Breaking News

গল্পঃ - খলনায়ক | লেখকঃ - নিরব ইসলাম | পার্টঃ - ৪

সাহেলা লুবনাকে ডাক দিয়ে বলে,মা আমি একটু আমার ভাইয়ের বাসায় যাচ্ছি সন্ধ্যা নাগাত ফিরে আসবো।
লুবনা অবাক হয়ে বললো,বাসায় আমি একা থাকবো?
সাহেলা: কেন ভয় করে?যাবে আমার সাথে?
লুবনা: আমার ভয় নেই তবে আপনি আমায় একা রেখে যাবেন বাসায়?যদি আমি সব চুরি করে নিয়ে যাই?
সাহেলা হেসে বলে,সব চুরি করে নিলেও ভরসা চুরি করা যায়না।
লুবনা ভাবে অল্প দিনে কত অন্ধ বিশ্বাস আমার প্রতি..
সাহেলা: পড়ালেখা তে মন দেও।
শুনলাম তুমি অনার্স এ পড়তে..
কলেজ যাওয়া শুরু করে দেও কেমন?
লুবনা মাথা নাড়ালো..
বিকাল হয়ে এলো…
লুবনা একা একা বাসায় বসে আছে।এমন সময় কলিংবেল এর শব্দ..
লুবনা ভাবলো,সাহেলা কাকি এসেছে…
দরজা খুলেই দেখে আজমল সাহেব..
লুবনা: কাকা আপনি আজ এতো তাড়াতাড়ি?
আজমল: শরীরটা ভালো নেই।
তোমার কাকি বাসায়?
লুবনা: না তারা বাইরে গেল।এসে পরবে এখন ই।
লুবনা আজমল সাহেবের জন্য চা করতে গেল।
কিছুক্ষণ বাদেই লুবনা তার ঘাড়ে কারো হাতের স্পর্শ পেল…
পিছনে ফিরে দেখে আজমল দাড়িয়ে।
লুবনা: কাকা কি হয়েছে?কিছু লাগবে?
আজমল: হুম যা চাই তাই দিবে?
লুবনা: চা খাবেন?
আজমল তখন লুবনার গালে হাত রেখে বলে,তোমার কাকির বয়সটা বেশি হয়ে গেছে।
তুমি চাইলে আমি তোমায় চাকরী দিয়ে দিতে পারি।
শুধু আমি যখন যা বলবো তাই করবে?
লুবনা আজ আজমলের মুখে স্পষ্ট নোংড়ামির ছাপ দেখতে পারছে।
লুবনা ধাক্কা দিয়ে আজমল কে সরিয়ে দিল।
আজমল মেঝেতে পরে গেল…
লুবনা কেঁদে দিয়ে বলে,ছি!আপনি আমার বাবার মতন ছিলেন।
আমার বাবার খুব কাছের লোক ছিলেন আর আজ আপনি আমার সাথে এমন করতে পারলেন?
আজমল উঠেই লুবনার চুল ধরে বলে,তোরে পালবো কি দেখে?
রূপ দেখে?
এখান থেকে যাবার আর জায়গা নাই তোর।
চুপচাপ করে আমার কথা শোন নইলে মেরে ফেলবো একদম…
এই বলে আরো কাছে আগাতেই লুবনা পিছন থেকে কাচের জগ নিয়ে আজমল এর মাথায় মারলো…
লুবনা ঘর ছেড়ে বাইরে চলে গেল..
জীবনটা যেন লুবনাকে নিয়ে জুয়া খেলছে।
যাকে ই ভরসা করে তার ই আসল রূপ লুবনার কাছে ধরা পরে।
বার বার মন ভাঙা সহ্য করা গেলেও বার বার বিশ্বাস ভাঙা সহ্য করা যায় না।
কোথায় যাবে,কার কাছে যাবে এই ভেবে মাথা ঘুরছে লুবনার।
ভাবছে আত্মহত্যা করবে।
এ ছাড়া কোন উপায় নেই…
কিভাবে আত্মহত্যা করবে এই ভেবে ব্যতিব্যস্ত হচ্ছে।
মৃত্যুও যেন তার কাছে সহজ ভাবে ধরা দিচ্ছেনা।
রাস্তার পাশে বসে অপেক্ষা করছে গাড়ি বা ট্রাক আসার।
আসলেই জীবনটাকে ছুড়ে ফেলে দিবে চাকার নিচে।
মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে করতে হঠাৎ ই চোখ গেল জুয়েলারির দোকানের দিকে।
হাতে শেষ সম্বল আংটিটার দিকে তাকিয়ে ভাবছে বাবার দেয়া এই আংটি।
বাবা আংটি খানা দিয়ে বলেছিল,লুবু স্বর্ন কিন্তু শুধু সৌখিনতা নয়।
এটা বিপদের সময় সবচেয়ে বড় বন্ধু।
আর জীবনের বন্ধু বই…
জীবনের শেষ সময় বাবার কথা মত একবার করে দেখতে মন চায় লুবনার।
আংটিটা গয়নার দোকানে নিয়ে গেল বিক্রি করতে।
বাবার শেষ উপহার আজ জীবনের তাগিদে বিক্রি করতে হচ্ছে লুবনার।
আংটি বিক্রি করে মাত্র চার হাজার দু শত টাকা পেয়েছে লুবনা।
মাত্র কয়েক মাসে আংটি তে নাকি ধরে গেছে ক্ষাদ,বাবার শরীরেও হয়তো ধরে গেছে ক্ষয় শুধু বেঁচে আছে বাবার দেয়া ভালোবাসা আর উপদেশ।
এই ভেবে লুবনা গন্তব্যহীন পথ পাড়ি দিচ্ছে।
বাবার দেখানো জীবনের বাঁচার পথ লেখাপড়া।
সেই খানেই যাবে বলে ভেবেছে লুবনা।
গাড়িতে উঠে রওনা দিল নিজের কলেজ এর উদ্দেশ্যে।
যেখনে যাওয়া হয়না প্রায় ৭মাস।
কলেজের তেরেসা হলে একসময় বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিত।
ক্লাস শেষে বান্ধবী শিমুর কাছেই বেশিরভাগ সময় লুবনা গিয়ে বসে থাকতো।
আজ জীবনের শেষ আশ্রয়টা আমি শিমুর কাছেই চাইবো এই ভেবে চোখ ঝাপ্সা হয়ে যাচ্ছে বার বার।
বান্ধবী শিমুর রুমে পৌছুতে পৌছুতে রাত ৯:৪৫।
দরজায় নক করতেই শিমু দরজা খুলতেই লুবনাকে দেখে অবাক।
হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়া মানুষ টি এতদিন পর এতো রাতে হাজির…
শিমু: কিরে তুই এতো রাতে?
লুবনা: পানি দিবি একটু?
শিমু: আরে আয় ভিতরে।
লুবনাকে বসিয়ে পানি দিল।
লুবনা পানি তে এক চুমুক দিয়েই শিমুকে বলছে,শিমু এখানে আমায় রাখবি?
শিমুর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।
শিমু: রাখবো কিরে!তুই থাক যতদিন মন চায়।
লুবনা শিমুর হাতে টাকা দিয়ে বলে আমার কাছে এই টাকাই আছে রে।তুই রাখ।
শিমু লুবনার হাতে টাকা দিয়ে বলে,এখানে এক মাস রাখতে পারবো আমি।পরে লাগলে টাকা চেয়ে নিব।
এখন কি খাবি বল?আমাদের খাবার তো শেষ…
বাইরে থেকে এনে দেই…
লুবনা: আমার ক্ষুধা নেই রে।ঘুমাতে চাই একটু।
শিমু বালিশ বিছানায় ঠিক করে দিয়ে বললো,নে ঘুমা…বাকি কথা ভোরে হবে..
ভোর রাতের দিকে লুবনার হাউমাউ কান্নায় ঘুম ভেঙে যায় শিমুর।
শিমু তাকিয়ে দেখে লুবনা ঘুমের ভিতর কাঁদছে।
লুবনার গায়ে হাত রেখে বার বার শিমু বলছে,এই লুবনা কি হয়েছে রে?
লুবনা জেগে আতংক নিয়ে শিমুর দিকে তাকিয়ে আছে।
শিমু: কি হয়েছে?
লুবনা শিমুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো…
শিমু আমায় বাঁচা তুই…
প্লিস আমায় বাঁচা।
ওরা আমায় মেরে ফেলবে…
শিমু: এই কারা?
লুবনা চুপ করে রইলো…
ভোর হতেই বারান্দায় দাড়িয়ে আছে লুবনা।
আজকাল আর বেলা করে ঘুম হয়না তার।
শিমু: লুবনা কলেজ এ যাবিনা?
পরের মাসেই ইয়ার ফাইনাল।
লুবনা: আমিতো বই নিয়ে আসিনি।
কি পরীক্ষা দিব?
শিমু: আরে আমি বই কালেক্ট করে দিব।একটু খাটতে হবে তোকে।
আর তুই কলেজে একটা এপ্লিকেশন করিস আংকেল এর মৃত্যুর কারনে ক্লাস করতে পারিসনি।
লুবনা: শিমু আমি শুধু বাবা চলে যাওয়াতেই নয়..
আমার বিয়ের কারনেও ক্লাস করতে পারিনি।
শিমু অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে কি বলিস?
বিয়ে?
লুবনা: হুম আমি শ্বশুরঘর থেকেই পালিয়ে এসেছি।
শিমু: কেন?
লুবনা: সেসসব পরে বলবো…
শুধু এটুকু জেনে রাখ আমায় টাকার বিনিময় পাগলের সাথে বিয়ে দেয়া হয়েছিল।
শিমু আর কথা বলতে পারলোনা।
লুবনা: আমি আশ্রয়ের জন্য এ দুয়ার…ও দুয়ার ঘুরেছি পাইনি আশ্রয়। আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবীও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে..
শিমু: আচ্ছা তুই বিশ্রাম নিস।কাল থেকে ক্লাস করিস।যা হয়েছে ভুলে যা।
এই বলে যেতে নিল…
লুবনা: শিমু তুই যে পড়ার কথা বলিস,আমার পড়ার খরচ চালাবে কে?
শিমু লুবনার দিকে তাকিয়ে বলে নিজের টা নিজে চালাবি।
টিউশনি করাবি…
সব ঠিক হয়ে যাবে লুবনা…শুধু আল্লাহর উপর ভরসা রাখ…
আজকাল লুবনা স্থির ভাবে থাকতে পারে না কোথাও।
অশান্তি লাগে সবস্থানে..
কেমন আছে মা!মা জেনেছে আমি নেই কোথাও…
আগে ১৫মিনিট বাসায় যেতে দেড়ি করলেই খুব ঝাড়ি দিত…
এখন কি খুব চিন্তা করছে?
নাকি অভাবে কাছের প্রিয়জন ও বোঝা হয়ে যায়!
এই ভাবনায় মাতাল থাকে লুবনা।
শিমু এসে খবর দিল…কাল থেকে ফরম ফিলাপ এর তারিখ…
৫দিনের মাঝে করতে হবে…আর তাতে ৭হাজার এর মতন টাকা লাগবে…
আর লুবনার একটু বেশি লাগবে কারন তার কাগজ-পত্র -কিছুই নেই তার সাথে।
লুবনা হতাশ হয়ে ভাবছে,এত কম সময়ে এতো টাকা কই পাবে সে!
জীবন হয়তো আমায় চায় না এই ভেবে উদগ্রীব হয়ে আছে।
পরের দিনে ভোর নাগাত শিমু উঠে দেখে লুবনা নেই পাশে।
সারারুম খুঁজে কোথাও পায়নি লুবনাকে।
লুবনা রাস্তার পাশে গিয়ে বসে আছে।
কি কাজ করবে!কার কাছে চাইবে এতো টাকা!
পাশে কিছু মহিলা রাস্তা মেরামতের কাজ করছে।
লুবনা পাশে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করছে,চাচি এই কাজ করে কত পান?
মহিলা হেসে বলে,কেন মা চানতে চান ক্যা?
লুবনা: এমনিতেই।বলেন চাচি?
মহিলা: আন্নে কি টিভির লোক?
তারা আইসা আমাগো কথা এমন জানতে চায়।
লুবনা: না আমি করবো এই কাজ।
মহিলা হেসে বলে মা মজা লন?
এই কাজ আমনাগো লাগিনা।
সকাল থাইকা সন্ধ্যা করি প্রতিদিন ২০০দেয়।
লুবনা: আমায় দিবেন চাচি কাজ?
আমার একটা কাজ দরকার..
মহিলা: মা আমরা কাজ দেইনা।
আপনার একটা মাটি নিবার গামলা নিয়া রোজ সকালে ওই কলেজের সামনে থাকতে হবে..
যে সাহেব এর পছন্দ হবে তারা কাজে নিয়া যাবে।
যে আগে গিয়া কাজের জন্য লাইন এ দাড়ায় তার ই কাজ হয়।
আমরা সরকারি কাজ করলেও সরকারি লোক না মা।
আইজ আছি কাইল কাজ পছন্দ না হলে উঠায়া দেই।
ওই যে বিল্ডিং টা দেখেন না,ওই খানে আমার জামাই এক বছর কাজ করছে।দুই তালা দিয়া পইরা পা ভাংছে।
তাদের কাজ বন্ধ ছিল তাই তার পাওনা বেতন ও দেয়নায়।
আমার জামাই এতো কষ্ট করলো কেউ তারে মনে রাখলোনা।
এহন আমার জামাই ঘরে বইয়া কাটায়।
যাগো লইগা হইছে এমন তারা আমার সামনা দিয়াই গাড়ি করে যায়।
আমাগো কষ্ট কেউ দেহে না মা এই বলে চোখ আচল দিয়ে মুছলো..
লুবনা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে ভাবে হায়রে মানুষ এর জীবন…
এক শ্রেণীর মানুষ ঠিক মাছের মতন জীবন যাপন করে।
তাদের পছন্দ করে কেউ নিয়ে বাসায় মজা করে খায়…
আর মাছের চিরকাল ই কেটে যায় আতংক.. অবহেলায়..
লুবনা সেখান থেকে চলে আসলো হলে…
ভাবছে আর বুঝি পরীক্ষা দেয়া হবেনা।
শিমু লুবনাকে বললো,ডিপার্টমেন্ট হেড এর কাছে গিয়ে সব বলতে।সে নিশ্চই সাহায্য করবে।
পরের দিন লুবনা শিমুর সাথে কলেজ গেল…
স্যার এর কক্ষের সামনে গিয়ে লুবনা বললো,স্যার আসবো?
স্যার চোখ দিয়ে ইশারা দিলেন ভিতরে আসতে…
লুবনা ভিতরে গিয়েই স্যার এর পা ধরে কান্না শুরু করে দিল।
স্যার: এই মেয়ে কি হয়েছে?ছাড়ো…
ওঠো বলছি…
লুবনা কান্না থামাতে পারছেনা।
পাশে দাড়িয়ে থাকা এক ছেলে বার বার বলছে,কান্না থামান…
লুবনার সেদিকে কোন খেয়াল ই নেই।
স্যার: কি হয়েছে মা?
লুবনা: স্যার আমি প্রথম বর্ষে পড়ি।
আমার ফরম ফিলাপের জন্য টাকা লাগবে কিন্তু তা আমার কাছে নেই।
দয়াকরে আমায় সাহায্য করেন।
স্যার: দেখো মা,আমি বেশি হলে ২হাজার টাকা কন্সিডার করতে পারি কিন্তু বাকি টাকা তোমায় যোগার করতে হবে।
পরে রেজাল্ট ভালো হলে সবটা কুমানো যাবে।
লুবনা : প্লিস স্যার…আমার বাবা মারা গেছেন,তাই টাকা যোগার হচ্ছেনা।তা না হলে পরীক্ষা দিতে পারবোনা।
স্যার: আচ্ছা তুমি যাও। আমি জানাবো।
লুবনা চলে যেতে নিল।পাশের ছেলেটি স্যার কে বললো আচ্ছা আব্বু আমিও যাই।
স্যার: দাড়াও।এই মেয়েকে দেখে শিখ।বাবা নেই পরীক্ষা দিতে পারছেনা।আর তুমি বাবা আছে টাকা আছে। কিন্তু লেখা পড়া করনা।
সব শিক্ষক রা অবজেকশন দেয় তোমার নামে।
বাবা এখন যাই এগুলো প্রতিদিন ই বলো।
লুবনাকে পিছন থেকে ছেলেটি ডাক দিয়ে বলে এই শোন..
লুবনা: আমায় ডাকছেন?
হুম…এতদিন কই ছিলে?
লুবনা: মানে?
আমি কই ছিলাম তা জেনে আপনার কি?
না,আমি তোমাদের ডিপার্টমেন্ট এই পড়ি তবে এক বছরের সিনিয়র।
আর ওই স্যার আমার বাবা।
লুবনা: ও আচ্ছা…স্যারকে একটু বুঝিয়ে বলবেন দয়াকরে।আমি এখন আসি।
পরেরদিন শিমু এসে দেখে লুবনা শুয়ে আছে।
শিমু: লুবনা স্যার তোকে দেখা করতে বলেছে?
লুবনা চিন্তা নিয়ে বলে, স্যার কি না করে দিবে?
আমি কি করবো তাহলে?
শিমু: আগে যা। শুরুতে নেগেটিভ ভাবিস কেন?
কলেজ গিয়ে লুবনা স্যার এর রুমে যেতেই বলে আসো মা…
লুবনা: আমায় ডেকেছেন?
স্যার: টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
লুবনা হেসে বলে অনেক ধন্যবাদ স্যার।
স্যার: আমায় ধন্যবাদ দিয়ে কি হবে?
তোমার কাজিন টাকা দিয়ে গেছে।
লুবনা অবাক হয়ে বলে কাজিন?
স্যার লুবনাকে চিঠি দিয়ে বলে,এই নেও ইকু নামে কাজিন আছে তোমার সে আজ অফিস এর কেরানি কে দিয়ে তোমার নামে চিঠি সমেত ১০হাজার টাকা দিয়ে গেছে।
লুবনা চিঠি হাতে নিয়ে চিন্তা ভরা মুখ নিয়ে ভাবছে ইকু?
এতদিন পর আবার ফিরে এলো আমার জীবনে?
তাও কাল্পনিক প্রেমিক হয়ে নয়…ফেরেশতা হয়ে এসেছে।
উপকারী বন্ধু হয়ে…

” চলবে……………….

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com