Breaking News

মনের মানুষ । পর্ব - ০৬



মেহেরিশ তখন ইমানে'র কথা শুনে হাসতে হাসতে বললেন,

- "তুমি কখনো ওর কথায় কিছু মনে করো না বাবা।
মেয়ে টা একটু চঞ্চল স্বভাবে'র ছোটো বেলা থেকে।"
ইমান তখন মুচকি হেসে বললো,
- "অবশ্যই আন্টি,
আচ্ছা আপনি ব্যারেস্টারি পড়াবেন না মিমকে?" তিনি হাস-মুখে বললেন,
- "নিশ্চয়'ই!
তবে মেয়ে আমার প্রফেশনাল ভাবে আগাতে চাইছে।
আমি চেয়ে ছিলাম। ও ইংল্যান্ডে'র কোনো একটা ইউনিভার্সিটি থেলে ল' নিয়ে পড়াশোনা করুক। কিন্তু আমি কোনো কিছুর বিনিময়ে রাজি করাতে পারিনি মেয়ে টা কে।
ও আমার কথা শুনলে,,,,,,, এতো দিনে একাডেমিক লেভেল থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে বেড়িয়ে যেতো।
তবে মেয়ে আমার প্রফেশনাল রুট টাই বেঁচে নিয়েছে,
তার বক্তব্য সে আমাকে এখানে রেখে বিদেশে গিয়ে থাকতে পারবে না। যদিও!
আমি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হ'য়ে ফিরে এসেছি মেয়ের কাছ থেকে। তবুও এটা আমার শান্তি,
মানুষিক শান্তি। যে আমার সন্তান আমার চোখে'র সামনে আছে।"
- "সে ঠিক আছে, কিন্তু আন্টি ওকে যে রেগুলার ল'
প্রাকটিসে'র মধ্যে থাকতে হবে?" মিম হঠাৎ গ্লাসে

পানি নিতে এসে বললো,
- "আপনি কি মনে করেন?
আমি কোনো প্রাকটিসে'র মধ্যে নেই আপনি কত টুকু জানেন আমার সম্পর্কে?"
- "আসলে'ই আমি আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু জানি না। তবে জানা'র আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।"
মিম তার কথা শুনে মুচকি হেসে কিছু খাবার নিয়ে নিজের ঘরে চলে এলো।
ইমান কৌতূহল বশত মেহেরিশে'র কাছে জিজ্ঞেস করে বসলো,
- "আন্টি মিম কার কাছে প্রাকটিস করছে?" তিনি মৃদু হেসে বললেন,
- "ব্যারিস্টার বসু,,,,, যদিও! ওর প্রাকটিস চতুর্থ বর্ষে থাকাকালীন সময়ে শেষ হ'য়ে গিয়েছে। এখন আবার ব্যারিস্টার বসু'র পরামর্শে ও হাইকোর্টের বিচারপতি
মাহবুবে রশীদে'র কাছে আবারও প্রাকটিস করছে।"
বিচারপতি'র নাম শুনে'ই ইমান মুচকি হেসে বললো,

- "যাগগে ভালো,
এক জন ভালো মানুষে'র সান্নিধ্যে যাওয়ার সৌভাগ্য তার হ'য়েছে।"
- "হুমম! তা ঠিক। ওনার মতোন মানুষ লাখে একটা হ'য়। আচ্ছা বাবা আর একটু দেই তোমাকে?" ইমান হাসতে হাসতে বললো,
- "স্টাটারে এতো খেলে মেইন কোর্স সম্পন্ন হবে না আন্টি। প্লিজ...!
আর জোরাজোরি করবেন না আমাকে।" মেহেরিশ এরপর আর কোনোকিছু নিয়ে ইমানকে জোরজবর -দস্তি করলেন না।
ইমান নাস্তা শেষে গল্প করতে লাগলো দ্বীনের সাথে।
মায়রা এসে তখন জিজ্ঞেস করলো,
- "আপনাদের মধ্যে কেউ কি ক্যারাম খেলবেন?"
মিম আমাকে জিজ্ঞেস করতে পাঠিয়েছে। ইমান সঙ্গে সঙ্গে বললো,
- "আমি খেলবো, আমি খেলতে চাইলে ম্যাডামে'র কি কোনো ওজর-আপত্তি আছে?
মিম তখন সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বললো,
- "না নেই!

চলুন, একটা ম্যাচ খেলা যাক আজকে?" ইমান ঝাড়া হাত পা হ'য়ে বললো,
- "তবে হয়ে'ই যাক। দেখা যাক,,,,, সেরা'র সেরা কে হবে?" মিম তার কথায় সায় জানালো ছোটো-খাটো একটা টুর্নামেন্টে'র আয়োজন করা হলো বাড়ি'র মধ্যে।
এই টুর্নামেন্ট খেলতে খেলতে তিনজনে'রাত বারো টা বেজে গেলো। মেহেরিশ এসে তখন বকা দিয়ে খেতে নিয়ে গেলেন চারজনকে।
ইমান তার পছন্দে'র গরুর গোস্তো আর রুটি খেতে খেতে বললো,
- "আন্টি আপনার হাতের রান্না লা'জবাব, স্টাটারে'র স্ন্যাক্স গুলো ও আমার বেশ দারুণ লেগেছে।
প্রেজেন্টেশন টেন অন টেন। প্রতি টি খাবারে'র স্বাদ আমার কাছে অমৃত বলে'ই মনে হয়ছে।
" মেহেরিশ তখন মৃদু হেসে বললেন,

- "কিন্তু বাবা!
আমি যে কোনো প্রকার স্ন্যাক'স বানাইনি, স্টার্টারে তুমি তুমি যত স্ন্যাক'স খেয়েছ। সব আমার এই মেয়ে বানিয়েছে।
আমি আধুনিক রান্না-বান্নায় অভ্যস্ত নই কিন্তু আমার কন্যা বাজিমাত করেছে দু'ই দিক থেকে।।।।। তার যে কোনো রান্না'ই খুব স্বাদের। মেইন কোর্সে'র পর মেয়ে আবার তোমাদের জন্য ডেজার্টে ফালুদা আর ডিম পিঠা বানিয়েছে।"
ইমান এবার মিমে'র দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বললো,
- "আপনার ঝগড়া করা ছাড়াও আরও অনেক গুণ আছে দেখছি? মানতে'ই হচ্ছে। যদিও..! আমার ডিম খেতে ভালো লাগে না।
তবে আপনি এতো ভালোবেসে বানিয়েছেন এই বার একটু টেস্ট করে দেখতে হচ্ছে।"
মিম ততক্ষণে নিজের খাওয়া শেষ করে উঠে গেলো ইমান তাকে জিজ্ঞেস করলো,
- "একটা রুটি খেয়ে'ই আপনার পেট ভরে গেছে?"
মেহেরিশ তখন হাসতে হাসতে বললেন,
- "ও এভাবেই খেতে অভ্যস্ত বাবা।

একটু পরে'ই দেখতে পাবে সলিড গোস্তো'র বাটি নিয়ে বসে গেছে।
হাড্ডি-গুড্ডি চিবোতে এক দম পছন্দ করে না মেয়ে টা।
তার জন্যে সবসময় হাড্ডি ছাড়া গোস্তো কিনতে হয় বাজার থেকে। সেভেন আপে'র পাগল।
কিনে কিনে সবসময় ফ্রিজ টা ভর্তি করে রাখে।" ইমান হাসতে হাসতে বললো,
- "এর জন্য'ই,,, ওনার গায়ে একটু ও জোর নেই আন্টি। মনে হ'য় যেন ফুঁ দিলে উড়ে যাবে।
" মিম তার কথা শুনে কোনো পতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজের ঘরে চলে এলো।
ইমান ডেজার্ট খেতে খেতে মেহেরিশ কে বললো,
- "আন্টি সত্যি.......! ফালুদা আর ডিম পিঠা দু'টোই অনেক ভালো লেগেছে ।
ডিম পিঠা থেকে ডিমে'র কোনো গন্ধ আসেনি।
আমি যে ডিম খেয়েছি সে টা এক মুহূর্তে'র হয়নি আমার কাছে।
" তারপর, তিনি ইমান কে গেইট অব্ধি ছাড়তে এসে বললেন,
- "বাবা সময় সুযোগ করে মাঝা মাঝে বেড়াতে এসো এ বাড়িতে।"
- "সে আপনি না বললে ও আমি আসবো। আচ্ছা আন্টি আজ আসি তবে?"
- "হুমম, সাবধানে যেও বাবা।"
- "ঠিক আছে।" বাড়িতে ফিরে এসে ইমান ফেসবুকে ঘাটাঘাটি করছিল। তখন একটি গ্রুপে দেখতে পেলো দ্বীন মিমকে মেনশন করে বলছে,
- "ফিউচার এডভোকেট আপা....!
দয়া করে এখানে এসে একটু পরামর্শ দিয়ে জান ভাইটা কে।" মিম তার উত্তরে বললো,

- "দেখ ভাই আমি এখনো বার কাউন্সিল অধিভুক্ত এডভোকেট নই।
কাজে'ই পরামর্শ দেওয়া কি উচিৎ হবে?" তখন একজন এডভোকেট মিম কে মেনশন করে বললো,
- "কেন নয়? এমন ও হতে পারে যে আপনার ভালো পরামর্শে ভাইটি'র কোনো উপকার হবে?"
মিম তখন ভদ্রলোক কে পরামর্শ দিতে বললো,
- "দেখুন ভাইয়া,,,,,,,, প্রথমত আপনাকে আপনার স্ত্রীয়ে'র বিরুদ্ধে কোর্টে গিয়ে একটা মামলা দিতে হবে।
কারণ সে বিয়ে'র পরে সকল টাকা পয়সা ও গহনা নিয়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গেছে।
এতে একটা প্রমান থাকবে, যে আপনি নির্দোষ।
কারণ এরকম মহিলারা বেশি দিন টিকতে পারেনা প্রেমিকের সাথে। দেখা যাবে আজ না হোক কাল সে ফিরে এসে আপনার নামে'ই নারী নির্যাতন কিংবা যৌতুকের মামলা ঠুকে দেবে।
আর তাছাড়া ডিভোর্স যখন দিবেন।।।।। দেনমোহর আপনাকে অবশ্য'ই পরিশোধ করতে হবে। কাজে'ই
আগে এক টা মামলা দিয়ে নিজে'র অবস্থান পাকা- পোক্ত করে ফেলুন। এতে ভবিষ্যতে আপনার অনেক সুবিধা হবে।

অতঃপর আপনার স্ত্রীয়ে'র পরকীয়ার সকল প্রমাণ কালেক্ট করুন।।। আপনাদের বিয়ে'র কাবিননামা সংগ্রহ করুন কারণ,,, এ গুলো সংগ্রহ ছাড়া আপনি কোনো ক্রমেই এগোতে পারবেন না আইনি ভাবে। আর আপনাদের সন্তানের ভালো করে যত্ন নিন আমি মনে করি না তার মায়ে'র করা পাপে নিষ্পাপ ওই বাচ্চাটির কোনো দোষ আছে।
সন্তানের দিকে খেয়াল রাখুন,,,,,,, তার যত্ন নিন আশা করছি ভাই আপনার এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।"
মিমের পরামর্শ কেন যেন যথার্থ মনে হতে লাগলো ইমানে'র। সে মিম কে মেনশন করে জিজ্ঞেস করলো,
- "ম্যাডাম!
এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী কি কি ধরনে'র মামলা দিতে পারবে?" মিম ইমানের প্রশ্নের উওরে বললো,
- "প্রথমত,
স্ত্রীয়ে'র অবৈধ এবং বাতিল দ্বিতীয় বিয়ে'র জন্য মামলা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে'ই সর্বোচ্চ 7 বছরে'র জেল হবে। The Penal Code । Section 494, 420

দ্বিতীয়ত,
চুরির মামলা দিতে পারবে কিন্তু সেটা গ্রহনযোগ্য কি না সে টা এক মাএ কোর্ট বিচার করবে। The Penal Code । section 379
তৃতীয়ত,
মানহানির মামলা দিতে পারবে। The Penal Code ।Section 499
" আমি আশা করছি,,,,,,,,, এগুলো করে রাখলে উনি অন্তত,,,,,,, মিথ্যে নারী নির্যাতন এবং যৌতুকের কেস থেকে রেহাই পাবে।" ইমান অনেক ভেবেচিন্তে মিমকে ইনবক্স করে বললো,
- "ম্যাম!
আপনি কি ফ্রী আছেন? একটু সময় দিতে পারবেন আমাকে??" মিম তার ম্যাসেজ দেখে মুচকি হেসে রিপ্লাই দিয়ে বললো,
- "দেখুন!
আমি এখনো ওলি-আউলিয়াদের পর্যায়ে চলে যাইনি আপনারা যেমন মনে করে বসে আছেন আমাকে। এবার বলুন, জনাব। আমি আপনার কোন উপকারে
আসতে পারি? কি হ'য়েছে?"

- "শুনুন!
এভাবে না আপনাকে ম্যাসেজ দিয়ে এতো কথা বোঝানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা কি ফোনে কথা বলতে পারি?"
- "ঠিক আছে।।।" অতঃপর,,,, মিম নিজের নম্বর টা ইমান কে দিলো। ইমান ওকে ফোন করে সালাম দিয়ে বলতে শুরু করলো,
- "আসলে,,,,,,, আমার এক বন্ধুর চারিত্রিক ত্রুটির কারণে তার গত পাঁচ বছরে'র পুরোনো সংসার ভাঙতে চলেছে।
সে এখন নতুন প্রেমে মত্ত,বউ বাচ্চা ফেলে ওই মহিলা কে সঙ্গে নিয়ে সে এখন নোংরামিতে মেতে উঠেছে।
আমি ওকে অনেক বার বোঝানো'র চেষ্টা করেছি কিন্তু কিছুতেই বুঝতে চাইছে না সে। ওর এমব বোকা
-মির জন্য বাচ্চাটার লাইফ হ্যাম্পার হচ্ছে। বাচ্চা'টা
অনেক বেশি সাফার করছে।
ওর ওয়াইফ অর্থাৎ ভাবি অনেক ভালো মানুষ, ভাবি চাইছেন সন্তানের জন্য হলেও তাকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখতে। কিন্তু সে কিছুতে'ই তার কথা শুনতে
চাইছে না।
আমি চাই আপনি একবার কথা বলে দেখুন আমার ওই বিগড়ে যাওয়া বন্ধুটি'র সাথে।" মিম তার সকল কথা শুনে বললো,

- "আমি জানি না,,,,,,, আমি ঠিক কিভাবে সাহায্য করবো আপনাকে।
তবে আপনি দয়া করে ওই মহিলা'র ব্যাপারে ভালো করে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখুন। ওনার উদ্দেশ্য টা কি সেটা আমাদের বুঝতে হবে।
তার নতুন প্রেমিকা হলে ভদ্রলোকে'র টাকা-পয়সার পিছনে ছুটছে আর পুরোনো প্রেমিকা হলে নিশ্চয়'ই কোনো বদমতলবে ফিরে এসেছে। আর তাছাড়া ওই মহিলা এবং আপনার বন্ধুকে আর কি বলবো? এই
ধরনের লোক গুলোর রুচিতে এতো সমস্যা যে অন্যে
এর খাওয়া জিনিস খেতে খুব ভালো লাগে।" অপর- পাশ থেকে ইমান মুচকি হেসে বললো,
- "এ ক্ষেত্রে আমিও আপনার সাথে একমত। আমি বিরক্ত হয়ে গেছি নিজে'র সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু'র এমন অবস্থা দেখে।" মিম তাকে আশ্বাস দিয়ে বললো,,,,,
- "দেখুন,
মন ছোটো করবেন না।।। আমরা শুধু চেষ্টা করে দেখতে পারি ঠিক আছে?
উনি সেটা ভালোয় ভালোয় বুঝতে পারলে ভালো নয়তো তার যথাযোগ্য শাস্তি আল্লাহ তায়ালা'ই তাকে দেবে।
যাগগে সে সব কথা, রাত তো কম হলো না ঘুমান। আমার ঘুমের সময় হ'য়ে গেছে।"
- "শুভরাত্রি।"
- "শুভরাত্রি আপনাকে।"

চলবে....

No comments