Breaking News

দুষ্টু গার্লফ্রেন্ড । পর্ব -১৩



ঈশা অরেঞ্জ জুস বানিয়ে নিলো দু গ্লাস।তারপর ট্রে হাতে নিয়ে উপরে গেলো আকাশের রুমের সামনে।ভাবলো ভেতরে ঢুকবে না’কি ঢুকবে না।পরক্ষণেই ঈশা কিছু না ভেবে গেট খুলতেই চমকে উঠলো।কারন সুমু আর আকাশ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে সুমু আর আকাশ একে অপরের থেকে দূরে সরে দাঁড়ালো।ঈশা খুব লজ্জা পেয়ে পেছন ফিরে দাঁড়ালো নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে।হাতে জুসের ট্রে ঈশার।তাতে কি? ঈশার হাত রীতিমতো কাঁপছে।
এদিকে সুমু রেগে এটম বোম।দেখছে দরজা লক।তাহলে নক করে ঢুকলেই পারতো।কিন্তু ঈশা ভেবেছে রুমে কেউ নেই।তাই না বলেই ঢুকেছে।আকাশ দরজার কাছে গিয়ে দেখলো! ঈশার হাতে জুসের ট্রে কাঁপছে।ঈশার চোখ জোড়া এখনো বন্ধ।আকাশ চুটকি বাজালো ঈশার সামনে! তখনি ঈশা নিজের চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো আকাশ’কে।
আকাশঃ হুয়াট?
ঈশাঃ কিছু না।
আকাশঃ কিছু না হলে! এভাবে ভূত দেখার মতো ভয়ে থরথর করে কাঁপছো কেনো?
ঈশাঃ না মানে…!
সুমু আর সহ্য করলো না এসব ন্যাকামো।তড়িঘড়ি করে এসে দাঁড়ালো ঈশার সামনে।ঈশার কাঁধে হাত রেখে ঈশা’কে নিজের দিকে ফিরিয়ে দাঁড় করালো।ঈশা সুমুর দিকে তাকাতেই এক শুকনো ঢোক গিললো।
ঈশাঃ এভাবে কেনো তাকিয়ে আছে আমার দিকে।মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গিলে খাবে আমাকে।শাঁকচুন্নী মেয়ে কোথাকার। [আনমনে]
সুমুঃ কে তুমি?
ঈশাঃ আ’ম স্যরি! আসলে আমি বুঝতে পারিনি রুমে আপনারা ছিলেন।
সুমুঃ তুমি জানো না? কারো রুমে ঢোকার আগে নক করে পারমিশন নিতে হয় তার?
ঈশাঃ আমি ভেবেছি…!
.
সুমুঃ রুম লক ছিলো ভেতর থেকে।তাহলে নিশ্চয়ই ভেতরে একজন মানুষ হলেও আছে।
ঈশাঃ আ’ম স্যরি! আর কখনো এরকম ভুল হবে না।
সুমুঃ মাইন্ড ইট।দ্বিতীয় বার ভুল হলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিব।ফালতু যত্তসব।
আকাশঃ কাম ডাউন ডার্লিং।ইট’স ওকে।
সুমুঃ হুয়াট ইজ দিস আকাশ? এগুলো কেমন সার্ভেন্ট বাসায় কাজের জন্য রাখো তোমরা? আনএডুকেটেড পিপল। [অহংকারের সাথে]
ঈশা সব অপমান মাথা নিচু করে সহ্য করে নিলো।শেষে সুমুর কথাগুলো শুনে বিরক্ত হয়ে ঈশা ওদের দু জনের সামনে জুসের ট্রে ধরলো।আকাশ ঈশার দিকে তাকালো।
ঈশাঃ জুস!
সুমুঃ আমরা চেয়েছি জুস তোমার কাছে? আনকাল্চার মেয়ে এ…!
ঈশাঃ চেয়েছেন বলেই বানিয়ে এনেছি।নয়তো কেনো আমি শুধু-শুধু আনবো? আর কেনোই এত কথা শুনতে যাবো বলুন?
সুমুঃ হুয়াট দ্যা হেল।মেয়েটি কে আকাশ? বাড়ির সামন্য তম সার্ভেন্ট হয়ে আমার মুখের উপর কথা বলছে?
ঈশাঃ সেটা “আপনার উনাকে” জিঞ্জেস করে নিবেন।
সুমুঃ ইউ ব্লাডি…! [ঈশা’কে উদ্দেশ্য করে]
ঈশাঃ আপু বেশি কথা স্বাস্থের জন্য ভালো নয়।আমি বরং জুসের ট্রে রেখে যাচ্ছি।আপনারা খেয়ে নিবেন প্লিজ।
সুমুঃ আকাশ মেয়েটি অনবরত মুখের উপর জবাব দিচ্ছে।তুমি কিছু বলবে না?
আকাশঃ ঈশা শোনো…!
ঈশাঃ কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে বলবেন।আসছি আমি।
সুমু আর আকাশ’কে কিছু বলার সুযোগ দিলো না।হেসে-হেসে কথাগুলো বলে চলে গেলো ঈশা।আকাশ ভাবলো পরে দেখে নিবে ঈশা’কে।সুমু এখনো রেগে আছে ঈশার উপর।
ঈশা নিচে এসে আর নিজের কান্না আটকে রাখতে পারলো না।ঈশা উপরে-উপরে যতই শক্ত হোক।কিন্তু ভেতরে-ভেতরে তুলোর চেও নরম।ঈশা সোফার এক কোণায় বসে চোখের পানি মুছতে লাগলো।আসল কথা হলো ঈশার খুব রাগ হচ্ছে।রাগে ঈশার প্রচন্ড কান্না পায়।টিংকু ভাই অফিস থেকে বাড়ি এলো।এসে দেখলো সোফার কোণায় বসে কাঁদছে ঈশা।টিংকু ভাই বললো!
টিংকু ভাইঃ কি হলো কাঁদছো কেনো তুমি?
ঈশাঃ নাহ্ এমনি কিছু না।
.
টিংকু ভাইঃ আকাশ কিছু বলেছে?
ঈশাঃ বলছি উপরে মেয়েটি কে আকাশের বেড রুমে?
টিংকু ভাইঃ সুমাইয়া ওর নাম।
মেয়েটি আকাশের গার্লফ্রেন্ড।
টিংকু ভাইয়ের মুখে “সুমাইয়া আকাশের গার্লফ্রেন্ড”
কথাটা শুনে ঈশার বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো।
এখন ঈশার কেনো জানি ভিষণ খারাপ লাগছে বুকের ভেতরে।
টিংকু ভাইঃ আকাশের গার্লফ্রেন্ডের অভাব নেই।
মেয়েদের সাথে লেট নাইট পার্টি করা প্রতিদিন।মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করা আকাশের প্রতিদিনের কাজ।
ওর কোনো গার্লফ্রেন্ড ১ মাসের বেশি টিকে না।রিলেশন করে ছেড়ে দেয়।
কিন্তু সুমাইয়া মানে সুমু নামে মেয়েটির সাথেই প্রায় ৬-৭ মাস ধরে রিলেশন চলছে।
এখনো দেখছি ভালোই চলছে ওদের দু জনের সম্পর্ক।
ঈশাঃ আমি চোখে-মুখে পানি দিয়ে আসছি ওয়াশরুম থেকে।
টিংকু ভাইঃ হুমম।
ঈশা দৌড়ে চলে গেলো ওয়াশরুমে কাঁদতে-কাঁদতে।ঈশা চোখে-মুখে ভালোভাবে পানি দিলো।ঈশা কখনো ভাবে’নি যাকে ভালোবাসবে সে এতটা খারাপ হবে।আকাশ এরকম খারাপ ছেলে হবে।
ওদিকে আয়রা নিজের কেবিনে বসে কাজ করছে।আর কেবিনের বাহিরে কাঁচের গ্লাস দিয়ে দেখছে যে! আহির এসেছে কি’না।কিন্তু আহির এখনো আসে’নি।টিংকু ভাই নিজের কাজ সেরে আবার অফিসে এলো।তখনি আহির অফিসে ঢুকলো।আহির’কে দেখে টিংকু ভাই চেঁপে দাঁড়ালো।আহির উপরে গিয়ে কম্পিউটার সেকশনে ঢুকে দেখলো একটি জায়গা খালি।পিছন থেকে টিংকু ভাই বললো!
টিংকু ভাইঃ ওটাই তোমার জায়গা।
আহিরঃ থ্যাংক ইউ।
টিংকু ভাইঃ প্রকৃতি!
প্রকৃতিঃ জ্বি টিংকু ভাই?
টিংকু ভাইঃ এদিকে এসো।
প্রকৃতিঃ হুমম বলুন!
.
টিংকু ভাইঃ আহির’কে কম্পিউটার সেকশনের সব কাজ ভালোভাবে বুঝিয়ে দাও।
প্রকৃতিঃ ডোন্ট ওয়্যারি টিংকু ভাই।আমি সবকিছু বুঝিয়ে দিব।
টিংকু ভাইঃ হুমম।
টিংকু ভাই চলে গেলো আয়রার কেবিনে।প্রকৃতি হলো কম্পিউটার সেকশনের একজন স্টাফ।প্রকৃতি হাসি মুখে গিয়ে আহিরের দিকে একহাত বাড়িয়ে দিলো।আহিরও প্রকৃতির দিকে একহাত বাড়িয়ে দিলো।দু জনে হ্যান্ডশেক করলো হাত মিলিয়ে।
আয়রার কি একটা মনে হলো।আয়রা ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে! কেবিনের বাহিরে কাঁচের গ্লাস দিয়ে দেখলো আহির কারো সাথে হাত মিলাচ্ছে।অপর পাশে তাকিয়ে দেখলো প্রকৃতি।নিজের অজান্তেই রেগে গেলো আয়রা।আয়রার সহ্য হচ্ছে না।আহির এসেই অন্য একটা মেয়ের সাথে কেনো হাত মিলাবে সেটা ভেবে।
প্রকৃতিঃ হাই আমি প্রকৃতি। [আহিরের সাথে হাত মিলিয়ে।]
আহিরঃ হ্যালো আমি আহির। [প্রকৃতির সাথে হাত মিলিয়ে।]
প্রকৃতিঃ আমি সবকিছু বুঝিয়ে দিচ্ছি তোমাকে।”তুমি করে” বলতে পারি তো না’কি? [হাল্কা হেসে]
আহিরঃ অফকোর্স! আই হ্যাভ নো প্রবলেম। [হেসে দিয়ে]
প্রকৃতি একটা চেয়ার টেনে আহিরের পাশে বসলো।একটু কাছাকাছি’ই বসলো আহির আর প্রকৃতি।প্রকৃতি কম্পিউটারে সবকিছু এক-এক করে বোঝাচ্ছে আহির’কে।আহির মনোযোগ দিয়ে সব বুঝে নিচ্ছে কাজ।
আয়রা নিজের কাজ ফেলে কাঁচের গ্লাসের বাহিরে তাকিয়ে আছে।আয়রা জ্বলে যাচ্ছে রাগে।কেনো সেটা নিজেও জানে না।আয়রার মন চাচ্ছে এখন প্রকৃতি’কে ৩ তলা থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিতে।আর আহিরের গলা টিপে ধরে মেরে ফেলতে মন চাচ্ছে আয়রার।
.
চলবে….

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com