Breaking News

প্রিয় মানুষের ছোয়া

মাহিরার অর্ধনগ্ন মৃতদেহের সাথে আদনার আর নাদিরার বেশ কয়েকটা ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। পত্রিকায় খবর বের হয়,

“ নতুন প্রেমের বশবর্তী হয়ে গার্লফ্রেন্ডকে রেপের পর হত্যা। ” 
আদনান আর নাদিরা দুজনকেই আটক করেছে পুলিশ।
আদনান হাজারবার বলছে,
“ আমি মাহিরাকে খুন করিনি! বিশ্বাস করো তোমরা। 
ওকে আমি আমার প্রাণের চেয়ে বেশী ভালোবাসী। 
আমার প্রেয়সী কে আমি কিভাবে খুন করতে পারি!!”
আদনানের কথা কেউ শুনছেনা। কিভাবে মাহিরার বাবা এটা বিশ্বাস করবে? 
মেয়ের মৃত্যুর আগে আদনানের সাথে ই ছিলো মাহিরা। আর নাদিরা!
সেতো সব সময় মাহিরার সাথেই থাকতো। নাদিরা নিশ্চিত আদনানের প্রেমে পড়েছিলো। 
তাই হয়তো মাহিরাকে সরিয়ে দিয়ে নিজের স্থান পাকা করতে চেয়েছিলো। 
মাহিরার বাবা মেহরাব চৌধুরী ও কম নন। দুজনের নামেই কেশ ঠুকে দিয়েছেন।
নাদিরা বারবার কান্নার স্বরে বলছে,

“ বিলিভ মি, আমি মাহিরার বেষ্ট ফ্রেন্ড। কিভাবে বান্ধবী কে হত্যা করবো আমি?? 
কেনো কেউ আমার কথা বিশ্বাস করছেন না!! ”
এভাবে নাদিরা আর আদনানের ছবি পোষ্ট হওয়াতে রাতারাতি ফেসবুক সেলিব্রিটি হয়ে যায় দুজনে।
সবার মুখে মুখে দুজন কে নিয়ে গালি। 
একেকজন একেক রকম বাজে ভাষায় কমেন্ট করছেন।
“ Adnan Hossain ” আর “ নাদিরা ইসলাম ” ফেসবুক আইডিতে লক্ষাধিক ফলোয়ার সাথে 
বেশিরভাগ মানুষের বাজে কমেন্ট। অর্ধনগ্ন অবস্থায় মাহিরার পাশে আদনান আর নাদিরাকে
 পড়ে থাকতে দেখে কাজের মেয়ে নাইলা চার পাঁচ টা ছবি তুলে আগে ফেসবুকে ছাড়ে।
পরে মাহিরার বাবাকে গিয়ে জানায়,
“ খালুজান খালুজান, সর্বনাশ হইয়া গেছে। 

মাহিরাপু কে ভোগ কইরা মাইরা ফেলছে আদনান আর নাদিরা। ”
মেহরাব চৌধুরীর বুকের ভিতর ধক করে উঠে। কিভাবে সম্ভব এটা! 
তার বুকের ধন, আদরের মেয়েকে এভাবে মরে যেতে হবে? 
দৌড়ে দোতলায় যায় মেহরাব চৌধুরী। দুজনের লাশ দেখে আঁতকে উঠে। 
সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেয় মেহরাব চৌধুরী।
কারো কথা শুনছেন না মেহরাব, দুজন অপরাধী তার মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। 
দুজনের কঠিন বিচার চান উনি। এদিকে নাদিরা ও হতাশায় ভুগছে, কিছুতেই বিশ্বাস করাতে 
পারছেনা সবাইকে। ওদের যদি খুন করার উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে খুন করে পালিয়ে 
যেতো! খুন করে লাশের পাশে শুয়ে থাকার কোনো মানে হয়না।
আদনান আর নাদিরা কে থানায় এনে জিজ্ঞাসা করা হয়। নাদিরা প্রথমে বলে ,
“ আমরা তিন জন খুব ক্লোজ ছিলাম। কিন্তু মাহিরাকে এভাবে খুন করার কথা ভাবতেও পারিনা। ”
এরপর আদনান বললো,

“ ও আমার হৃদয়ের একটা অংশ ছিলো। কিভাবে ওকে খুন করে আমি নাদিরা কে নিয়ে ভাববো? আপনারা মাহিরাকে টেষ্ট করেন। আমি ভুলেও রেপ করিনি মাহিরা কে। ”
আদনানের ধনী পিতা সোহরাব চৌধুরী ও চলে আসেন ছেলের কাছে। 
ছোট ভাই মেহরাব চৌধুরী কে ধিক্কার দিতে থাকেন। 
মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বড় ভাইয়ের একমাত্র ছেলেকে ফাঁসানো উচিৎ হয়নি। 
সোহরাব চৌধুরী থানায় এসে চোখ রাঙান। পার্টি করার সুবাদে ছেলেকে ছাড়িয়ে 
আনেন রাতারাতি। উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় নাদিরাকেও ছেড়ে দেয় পুলিশ। 
তবে নাদিরা আর আদনান কে ছাড়ার আগে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দে পুলিশ সুপার,
“ তোমারা দুজনে ভুলেও ঢাকা ছাড়বেনা। যে কোনো দরকারে তোমাদের ডাকা হবে। 
আর ভুলেও যদি পালানোর চেষ্টা করো! তো তোমাদের দুজনের নামে
 খুনের মামলা হয়ে যাবে। ”
আদনান দ্রুত মাহিরাদের বাসায় আসে শেষ দেখা দেখার জন্য। 
প্রেয়সীর মৃত্যু মানতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায় আদনান।


তিন মাস কেটে যায় এভাবেই। মাহিরার খুনের তদন্ত হলেও আদনান বা নাদিরার নামে
 স্পষ্টভাবে দোষ খুঁজে পায়না পুলিশ / তদন্ত কমিটি। আদনান প্রায়ই মনমরা হয়ে ঘরে বসে থাকে।
মাহিরার স্মৃতি তাকে আস্টেপিষ্টে জড়িয়ে রেখেছে। 
মাহিরার বাবা স্কলারশিপ পেয়ে কানাডায় যায়। সেখানেই ২৫ বছর কাটিয়ে দেয়। 
হটাৎ করেই মেহরাব চৌধুরীর স্ত্রী মাহফুজা চৌধূরী মারা যান। 
স্ত্রীর শোক ভুলতে মেয়েকে নিয়ে দেশে আসেন। 
মাহিরা প্রথমে নিজের দেশে ফিরার আনন্দে উল্লাসিত ছিলো। 
ঢাকায় বাড়ি ছিলো না বিধায় বড় ভাইয়ের বাসায় উঠে। সোহরাব চৌধুরী ছোট ভাইকে ২৫ বছর 
পর পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। ভাতৃকন্যা কে জড়িয়ে ধরে আদর করেন।
মাহিরা সোহরাব চৌধুরীর স্ত্রী আফরোজা চৌধুরী কে আম্মি ডেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। 
আফরোজা ও মাহিরা কে মেয়ের মতো বুকে আগলে নেন। এরপর বললেন,
“ তুই তো আমার মেয়েই রে! আমার হারিয়ে যাওয়া মেয়ে। ”
মাহিরা এই কথা শুনে হেসে ফেলে। এরপর সে বলে ,
“ মায়ের বদলে মা পেয়েছি। এই বা কম কিসে আম্মি। ”
“ যাও এখন ঘরে গিয়ে রেষ্ট নাও। বিকেলে আমরা আরোও গল্প করবো। 
কতদূর থেকে এসেছো তুমি। কত ক্লান্ত এখন। ”
“ আম্মি প্লিজ তুই করেই বলো। আমার তুই ডাক শুনে বেশী আপন আপন মনে হচ্ছে। ”
“ তাই রে, এখন যা ঘরে। ”

মাহিরা কে হাতের ইশারা করে ঘর দেখিয়ে দেয় আফরোজা চৌধুরী। 
মাহিরা উপরে গিয়ে যে ঘর দেখিয়েছে সেটা বাদে পাশের ঘরে ঢুকে পড়ে। 
বিমানে ড্রেসে চকলেট ভরিয়ে দিয়েছিলো বিধায় এয়ারপোর্টে চেঞ্জ করে নেয় ড্রেস। 
সেইজন্য আর শাওয়ার না নিয়ে মুখ হাত ধুয়ে নেয়। মুখ মুছে বেডে শুয়ে ঘুম দেয়।
আদনান বাসায় ফিরে এসে চাচ্চুর সাথে আলাপ করে। 
ফ্রেশ হয়ে আসি বলে রুমে যায়। রুমে ঢুকে মাহিরা কে দেখে অবাক হয়ে যায়। 
এতো সুন্দর তো পরী হয়! মানুষ ও কি হয়! আদনান অনিচ্ছা স্বত্তেও মাহিরার কাছে এগিয়ে যায়। 
হাত দিয়ে মাহিরার গালে আলতো ছোঁয়া দেয়। 
মাহিরা চোখ খুলে ভুত দেখার মতো চমকে উঠে, জোরে চিৎকার দেয় একটা।
মাহিরার ভিতু মুখ দেখে আদনান হাসতে শুরু করে। 
ইতিমধ্যেই সবাই আদনানের রুমে চলে আসে। 
মাহিরা উঠে দৌড়ে গিয়ে আফরোজা চৌধুরী কে জড়িয়ে ধরে নালিশ দেয়। 
আফরোজা চৌধুরী বললেন,

“ এই ঘর তো আদনানের, তোকে তো পাশের রুম দেখিয়ে দিয়েছিলাম। ”
“ কিহহহহ! ”
“ হয়েছে রেষ্ট করা, চল আগে লাঞ্চ করে নিবি। ” বলেই আফরোজা মাহিরা কে হাত ধরে নিয়ে যায়।
এমন কান্ড দেখে দুই ভাই হেসেই খুন ।
বিকালে মাহিরা বাসার ছাদে যায়, ছাদটা অনেক সুন্দর। চারিদিকে ফুলের গাছ, বিভিন্ন রকম ফুল ফুটে আছে। ফুলের সুবাস মনে আনন্দের দোলা দেয়। ছাদের মাঝখানে দোলনা পাতা আছে। দোলনার উপর বসে মাহিরা। দোলনায় এর আগে বসেনি কখনো। বেশ ভালোই লাগছে দোল খেতে। এমন সময় আদনান পিছন থেকে এসে মাহিরার চোখ ধরে। মাহিরা এসব খেলার সাথে পরিচিত নয়। যে চোখ ধরেছে তার হাত বরাবর একটা জোরে কিল মারে। আদনান “ উঁহু ” বলে হাত সরিয়ে নেয়।
“ আর ইউ ম্যাড! এইটা তো ফান করে চোখ ধরে। আর তুমি মেরে দিলে? ”
“ সরি আদু ”
“ ছোঁয়া ”
“ কি ”

“ তোমার নাম ছোঁয়া দিলাম, আমার আলতো ছোঁয়া তে তুমি যেভাবে চিল্লাও কিল দাও। ”
আদনান প্রচুর হাসে এই কথা বলে।
“ আরে যাও, আমি মাহিরা। মাহিরা বলেই ডেকো। ”

আদনানের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। অস্ফুট স্বরে বলে উঠে,
“ ছোঁয়া, আমার প্রেয়সী। কোথায় হারিয়ে গেলে তুমি! ”
হটাৎ আদনানের চোখ পিছনে থেকে কেউ ধরে। আদনানের স্পর্শ চিনতে ভুল হয়না, পিছনে ঘুরেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। হটাৎ করেই জড়িয়ে ধরে মেয়েটাকে, এরপর বললো,
“ কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে ছোঁয়া , সত্যিই ফিরে এসেছো তো? ”
“ হু”
আদনান যেনো নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছেনা। 
হারিয়ে যাওয়া মৃত ভালোবাসা কিভাবে ফিরে আসতে পারে!!!

চলবে..

No comments