Breaking News

গল্প- মনোহরণী । পর্ব - ০২


আলোর হাতের মেহেদী শুকিয়ে গেছে। এজন্য আর বসে না থেকে হাত ধুয়ে আসলো।

ফর্সা হাতে গাঢ় ভাবে বসা মেহেদীর কালারটা মন্দ লাগছে না ।

আলো ওর হাতের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

বেডের উপর থেকে ওর ফোনটা হাতে নিয়ে বাসায় ফোন দিলো।

আলোর আম্মু ফোনটা রিসিভ করলো না। হয়তো উনি এখন রান্নাঘরে আছে।

আর ফোনটা পড়ে আছে বেড রুমে। আলো ওর আব্বুকে ফোন দিলো।

আলোর আব্বু রিসিভ করে আগে বলে উঠলো,

--"মা! বাসায় চলে এসো মা। তোমাকে ছাড়া বাসাটা বড্ড প্রাণহীন লাগছে।"
--"আব্বু আর মাত্র দু'টো দিন। তারপরেই তো চলে আসবো।
তারপর বলো তোমরা সবাই কেমন আছো?"
--"আলহামদুলিল্লাহ! সবাই ভাল আছে। তুমি কেমন আছো মা?"
--"আমিও খুব ভাল আছি আব্বু।"
--"মা ওখানে তোমার কোন সমস্যা হচ্ছে না তো?"
--না আব্বু!"
--"আচ্ছা মা সাবধানে থেকো। আর নিজের খেয়াল রেখো।"
--"আচ্ছা আব্বু।"
--"আল্লাহ হাফেজ।"
--"আল্লাহ হাফেজ।"

রোদের আম্মু রেগে সোফার উপরে বসে আছে। উনার সামনের সোফাতে বসে আছে।
উনার দুই রাজপুত্র রোদ আর মেঘ। উনি রেগে গিয়ে ওদের জানালো,
যে ওরা কবিরাজের দেওয়া নাড়ু খেয়ে ফেলেছে। এটা শুনার পর মেঘ ওর গালে হাতে রেখে,
গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে। রোদ স্বাভাবিক ভাবে বসে ফোন স্ক্রল করছে।
এতগুলো নাড়ু দু' ভাই মিলে খেয়েছে ভাবা যায়।
মেঘ ছোট ওর কিছু না হলেও রোদের একটু সমস্যা হবেই। এটা তো আবার যেমন তেমন নাড়ু নয়।
শারীরিক সমস্যা সমাধানের ওষুধ মেশানো নাড়ু।
রোদ ব্যাপারটা নিয়ে আর কোন কথা বাড়ালো না। কিন্তু রোদের আম্মু এটা নিয়ে খুব চিন্তিত।
বিশেষ করে রোদকে নিয়ে। উনি ছেলেকে না পারছে কিছু বলতে।
আর না পারছে চুপ করে বসে থাকতে।
যেখানে কবিরাজ ওই ভাবির বরকে বলেছিলো, রোজ সকালে একটা করে নাড়ু খেতে।
সেখানে এরা দুভাই পেট পুরে নাড়ু খেয়ে বসে আছে। রোদের আম্মু আর মাথা কাজ করছে না।
মেঘ ওর আম্মুর দিকে তাকিয়ে বললো,
--"আম্মু কবিরাজ নাড়ুই দিয়েছিলো কেন?"
--"বাবু হওয়ার জন্য। এখন তুই সব নাড়ু খেয়ে ফেলেছিস। এখন তোর বাবু হবে।"
মেঘ একথা শুনে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে চিৎকুর দিয়ে কেঁদে উঠলো। তার কান্নার প্রধান কারণ সে এখন বাবু নিবে না। সে হাজার মেয়ের ক্রাশ। এখন ওর বাবু হয়ে গেলে। কেউ আর ওকে দেখে ক্রাশ খাবেনা। সবচেয়ে বড়কথা ওর দুইটা গার্লফ্রেন্ডের বা কি হবে? এসব ভাবলে মেঘের মাথা ভনভন করে ঘুরছে। না! এই নাড়ু গুলো তাহলে কিছুতেই ওর পেটে রাখা যাবেনা। যেভাবেই হোক এই নাড়ু গুলো ওর পেট থেকে বের করতেই হবে। মেঘ আর এসব নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না করে ওয়াশরুমে চলে গেল। ওর মত বাচ্চার ব্রেণে যে ভাবনা এসেছে৷ সে এখন তাই করবে।

মিশুর ভাই মারুফের বন্ধুরা এসেছে। কালকে হলুদের স্টেজ কোথায় হবে মারুফ ওদের দেখাচ্ছে। পুরো বাসাটা লাইটিং করেছে। বাগানটাও খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে। কালকে সকালে শুধু হলুদের স্টেজ করলেই কাজ সম্পূর্ণ হবে। মারুফ ওর বন্ধুদের নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসলো। মিশুর আম্মু মারুফের বন্ধুদের নাস্তা দিয়ে গেলো। কিন্তু উনি চা দিতে ভুলে গেয়েছিলো। এজন্য আলো এসে উনাদের চা দিয়ে গেল। মিশুর বিয়ে উপলক্ষে মিশুর আম্মুর বসে থাকার উপায় নেই। উনি একা আর কতদিকেই বা খেয়াল রাখবেন। এজন্য আলোও মাঝে মাঝে উনাকে কাজে সাহায্য করছে। মারুফ আলোকে ওর বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। আলো ওনাদের সালাম দিয়ে, কথা বলে, রুমে চলে গেল। মারুফ রোদকে ফোন দিয়ে বাসায় ডাকলো। একটু পরে ডেকোরেটরের লোক আসবে। কিভাবে কি করবে? এটা উনাদের বলে দিতে হবে। রোদ মারুফের বাসায় আসলো। মিশুর আম্মু এসে রোদকে চা দিয়ে গেল। রোদ চা খেতে খেতে মারুফের সাথে কথা বলছিলো। হঠাৎ ওর চোখ গেল রান্নাঘরের পাশের রুমটার দিকে। বিশেষ কারো কারো হাসির শব্দ শুনেই সে তাকিয়েছে। আলো একটা বাচ্চা মেয়েকে কাতুকুতু দিচ্ছে। আর বাচ্চাটা খিলখিল করে হাসছে। বাচ্চার হাসি দেখে আলোও হাসছে। এই বাচ্চাটা মিশুর কাজিনের মেয়ে ওহি। আলো ওহিকে কাতুকুতু দেওয়াতে ওহি হাসতে হাসতে আলোকে বলছে,

--" আল দিও না। আল না লে। আল হাসতে পালছি না। আল দিও না।"
মারুফ ওর বন্ধুদের নিয়ে ছাদে গেল। ছাদটাও সাজানোর কাজ চলছে। মারুফ রোদকে আসতে বললো। রোদ জানালো সে একটু পরে আসছে। তাই মারুফরা চলে গেছে। রোদ উঠে রান্নাঘরের পাশের রুমটাতে গেল। বাচ্চাটা আলোর থেকে ছাড়া পেয়ে হাসতে হাসতে দৌড়ে চলে গেল। আলো তখন উল্টো ঘুরে পানি খাচ্ছিলো। ঠিক তখনই পেছনে থেকে কেউ রাগী কন্ঠে বলে উঠলো।
--"হাতের বাহুতে থাকা পরপর সাতটা তিল মানুষকে না দেখালে, কি তোমার কলিজা ঠান্ডা হচ্ছে না? নাকি থাপ্পড় না খেলে নিজেকে শুধরাবে না?"
--"কে?
--রোদ মেহবুব।"
--"আপনি?"
--" চিনতে পারলে? নাকি থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে নতুন করে চিনাবো?"

আলো চুপ করে গেলো। এই ছেলেটার সামনে সে কখনোই আসতে চাই না। তবুও হুটহাট করে এই ছেলেটাই ওর সামনে এসেই উদয় হয়। আলোকে চুপ করে থাকতে দেখে রোদ আরেকটা ধমক দিলো। রোদের ধমক খেয়ে আলোর আত্মাটাও যেন কেঁপে উঠেছে। রোদ যখন কারো সাথে কথা বলে। তখন সামনের ব্যাক্তিটা চুপ করে থাকাটা ওর কাছে প্রচন্ড বিরক্তিকর লাগে। আলো রোদের ধমক খেয়ে কান্নামাখা গলায় বললো,
--"আ আপ আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন?"
--"আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই। আচ্ছা তোমার এই ড্রেসটা কেনার সময় কি টাকা কম পড়েছিলো?"
--"টাকা কম প পড় পড়বে কেন?"
--"তাহলে ছোট হাতের ড্রেস কিনেছো কেন?"
--"কেন এমন ড্রেস পড়লে কি হবে?"
--"হাতের তিল গুলো মানুষকে না দেখালে হয় না?"
--"তিল দেখলে কি সমস্যা?"
--"কারণ তিল গুলো কাউকে সর্বনাশা মাদকের মত মাদকাসক্ত করে পুরোপুরি নেশাগ্রস্ত করা ক্ষমতা রাখে।।"
--"তিল কখনও সর্বনাশা মাদকাসক্ত হয়?"
--" তোমার এতকিছু জানা লাগবেনা।"
--"আমি আপনার কথা কেন শুনবো?"
--"শুনবে না কেন? ওহ বুঝেছি! তিল দেখিয়ে ছেলেদের দৃষ্টি আর্কষণ করার প্ল্যান করেছো, তাই তো ?"
--" এবার কিন্তু বেশি হয়ে হচ্ছে।"
--"সেকেন্ড টাইম! যদি তোমাকে এমন ড্রেস পড়া অবস্থায় আমার চোখে পড়ো। তাহলে বেশি করা কাকে বলে তখনই না হয় বুঝিয়ে দিবো।"
রোদের কথা শুনে আলো মুখ তুলে রোদের দিকে তাকালো। আলোর চোখে পানি ছলছল করছে। এই ছেলেটা আবারও ওকে শুধু শুধু কথা শুনালো। রোদ আলোর দিকে বিরত্তিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে, চলে আসার জন্য পা বাড়াতে যাবে। তখনই আলো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বলে উঠলো,
--" আ আম আমার যেমন ইচ্ছে হয়। আমি তেমন ড্রেস পড়বো। আপনার কি?"
আলোর কথা শুনে রোদ দাঁড়িয়ে গেলো। আলোকে কঠিন কিছু শুনাতে গিয়েও সে নিজেকে সামলে নিলো। আলোর কান্নামাখা কন্ঠ শুনে রোদ নিজেকে শান্ত করে নিলো। এরপর সে আলোর দিকে না তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,

--"আমার অনেক কিছু। তবে সেটা আমি তোমাকে জানাতে বাধ্য নই।"
রোদ কথাটা বলে সে স্থান ত্যাগ করলো। আলো গোলাপি রংয়ের মানসম্মত ছোট হাতের একটা কামিজ পড়ে ছিলো। জন্মগত ভাবে ওর বাম হাতের বাহুতে পর পর সাতটা তিল আছে। ফর্সা বাহুতে কুচকুচে কালো তিল গুলো অদ্ভুত সুন্দর দেখায়। ছোট হাতের কামিজ পড়ার জন্য তিলগুলো দৃশ্যমান হয়ে ছিলো। একে তো ফর্সা শরীরে গাঢ় গোলাপি রংয়ের কামিজ। তারপরে সর্বনাশা তিলগুলো দৃশ্যমান। যে কারো দৃষ্টি ওর বাহুতে আটকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর সবার দৃষ্টি তো স্বাভাবিক হয় না। কারো কারো দৃষ্টি লোভাতুরও হয়। একটা মানুষের শরীরে পরপর চারটা তিল থাকাটাও স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। কিন্তু একটু অবাক করা ব্যাপার হলেও, এটা ঠিক যে আলোর বাম হাতের বাহুতে পর পর সাতটা কালো কুচকুচে তিল আছে। আর তিল গুলো যে কোন ছেলের একবার তাকানোতেই নজর আটকে যাওয়ার মত সৌন্দর্যের দাবিদারও বলা যায়।
মেঘ এখনো ওয়াশরুমে বসে আছে। বেচারা এত চেষ্টা করেও তার কাজে ব্যর্থ হলো। রোদের আম্মু মেঘকে জোর করে ওয়াশরুম থেকে বের করলো। উনি মেঘের মুখ মুছিয়ে, চুল আঁচড়ে দিয়ে, মিশুদের বাসায় গেল। মেঘ ওর আম্মুর হাত ছুটিয়ে গেটের কাছে চলে গেলো। ওর এখন মন ভালো নেই। তাই মেঘ একা একাই দাঁড়িয়ে থাকলো। আলো ওর গোলাপি কামিজ বদলে নিলো। আর এ্যাশ কালার থ্রি কোয়াটার হাতের একটা কামিজ পড়ে নিলো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুলও আঁচড়ে নিলো। এখান আসার পর থেকে চুল খুলে ভালভাবে আঁচড়াতেও পারেনি। আসার পর থেকে সব সময় ওর চুল খোঁপা করাই ছিলো। ওর আম্মুও এই ব্যাপারে বার বার বলে দিয়েছে। সে যেন চুল আঁচড়ে
যেখানে সেখানে না ফেলে। আর কারো সামনে যেন চুল খোলা রেখে না যায়। আলোও যার তার সামনে চুল আঁচড়াতে বসে না। সে ছেলে হোক অথবা মেয়ে। এর প্রধান কারন হুট করে কেউ ওর চুল দেখলে, বিষ্ময়কর সুরে বলে উঠে,

"আল্লাহ! আলো তোমার এত বড় চুল। ওয়াও কি সুন্দর ঘন আর কুচকুচে কালো চুল।"
আলো চুল আঁচড়ে খোঁপা করে বেলকণিতে গেল।
বাগানে এক সাইডে বক্সে গান বাজছে। বাচ্চারা সেই গানের তালে নাচানাচি করছে। তবে যে গান গুলো বাজাচ্ছে তার পছন্দ খুব খারাপ। এই গানগুলো আলোরও খুব অপছন্দের। এখন বক্সে ফুল সাউন্ডে বাজছিলো 'কুতকুতি মাইয়া' গানটা। এটা আবার কেমন গান? ওই গানটা শেষ করে এখন আবার বাজছে 'লে ফোটু লে'। এসব গানের কোন আগামাথা আলো কিছুই বুঝতে পারছেনা। গানের মাঝখানে আবার জিজে নাহিদ, ডিজে সোহান, ডিজে আকাশ এসব নামও যুক্ত আছে। গানের কথা তো বোঝাই যাচ্ছে না। শুধু হার্ট কাঁপানো দুমদুম শব্দ হয়েই হচ্ছে। আলো বিরক্ত হয়ে বেলকণি থেকে চলে আসার সময় মেঘকে গেটের কাছে দেখলো। মেঘকে একা বসে থাকতে দেখে, আলো ওর মাথায় ওড়না দিয়ে মেঘের কাছে গেল। আলোকে দেখে মেঘ একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে নিলো। আলো মেঘকে ওর দিকে ঘুরিয়ে বললো,
--"কি হয়েছে মেঘবাবুর? মনটা কি খুব বেশি খারাপ?"
--"হুম।"
--"কতটুকু?"
--"অনেক।"
--"জানো আমারও মন খারাপ।"
--"কেন?
--"একটা ফাজিল আমাকে খুব বকেছে তাই।"
--"তুমি তাকে বকা দাও নি?"
--"না!"
--"ওহ।"
--"মেঘবাবু! আমাকে কি বলা যাবে তোমার মন খারাপ কেন।"
--"হুম।"
মেঘ আলোকে নাড়ুর সব ঘটনা সব বললো। আলো হাসলো না।
বরং গালে হাত দিয়ে ভেবে বললো,
--" এই নাড়ু গুলোকে এখন নষ্ট করে দিলে। তোমার আর বাবু হবেনা।"
--"হুম! কিন্তু কিভাবে নষ্ট করবো?"
--"একটা স্প্রাইট খেলেই সব নষ্ট হয়ে যাবে।"
--"সত্যিই।"
--"হুম।"
মেঘ উঠে দৌড়ে বাগানে চলে গেল। রোদ তখন ডেকোরেটরের লোকদের সাথে কথা বলছিলো।
মেঘ রোদের হাত ধরে টেনে রোদকে ওখান থেকে নিয়ে আসলো। রোদ বলছে একটু পরে যাচ্ছে।
কিন্তু মেঘ এখন রোদের কোন কথা শুনতে নারাজ।
মেঘ ওর নিজের সর্বশক্তি দিয়ে রোদের হাত ধরে টানছে।
রোদ মেঘের এমন কাজে বিরক্ত হয়ে বললো,
--" মেঘ এমন করছিস কেন?"
--"দাভাই! তারাতারি চলো। আমাকে এখনই দোকানে যেতে হবে।
আর এখনই যেভাবেই হোক আমাকে নাড়ুগুলো নষ্ট করতেই হবে।"
--"কি সব বকছিস? আবার কিসের নাড়ু?"
--"তুমি চলো তো।"
মেঘ রোদকে টেনে আলোর কাছে চলে গেলো।
এরপর রোদের হাত ছেড়ে, মেঘ আলো হাত ধরে টানতে টানতে ওকে দোকানে নিয়ে গেলো।
রোদও ওদের পেছন পেছন গেল। আলো আর মেঘের কথা শুনে রোদ বুঝলো,
মেঘের এখন দোকানে যাওয়ার কারণ। তিনজনে দোকানে গেল।
মেঘ তিনটা স্প্রাইট আর দুইটা কোণ আইসক্রিম নিলো।
আলো নিতে না চাইলেও, মেঘ জোর করে ওর হাতে ধরিয়ে দিলো।
রোদ দোকানদারকে টাকা দিয়ে ওদের নিয়ে রাস্তা পার হলো। তিনজনে পাশাপাশি হাঁটছে।
মেঘ ঢকঢক করে স্প্রাইট খেতে গিয়ে ভীষম খেলো।
আলো মেঘের মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে দিলো। আর বললো,
--"মেঘবাবু আস্তে খাও। তাহলে নাড়ু গুলো তারাতারি মরে যাবে।"
--"সত্যি তো?"
--"একদম সত্যি।"
--"আচ্ছা।"
মেঘ আলোর কথা অনুযায়ী তাই করলো।
তখনই পাশের বিল্ডিংয়ের একটা আংকেলের সাথে ওদের দেখা হলো।
এই লোকটাকে রোদের খুব বিরক্ত লাগে।
উনার সাথে দেখা হলে, উনি ২০ মিনিটের আগে ছাড়তেই চাই না।
ভদ্রতার খাতি রোদ কিছু বলতেও পারেনা। উনাকে দেখে রোদ সালাম দিলো।
উনিও সালামের উত্তর নিয়ে, পান খেয়ে লাল করা দাঁতে হেসে বললো,
--"কি খবর রোদ?"
--"আলহামদুলিল্লাহ ভাল।"
--"কোথায় গিয়েছিলে?"
--"দোকানে।"
--"অনেকদিন পর দেখা হলো। তোমার বাবা মা কেমন আছে?"
--"আলহামদুলিল্লাহ! ভাল আছে।"
--"চলো আমাদের বাসায়।"
--"না! অন্য কোনদিন যাবো।"
--"মেঘ বাবা তুমি কেমন আছো?
--"খুব প্যারাতে আছি।"
--"কেন? কিসের প্যারা।"
--"বুঝবেন না! বড় হন।"

মেঘের কথা শুনে আলো অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে মৃদু হাসলো। এতটুকু একটা বাচ্চা।
আর কথা বলে বড়দের মত। বেচারা মেঘ মারাত্মক টেনশনে আছে।
এজন্য সে স্প্রাইট খেতে মহাব্যস্ত। তার মধ্যে এই লোকের এত কথা তার মোটেও পছন্দ হচ্ছে না।
মেঘের ত্যাড়া কথা শুনে ভদ্রলোক মেঘকে আর কিছু বললো না। কারণ এটা প্রথম নয়।
উনি রোদকে যা জিজ্ঞাসা করে, রোদ সুন্দর করে তার কথার উত্তর করে।
কিন্তু এই পুঁচকে টা সব সময় ত্যাড়া করে বলে উনার মুখ আঁটকে দেয়। ভদ্রলোক উনার
গলা পরিষ্কার করে রোদের দিকে তাকিয়ে বললো,
--"তা রোদ তোমার পড়াশোনার কি অবস্থা?"
--"জ্বি ভালো।"
--"তা প্রেম টেম করো নাকি?"
--"জ্বি না আংকেল।"
--"বখাটের মত প্রেম করবে না। সরাসরি বিয়ে করবে।"
--"জ্বি।"
--"এই মেয়েটা কে তো চিনলাম না?"
--"ও আমার শালাতো বউ।" (একটু আস্তে)
--"শালাতো বোন?"
--"ওই আর কি।"
To be continue.....!!

No comments