Breaking News

অন্যরকম তুই

সিড়ি দিয়ে ক্লাসরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে উপরে উঠছিল অহনা।

তখনই কেউ অহনার পেছনের ওড়না ধরে টান দেয়।

আকস্মিক এমন ঘটনায় বুকটা কেঁপে উঠে অহনার।

অহনা পেছনে ঘুরে যাকে দেখে তা দেখে অহনার বুকটা ধুক করে কেঁপে উঠল।

অহনার ওড়না পেছন থেকে যে টান দিয়েছে সে আর কেউ নয় অহনার কলেজের টিচার।

তার নাম হলো অনন্ত আহমেদ। অনন্ত দেখতে খুব সুন্দর

যে কিনা সব মেয়েদের ক্রাশ কিন্তুু অহনার ক্রাশ নয়। অহনা ছেলেদের দিকে তাকায় না।

তাকালেই মনে হয় অহনার এলার্জি হয়। ঠিক তেমনই অনন্তও কোনো মেয়েকেই

পাত্তা দেয় না৷ সবসময় রাগী লুক নিয়ে থাকে। অহনার উচ্চতর গণিত ক্লাসটা অনন্ত নেয়।

আর শুধু তাই নয় ক্লাসে কারণে অকারণে অহনাকে সবার থেকে সবচেয়ে বেশী শাস্তি

দেয় অনন্ত। সেটা পড়া পারলেও কিংবা না পারলেও। অহনা খুব ভিতু, বোকা, বাচ্চা স্বভাব,

ও গরীব ঘরের মেয়ে। অহনা দেখতে অতটা সুন্দরীও নয়। কোনোরকম টেনে টুনে

কলেজে পড়ে৷ অন্য কোনো ছেলে অহনার সাথে এমন করলে অহনা হয়তো বকা দিত

আর নাহলে টিচারদের কাছে বিচার দিত। কিন্তুু এ কাকে দেখছে অহনা! কলেজের

মেয়েদের সপ্নের নায়ক আর সবচেয়ে রাগী ও ভয়ংকর যদি কোনো শিক্ষক

থেকে থাকে তা হলো অনন্ত। বাবার প্রচুর টাকা থাকা সত্তেও নিজের সপ্ন

ছিল একজন শিক্ষক হওয়া তাই অনন্ত শিক্ষক পেশাকেই বেছে নেয়।

অহনার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অনন্ত স্যারকে উদ্দেশ্য করে বলল

— স্যা স্যার আ আ আপনি! আমার ওড়নাটা ছেড়ে দিন স্যার।

–যদি ওড়নাটা না ছাড়ি তাহলে তুই কি করবি?

অনন্তের কথা শুনে অহনার বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠল।

আজ অহনা কলেজে পৌঁছাতে খুব দেড়ি করে ফেলেছে সব শিক্ষকরা ক্লাস

নিতে ব্যস্ত আর অহনা এখন পড়েছে মহা বিপদে।

অনন্ত স্যারকে কি বলবে অহনা বুঝতে পারছে না৷

–স্যার আমার ওড়নাটা ছেড়ে দিন প্লিজ আমি ক্লাসে যাবো।

অনন্ত অহনার ওড়নাটা ছেড়ে অহনার হাত ধরে টানতে টানতে একটা ফাঁকা

ক্লাসে অনন্ত অহনাকে নিয়ে দরজাটা ঠাস করে লাগিয়ে দেয়।

অহনার ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। বুকটা রীতিমতো কাঁপা-কাঁপি

করছে। অনন্ত অহনার কাছে এসে অহনার দু বাহু ধরে দেয়ালের সাথে

শক্ত করে চেপে অনন্ত দাঁতে দাঁত চেপে অহনাকে বলল

–নিজেকে খুব স্মার্ট ভাবিস তাই না অহনা। আমার থেকে সবসময় মুখটা

অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাখিস। আমাকে অবহেলা করিস তুই।

বড্ড অভিমান তোর আমার উপর তাই না!

অনন্তের কোনো কথা অহনার মাথায় ঢুকছে না। অনন্ত এসব কি

বলছে! শিক্ষক হলো সম্মানিয় ব্যক্তি যদিও অনন্তের বয়স খুব কম তবুও তো

উনি শিক্ষক। অনন্তের কথা শুনে অহনা মনে মনে বলতে লাগল

–স্যার কি পাগল টাগল হয়ে গেল নাকি! কিসব বলছে এসব!

–কিরে আমার কথার উত্তর দিচ্ছিস না কেন? উত্তরটা দে?

ফাঁকা রুমে অনন্ত অহনার হাতটা খুব শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে যার কারণে

অহনার হাতে খুব ব্যথা লাগছে। অহনার সাহস হচ্ছে না অনন্তকে কিছু বলার

কিন্তুু তবুও অহনা অনন্তকে বলল

–স্যার আমার হাতে খুব ব্যথা লাগছে আমার হাতটা ছেড়ে দিন প্লিজ?

–তোকে ছাড়বো। অবশ্যই ছাড়বো আগে তুই বল সব মেয়ে আমাকে পাওয়ার জন্য

রাত জেগে সপ্ন দেখে আর তুই কিনা আমার দিকে ঠিক মতো তাকাসও না। কেন রে

আমি কোন দিক দিয়ে খারাপ?

–ছিহ স্যার আপনি এসব কি বলছেন! আপনি একজন শিক্ষক।

আপনি আমার সাথে এমন আচরণ করতে পারেন না।

অহনার কথায় অনন্তের ধ্যান ফিরল এবং অনন্ত কিছুটা স্বাভাবিক হলো।

অনন্ত অহনার হাত ছেড়ে দিয়ে খুব রাগী গলায় অহনাকে বলল

–যা ক্লাসে যা। তোকে তো আমি ক্লাসে দেখে নিব।

অগ্নি দৃষ্টিতে অনন্ত অহনাকে এই কথা বলাতে অহনা ভয়ে চুপসে যায়।

আর এক মুহূর্তেও দেরি না করে অহনা ফাঁকা ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যায়।

ক্লাসরুমে দেরি করে আসাতে টিচার অহনাকে বাইরে কান ধরে দাড় করিয়ে

রেখেছে। ক্লাসের সব ছেলে মেয়েরা অয়নার কান ধরে থাকাটা উপভোগ

করছে৷ আরেকজনও খুব উপভোগ করছে৷ অহনা যখন কান ধরে দাড়িয়ে

থাকে তখন অহনা মুখটা পাশ ফিরাতেই দেখে অনন্ত বেশ কিছু দূরত্বে

অহনার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ক্লাসরুমে ঢুকে যায়। অহনার এটা দেখে খু

ব রাগ হচ্ছে। অহনা মনে মনে বলল

–এই শয়তান স্যারটার জন্য আজ আমার এই অবস্থা। নিজে তো অনেক শাস্তি

দেয় অন্য টিচার দিয়েও শাস্তি দিল। কিন্তুু আজ স্যার আমার সাথে এমন আচরণ কেন করল?

চলবে……..

No comments