

রোগ তো আমরা কপালে বইয়া আনিনাই।

আমরা না খাইয়া মরমু ক্যান?-বুঝলি সুজা, বড়লোগগো যত্তো নিরাপত্তা।

নামি দামি ডাকতার,হাসপাতাল।

আর আমগো গরিবগো, হয় রোগ ,নয় শোগ, আর নয় ভাতে মারে মরন।

-এহন উপায়? -কারে কমু ধারের কথা? কে দিবো ধার?

যাগো রে চিনি হেরাই রিক্সা চালায়।

সাত ভাইয়ের এক কপাল হইলে কে কার দুয়ারে যাইবো ক!!!

-আল্লাহ আমগো রে পরীক্ষাত ফালাইছে ।ভাইঙা পরলে চলবো?

-তয় কি না খাইয়া চলবো? পোলাই যহন ভাত ভাত করবো।কি বুঝ দিবি?

-মাথা ঠান্ডা করো ফাহিমের বাপ। আল্লাহ রোগ দিছে আল্লাহ- ই দেকবো।

-হ। জাগো পাছা ভর্তি নগদ আছে হেরা লুঙ্গি ভর্তি খাওন ঘরে জমাইয়া রাখুক।

আর আমার নাই দেইখা ,আমার পোলাপাইন না খাইয়া মরবো।

না খাইয়া মরনের চাইয়া; আমি রিক্সা চালাইতাম, রোগে আমারে ধরতো,

আমি মরতাম।

পোলানের হুকনা মুখ তো দেখন লাগতো না!

কিয়ের স্বাধীনতা সুজা?

পেট ভইরা দেশের চাইল খাওনের লাইগা যে দেশ বাপ দাদা স্বাধীন কইরা গেছে;

হেই দেশে কারো গুদাম ভর্তি বিদেশী তামাশা।

আর আমরা গরিব বইলা খর কুডা চাবামু! ক্যান?

দেশ কি কোট জ্যাকেট পরা মাইনষের খালি?

আমগো না?

তুই যে এক কেজি চাইলের থেইকা দুই মুঠ তুইলা রাখস হেইডা দেশের অর্থনীতির কাজে লাগে না?

আর ওরা দাদার সম্পদ পাইয়া লুঙ্গির জাগাত প্যান্ট ঝুলাইয়া সভ্য সভ্য করে।

কেমন সভ্য ওরা?

আমারে‌ ক।

ক সুজা ক।

ক আমারে।

দেশডা কি ওগো একার?

আমরা দিন আনি দিন খাই বইলা,দেশডা আমাগো না!!!!!

-আমারে জিগাইয়ো না ফাহিমের বাপ।

না জানি বেলা বেলা মরিচ মাইখা ভাত খাইলে কোনদিন পেট গইলা মাইয়াডার আমার রুহ যায়!

“উত্তর নেই”