Breaking News

আসলে গল্প টা পরের বাড়ির | পর্ব - ৪

নানু চলে যাতেই ফায়েজ আমার কপালে হাত দিয়ে বলে জর কমছে। এখন যা একেবারে গোসল করে নিবি। তবে আবার চুলে শ্যাম্পু করতে বসে পরিস না। তুই ওয়াশরুমে যা আমি দিঘি থেকে করে আসছি।
আমি এসে জেনো তোকে গোসল করা দেখি। বলে তোয়ালে নিয়ে চলে গেলো। আমি আম্মুর কাছ তেকে জামা নিয়ে এসে সাওয়ার নিয়ে নেই। একা একা একটু সমস্যা হয়েছে তবে সামলে নিয়েছি।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখি ফায়েজ তাকিয়ে আছে। আমি আজকে সবুজ রং এর পুল হাতার সুতোর কাজ করা একটা জামা পরেছি।
আর উনি কালো গেঞ্জি আর পেন্ট।
আমার চুল গুলো মুছে দেই সাথে আস্তে আস্তে ব্রাশ করে ও দেই হাতের ব্রেন্ডজ টা আবার ড্রেসিং করে দেই সাথে কপালেরটা। ( সত্যি মানুষ টা অনেক যত্ন নিতে পারে)
আয় খেতে যাওয়া যাক বলে হাত ধরে হাঁটা শুরু করে দেই। টেবিল এ বসে মামিকে ডাকতে থাকে। মামি এসে  রুটি, ভাজি, ডিম দেই তখন ফায়েজ নাক ছিটিয়ে বলে।
আহ্ আম্মু এখন দুপুর ভাত খেতে দেও এই কয়দিন রিচ খাবার খেয়ে এখন দুপুর বেলাতে এগুলো ভালো লাগে না।
তখন মামি বলে বাবা রান্না তো হয়নি এখনো।
আচ্ছা কিছু ফল দেও আর জুস, দই, মিষ্টি দেও থাকলে মিমি ও এনে দেই।
 তখন নতুন ভাবি ওদের বাসার যারা আছে তারা আর আমার কাজিন রা আসে। ১৬ জন বসতে পারে এই টেবিল টাতে সবাই বসে পরলো।
আর আমার ফল জুস দই মিষ্টি দেখে ভ্যা করে কেঁদে দেই সবাই তাজ্জব বনে তাকিয়ে আছে। মামি আম্মু আসে, ফায়েজ পেরেশান হয়ে পরে। ভাবছে আমার হাতে বেথা পাইছি।
কি হইছে সবাই জানতে ছাইলে আমি নাক টেনে টেনে বলি আমি আর থাকবো না তোমাদের বাসায়!  কাল থেকে ফল জুস খাইয়ে রাখতেছো আমারে।
তখন মামি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে শুধু তুই একা না তোর সাথে আর একজন ও ফল জুস খেয়ে আছে। কাল রাতে তুই না খেয়ে ছিলি বলে ফায়েজ ও কিছু খাইনি রে মা আমি মামির কথায় অবাক হয়। তাহলে রিচ খাবার??
তখন ফায়েজ বলে আহ্ আম্মু বাদ দেও তো, আর চামচ দেও দই কি হাত দিয়ে খাবো নাকি।
আর কাকে কি বলো তার এতো খেয়াল নেই আমার প্রতি বলে আমার মুখের সামনে জুস ধরে আমি নীরবে খেয়ে নেই ফায়েজ ও জুস খাই, একটু ফল খাই। পরে দই খুলে খেতে নিয়ে বলে এটা এখন ঠান্ডা পরে খাবোনি  দুজন একসাথে।
আম্মুর রান্না শেষ হক তোকে ভাত খাইয়ে দিবো দেখবো কতো খেতে পারিস বলে আমার কপালে আসা চুল গুলো কানের পিছে নিয়ে দেই। (মানুষ টা অসম্ভব ভালোবাসতে পারে)
তখন নতুন ভাবি  বলে খুব ভালোবাসা তারে তাইনা??
কেন সন্দেহ আছে নাকি আমার ভালোবাসায়!
ভালোবাসা কেঁটে যাবে নাতো??
এটা মোহ না যে কেঁটে যাবে।
আর কাটার হলে এতো দিনে কেঁটে যেতো।
 কিন্তুু তা আরো তীব্র হচ্ছে।
 আর উনি আমার প্রথম ভালোবাসা এই জীবনের। ব্যালকালের অবুঝ মনের ভালোবাসা তাকে পাওয়ার জন্যই তো এতো কিছু।
তাকে ভালোবাসার পরে অন্য কাউকে সাধারণ ভালো ও লাগেনি আমার!
তাকে পাওয়ার জন্য তার বাবার পায়ের সামনে পযন্ত বসে ছিলাম এই ফায়েজ পাটোয়ারী  বলে উঠে পরে ফায়েজ।
ভাবির প্রশ্ন ছিলো ভালোবাসা হীনতা!
আর ফায়েজ এর উত্তর এ অভিযোগ।
★★★
সবাই হয়তো ভাবছেন এতো মানুষ থাকতে আমাকে কেনো এতো বেশি আদর করা হয়। তার কারণ আমার আব্বু!!
আমার আব্বু আর মামা হলেন কলেজ কালের বন্ধু। আর আমার আম্মু কে আব্বু পছন্দ করে বিয়ে করছে। তবে নানা রাজি ছিলোনা, কারণ তখন আমার আব্বুর অবস্থা নানাদের থেকে একটু খারাপ ছিলো তাই।
তবে মামা নিজে  দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে দিয়েছিলো। আর আব্বুকে নাকি বলে ছিলো আমার বোনা কে ২ বেলা ভালো না খাইয়ে রাখলে ও আমি তোকে কিছু বলবো না।
তবে কখনো ভালোবাসা অভাব দিস না।
তার পরে ভালোই দিন কাঁটে তবে সমস্যা হয় কিছু বছর পরে যখন আল্লাহ কোন সন্তান দেইনা তাদের।
বিয়ের ৫ বছর পরে সবাই নাকি আব্বু কে আবার বিয়ে করতে বলে। আম্মুকে উঠে বসতে কথা শুনাতো সবাই তবে আম্মু সব সহ্য করে ও থাকতো আসলে ভালোবাসাটাই এমন সব সহ্য হয়ে যাই। আর আব্বু ও আম্মু হাত শক্ত করে ধরে ছিলো তাই।
আল্লাহ খুশি হয়ে তাদের বিয়ের ৯ বছর পরে আমাকে দান করে। তবে ডাক্তার বলেছে আম্মুর আর কোনো বাচ্চা হবে না।
আমার জন্মের পরে ১ মাসে ভিতর নাকি আব্বু বিদেশ দোকান নিতে পারছে। তাই আব্বু বলে আমি তার জন্য আল্লাহ সবচেয়ে বড় উপহার। আমার সাথে তার ভাগ্য ও ফিরেছে।
(আর সব চাইতে বড় কথা আমাদের এই সমাজে বাবার পকেট এর উপর ভিত্তি করে সন্তান রা আদর ভালোবাসা পাই) আর আমি একা হওয়াতে বেশি আদর পাই।
***
ছোট বেলায় নাকি একবার নানু দের বাসায় আসছিলাম তখন আমি দিঘি তে পরে গেছিলাম। আর ফায়েজ নাকি আমাকে  বাঁচিয়েছে।
আব্বু নাকি আম্মু কে অনেক বকা দিয়েছিলো। আর আম্মু কে রেখে আমাকে নিয়ে চলে এসে পরে ছিলো দাদুর বাড়ি।
পরে মামা আম্মু কে নিয়ে আসে।
তবে আমার আব্বু কখনো মামার কথা ফেলতো না।
★★
তাইতো মামা যখন ফায়েজ এর জন্য আমাকে চাই মানা করতে পারেনি।
কারণ আব্বু অনেক রিন মামার কাছে!
আর ফায়েজ এর জেদ এর কাছে হার মানে মামা সহ পরিবার এর সবাই।
****
তাহলে ফায়েজ এর কাহিনি ও বলে পেলি-
নাম ফায়েজ ইসলাম ভাইবোন দের মাঝে ছোট।
পাটোয়ারী বাড়ির ছোট সাহেব।
মামার নাকি ডাক্তার হওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো। তবে দায়িত্বে ভিড়ে হয়ে উঠা হয়নি।
পরে সুমন ভাইয়াকে ডাক্তার বানানো ইচ্ছে ছিলো। তবে উনি লেখা-পড়া নিয়ে অনেক ফাঁকি বাজ ছিলেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য উতলা হয়ে উঠে ছিলো তাই hsc দিয়ে বিদেশ চলে যাই।
সাথী আপু তেমন গুরুত্ব দেইনি। তার সাজুগুজু প্রতি বেশি টান ছিলো।
একদিন নাকি মামা ফায়েজ এর কাছে এসে হাত ধরে বলে ছিলো বাবা আমার এই স্বপ্ন টা তুই পূরণ কর।
উত্তর ফায়েজ বলেছিলো আমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করবো। তবে সময় হলে আমিও তোমার কাছে অনেক দামী কিছু চাইবো। না বলতে পারবে না কথা দেও আমাকে মামা ও নাকি কথা দিয়ে ছিলো।
তার কয়বছরে পরে যখন ফায়েজ ঢাকাতে মেডিকেল এ চান্স পাই। তখন ফায়েজ মামার কাছে আমাকে চেয়ে ছিলো!!
মামা নাকি তখন চুপ করে বসে ছিলো।
ফায়েজ বলে দিছে আমাকে যদি তার করে দেওয়া না হয়। সে পড়বেনা ডাক্তারী সে আমাকে একা এই শহরে রেখে যাবে না।
আমি নাকি তার! আমি কি কোন জিনিস নাকি?
তখন আমি SSC দিয়ে ছিলাম আব্বু ও ছুটি তে দেশে ছিলো।
আর ফায়েজ আমাকে বিয়ে করে তবেই ঢাকা যাবে বলে দিছে!
 ফায়েজ এর রাগ সবাই জানে তাই মামা আমার আব্বুর কাছে আসে।
সেদিন এর কথা আমার এখনো মনে আছে।
আমার পরীক্ষার পরে আমাকে ফোন দেওয়া হয়। এক দিন বিকেলে ফায়েজ ভাইয়া কল দেই আমি ফোন রিসিভ করতেই ফায়েজ বলে উঠে তুই খুব ভালো আছিস নারে??
কেন আমার কি হবে হুম ভালো আছি তুমি?
একটু বারান্দায় আয় তো তোকে দেখবো।
উনি বলতেই আমি দৌঁড়ে বারান্দায় যাই।
 দেখি নিচে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চেহারার কি অবস্থা আমি হাসতে হাসতে বলি দেবদাস হলে কেন তুমি?
কে তোমারে ছ্যাকা দিলো?
উত্তর সে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে।
জানিস ঝুম আব্বু কে অনেক দামী একটা জিনিস চাইতে পাঠাইছি।
 তুই একটু আমার জন্য দোয়া করবি, যেনো আব্বু সেটা আমাকে এনে দিতে পারে।
নাহলে আমি মরেই যাবো রে আমি বাঁচবো না। ছেড়ে ও যেতে পারবোনা তাকে!
আব্বু গেছে চাইতে তুই দোয়া করনা নিজের জিনিস এ দোয়া আল্লাহ কবুল করে তারা তাড়ি।
আমি তার কথা শুনে একটু গম্ভীর কন্ঠে বলি তুমি মামার কাছে কিছু চাইবে আর মামা এনে দিবে না তা কখনো হয়ছে?
আর দেখবে তুমি যা চাও আল্লাহ তারাতাড়ি সেটা তোমার করে দিবে।
তখন ফায়েজ বলে আচ্ছা রাখ আব্বু ডাকতেছে!
ডাকতেছে মানে মামা কই??
তুই রুম থেকে বেরহ দেখবি! সব বুজে যাবি বলে কলটা কেঁটে দেই।
আমি বাসার জামা পাল্টে চুল ঠিক করে ডাইনিং রুমে এসে দেখি আব্বু, কাকা, মামা, আম্মু সবাই চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে ফায়েজ আব্বুর পায়ের কাছে বসে আছে!!
আমার সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে আম্মুর কাছে দাঁড়াতেই ফায়েজ এর কিছু কথা শুনতে পাই।
ফুফা আপনিই বলে ছিলেন জীবন বাঁচানো মানুষ টা জীবনের মালিক হয়ে যাই!  আমি জীবনের মালিক হতে চাইনা। ভালোবাসার মানুষ হতে চাই!
আমি ঝুমকে আমার থেকে ও বেশি ভালোবাসি।
কখনো কষ্ট দিবো না।
আমি মরেই যাবো ওকে রেখে গেলে ওর এখন অবুঝ মন আমি না থাকলে যদি ও অন্য কাউকে ভালোবেসে পেলে!
হয়তো কখনো খাবার কম হবে তবে ভালোবাসা না।
তখন আব্বু বলে বাবারে তোকে ফিরিয়ে দিবার যোগ্যতা আমার নেই।  ( কারণ ফায়েজ দেখতে শুনতে ভালো তার উপরে এই বাজে ডাক্তারি পড়ে। ঢাকা মেডিকেল এ চান্স পাওয়া মুখের কথা না। আল্লাহ রহমতে টাকা পয়সার কম নেই।
তবে বিশেষ কথা হলো আমার আব্বু ভালোবাসা কষ্ট বুজে। কারণ এমন একদিন আব্বু ও নানার পার কাছে বসে ছিলো। তখন মামা আব্বুর পাশে ছিলো আর আজকে মামা প্রথম কিছু চাচ্ছে আব্বু না করতে পারেনি। তবে হ্যাঁ ও বলেনি!
আব্বু বলছে আমার মেয়ে যা চাই তাই হবে। তখন ফায়েজ বলে উঠে সবার আগে আমি ওর সাথে কথা বলবো!
****
আমার হাত ধরে রুমে নিয়ে আসে আমাকে খাটে বসিয়ে নিচে বসে আমার দুহাত ধরে বলে।
 আমাকে ফিরিয়ে দিস না ঝুম!
তোকে ছাড়া আমি শূন্য!
কবে থেকে ভালোবাসি জানি না।
তবে তোকে না পেলে কার কেউ না।
এটাই মন থেকে আসে!
আমি তোর ইচ্ছে ছাড়া কখনো তোকে কাছে ছাইবো না।
আমি জানি তুই ছোট।
কখনো অধিকার নিয়ে আসবো না।
তবে বেহাইয়া মনের কিছু আবদার যদি করে বসে থাপ্পড় মেরে দিস।
তবু ও না বলিস না ঝুম!
আর কান্না করতেছে।
আমি জানি ছেলেরা কম কষ্টে কাঁদে না হয়তো তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে তার।
ভালোবাসার মানুষ কে না পাওয়ার ভয়!
আরো অনেক কথা বলে সব মনে নেই এখন আমার।
আর ফায়েজ কে না করার মতো কোন কারণ ছিলো না
“” আমরা সবাই ভালোবাসার কাঙ্গাল “””
 তার তীব্র ভালোবাসায় আকুল অনুরোধ
আমি বিয়েতে হ্যাঁ বলে দেই।
তার ২ দিন পরে ছোট করে বিয়ে পরানো হয় শরীয়ত মোতাবেক। তবে ফায়েজ তার পরের দিন ঢাকা চলে আসে।
এখানে মামা একটা ফ্ল্যাট কিনে দেই ফায়েজ ওখানেই থাকে। এবং তার রেজাল্ট ও খুব ভালো।
তবে আসে কম ফোনে অনেক বিরক্ত করে।
আর আমি অবহেলা!!
আর এই ভাবেই ৩ বছর কেঁটে গেলো।
ভালোবাসা, রাগ, অভিযোগ, অভিমান, অবহেলা,
তবে তার ভালোবাসা বদলায় নি।
****
আর আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে মামির রান্না ও শেষ সব খাবার টেবিল এ হাজির।
আর এখন আমরা বর্তমানে আছি। প্রেম কাহিনী আরো একটু বাকি আছে পরের পর্বে শুনবেন নি।

No comments