Breaking News

মনের মানুষ । পর্ব - ০৭



সকালে মিম ইমানে'র কথা মতো' ই হোটেল ব্লু'বার্ডে

পৌঁছে গেলো। সেখানে এসে সে দেখতে পেলো ইমান আগে থেকেই তার বন্ধুর জাবিরের সাথে বসে আছে। ইমান মিম কে দেখা মাঐ বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো
হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলো,
- "ম্যাডাম...!
আমাদের জন্য আবার কোনো অসুবিধে ফেস করতে হয়নি তো আপনাকে পথে-ঘাটে?" মিম তার জবাবে মৃদু হেসে বললো,
- "না হ'য়নি, এবার কাজের কথায় আসা যাক? সেই ভদ্রলোক এখন কোথায় আছে?"
জাবির তখন এগিয়ে মিম কে উদ্দেশ্য করে বললো,
- "ম্যাডাম...!
আপনি দয়া করে আমাকে না বুঝিয়ে আমার বন্ধু কে বোঝান।
আমার কিন্তু সিদ্ধান্তঃ নেওয়া হ'য়ে গেছে।।। আমি এখন আর এই বিষয় নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলতে চাই না। কারণ আমি মনে করি না,,,,,, যে আমার এই সিদ্ধান্তে কোনো ভুল আছে।" মিম তখন তার কথা শুনে হাসতে হাসতে বললো,
- "শুনুন মশাই, যখন মানুষের প্রকৃত বুদ্ধিশুদ্ধি লোপ লায়। তখন তারা এরকম'ই ছেলে-মানুষী করে বসে।
আর রইলো আপনার এই ধরনে'র উদ্ভট সিদ্ধান্তে'র কথা।

আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন যে কেন আপনার এক্স গার্লফ্রেন্ড আবারও আপনার
লাইফে ফিরে আসতে চাইছে। মানলাম আপনি তাকে এখানো ভালোবাসেন কিন্তু
তিনি কি ভালোবাসে আপনাকে?
আপনি একজন বিবাহিত পুরুষ মানুষ। কিন্তু বাড়িতে নিজের বউ বাচ্চা ফেলে রেখে
এসে এমন নোংরামি করে বেড়ানো কি মানায় আপনাকে?
আপনি একটা সিদ্ধান্তঃ নিয়েছে ভালো কথা।
আপনার চরিত্র যখন এমন, তখন বিয়ে করে আরও দু'জন মানুষের জীবন নষ্ট করার
অধিকার আপনা- কে কে দিয়েছে? আপনি এখানে অকৃতজ্ঞে'র মতো

শুধু নিজের কথা চিন্তা করছেন।
কখনো কি ভেবেছেন আপনার সন্তানের কি হবে?
এতো প্রেমিকা প্রেমিকা করে আপনি পাগল হচ্ছেন।
ভুলে গেছেন না কি? যে এই মহিলা একদিন আপনা-
কে ফেলে কোনো এক পয়সাওয়ালা লোককে দেখে বিয়ে করেছে।
আমি আসলে ভেবে পাইনা, এই ধরনে'র লোভী আর
সুযোগসন্ধানী মানুষের ওপরে আপনাদের আস্থা কি করে জন্মে যায় এতো সহজে?
নিজেকে সকলের সামনে সস্তা প্রমাণ না করলেই নয়
।।।।। আদর্শ বাবা'র হওয়ার বদলে নিজে'র এ কোন দৃষ্টান্ত আপনি স্থাপন করতে চাইছেন আপনার এক মাত্র সন্তানে'র কাছে?
আপনার সন্তানে'র কথা না হ'য় বাদ দিলাম। কিন্তু তার মা? আপনারা স্ত্রী আপনাকে ভালোবসে কোন অপরাধ করেছে?
আপনি আসলে'ই এক টা অকৃতজ্ঞ আর বেইমান লোক। আপনার মতো চরিত্রহীন লোকে'র জন্য অন্য লোকে'র ইউজ করা জিনিস একদম ঠিক আছে।।।

অবশ্য,
আপনি ও অন্যে'র ছুড়ে ফেলা জিনিস৷।। যাগগে, আমার মনে হয় না যে আমার আপনার মতো একটা লোকে'র পেছনে বাজে কথা খারচ করা'র কোনো প্রয়োজন আছে। আপনি বরং আপনার সপ্নের দুনিয়া
-য় বাস করুণ।
সুযোগ সময় বুঝে ওপর-ওয়ালা আপনাকে আপনার
কর্মে'র ফল ঠিক বুঝিয়ে দেবে।" জাবির তখন মিমের দিকে তেড়ে গেলো। ইমান ওকে থামিয়ে দিয়ে বললো,
- "তোর যখন এই সিদ্ধান্ত, তখন আমাকে আজীবন এর মতো তোর সঙ্গ ছাড়তে হবে।"
- "ইমান?"
- "চেঁচিয়ে কোনো লাভ নেই জাবির।
কারণ,,,,,, আমি চাই না অন্তত তোর সঙ্গে মিলেমিশে রসাতলে যেতে। নির্লজ্জতার একটা সীমা থাকে ভাই,
তুই অলরেডি সেটা পার করে ফেলেছিস অনেক দিন আগে।"
- "হুমম,,,,,,, সে নয় বুঝলাম! কিন্তু নতুন প্রেমে মজে দেখছি তোর হালচাল আমার থেকেও বেশি খারাপ হয়ে গেছে?

তা ভাই এটা টিকবে তো হুমম????? না কি এ পাখি ও দানা মে*রে গিয়ে অন্য ডালে গিয়ে শেষমেশ বাসা বাঁধবে।
না মানে, সাত বছর প্রেম করে ও তোর বিয়ে টা শেষ-
মেষ করা হ'য়ে উঠলো না। অতঃপর,,,,,ধোঁকা খেয়ে শুনেছিলাম না কি তোর মেয়ে মানুষের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে?
সে যা হওয়ার হ'য়ে গেছে। আমিও দেখবো ভাই তোর এই নতুন সম্পর্ক ঠিক কত দিন টেকে? ছ্যাঁকা খেয়ে বিবাগী হ'য়ে গিয়েছিলি। সহ্য করতে না পেরে অবশে -ষে মক্কা থেকে হজ করে হাজি তকমা নিয়ে ফিরে এলি বাড়িতে।
তাতে লাভ কি হলো ভাই? কিছুনা, সেই তোর জীবন দ্বিতীয় নারীতে আটকে রয়েছে। তবে আমি চাই তুই
এইবার যেন সুখী হও।
আবার যেন তোকে ভালোবাসা'র লোভে ঘুরে-ফিরে না যেতে হয় তোর প্রাক্তন প্রেমিকা'র কাছে।" ইমান তার কথা শুনে হাসতে হাসতে বললো,
- "দেখ ভাই আমার রুচি এতো টাও খারাপ না ঠিক আছে? আমি অন্তত তোর মতোন বেহায়া না।" কথা গুলো বলে'ই ইমান মিমে'র হাত ধরে বেড়িয়ে এলো রেস্টুরেন্ট থেকে।
সে গতি বাড়িয়ে হাই স্পিডে গাড়ি ড্রাইভ করতে শুরু করলো। কিছুদূর, যাওয়ার পর মিম ব্রেক করে গাড়ি থামিয়ে ইমানকে বললো,

- "এক জন সাইকোলজিস্ট হ'য়ে, এই ভাবে গাড়ি চালানো টা কি আপনার ঠিক হ'য়েছে? দেখুন, জনাব আপনার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি ছিলো না।
আল্লাহ মুখ তুলে চাইলে উনি একদিন ঠিকই নিজে'র ভুল টা নিজে বুঝতে পারবে। কিন্তু,,,, তফাৎ হলো যে তখন ওনার আর কিছু করার থাকবে না। উনি চাইলে ও পারবেনা নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসতে।
ভদ্রলোক তার স্ত্রী সন্তানে'র কথা ভাবলেন না। তবে এর জন্য উনি এক দিন নিজে'ই রিপেন্ডে করবে।"
ইমান তখন হাসতে হাসতে বললো,
- "ও যে কি করবে আমার সে সম্পর্কে ধারনা নেই।
গতকাল ও আমাকে বলে ছিল ও ওর প্রেমিকা কে তার দু'ই সন্তান সহ বিয়ে করবে।"
- "আর তার নিজে'র সন্তান??" বললো,
- "ছেলে কে সে তার কাছে'ই রাখবে।" মিম তখন তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠলো,
- "আপনার কি মনে হ'য়?
উনি সন্তানের আইনি অভিভাবক বলে এতো সহজেই পার পেয়ে যাবে? রশ্মি আপু সন্তানে'র অভিভাবকত্ব পেতে চাইলে ওনাকে লিগাল এইডে কেইস ফাইল করতে বলুন। আমি সাহায্য করবো ওনাকে।"
- "আর কিছু্"

- "আপনার বন্ধু'র পরকীয়া'র প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। আপনি বলে ছিলেন তিনি আপুকে মার-ধোর করে বাসা থেকে বের করে দিয়ে ছিলো। এই হিসেবে নারী নির্যাতনের কেইস দেওয়া যেতে পারে তাকে।"
ইমান মুচকি হেসে বললো,
- "অলরেডি ভাবির পক্ষ থেকে ইনিশিয়েটিভ নেওয়া হ'য়েছে।
তবে আপনার পরামর্শে লিগাল এইডে কেস ফাইল করতে বলবো তাকে। বর্তামানে কিছু পুরুষ মানুষ ধর্মীয় জ্ঞান বলতে চার চারটে বিয়ে করাকে'ই বোঝে এরা এতটুকু জানে না, যে এই চার বিবাহে'র ক্ষেত্রে
কিছু শর্ত আরোপ করা হ'য়েছে।
শর্ত পূরণের নাম নেই অথচ ভাবে চারটি বিয়ে করতে পারলে চ্যাল-চ্যালাইয়া জান্নাতে চলে যাবে। রাবিশ যেন কোথাকার, এমন খবিশ মেন্টালিটির জন্য মেয়ে রা সকল পুরুষকে একই দাঁড়ি পাল্লায় মাপে।" মিম তখন প্রসঙ্গ পাল্টে বললো,

- "আপনি যে হজ করেছেন এ টা জেনে আমার খুব ভালো লেগেছে।"
- "সত্যি'ই।"
- "জ্বি!"
- "যাক আমার কোনো কিছু তো আপনার সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে।" মিম হাসতে হাসতে বলল,
- "বিষয় টি আসলে এমন কিছু'ই না। কেউ ভালো কিছু করলে আমার তাকে সেই ব্যপারে উৎসাহিত করতে অনেক ভালো লাগে।"
- "ইউ আর সো সুইট।"
- "ইউ নো হোয়াট? ইউ আর অলসো।"
- "রিয়াল?"
- "পাম কি বেশি দেওয়া হ'য়ে গেছে?" ইমান হাসতে হাসতে বললো,
- "না না, বলুন কোন রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে যাবো আপনাকে?? আপনার পছন্দে'র রেস্টুরেন্টে'র নাম বলুন। আজ আমি ট্রিট দেবো আপনাকে।"
মিম কথায় কথায় বেখেয়ালে ইমানে'র বাম হাত জড়িয়ে ধরে বললো,
- "আশ্চর্য!

সব সময় কি হাই-ফাই খাবার খেতে ভালো লাগে? এর চেয়ে রোড সাইড হোটেল কিংবা মোটেলে চলুন ওনাদের খাবারের ও মান ভালো, অনেক ভ্যারাইটি থাকে।"
মিমের কথা শুনে,,,,,,,,, চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলো ইমান। হঠাৎ মিম খেয়াল করে দেখলো,,,,, সে ইমানের হাত জড়িয়ে ধরে বসে আছে। ও সেই হাত ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পরলো। ইমান মুচকি হেসে বললো,
- "আমরা তো এখন ভালো বন্ধু, ব্যাপার না ইট'স ওকে।" মিম ভ্রু কুঁচকে বললো,
- "না ওকে না মশাই! আমরা ও শত্রু বলে মনে হচ্ছে আপনাকে দেখে।
যাগগে সে সব কথা,,,, পিছনে সাদা পাজেরো গুলো
আমাদের ফলো করছে কেন? এই গাড়ি গুলো কে
আপনার বাড়ির সামনে দেখেছি আমি এর আগে।" ইমান সঙ্গে সঙ্গে হাসতে হাসতে বললো,
- "ও গুলো আমার বডি গার্ড ম্যাডাম! সঙ্গে আসতে বারণ করেছিলাম তাদেরকে।
যাগগে ওদের সাথে একটু মজা করা যাক। তাদের পথ ভুলিয়ে রেখে আমরা অন্য রাস্তা দিয়ে খেতে চলে যাবো ঠিক আছে?"

- "আছে।" অতঃপর,,,,,,, যেই ভাবা সেই কাজ ইমান মিম কে নিয়ে গার্ডদে'র নজর এড়িয়ে 'আপ্যায়ন' নামক এক হোটেলে পৌঁছাতে সক্ষম হ'য়েছে।।।।"
তারপর তারা ভিতরে ঢুকে একটা কেবিন নিয়ে বসল
ইমান ব্লেজার টা খুলে চেয়ারের ওপরে রেখে হাসতে হাসতে বললো,
- "ওদের এমন বাঁদরনাচ নাচাতে আমার খুব ভালো লদগছে।" মিম তখন মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলো,
- "বলুন কি খাবেন?
এখানে কিন্তু স্পেশাল হাঁসের মাংস, আতপ চালের রুটি এবং মুরগী ভুনা ও খাসি'র ভূনা আছে।" সে
বললো,
- "আরেহ কেয়া বাত........! তাহলে দেখছি টেষ্ট করে দেখতে হচ্ছে?"
তখন বাহিরে ইমান রুস্তমে'র গলা শুনতে পেলো, সে
মিমকে বললো,

- "ওরা দেখছি এখান অব্ধি পৌঁছে গেছে?" মিম ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো,
- "এর জন্য'ই আমার সেলিব্রিটি পছন্দ না। জাস্ট,,,,, অসহ্য লাগে।"
মিমের কথায় মুখ কাচুমাচু করে রাখলে ইমান তখন মিম উঠে গিয়ে ইমানে'র কোলে বসে বললো,
- "শক্ত করে জড়িয়ে ধরুণ আমাকে।"
- "মানে কি?
- " কি আবার? ধরা না পারত চাইলে, যা বলছি তাই করুণ ঠিক আছে?" ইমান যেন আহাম্মক বনে গেলো মিম তখন তার গাল টা চেপে ধরে চলে এলো ঠোঁটের খুব কাছে।ইমান হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইলো, মিম তার ঠোঁটে'র ওপরে দু'টো আঙুল রেখে চুমু খেলো নিজের হাতে।
রুস্তম দরজা ঠেলে বিব্রতক'র অবস্থায় পরে গেলো। সে ভালো না চেক না করে'ই বেড়িয়ে এলো সেখান থেকে। মিম ঝটপট ছিটকে ইমানের কাছ থেকে দূরে সরে গেলো। ইমান তখনো চোখ বুঝে আছে। মিম মৃদু হেসে বললো,

- "হ'য়েছে ভাই ফিল নেওয়া? আপনার বডিগার্ডেরা চলে গেছে।" মিমের কথা শুনে হেসে ফেললো ইমান, সে বললো,
- "আপনার বুদ্ধির তারিফ করতে হচ্ছে।" মিম বলল,
- "নাহ তার কোনো প্রয়োজন নেই মশাই।।।।।। ইটস ওকে।"
রাতে আইভার মন্ত্রী মশাইয়ে'র পার্টি অফিস থেকে ফিরে এসে'ই ইমান কে ফুর-ফুরে মেজাজে দেখে বললো,
- "কি ব্যাপার ভাইয়া? আজ তোমাকে অনেক বেশি খুশি বলে মনে হচ্ছে?" ইমান বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে মিমের কথা ভেবে বললো,
- "নাথিং স্পেশাল। কেন?"
- "তেমন কিছু না, আচ্ছা ভাইয়া এক বার নিজে'র জীবন সঙ্গিনী নির্বাচন করতে ভুল হওয়ায় এই বার তুমি কেমন মেয়েকে তোমার জীবন সঙ্গিনী হিসেবে প্রাধান্য দেবে?"
ইমান মুচকি হেসে ছোটো ভাইয়ের কথায় জবাব দিল
- "যদি বিয়ে করি, তাহলে এমন মেয়েকে বিয়ে করব যে কিনা আমাকে মানুষিক শান্তি দেবে, আমার সব
কাজে যে কি-না আমাকে উৎসাহ দেবে।"

- "তার কারণ?"
- "দেখ আইভার, ভালো অনেকে'ই বাসে কিন্তু কথা দিয়ে সেই কথার মূল্য কয়েকজনে রাখে?
আমি আমার এতো দিনের কর্ম অভিজ্ঞতা থেকে যা বুঝলাম, সবচেয়ে বেশি ঝামেলা গুলো হয় ভালোবা
সার বিয়েতে।
এ্যারেঞ্জম্যরেজে যে হয় না এমন টা নয়, তবে আমার কাছে ম্যাক্সিমাম লাভ ম্যারেজ করা কাপেল পরামর্শ নিতে আসে। তারা সুখী নয়, কেউ সংসার জীবনে
স্যাকরিফাইস করতে রাজি নয় এই জিনিস গুলো দেখতে আসলে খুব খারাপ লাগে।
কাজেই আমি এমন একজন জীবন সঙ্গিনী কে চাই
যে কি না আমার মানুষিক প্রশান্তির কারণ হবে।।।।"

চলবে....

No comments