Breaking News

পিঁড়ি || পর্ব -2

ডুপ্লেক্স ভবনের নীচতলাতে সোফায় বসে আছেন শেইখ পরিবার।রুদ্বা কিছুতেই ওর আম্মুর কোলে থাকছিল না।গাড়িতে ঘুমানোর জন্য কিছুক্ষণ পরপর আড়মোড়া ভাঙছে পিচ্চি।
:-মাম্মা,বাচায় যাবো
:-না মাম্মাম,আরেকটু পর
:- মাম্মা বোলিং লাগচে তো,
:-তোমার জন্যে আমরা মামানি দেখতে এসেছি।দেখবেনা তাকে?
:- মামানি কি আমাল মত কিউট ?
মেয়ের কথা শুনে হেসে দেয় অনন্যা চৌধুরী আর তার সাথে বাকি সবাইও। অতঃপর শেইখ জাফর শুরু করলেন আলাপ পর্ব।
শেইখ জাফর:-এই হল আমার বড় মেয়ে অনন্যা চৌধুরী আর নাতনি রুদ্বা চৌধুরী!ওরা কালই কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসেছে ।আমার জামাই আরুশ চৌধুরী পেশায় একজন ডাক্তার ।বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকতে হয় বলেই স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে ওখানে একেবারে শিফট হয়ে গিয়েছে
আহমেদসাহেব:-মাশাআল্লাহ্ ।
শেইখ জাফর:-আর ইনি হলেন আমার অর্ধাঙ্গিনী শেইখ রুবাইয়াৎ ।
আহমেদসাহেব:-আসসালামু আলাইকুম ভাবি।
শেইখ রুবাইয়াৎ:-ওয়ালাইকুমুস সালাম ভাইজান।
কানের কাছে ফিসফিসিয়ে,
জাফর :-তাক্ষীক কতদূর?
রুবাইয়াৎ :- আসছে!হয়ত রাস্তায় জ্যামে পরেছে।
জাফর :-আরেকবার কল কর
রুবাইয়াৎ :-এসে পড়বে এক্ষুণি।চিন্তা করনা।
জাফর :- আহমেদসাহেব আমার ছেলে এক্ষুণি এসে পৌঁছাবে ,আপ্নি বরং মেয়েকে নিয়ে আসুন।
আহমেদসাহেব:- জ্বী ভাই।
মিহুকে উনাদের সামনে সোফায় বসাতে চাইলে রুবাইয়াৎ মিহুকে নিজের পাশে বসতে বলেন।আর মিহুর সোফার পিছনে দাঁড়িয়ে রইল অর্থী।
রুবাইয়াৎ :- মাশাআল্লাহ্।নাম কি তোমার মা?
মিহু :- মিহিস্থা আহমেদ।
রুবাইয়াৎ :- পড়াশোনা কিসে করছ?
মিহু :- অনার্স প্রথম বর্ষ
রুবাইয়াৎ :- বাহ।
ছোটবেগম :- একদম চাঁদের মত সুন্দর আমার মিহু।তাকে দেখে চোখ ফেরাবে এমন মানুষই নেই।
রুবাইয়াৎ :- তা বলতে গেলে তো আপনার ছোট মেয়েও অপরূপা।চাঁদও যে তাকে দেখে লজ্জা পাবে।কি নাম আপনার ছোট মেয়ের?
কথাটি অন্য কেউ বললে এতক্ষণে লঙ্কাকাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলতেন ।নেহাতই ছেলের মা,তাই মুখে এক কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বললেন,
-অর্থী নাম ওর।আর ও এ বাড়ির মেয়ে নয় ।এ বাড়ির আশ্রিতা।আমার মেয়ের সব মেকআপস মেখে ওই রূপ হয়েছে একটু ।আর কি বলুন তো বড়লোকের বাড়িতে দু-একটা আশ্রিতা না থাকলে বাড়ির শোভা বজায় থাকেনা।
কথাটা শোনামাত্র চোখ থেকে টপ করে পানি গড়িয়ে পড়ল অর্থীর । এসব খোঁটা তাকে শুনতেই হয় ,ছোট বেগমের অপমানগুলো সে সহ্য করে নিয়েছে । আজো তার ব্যতিক্রম হলনা।তাই হাতের উল্টোপাশ দিয়ে চোখের পানি মুছে নিল।
আহমেদসাহেব :- ছোটবেগম কি বলছ কি এসব!
ছোট বেগম :- না মানে আমি সেটা বলিনি।শুধু বলছি যে এ বাড়ির মেয়ে….
আহমেদসাহেব :- আর কিছু বলতে হবেনা ভেতরে গিয়ে দেখো নাস্তা রেডি হয়েছে কিনা।
অনিচ্ছাসত্বেও ভেতরে গেলেন ছোটবেগম।ভেতরে গিয়েই দেখলেন সুমিতা নাস্তা সাজাচ্ছে আর কাঁদছে ।তারমানে সুমিতা দরজার আড়ালে সব শুনেছে।আশেপাশে তাকিয়ে নিশ্চিত হলেন বড়বেগম নেই।
ছোটবেগম :- হয়েছে আর নেকাকান্না কাঁদতে হবেনা।জেনেবুঝেই তো পাঠিয়েছ মেয়েকে ।ভেবেছ বড় বাড়ি থেকে সম্পর্ক এসেছে,এই ফাঁকে যদি তারা তোমার মেয়েকে পছন্দ করে ফেলে তাহলে তো কপাল খুলেই গেল।বলি,মেয়েকেও নিজের মত শিক্ষা দিচ্ছো!? দেখ বাপু,রূপ-যৌবন দেখিয়ে ছেলে পটাতে তো পারবে তারপর যেন আবার তোমার মত অবস্থা না হয় ।
সুমিতা :- ছোট বেগম ,কি বলছেন এসব।আমি অর্থীকে ওখানে যেতে বলিনি!বরং বড়বেগমই অর্থীকে বলেছেন মিহুকে নিয়ে আসতে ।
ছোটবেগম :- মুখে খুব বুলি ফুটেছে দেখছি।তা ফুটবেনা সবার আশকারা পেয়ে নিজেদের জায়গা যে ভুলতে বসেছে।লজ্জাশরম কিছু বাকি থাকলে নিজের মেয়েকে নিয়ে এখনি চুপচাপ বেরিয়ে যাও।
আর কিছু না ভেবে অর্থীকে ডেকে ওখান থেকে বেরিয়ে যায়
নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়েই আসছিল।কিন্তু আজকের কথাটা!!তার মেয়ের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ছোট বেগম।ওখান থেকে উঠে অর্থীর ঘরে গিয়ে দেখেন,দরজায় ধাক্কিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে তার পরীটা ।কপালে একটি চুমু এঁকে রান্নাঘরে গেলেন সুমিতা।
এবাড়িতে বড়বেগম ভেতরে এসে সুমিতাকে না পেয়ে ছোটবেগমের কাছে জানতে চাইলেন।সুমিতা পুরো ঘটনা চেপে বলল যে অর্থীর নাকি পেট ব্যাথা তাই ওরা চলে গেছে।বড়বেগমের খটকা লাগলো,কারণ তিনি ছোটকে খুব ভালো করে চেনেন।কিন্তু বাড়িতে মানুষ থাকায় আর কথা বাড়ালেন না।
মিহু হঠাৎ পাশে তাকিয়ে দেখে তাদের বাড়ির কাজের মেয়েটি একদিকে তাকিয়ে এত্তোবড় হা করে আছে । সেও সেদিকে তাকাতেই তারো হা করার মতই অবস্থা।
মারাত্মক সুন্দর একটা ছেলে হেঁটে আসছে।এত সুন্দর ছেলে সে আজ অবধি দেখেনি।মাখনের মত গায়ের রঙধূসর বর্ণের স্যুট আর হালকা সবুজ বর্ণের শার্টে ছেলেটাকে এত মনিয়েছে কোনো মেয়ে হলে তাকে পরী না বলে উপায় থাকত না। মিহুর দেখেই তো হার্টস্ট্রোক করার মত অবস্থা।
মিহুর ঘোর কাটতেই সে দেখে ছেলেটি এসে ওর ঠিক সামনে বসল।
শেইখ জাফর ছেলেটির ঘাড়ে একহাত রেখে বলেন,
এই হল আমার একমাত্র ছেলে শেইখ তাক্ষীক।
চলবে…….

No comments