Breaking News

পরকীয়া | পর্বঃ ০১

সাকিব তুমি তোমার বউকে কবে ডিভোর্স দিচ্ছো আমাকে ক্লিয়ারলি বলো।”
বেশ ঝাজালো সুরে বলল জেমি। সাকিব অনুনয় করে জেমির হাত ধরে বলল,
“রাগ করো না সুইটহার্ট! আমাকে আরেকটু টাইম দাও আমি খুব জলদি অদিতি কে ডিভোর্সটা দিয়ে দিব।”

কথা শেষ করেই সাকিব জেমিকে তাঁর বাহুডোরে আবদ্ধ করলো। জেমিও সাকিবকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আর সাকিব অদিতির কথা ভাবতে থাকলো। কীভাবে বলবে সে অদিতি কে ডিভোর্স দিতে চায়! না এই কথা কিছুতেই বলতে পারবেনা সে অদিতি কে,কিছুতেই কষ্ট দিতে পারবে না সাকিব অদিতি কে। অদিতি তো সাকিব কে ছারা অন্য কারো কথা ভাবতেই পারেনা। নিজের জীবনের থেকে বেশি ভালোবাসে অদিতি সাকিব কে। সাকিব যে কম ভালোবাসে তা কিন্তু নয়! দুজন টানা ছয় বছর রিলেশনের পর পরিবারের সম্মতিতেই পবিত্র বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। বিয়ের চার বছর হতে চলল, এখনো দুজনের ভালোবাসায় তিল পরিমাণ কমতি দেখা যায়নি। এমনকি দুজন দুজনার সাথে উঁচু গলায় কথা পর্যন্ত বলেনি ঝগড়ার কথা না হয় বাদ ই দিলাম। কিন্তু বিপদটা ঘটে যখন সাকিবের অফিসে জেমি নতুন জয়েন করে। কখন যে জেমির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে তা সাকিব নিজেও জানে না। জেমির ডাকে সাকিব ভাবনার জগৎ থেকে বেড়িয়ে এলো,
“সাকিব অনেক তো রাত হলো বাড়ি ফিরতে হবে দুজন কে। তোমার বউ তো তোমার অপেক্ষায় বসে আছে।”

“হুম চলো তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আমি যাবো।”
সাকিব কলিংবেল বাজেতেই অদিতি দরজা খুলে দিলো। মনে হচ্ছে দড়জার সামনেই দাড়িয়ে ছিল সাকিবের জন্য, এমনটাই করে অদিতি রোজ। সাকিব একটু মুচকি হেসেই বেডরুমে পা বাড়ালো অদিতিও পিছু পিছু গেলো। অদিতি পিছন থেকে সাকিবের কোট টা খুলে রেখে, সামনে এসে টাই টা খুলছে আর আড়চোখে তাঁকাচ্ছে সাকিবের দিকে। সাকিব এক দৃষ্টিতে অদিতির দিকেই তাঁকিয়ে আছে কারন সাকিব জানে অদিতি এখন কি বলবে। এই কথাটা বলা অদিতির এখন প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছে। অদিতি সাকিবের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে অভিমানী সুরে বলতে লাগলো,
“আরেকটু জলদি আসতে পারো না? সেই কখন থেকে তোমার অপেক্ষায় বসে আছি! তুমি তো জানো সারাদিন কাজ করে সময় কাটলেও রাতে আমি একা থাকতে পারিনা। কতক্ষন আর গল্প, উপন্যাসের বই পড়ে থাকা যায় বলতো?”

“একটু টিভিও তো দেখতে পারো!! আর আমি সবসময় জলদি বাসায় ফেরার চেষ্টা করি কিন্তু কি করব বলো অফিসে কাজের এতো চাপ থাকে চাইলেও আসতে পারিনা লেট হয়ে যায়।”
“তুমি তো জানো আমি টিভি দেখিনা। ওইসব সিরিয়াল দেখতে আমার অসহ্য লাগে।”
“অদিতি ক্ষুদা লেগেছে আমার খুব। পেটের ভিতর আগডুম বাগডুম করে ঢোল বাজাচ্ছে।”
“স্যরি যাও ফ্রেশ হয়ে আসো আমি খাবার দিচ্ছি টেবিলে।”
সাকিব অদিতির কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। ইচ্ছে করেই সাকিব বলল তাঁর খিদে পেয়েছে, কারন তা না হলে অদিতির কথা বলা আজ আর থামানো যেতনা।
সাকিব আধশোয়া হয়ে আছে মাথায় এক হাত রেখে। অদিতি খাবার টেবিল পরিষ্কার করে রুমে ঢুকতেই সাকিব কে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে, সাকিবের মাথার পাশে এসে এক হাতে ভর দিয়ে বসলো অদিতি।
“কি মাথা ব্যাঁথা করছে?”
সাকিব মাথার উপর থেকে হাত নামিয়ে বলল।
“হুম একটু।”
“আচ্ছা তুমি চোখ বন্ধ করো আমি মাথা মাসাজ করে দিচ্ছি। আরাম পাবে।”
সাকিব অদিতির দিকে ঘুরে অদিতির কোমড় জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করলো বাধ্য ছেলের মত। আর অদিতি খুব যত্ন সহকারে সাকিবেরর মাথা মাসাজ করে দিচ্ছে। মেয়েটার হাতে সত্যি জাদু আছে সারাদিনের ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দিতে পারে। সাকিবের শান্তির ঠিকানা অদিতি। সাকিব ঘুমিয়ে পরেছে আরাম পেয়ে। সাকিব ঘুমিয়ে পরেছে দেখে অদিতিও শুয়ে পরলো সাকিবের বুকে মাথা রেখে। সাকিব ঘুমের মাঝেই অদিতি কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
সাকিব শার্ট ইন করছে আর সেই কখন থেকে অদিতি কে ডেকে চলেছে। কিন্তু অদিতি আসছি বলে আর আসার খবর নেই।
“অদিতি আমার লেট হয়ে যাচ্ছে তুমি আসবে না আসবে না।”
“আসছি তো।”
অদিতি শাড়ির আচলে হাত মুছতে মুছতে রুমে ঢুকেই বিছানা থেকে টাই নিয়ে সাকিবের গলায় বাঁধতে শুরু করলো।
“জানো আজকে কতটা লেট করে দিলে তুমি আমায়?”
“স্যরি স্যরি! তোমার পছন্দের নাস্তা তৈরি করছিলাম তাই একটু লেট হয়ে গেলো।”
অদিতি টাই বাঁধা শেষে কোট পরাতে পরাতে বলল।
“তারাতারি আসো খেতে।”
নাস্তা সাজাচ্ছে অদিতি, সাকিব একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল,
“ওয়াও খাসির মাংস আর পরোটা।”
“হুম তারাতারি খাওয়া শুরু করো পরে দেখা যাবে মন ভরে খেতেই পারবে না।”
সাকিব খেতে খেতে বলল,
“উমম..তোমার হাতের এই সুস্বাদু খাবার খেতে হলেও তোমাকে আমার প্রয়োজন।”
“হয়েছে হয়েছে আর ঢঙ করতে হবে না। জুস খাবে না চা খাবে?”
“চা টাই দাও। আর শুনো তোমার কিছু দরকার হলে বলে দাও আসার সময় নিয়ে আসব।”
অদিতি সাকিব কে চা টা এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ওহ হ্যাঁ ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছো। মৌরি মরিয়ম আপুর নতুন একটা বই বেড়িয়েছে সোহানা ফোন করে জানালো, ওটা নিয়ে এসো।”
“তুমি বই পড়া ছারা আর কিছুই বুঝোনা। তা কি নাম শুনি।”
“মৌরি মরিয়ম আপুর ‘প্রেমাতাল’ পড়ে নাকি সবার মাতাল হওয়ার অবস্থা অসাধারাণ লেখে নাকি তিনি।”

“প্রেমাতাল!! বাহ চমৎকার নাম তো। আমিও কিন্তু তোমার প্রেমে মাতাল সুইটহার্ট।”
“ইসসস্ যাও এভাবে বললে লজ্জা করেনা বুঝি আমার।”
সাকিব খাওয়া শেষ করে অদিতির সামনে এসে দাঁড়িয়ে থুতনি ধরে মাথা উঁচু করে বলল,
“ওরে আমার লজ্জাবতিরে, ছয় বছর প্রেমের পর বিয়েরও চার বছর হতে চলল এখনো আমি তোমার লজ্জা ভাঙ্গাতে পারলাম না।”
“সারাজীবন থাকবে আমার এই লজ্জা।”
“আমিও চাই থাকুক। লজ্জা পেলে তোমাকে আরো বেশি সুন্দর দেখায়। আমি তোমার ওই সৌন্দর্যে খুন হয়ে যাই।”

সাকিব অদিতির কপালে চুমু দিয়ে ঠোটে আলতো করে চুমু খেয়ে বলল,
“আচ্ছা আসি। আসার সময় তোমার ‘প্রেমাতাল’ নিয়ে আসবো।”
অদিতি মিষ্টি করে হেসে বলল,
“আচ্ছা সাবধানে যাও। গাড়ি ড্রাইভ করার সময় একদম মোবাইলে কথা বলবে না।”
“যথা আজ্ঞা মহারাণী।”
To be continue………….

No comments