Breaking News

বিরহ মিছিল । পর্ব - ০১

দামড়ি মেয়ে হয়ে বয়সে ছোট ছেলেকে প্রেম পত্র পাঠাচ্ছিস মুগ্ধতা,

তোর লজ্জা সজ্জা সব বানের জলে ভেসে গেছে হ্যা? গোমড়া মুখো আদিল৷

আমি তোমাকে ভালোবাসি না কিন্তু পছন্দ করি।"

মুগ্ধতার মা অবাক চোখে মুগ্ধতার লেখা চিঠি টা পড়ে, মুগ্ধতার দিকে তেড়ে এলেন।


মুগ্ধতা দৌড়ে তার বিছানার উপর লাফ দিয়ে উঠলো। প্রতুত্তরে মাকে বলতে ইচ্ছে করলো মুগ্ধতার,

" আমি মোটেও দামড়ি মেয়ে নই। এক বছরের বড়ই আমি আদিলের থেকে।
আমি পড়ি ওল্ড টেনে, আদিল পড়ে নিউ টেনে। তফাৎ এই একটি জায়গায় মা।
তাই বলে আদিলকে নিয়ে লাভ লেটার লিখতে পারব না? "
যদিও মনের ভাব প্রকাশ করার স্পর্ধা সাহস কোনটিই নেই মুগ্ধতার এই মুহূর্তে।
মুগ্ধতার মা আমেনা ভাতের লাকড়ি মুগ্ধতার সামনে উঁচিয়ে শাসিয়ে বললেন,
" বিছানা থেকে নাম হতচ্ছাড়ি। আজ তোর একদিন আমার একদিন।"
মুগ্ধতা মায়ের কথা শুনলো না বরং সে বিছানা থেকে সরে খাটের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালো।
নির্ঘাত আজ কপালে পিটুনি আছে তার বুঝতে কাল কিপ্পন হলো না।
তথাপি মায়ের হাতের নাগালের বাহিরে থাকা মঙ্গল।
রাগে শরীর কাঁপছে আমেনার। মুগ্ধতা স্থির পায়ে দেওয়া ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। তিনি গর্জে আওড়ালেন,
" আমি বিছানায় উঠলে তোর রক্ষা নেই মুগ্ধতা। সসম্মানে নাম।"
মুগ্ধতার কাছে অবস্থা ঠিক ঠেকলো না। সে ঘরের চারদিক অবলোকন করল।
বাড়িতে এই মুহূর্তে মায়ের হাত থেকে বাঁচানোর কেউ নেই। সে অতি আবেগি হয়ে বলল,
" ভুল হয়ে গেছে মা। আর কোন ছেলেকে নিয়ে চিঠি লিখবো না। শুধু আদিল কে ছাড়া।"
শেষের কথা টুকু মিন মিন করে বলল মুগ্ধতা। তবুও আমেনা কথাটুকু শুনে ফেললেন।
তিনি চোটে গেলেন মুহূর্তে। বললেন,
" তবে রে....!"
বিছানার উপর উঠে গেলেন আমেনা।
মুগ্ধতা মাকে উঠতে দেখে এক লাফে বিছানা ছাড়লো, 'ওমাগো ' বলে দিলো দৌড়...

বিষন্ন মুখে বড় জেঠার বাড়ির দ্বারপ্রান্তে থামলো মুগ্ধতা।
এই সময়ে এটাই তার জন্য মাথাগোঁজার উপযুক্ত স্থান।
বড় জেঠা বাড়িতে অবশ্য নেই৷ গাজীপুরের নূর সেন্ট্রাল স্কুলের চেয়ারম্যান তিনি।
তিনি সেখানেই সকাল, দুপুর পার করেন।
খিদার তাড়নায় বড় জেঠিমা কে খোঁজা শুরু করল মুগ্ধতা।
সকাল সাড়ে সাতটা অবধি পড়ে খাওয়ার টেবিলে বসেছিল ৷
কিন্তু সকালে পড়া বাদ দিয়ে অতি কষ্টে লেখা চিঠিখানা মায়ের হাতে পড়ে। শেষ রক্ষা হয়না।
অনায়াসে খাওয়ার ঘরে পেয়ে গেল মুগ্ধতা তার জেঠিমা কে।
এঁটো থালাবাসন খাওয়ার টেবিল থেকে সরিয়ে রান্না ঘরের বেসিনে রাখছেন।
মুগ্ধতা টেবিলে হাঁক ছেড়ে ডাকল,
" জেঠিমা খিদা পেয়েছে আমার। যা আছে সব নিয়ে আসো।"
জেঠিমা ত্বরিতগতি তে খাওয়ার ঘরে এলেন। খাওয়া ঘরের দেয়ালে ঘড়ি দেখে বললেন,
" কিরে মুগ্ধতা নয়টা বাজছে স্কুলে যাস নি? ড্রেস পড়ে আছিস আবার দেখছি।"
মুগ্ধতা নিরস কন্ঠে বলল,
" মায়ের দৌড় খেয়ে বাঁচি না। আরও স্কুল।
ডিম সিদ্ধ আছে? থাকলে দাও, পেটটাকে শান্ত করি আগে।"
সেমাইয়ের বাটি মুগ্ধতার সামনে রেখে বললেন,
" দুটো ডিম সেদ্ধ দিয়েছিলাম।
একটা তোর জেঠা খেয়ে গেছে। আরেক টা আদিল খেয়ে স্কুলে গেল।
মুগ্ধতা শুনেও গভীর ভাবনায় তলিয়ে বলল,
" আদিল খেয়েছে?"
"হ্যা।"
মুগ্ধতা মুচকি হেসে মনে মনে বলল,
" সমস্যা নেই তাহলে।"
"কিরে? কি ভাবছিস এত?"
সম্বিত ফিরতে মুগ্ধতা বলল,
" কিছু না, জেঠিমা।"

স্কুল থেকে আদিল ফিরলো দুপুর একটায়। জুতার রেকে কালো সুজ রেখে ঘরে প্রবেশ পথে মুগ্ধতা হাটা রোধ করে দাঁড়াল৷ চটপটে গলায়
বলল,
" তুমি স্কুলে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট খুব ভালো কথা।
ভালো নাম ডাক সেটাও ভালো কথা। তবে। তবে মেয়েদের সাথে এতো ফুসুরফাসুর কেন?"
"জি?"
মুগ্ধতা কন্ঠে রাগ ঢেলে বলল " বাংলা ভাষা বুঝো না গোমড়া মুখো।"
আদিল পূর্ণ দৃষ্টিতে মুগ্ধতার দিকে তাকালো। মুগ্ধতার কথায় আদিলকে বিচলিত দেখা গেল না। বলল,
" তুমি আমার থেকে বড়। তোমার ব্যবহারে মনে হচ্ছে তুমি আমার থেকেও ছোট। শুধু ছোট না একেবারে পাঁচ বছরের বাচ্চা।"
.
চলবে~

No comments