Breaking News

একাকিত্ব আর না পাওয়ার বেদনা


মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে খুব একাকীত্বের সময়ে কারো মায়া আঁচলে মাথা গুজে একটুখানি প্রশান্তি খুঁজে নিতে, আর তাহার শরীরের ঘ্রানে নেশাতুর চোখে চেয়ে হারিয়ে যেতে!
ক্লান্ত ভাবনাগুলো বড্ড অসহায়ত্ব নিয়ে একপেশে ভেবে যায়, আহ সবুজ সিল্কি শাড়ী পরে কেউ যদি তার নরম হাতটা বাড়িয়ে বলতো চলো অনেক দূরে কোথাও হারিয়ে যাই, তাহলে পিপাসার্ত মন নিয়ে নীল পাঞ্জাবী পরে ফেরারী হয়ে ছুটতাম তাহার সাথে বাড়ি না ফেরার তেষ্টায়!


অলস সুখে তোমার কোলে মাথা রেখে মন ভুলে যেতো ফেরার কথা, আর তুমি হঠাত বলতে অবুঝপনা রেখে এবার চলো, আজ রাতে তোমার ভুত আমি নামাবো।
দগ্ধ মনে ক্ষত নিয়ে বসে থাকা একলা প্রহরে কেউ একজন এসে বলুক, এই কি আসে যায় ভুল মানুষের দেয়া দুঃখে? আমি আছিতো তোমার খুব কাছে, যতটা কাছে থাকলে তোমার সব বিরহ শুষে নিতে পারব নিমেষেই।


একজন থাকুক যে সব সময় খুজবে অস্থির হয়ে, পরিশ্রমে হাপিয়ে ওঠা পরানে তাহার পরান রেখে ক্লান্তি ভোলা সুখের ছোয়ায় জাপটে রাখুক খুব গভীরের মায়ায়, তাহাতে আমার কলিজা অর্পণ করিতে মন চায় দিতে সায়।


কোনো এক ঠান্ডা জ্বরের ধাক্কা সামলে শুয়ে থাকার দিনে বৃষ্টি এসে তোমার হৃদয়ে ছলছল বাসোনা জাগাতো, আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে বাইরে, তোমার চঞ্চলতা আর নুপুর বাজিয়ে লাফানো দেখে ভাবতাম বেরসিক জ্বর কি আর প্রেম বোঝে!
ভাবি আর ভাবতেই থাকি, যদি কেউ প্রশ্রয় দিতো তাহলে সাইকেলের পেছনে করে দিয়া বাড়ির রাস্তাগুলোর সীমানা ছাড়িয়ে হারিয়ে যেতাম দুজন দুজনার মাঝে, কিংবা বোটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজে সাজানো টিলা টিলা আকাবাকা রাস্তাঘাট হাতে হাত ছুয়ে ছুয়ে ঘুরে বেড়াতাম, কত ভালোইনা হতো তাইনা?


যদি কেউ এসে বলতো তোমার জমে থাকা ছাইগুলো উড়িয়ে দিয়ে চলোনা প্রজাপতি ভাবনায় তোমার মন ভরাই, তাহার তরে আমি হতেম বিলীন, বাধিতাম কথা সুরে সুরে।
কোনো এক জ্যোৎস্না রাতে নিবৃতে বসে থাকা সময়ে যদি শ্যাওলা রং এর শাড়ী পরা মেয়েটা কফি বানিয়ে পাশে বসে খেতে খেতে গল্পের খই ফুটাতো, আমি তাহার পাতলা ঠোঁটের ডগায় চেয়ে রইতাম মুগ্ধতায়।


অভিমানের আধারে ডোবা বিদঘুটে নিশিতে যদি লাজুক লতা হয়ে আমাতে জাপটে ধরতো কেউ একজন, আমি তাহাতে আত্মসমর্পণ করিতাম, তাহার কাছে হেরে যেতাম বারবার, মরে যেতাম যে মরন সুখের মরন।


অবহেলার গুমোট প্রহরে যদি কেউ এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে আমার প্রতিটি বিষয়ের আগে তুমি রবে, আমি তাকে আমার সকল এ্যাটেনশন আর সময় উপহার দিতাম, একসাথে চিরতরে বুড়ো হবার সনদ চুক্তি করতাম জন্মান্তরে।


প্রথম ভোরের মাতাল ঘুমে যদি কেউ একজন তার ভেজা চুলের জলে আমায় ভিজিয়ে দিতো, আমি তাহার চুলের স্নিগ্ধ সুভাষে নিজেকে হারাতাম ঘুম জড়ানো নেশা চোখে।
সবার অগোচরে ফুটে থাকা অবহেলিত কচুরিপনার ফুল দিতে যেয়ে তাহার হাতটা ছুয়ে দিতাম বেশরমের মত, আর বলতাম ভালবাসি, যে ভালবাসার কোনো এক্সপায়ারি ডেট নেই, মরন পর্যন্ত বহমান।

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com