Breaking News

হঠাৎ দেখা | ২য় পর্ব | লেখক : রিফাত হোসেন।

কলেজে গিয়ে ফ্রেন্ড দের সাথে কথা বলছিলাম হঠাৎ একটা জিনিস দেখে চমকে গেলাম…
আমি: আরে এটা তো সেই মেয়েটা এখানে কেন।
তাহলে কি আমাদের কলেজে পরে
সেই বৃষ্টি ভেজা মুখটা আজ আবার আমার সামনে।
হঠাৎ পিছনে কে যেনো ডাক দিলো। তাকিয়ে দেখি
রাফি।
রাফি: কি রে এখানে দাড়িয়ে আসিছ কেন?
আমি: দোস্ত একটা পরি থুক্কু একটা মেয়ে। যাকে কালকে বৃষ্টিতে রাস্তায় দেখেছিলাম।
রাফি: কোথায় ওখানে তো কোন মেয়ে নাই।
আমি তাকিয়ে তো অবাক সত্যিইতো ওখানেতো কোন মেয়ে নাই
তাহলে কি সত্যি সত্যি ওটা পরি না তো।
হঠাৎ করে দেখা দেয় আবার হঠাৎ করে উধাও
না আর নিতে পারছি না।
রাফি: কিরে কি ভাবছিস
আমি: না কিছুনা চল ক্লাসে চল এমনিতেই দেড়ি হয়ে গেছে।
তারপর আমরা ক্লাসে চলে আসলাম।
ক্লাসের সামনে গিয়ে দেখি স্যার ক্লাসে চলে আসছে।
আমি: স্যার আসবো
স্যার : কেন। এখানে কি চাই
আমি: আমরা তো চাই….
বলার আগেই স্যার।
স্যার : সরি তোমরা সামনে দেখতে পারো এখানে সাহায্য করার মতো কেও নাই।
আমি: ঐ মিয়া আমাদের দেখে কি আপনার ভিক্ষুক মনে হয় নাকি।
স্যার দেখি আমার দিকে রাগি মুড নিয়া তাকিয়ে আছে।
স্যার : কি বললি।
আমি: আরে কাক্কু। থুক্কু স্যার আমরা তো মজা করতেছিলাম।
আসলে স্যার আমাদের এলাকার আর আমরা সবাই বাহিরে তাকে কাক্কু বলেই ডাকি।
স্যার : হুম ঠিক আছে এবার বল তোদের দেড়ি হলো কেন??
আমি: আসলে স্যার হয়েছে কি আসার সময় কোন গাড়ি পায়নি তাই হেটে এসেছি।
স্যার: তাই নাকি তা তোর বাসাটা যেন কোথায়।
আমি: হাসতে হাসতে এই তো স্যার একটু সামনেই।
স্যার : তা তোর বাসা থেকে কলেজে আসতে কতো সময় লাগে।
আমি: বেশি সময় লাগে না স্যার মাএ দুই- তিন মিনিটের রাস্তা।
স্যার : তাহলে গাড়ি দিয়ে কি করবি।
এই রে নিজের ফাদে নিজেই পড়লাম।
এখনি এখান থেকে কেটে পড়তে হবে।
তারপর স্যার রাফিকে জিজ্ঞাসা করলো..
স্যার: তা রাফি তোর কেন দেড়ি হলো।
রাফি: আসলে স্যার রিফাত নাকি কলেজে পরি দেখতে পেয়েছে তাই আমি সেটা খুজতে গেছিলাম।
স্যার: আমার সাথে ফাজলামো হচ্ছে।
আমি রাফিকে বললাম সালা আমাকে ফাসিয়ে দিলি এখনো দাড়িয়ে আসিছ।
দে দৌড় বলতে দেড়ি কিন্তু দৌড় দিতে দেড়ি হয়নি।
এক দৌড়ে মাঠের মাঝখানে।
তারপর সেখানে বসলাম।
হঠাৎ করে কলেজের তিন তলায় চোখ গেলো।
এইতো সেই মেয়েটা।
আমি: রাফি এই দেখ মেয়েটা।
রাফি : কোথায়।
আমি: আরে এইতো……. কি ব্যাপার কোথায় গেলো।
আমার সাথে এসব কি হচ্ছে।
রাফি: তোর কি হয়েছে বলতো কি একটু পর পর মেয়েটা মেয়েটা করছিস।
আমি: বিশ্বাস কর আমি একটা মেয়েকে দেখেছি।
রাফি: আচ্ছা বলতো মেয়েটা দেখতে কেমন
আমি: দেখতে খুব সুন্দর। চোখে কাজল দেয়া থাকে। হিজাব পড়া।আর আমাকে যেটা আকর্শন করছে সেটা হলো ঠোটের নিচে একটু হাসি।
রাফি:হুম তোর বর্ননা অনুযায়ী একজনের কথাই মনে পড়ছে।
আমি: কে সে।
রাফি: কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট এর তারিন।
আমি: তাহলে চল দেখে আসি।
রাফি: আচ্ছা চল।
তারপর আমরা কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট এ গেলাম।
গিয়ে দেখি আমার হঠাৎ দেখা মেয়েটি বসে আছে
আমি: রাফি এটাই।
রাফি: হুম
আমি: কিন্তু তুই চিনলি কিভাবে।
রাফি : আরে ও তো মিমের ফ্রেন্ড ( মিম হলো রাফির গালফ্রেন্ড)
আমি: তাহলে তো ভালই হলো।
রাফি: হুম ঠিক বলছিস।
আমি: আচ্ছা ওর কি কারো সাথে রিলেশন আছে।
রাফি: আমি তো জানিনা মিম বলতে পারবে।
আমি: মিম এখন কোথায়।
রাফি: ক্লাসে আছে।
আমি : কখন আসবে।
রাফি: একটু পরেই এসে পরবে।
আমি: তাহলে আমরা এখানেই বসে থাকি।
রাফি: ওকে।
তারপর আমরা সেখানে বসে গল্প করছিলাম।
আমি: রাফি তারিন আমার কথায় রাজি হবে তো।
রাফি: জানিনা রে।
আমি: আচ্ছা ওর যদি কারো সাথে রিলোশন থাকে।
রাফি : আমার মনে হয় নাই।
আমি: তুই কি করে জানলি।
রাফি: আরে তারিন যে রাগি কোন ছেলেকে ওর সাথে ঘেসতে পারে না।
একবাব কি হয়েছে জানিস।
আমি: কি হয়েছে।
রাফি: একটা ছেলে ওকে প্রপোজ করেছিল কিন্তু ও তাকে সবার সামনে ঠাসসসসসসস করে
একটা থাপ্পর মারছিল।
তারপর থেকে ছেলেটা আর কলেজে আসে নি।
এরকম আরো অনেক ছেলেই ওর হাতে মার খেয়েছে।
এসব কথা বলছিলাম তখন মিম চলে আসলো।
মিম: হাই রিফাত কেমন আছো।
আমি: ভালো তুমি কেমন আছো।
মিম: ভালো।
আমি: আচ্ছা তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি।
মিম: কি????
আমি: তারিনে তো তোমার ফ্রেন্ড তাইনা।
মিম: হুম কেন।
আমি: আচ্ছা তারিন কি কারো সাথে রিলেশন করে।
মিম: না।কেন
আমি: না এমনি।
মিম: কি ব্যাপার তারিনের প্রেমে পারছো নাকি।
আমি: হয়তো
মিম: তাহলে একটা কথা বলি।
আমি: হুম বলো।
মিম: যত তারাতাড়ি সম্বব এই প্রেমের ভুত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো।
আমি: কেন কেন।
মিম: আসলে ও রিলেশন বিশ্বাস করে না।
আমি: ফ্রেন্ড তো হতে পারবে।
বাকিটা পড়ে দেখা যাবে।
মিম : ঐ তো তারিন আসছে।
আমি ওদিকে তাকালাম কি সুন্দর দেখতে আবার
সেই এক চিলতে হাসি।এই হাসিটার উপরেই তো এত প্রেমে পড়ছি।
আমি তো হা করে তারিনের দিকে তাকিয়ে আছি।
তারিন যত আমাদের সামনে আসছে ততো
আসার হার্টবিড বেরে যাচ্ছে।
তারপর হঠাৎ করেই ঠাসসসসসসসস….
আজকে আর পরলাম না।
চলবে……………………………………..।

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com