Breaking News

তুই আমার অজানা অনুভূতি | পর্ব -০৫



ছায়া তুহিনকে জ্বালানোর জন্য মেসেঞ্জারে নক দিলো………
__এই যে……. ( ছায়া )
কিছুক্ষন পর তুহিনের রেপ্লায় আসলো….
__কি হয়েছে? (তুহিন )
__ আপনাকে একটা কথা বলার ছিল….!! ( ছায়া )
__ এখন কিছু শুনতে পারবো না। আমার এখন মাথা গরম হয়ে আছে। তুই এখন ভাগ এখান থেকে। (তুহিন)
__নাহ এখন যাব না আগে আমার কথাটা শুন। (ছায়া)
__বললাম তো এখন যা পরে শুনবো তোর কথা। (তুহিন )
__নাহ এখনই শুনতে হবে । (ছায়া )
__দূর তুই বসে থাক আমি গেলাম। (তুহিন )
__ আরে আরেহ যাস না শুনে যা….. (ছায়া )
__…………… (তুহিন )
__ তোর ফ্রেন্ড এর কাছে শুনলাম আজ নাকি তোকে পুরো ভার্সিটির সামনে একটা মেয়ে চড় মেরেছে। ( ছায়া )
[ওরে ছায়া রে তুহিন এমনিতেই রেগে আগুনের গোলা হয়ে আছে তার উপর তুই কেন কেরোসিন ঢালছিস বলতো?
(আপনাদের লেখিকা ঘি পছন্দ করেনা তাই ঘি এর জায়গায় কেরোসিন লিখলাম )
আর রাগাস না রে বইন আগুনের গোলাটা দাবানল হয়ে সবাইকে জ্বালিয়ে দিবে ]
__ কিহ আমার ফ্রেন্ড তোকে এই কথা বলেছে । (তুহিন)
__ হ্যাঁ বলেছে আরো বলেছে তোকে নাকি মেয়েটা অনেক কথাও শুনিয়েছে। ( ছায়া )
__কিহ ওই কু**ত্তার দল গুলো এতো বড় সাহস আমাকে সবার সামনে ছোটো করার জন্য আমার অপমানের কথা সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে। আচ্ছা কে বলেছে মানে আমার ফ্রেন্ড কোনটা তোকে এইসব বলেছে সেটা আমাকে বল। ( তুহিন )
__পারবো না বলতে তুই নিজেই খুঁজে বের কর। (ছায়া )
__তোকে বলতে বলেছি বল তাড়াতাড়ি। ( তুহিন )
__……………( ছায়া )।
তুহিন খুবই রেগে নিজেকে নিজেই বলতে থাকে,
__কুত্তিটা অফলাইন চলে গেল পরে ওকে দেখে নিবো আগে ওই কুত্তার দলটার খবর নিয়ে আসি।
এই বলে তুহিন বাড়ি থেকে রওনা হয়ে সোজা তার ফ্রেন্ডসদের কাছে যায়। সবাই তুহিনকে দেখে একটু ঘাবড়ে যায়। কারণ তুহিনের মুখ রাগে লাল হয়ে গেছিলো। সবাই ভাবলো হয়তো সকালের ঘটনার জন্য তুহিন রেগে আছে। সবার মাঝখান থেকে একজন তুহিনকে জিজ্ঞাসা করলো,
__কিরে তুহিন তুই এভাবে রেগে আছিস কেন? কি হয়েছে? ( রোশান)
তুহিন ওর ফ্রেন্ড রোশানের কথার উত্তর না দিয়ে সবার উদ্দেশ্য খুব ক্ষিপ্ত সরে জিজ্ঞাসা করলো,
__তোদের মধ্যে কে সাহারা কে আমার সাথে সকালে ভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা বলেছিস বল (তুহিন )
[ সবাইকে বলাই হয়নি সাহারায় কিন্তু ছায়া শুরুতেই আপনাদের ছায়ার পুরো নাম বলেছিলাম আবার বলছি ছায়ার পুরো নাম সাহারা ইবনান ছায়া। তুহিন কিন্ত ছায়া নামটা জানেনা সাহারা ইবনান নামেই চিনে ছায়াকে। ছায়া অবশ্য বলেছিলো কিন্তু তুহিন ছায়া নামটা ভুলে গেছে । ]
সবাই খুব অবাক হলো তুহিনের কথায় কারণ এই বিষয়ে তারা কিছুই জানেনা। সবাইকে চুপ থাকতে দেখে তুহিন জোরে চেচিয়ে বললো,
__বল তাড়াতাড়ি তোদের মধ্যে কে সাহারাকে আমার ব্যাপারে বলেছিস। নয়তো সবার খবর করে ফেলবো। সব কটাকে একসাথে হসপিটালে পাঠিয়ে দিবো। (তুহিন )
সবাই তুহিনের কথায় একটু ঘাবড়ে গেল। তারপর একসাথে তুহিনকে বললো,
__দোস্ত বিশ্বাস কর আমরা কিছু জানিনা। আমরা সাহারাকে কিছুই বলিনি। (সবাই )
তুহিন এবার প্রচুর রেগে গেলো। ওর চোখ একদম রক্তেবর্ন ধারণ করে নিলো মুখটা রাগে লাল হয়ে গেছে। তুহিন জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে রাগ কমানোর জন্য। তারপর শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে বললো,
__তোরা এভাবে বলবি না তাইতো। দাড়া সব কয়টার কি হাল করি দেখ। ( তুহিন )
এই বলে তুহিন সবাইকে মারতে শুরু করলো। অনেক্ষন মারার পর আবার জিজ্ঞাসা করলো,
__সত্যি করে বল তোদের মধ্যে কে সাহারাকে বলেছিস আমার ব্যাপারে? ( তুহিন )
বন্ধুদের মধ্যে একজন বললো,
__ ইয়ার সত্যি বলছি আমরা সাহারাকে কিছুই বলিনি। আর আমরা কেনইবা বলবো। ( ফাহাদ )
তুহিনের এবার একটু খটকা লাগলো তুহিন সাহারাকে কল দিলো। ছায়া রিসিভ করলো। তারপর তুহিন বললো,
__ ওই কুত্তি তোরে আমার কোন দোস্তটা আমার ব্যাপারে বলছে বল। ( তুহিন )
__আচ্ছা তুই কোথায়? তুই কি তোর ফ্রেন্ডস দের সাথে আছিস? (ছায়া )
__ হ্যাঁ। এবার বল কে বলছে আমার ব্যাপারে তোকে। এমনিতে সব কয়টারে একসাথে পিটাইছি এবার যে বলছে তাকে আরো একটু ডোস দিয়ে হসপিটালে ভর্তি করে দিয়ে আসবো। (তুহিন )
তুহিনের কথাটা শুনে তুহিনের বন্ধুরা সবাই একটু ঘাবড়ে যায়। সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে একটা শুকনো ঢোক গিলে। এদিকে ছায়া হাসতে হাসতে প্রায় শেষ। ছায়ার হাসি শুনে তুহিন বলে,
__ভেটকাস কেন? তাড়াতাড়ি বল কে তোকে আমার ব্যাপারে ইনফরমেশন দিছে। ( তুহিন )
ছায়া হাসতে হাসতে বিছানায় গড়াগড়ি খাবার অবস্থা। ছায়া কোনোমতে নিজের হাসি দমিয়ে তুহিনের উদ্দেশ্যে বললো,
__আরেহ পাগল আমাকে তোর ফ্রেন্ডরা বলেনি আমি অন্য জায়গা থেকে খবর পেয়েছি । ( ছায়া )
ছায়া এদিকে মনেমনে বলে,
__আমি তোকে চড় মেরেছি তো আমি জানবো নাতো কে জানবে! ( ছায়া )
তুহিন এদিকে ছায়ার কথা শুনে রেগেমেগে আগুন হয়ে গেছে। যেহেতু ফোনটা লাউড স্পিকার করা ছিল তাই ছায়া তুহিনের ফ্রেন্ডস দের উদ্দেশ্যে বলে,
__ভাইয়ারা আপনাদের ফ্রেন্ড আপনাদের বিনা অপরাধে মারছে এবার সবাই মিলে ওর 12 টা বাজান। একসাথে ধুলায় দিবেন কেমন। ( ছায়া )
ছায়া এই কথাটা বলেই ফোন কেটে দিয়ে বিছানায় হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে।
এদিকে তুহিন ছায়ার কথা শুনে একটা শুকনো ঢোক গিলে ওর ফ্রেন্ডসদের দিকে তাকায়। সবাই রক্তচক্ষু দিয়ে তুহিনের দিকে তাকিয়ে আছে। ফ্রেন্ডস দের মধ্যে একজন বললো,
__ বেটা হারামি তুই আমাদের বিনা অপরাধে এভাবে মারছিস। আজ তোর কি হাল করি একবার দেখ। ( রোশান )
ফ্রেন্ডসদের মধ্যে আরেকজন বলে,
__ তুই কি আমাদের হসপিটালে পাঠাবি আমরাই আজকে তোকে মেরে হসপিটালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে আসবো। ( ফাহাদ )
তুহিন সবার কথা শুনে দুই পা পিছিয়ে মনেমনে বলে,
__ভাগ তুহিন ভাগ নয়তো আজকে এরা যা ক্ষেপে আছে তোর শরীরের একটা হাড়ও আস্ত রাখবে না। ( তুহিন )
এই বলে তুহিন উল্টো পথে দিলো এক দোড় । ওর পিছন পিছন ওর ফ্রেন্ডসরাও দোড়াতে লাগলো। শেষে তুহিন একটা গাড়িতে উঠে সোজা বাড়িতে চলে গেল।
যেহেতু ওর ফ্রেন্ডসরা তুহিনের মার খেয়ে আহত হয়ে গেছিল তাই তারা বেশি দুর যেতে পারলো না। শেষ পর্যয়ে তারা সবাই তুহিনের পিছু ছেড়ে হসপিটালের দিকে রওনা দিলো। তুহিন ওদের যা মেরেছে দুই তিন দিনেও ব্যাথা কমবে না।
তুহিন বাড়ি পৌঁছে নিজের রুমে গিয়ে দরজা আটকে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। তারপর খাটের পাশে রাখা টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলো। তারপর রেগেমেগ মনে মনে বলতে থাকলো,
__সাহারা আমি তোকে দেখে নিবো তুই আমাকে মিথ্যা বলেছিস শাহরিয়ার শেখ তুহিনকে মিথ্যা বলেছিস। তোকে একবার হাতের কাছে পেলে চল্লিশ তলার বিল্ডিং থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দোবো। যাতে সারাজীবনেও তুই হয়েপিটালের বেড থেকে উঠতে না পারিস মতো। ( তুহিন )
[ আই হেভ এ গভীর প্রশ্ন আচ্ছা চল্লিশ তলার বিল্ডিং থেকে পড়ার পর কি কেউ বেঁচে থাকে ]
এই বলে তুহিন রাগে ফুসতে লাগলো আর মনেমনে ছায়াকে হাজারটা বকা দিতে দিতে ওয়াসরুমে চলে গেল সাওয়ার নিতে।
অন্যদিকে ছায়া তুহিনের ফ্রেন্ডসরা তুহিনের কি অবস্থা করেছে সেটা ভেবে হাসতে হাসতে কবে যে ঘুমিয়ে পড়লো সে নিজেও জানেনা।
চলবে…

No comments