Breaking News

ভালোবাসার নীল জোছনা | পর্ব ৫

দিয়া বলতে লাগল- আমি কোনোরকমে পালিয়ে আসি ওর কাছ থেকে। এরপর কিছুদিন আমার খুব কষ্টে কাটল। কথা বলতাম না কারো সাথে, বাইরে বের হতাম না। এসময় একজন আমার পাশে এসে দাঁড়ালো, আমাকে সান্ত্বনা দিলো। আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলাম। আস্তে আস্তে তাকে ভালোবেসে ফেললাম। কিন্তু কিছুদিন পরই তার আসল রূপ বেরিয়ে পড়ল আমার সামনে। সেও আমার শরীর চাইলো। আমি সরে আসলাম তার কাছ থেকে। এরপরই ছেলেদের দুচোখে দেখতে পারিনা আমি।
– সব ছেলে তো এক না। (রাহুল)
– বেশিরভাগই এক। (দিয়া)
– আপনার ধারণা ভুল প্রমাণ করবো। (রাহুল)
– পারবেন না। (দিয়া)
– আচ্ছা দেখা যাবে। (রাহুল)
এরপর কোনো কথা হলো না ওদের মধ্যে। যে যার বাড়ি চলে গেলো।
পরদিন একইভাবে ওরা সার্ভে কাজে বাড়ি বাড়ি গেলো। শেষে যে বাড়িটাতে গেলো ওরা দেখলো সেটাতে তালা লাগানো। ওরা চলে আসছে সেখান থেকে, এমন সময় মনে হল বাড়ির ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে। ওরা দরজার নিচ দিয়ে তাকিয়ে দেখলো একজন বৃদ্ধ মহিলা পড়ে আছেন দরজায় ওপাশে। দিয়া দেখে একটু ভয় পেয়ে গেলো।
দিয়া- (ভয়ে ভয়ে) উনি কি মারা গেছেন?
রাহুল- না, মনে হচ্ছে জ্ঞান হারিয়েছেন।
দিয়া- চলুন চলে যাই। কি বিপদে পড়ি আবার কে জানে।
রাহুল- ছি কি বলেন একজন অসুস্থ বুড়ো মানুষকে এভাবে ফেলে চলে যাবো?
দিয়া- কি করবেন? দরজায় তো তালা লাগানো।
রাহুল- (একটু ভেবে) আপনি চুলে ক্লিপ ইউজ করেন না? দিন তো দুটো ক্লিপ।
দিয়া দুটো ক্লিপ দিলে রাহুল ওগুলো নিয়ে তালার কী হোলে ঢুকিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগল। একটু পর ঠিকই তালা খুলে ফেলল ও। দুজনে দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখল বৃদ্ধা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। রাহুল তাড়াতাড়ি বৃদ্ধাকে উঠিয়ে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে কল করলো। এরপর সে রুমের চারদিকে খোঁজ করতে লাগল এই বাড়ি কার তার সম্বন্ধে কোনো কিছু জানা যায় কিনা দেখার জন্য। দিয়া এরই মধ্যে বৃদ্ধার চোখে মুখে পানি দিয়ে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছে। রাহুল বাড়ির মালিকের নাম্বার পেয়ে তাকে কল দিয়ে বাড়ি আসতে বলল তাড়াতাড়ি। এরপর দিয়াকে বলল – দিয়া আপনি কলেজে চলে যান, আমাদের রিপোর্টগুলো জমা দিতে হবে তো। আমি এদিক সামলে নিবো।
দিয়া তবুও যেতে চাইছিলো না। রাহুল জোর করে ওকে পাঠিয়ে দিলো, এবং কথা দিলো এখানের সব খবরাখবর সে ফোনে জানাবে দিয়াকে।
চলবে………

No comments