Breaking News

ঋতুর স্মৃতিময় দিনগুলি

আজকে আমার স্বামী আমার বাড়ীতে এসেছে বাবার সাথে কিছু ব্যাপারে কথা বলতে।কিন্তু বাড়িতে এসে যে আমাকে দেখবে তাও প্রেগন্যান্ট অবস্থায় এটা হয়তো আমার স্বামী কল্পনা করেনি।

রাহাত-ঋতু তুমি এখানে? (আমার কাছে এসে)আমি-ওখানে আর থাকতে ইচ্ছে করছিলো না।(করুণ কন্ঠে)রাহাত-কখন এসেছো এখানে?আমি-চার মাস আগে এসেছি।সরি তোমাকে বলা হয়নি কারণ তুমি রিহাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলে।

(এই কথাটা মনের দুঃখ আর অভিমান থেকে বলেছি)রাহাত-হুম!!!আসলে প্লাট এ আর যাওয়া হয়নি তো তাই আর তোমার ব্যাপারে জানতে পারিনি।

আমি-হুম!রিহা ঠিক আছে আর বেবি?ওহ সরি আমিতো ভুলেই গেছি।আমি থাকায় তো ওর বেশি ক্ষতি হচ্ছিল।

এখন নিশ্চয়ই ঠিকই হবে তাইনা। কারণ আমিতো ওখান থেকে চলে এসেছি।রাহাত-ব্যাপারটা ঠিক তেমন না ঋতু।

আমি-ওসব কথা বাদ দাও। ঠিক আছে তুমি বসো আমি যাই বাবাকে ডেকে আনি। (এটা বলে আমি ওর সামনে থেকে চলে এলাম কারণ ওর সামনে আর বেশিক্ষণ থাকতে পারবোনা)রাহাত গিয়ে সোফায় বসলো।

আর আমি বাবাকে রাহাতের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে রুমে চলে আসি।রাহাত-আব্বু ঋতু প্রেগন্যান্ট একবার জানালেনা।

আব্বু-আসলে কি বলবো তোমায় রাহাত। হঠাৎ একদিন মধ্যরাতে ঋতু বাড়ীতে আসে।আমি ভেবেছিলাম কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা।

কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণ করে ঋতু আমাকে জানায় ও মা হতে চলেছে। এটা শুনে আমি ভাবি বিয়ের পাঁচ বছর পর যে মেয়ে আমাকে জানায় ও কোনোদিন মা হবেনা সে মেয়ে কিনা আজ আমায় বলছে ও মা হতে চলেছে।

আমি তোমাকে এই খবর দিবো বললে ঋতু আমাক বারণ করে তাই।

রাহাত-ঋতুর বারণ করারই কথা। এই মা না হওয়া নিয়ে তো সবাই কম অন্যায় করিনি ওর সাথে।ও ওর জায়গা থেকে একদম ঠিক বাবা।

(কান্না করে)আব্বু-তুমি কি আর সব ইচ্ছে করে করেছো নাকি তুমিতো তোমার মায়ের কারণে এমন করেছো।আর এটা ঋতু খুব ভালো করেই জানে।

রাহাত-কিছুটা না হয় মায়ের কথায় করেছি কিন্তু বাকি গুলো কি মায়ের কথায় করেছি আব্বু।আব্বু-আচ্ছা ওসব বাদ দাও কি জন্য এসেছো সেটা বলো।

নিশ্চয়ই কোনো ইম্পরট্যান্ট কিছু। রাহাত-হুম আব্বু। আব্বু-ওকে তাড়াতাড়ি বলে ফেলো।

রাহাত——

আব্বু-কি???

এটা কিভাবে সম্ভব। আর তাছাড়া ঋতু এটা শুনলে খুব কষ্ট পাবে। আমার মেয়েটা এমনিতেই ছোট থেকে কষ্ট পেয়ে যাচ্ছে আর না।

রাহাত-হুম!!! তবুও একবার ভেবে দেখবেন। বলে রাহাত আমাদের বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়।

(রাহাত আমার হাজবেন্ট পুরো নাম রাহাত খান। ও পরিবারের একমাত্র সন্তান।

রাহাত খুব বড় একটা কোম্পানির মালিক।রাহাত দেখতে খুব সুন্দর একদম ওর মায়ের মতো। আমাদের বিয়ের পাঁচ বছর পরও আমার বেবি না হওয়ার কারণে আজ আমাদের দুজনের মাঝে এতোটা দূরত্ব।) রাহাত বাড়ীতে গিয়ে সবকিছু ভাঙ্গা শুরু করে।

ওর এই কান্ড দেখে ওর মা বাবা সহ বাকি কাজের লোকরাও খুব ভয় পেয়ে যায়।রাহাত জিনিস ভাঙ্গার সময় ওর হাত কেটে রক্ত পরতে থাকে।

এবার ওর বাবা এসে ওকে শান্ত করে বসায়।রাহাতের বাবা-কি হয়েছে রাহাত?রাহাতের মা-এই কি হয়েছে এমন করেছিস কেন?রাহাত-ঋতু প্রেগন্যান্ট।

রাহাতের মা-বাবা-কি???রাহাত-হ্যাঁ বাবা ঋতু প্রেগন্যান্ট।তুমি যা বলেছিলে ঠিক সেটাই হয়েছে।

(কাঁদতে কাঁদতে) রাহাতের মা-এটা কিভাবে সম্ভব?ডক্টর তো বলল ঋতু নাকি কোনোদিন মাই হবেনা।রাহাত-তোমার জন্য এমন হয়েছে মা শুধু মাত্র তোমার জন্য।

তোমার কথা ভেবে আমার ঋতু আমার কাছে রিকুয়েষ্ট করেছে তোমার সব কথা শুনতে।কিন্তু কে জানত যে তুমি মেয়েটার সংসার ভাঙ্গার জন্য আমাকে বলবে।

(কাঁদতে কাঁদতে)রাহাতের মা-রাহাত আমি কি জানতাম নাকি যে এসব কিছু মিথ্যা ছিলো।

(কাঁদতে কাঁদতে) রাহাত-না জানলেও একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের স্বামীর কাছে কিভাবে এমন কঠিন শর্ত রাখতে পারলে।শুধু ঋতুর রিকুয়েষ্টের কারণে আমি তোমার সব কথা শুনেছি।

তুমি রিহাকে বিয়ে করতে বলেছো আমি করেছি, তুমি রিহাকে স্বামীর অধিকার দিতে বলেছো আমি দিয়েছি,আর লাষ্ট রিহা বলেছে ঋতু সামনে থাকলে ওর বেবির ক্ষতি হয় ব্যাস রিহার কথায় তুমি আমাকে বলেছো ঋতুকে দূরে কোথাও রেখে আসতে আমি তাও করেছি।এবার বলোতো এগুলোর মধ্যে কোনটা তোমার অজানা মা।

(কাঁদতে কাঁদতে)রাহাতের মা-রাহাত আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি যপ এমন কিছুও হতে পারে।

(কাঁদতে কাঁদতে)রাহাত-তুমি আর কিই বা বুঝো মা।তোমার এই ছেলেমানুষির জন্য আজ দুটো প্রেগন্যান্ট মেয়ের জীবন নষ্ট হতে যাচ্ছে।আর কি বুঝবে।(কেঁদে)

আমি-বাবা এটা তুমি কি বলছো আমি আবার……

বাবা-হ্যাঁ ঋতু এটা সত্যি রাহাত নিজে আমাকে এসব বলেছে।

এটা শুনে আমিও অবাক হয়ে যাই।কিন্তু এটা একজন মানুষের শেষ ইচ্ছাও হতে পারেরে।তুই একবার ভেবে দেখিস মা।(সরি আমার পরিচয় ইতো দিলামনা। আমি হচ্ছি ফারজানা হক ঋতু। আমার মা নেই তাই আমার বাবাই আমার মা আর বাবাই আমার বাবা।

বাবার আদরের দুলালী ছিলাম তাই ১৯ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়।

আর বিয়ের পাঁচ বছর পর আমি প্রেগন্যান্ট হই।সে অনেক কাহিনি।) আমি-ওকে বাবা আমি কাল সকালে জানাচ্ছি।

বাবা-ঠিক আছে কাল সকালে জানাস। (এটা বলে বাবা আমার রুম থেকে বের হয়ে রুম চলে যায়) বাবা চলে গেলে আমি বসে বসে রাহাতের কথাটা ভাবি।

হঠাৎ আমি কিছু একটা মনে করে সিদ্ধান্ত নিই যে রাহাতের কথাটা মানবো। যতই হোক রাহাতকে প্রশ্ন করলে ও সত্যি না বলে পারবেনা।

চলবে

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com