Breaking News

মনের মানুষ । পর্ব - ০৮



কথা বলা শেষ করে ছাঁদে চলে এলো ইমান। সে মন খারাপ করে বসে আছে।

কিছুক্ষণ পর,,,, মিম ছাঁদে হাওয়া খেতে চলে এলো।

সে খেয়াল করে দেখলো, ইমান খুব মনোযোগ দিয়ে
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ও চুপচাপ নিজের দোলনায় চেপে বসলো। পাশে'র বাসা'র ছাঁদে চোখ যেতে'ই বলে উঠলো,
- "ধুরর, ছাঁদে আসতে পারলাম না আর অলরেডি এই খবর এলাকার সিসিটিভি আন্টির কানে পৌঁছে গেছে।"
মিমের কথা শুনে ইমান হাসতে হাসতে বললো,,,,,,,,,
- "তাহলে বুঝুন........" আপনি আমার থেকে ও বড় মাপে'র সেলিব্রিটি। লোকে হর-হামেশা'ই আপনার পেছনে লেগে থাকে।" মিম তার কথা শুনে হাসতে হাসতে বললো,
- "তাহলে এই বার কি করা যায় বলুন তো?? এই মহিলা আজ রাতে'ই পুরো এলাকায় আপনার এবং আমার সম্পর্কে কুৎসা রটিয়ে দেবে।"
- "সে তার যা রটাতে ভালো লাগে রটাবে। এই ধরুন না তাকে হ'য়তোবা জেলের ভাতে টানছ?" মিম মৃদু হেসে বললো,
- "মানহানীর মামলা দিলে ভালো হবে৷ কারণ,,,, এই মহিলা মানুষের নামে কুৎসা রটাতে রাটাতে অনেক সর্বনাস ডেকে এনেছে।
আমার আম্মু'র করপোরেট লাইফ নিয়ে এই ছেঁচড়া মহিলার অনেক কৌতুহল। আজকাল আবার তার আমাকে নিয়ে ও কৌতুহল টা বেড়েছে। কিন্তু, আমি এ ধরনে'র মানুষদে'র কোনো পাত্তা দেই না। আমার
মনে হ'য় না এমনতরো মানুষদে'র অন্যে'র ক্ষতি করা
ছাড়া আর তেমন কোনো ভালো উদ্দেশ্য আছে।।"
- "যাগগে বাদদিন,

পরের কথা না হয় পরে'ই ভেবে দেখা যাবে। কিন্তু আপনি এতো রাতে ছাঁদে কেন ম্যাডাম? শেওড়া গাছ এর পেত্নী টা কি আপনার কাঁধে ভর করেছে?"
- "কি জানি? তবে ভর করলেই বোধহয় বেশি ভালো হতো আপনার ঘাড় টা মটকে দিতাম নিজের হাতে?"
- "বাব বাহ.....! আপনার শখ দেখছি ষোলো-আনা
আছে?"
- "সে তো আছে, কিন্তু সেটা আপনার ঘাড় মটকানো অব্দি'ই সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু আপনি এতো রাত পর্যন্ত ছাঁদে কেন?
আন্টি সুস্থ আছেন? তিনি ভালো আছে?" ইমান মৃদু হেসে বললো,
- "জ্বি আছে।"
- "কফি খাবেন?" ইমান ভ্রু কুঁচকে বললো,
- "দু'ই বাড়ির মাঝখান থেকে রাস্তা ম্যাডাম, কিভাবে?"
মিম দুষ্টু হেসে বললো,
- "ঘরে গিয়ে নিজে বানিয়ে খান।" এবার ইমান শত চেষ্টা করে ও পারেনি নিজে'র হাসি সামলে রাখতে।
তখন মিম তাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
- "অনেক দিন এলাকার কোনো বিয়ে খাইনি আপনি বিয়েটা করেছেন কবে?"
- "আমি বিয়ের কথা এখনো ভাবছি না, তবে আপনি করলে জম্পেশ করে কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া
করা যাবে।"

- "আহারে গাছে কাঁঠাল নেই, উনি আগে'ই গোঁফে তেল দিয়ে বসে আছে। আজব.......!
ভিন গ্রহ থেকে বুঝি ল্যান্ড করেছেন পৃথিবীর বুকে?"
- "সে যেখান থেকে'ই করি না কেন ম্যাডাম। আপনা
-কে কি সকল কৈফিয়ত দিতে হবে?"
- "নিশ্চয়ই না, আশে-পাশে তাকিয়ে দেখুন জনাব,,, চামচিকেতে কান পেতে বসে আছে।" মিমে'র কথা শুনে'ই ওখান থেকে দ্রুত প্রস্থান করলেন মিসেস আফরান।
ইমান হাসতে হাসতে বললো,
- "এই মহিলার কি খেয়ে কোনো কাজ নেই? এমন'ই কান পেতে বসে থাকে?" মিম হাসতে হাসতে বললো,
- "উনি এলাকার সিসিটিভি আন্টি..! প্রতিটি বাড়ি'র
হাঁড়ির খবর ওনার কাছে থাকে।
লাগলে "আমি আফরান মাতুব্বরের বউ" আইডিতে নক দিবেন গোয়েন্দা বিভাগের আগে এসে আপনার কানে খবর পৌঁছে দিয়ে যাবে।" মিমের কথা শেষ হতে না হতেই আইভার এসে বললো,
- "হুমম, তোমরা না কি প্রেম করছ এই খবর সে ভাইরাসে'র মতো'ই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দেবে।
শা*লির এই স্বভাবের জন্য আমার নীলার সাথে প্রেম করা হয়ে উঠলো না।কি জানি? নিজেকে কি ভাবে?"
- "হুমম, তা ঠিক।
কিন্তু আমার খুব খারাপ লাগে ভদ্রমহিলা'র স্বামী কে দেখে।
উনি একদম নিরীহ মানুষ 'ক' বললে 'খ' বের হ'য় না তার মুখ থেকে।" ইমান দু'জনের কথা শুনে মুচকি হেসে বললো,
- "সে যাই হোক...! উনি গুজব ছড়ালে ওনার কপাল কাল ঢের দুঃখ আছে।"
- "বুঝালাম, কাল যে কি হবে তা সকাল হলেই বোঝা যাবে।"
রোজকার মতো মিম সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে বেরিয়ে গেলো। তখন মিসেস আফরান তার এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্ক মিম কে দেখে বললো,
- "আপাকে কখনো এলাকার মহিলা ক্লাবে দেখা যায় না। উনি কি এতো টাই ব্যস্ত থাকে?" মিম সকলে'র উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বললো,

- "দেখুন আন্টি আমার আম্মুর না আপনাদের মতো এতো আজাইরা সময় নেই।
পুরো একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি চালানো কি মুখে'র কথা? কি মনে হয় কি আপনাদের কাছে?" মিসেস আফরান তখন বাঁকা ঠোঁটে'র হাসি দিয়ে বললেন,
- "আসলে'ই সে সব সামলানো মুখে'র কথা না। কি ভাবে যে সামলায় সে আমাদের জানাই আছে।" মিম তখন নিজের রাগ সামলে নিয়ে বললো,
- "তাই বুঝি?
ক্লাস ফাইভ পাস ও না আপনি? নিজেকে কিভাবে তুলনা করছেন একজন গ্রাজুয়েটের সাথে? আপনার যোগ্যতা ওই মানুষে'র ঝোল টেনে তার ব্যাপারে নাক গলানো অব্ধি।
এ ছাড়া আরকি যোগ্যতা আপনার আছে? নিজের ছেলে-মেয়ে একটাও কে মানুষ করতে পারেননি
এই ধরনের কথা কি সাজে আপনার মুখে?
ও হ্যাঁ যোগ্যতা থাকলে আপনি ও ঠিক আমার মায়ে'
র মতো চাকরি করতেন। এলাকা ঘুরে মিথ্যে বদনাম রটাতেন না মানুষের সম্পর্কে।

আর স্নিগ্ধা আন্টি আপনি না প্রাইমারী স্কুলের হেডমাস্টার? একজন চাকরিজীবী মহিলা হয়ে আর একজনের সম্পর্কে এমন কুৎসা শুনতে খুব ভালো লাগছে?
আজ আমার মায়ে'র সম্পর্কে আমার সম্পর্কে এই মহিলা কুৎসা রটাচ্ছে।। কাল আপনাদের সম্পর্কে রাটবেনা এমন গ্যারান্টি কি উনি আপনাদের সকল কে দিয়ে রেখেছে? দেখুন আন্টি, আজ একটা কথা বলি..!
আপনারা যে আমাকে এবং আমার মা কে হিংসা করেন সে আমাদের জানাই আছে। কিন্তু জানেন কি আমাদের না ঘরের খেয়ে অন্যে'র মোষ তাড়ানো'র মতো কোনো টাইম নেই। আমরা দু'জনেই খুব ব্যস্ত যে যার কাজে।
এবং আফরান আন্টি। আজ আমি আপনাকে ছাড় -তে পারলাম না সরি। জানেন জেলের ভাতে ডাকছে আপনাকে?"
কথা গুলো বলে'ই,,,,,, সোজা হেঁটে চলে গেলো মিম দোতালায় দাঁড়িয়ে মেয়ে'র কথা শুনে মেহেরিশে'র খুব ভালো লাগছে।

এদিকে,,,,,, মিসেস আফরানে'র সাঙ্গ-পাঙ্গ তার সঙ্গ ছেড়ে হাঁটতে শুরু করলো। ইমান পেছন থেকে সব শুনে হাসতে হাসতে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
- "আন্টি আপনাদের মুখ কালো কেন কি হ'য়েছে?"
তারা খুব দ্রুত ইমানে'র পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।
সে তাদের উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
- "আর কোনো কিছু আমার কানে এলে কিন্তু খবর আছে।"
অতঃপর সে সামনে'র দিকে এগিয়ে গেলো, পার্কে এসে দেখলো মিম একটা দোকানে বসে চা বিস্কুট খাচ্ছে আর পাশে'র বস্তি'র বাচ্চা গুলো'র সাথে কি যেন কথাবার্তা বলছে?
বাচ্চা গুলো ভীষণ খুশি, মিম তাদের কিছু চকলেট আর চিপস কিনে দিলো দোকান থেকে। ইমান এসে
ওর সামনে দাঁড়ালো। মিম কে বললো,
- "আপনি চাইলে আরেক বার সুযোগ দিয়ে দেখতে পারেন মিসেস আফরানকে।" মিম তখন মুচকি হেসে বললো,
- "কুকুরের লেজ কখনো সোজা হ'য় না।
তবুও আপনারা যখন বলছেন আমাকে একটু ভেবে দেখতে হবে।"
এতটুকু বলে বাড়ির পথে হাঁটা ধরলো মিম। দুপুরে ইমান চেম্বার শেষ করে বাসায় ফিরে আসার পথে দেখতে পেলো। মিম সেই বস্তির বাচ্চা গুলোকে পার্কে বসে পড়াচ্ছে।
সবার কাছে'ই নতুন বই,খাতা,পেন্সিল, মিম সবাইকে অংক করাচ্ছে। ইমান গাড়ি থেকে বেড়িয়ে একটা বটগাছে'র আড়ালে গিয়ে দাঁড়ালো। নিজেকে তার কেন যেন চোর বলে মনে হচ্ছে?
মিম এক ঘন্টার মতো সবাইকে পড়িয়ে তাড়াহুড়ো করে বাসায় ফিরে গেলো। কারণ আজ তার কোর্ট প্রাকটিস আছে। সে বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে- দেয়ে কোর্টে'র জন্য সাদা শাড়ি, ব্লাক ব্লেজার এবং বো বেঁধে নিলো।

চটপট নিচে এসে মেহেরিশ কে জিজ্ঞেস করলো,,,,,,
- "আম্মু আমাকে কেমন লাগছে?"
- "অনেক বেশি সুন্দর মামণি....! শোনো মা আমার কিন্তু আজ এক টা কনফিডেনসিয়াল মিটিং আছে আসতে রাত হতে পারে তুমি একদম চিন্তা করো না ঠিক আছে?"
- "আছে।" মিম তারপর গিয়ে একটা রিকশায় চেপে বসলো। রিকশা ওয়ালাকে তাড়া দিতে শুরু করলো সে।
অতঃপর দের ঘন্টার পথ পারি দিয়ে সে বিচারপতি মাহবুবে রশীদে'র চেম্বারে পৌঁছাল। তিনি মিমকে হাফাতে দেখে বললেন,
- "মামণি এখনো কিন্তু আধাঘন্টা বাকি আছে।" ও ভ্রু কুঁচকে বললো,
- "ইটস ওকে,
যে জ্যামে আটকে পেরে ছিলাম,,,,,,,,,, এখানে এসে সময় মতো পৌঁছাতে সেটাই অনেক আমার কাছে।"
রাত সাত টায়,
মিম বাড়িতে ফিরে এলো,,,,,,,, শিমুল অনেক আগে থেকে'ই মিমের জন্য নাস্তা বানিয়ে রেখেছে। মিম খেতে খেতে মেহেরিশের পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নোহার কাছে ফোন করলো। নোহা বললো,
- "বিদেশি ডেলিকেট'সরা এসেছে। মিটিং শেষ করে ম্যামে'র পৌঁছে প্রায় বারোটা বেজে যাবে।"
মিম বললো,

- "ওহ আচ্ছা, তুমি মা কে খেয়ে নিতে বলো। বলে দিয়ো আমি ফোন করে ছিলাম।"
- ঠিক আছে।"
মেহেরিশে'র পৌঁছাতে পোঁছাতে রাত প্রায় বারো টা চল্লিশ বেজে গেলো। তাকে ধ্রুব সাহেবে'র সাথে ফির
- তে দেখে মিসেস আফরান আশেপাশে'র সকল কে ডেকে এনে বললেন,
- "দেখুন দেখুন বাড়িতে বিবাহযোগ্যা মেয়ের বিয়ে না দিয়ে নিজে রাত ভর পরপুরুষ নিয়ে ফূর্তি করে বাড়ি-
তে ফিরে এসেছে।"
মিম তার এই সকল নোংরা কথা শুনতে পেয়ে ছুটে এসে আফরান সাহেব কে উদ্দেশ্য করে বললো,
- "আপনি আপনার ওয়াইফকে থামতে বলুন........! আঙ্কেল,নয়তো ওনার কপালে আজ খুব দুঃখ আছে।
" তিনি তার স্ত্রী কে খুব করে বোঝানোর চেষ্টা করলে -ন, কিন্তু মিসেস আফরান তার সাঙ্গ-পাঙ্গদে'র নিজে গিয়ে ডেকে এনেছে।
তারা সকলে মিলে'ই ধ্রুব সাহেব এবং মেহেরিশকে জড়িয়ে বাজে কথা বলতে শুরু করলেন, তারা বললেন,
- "এখন বুঝি,,,, জন্যে'ই আপনার ঘর-সংসার করা হ'য়নি প্রথম স্বামীর সাথে। চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র তাই বুঝি....!

এমন রাত বিরেতে পতিতা সার্ভিস দিয়ে বেড়ান ভদ্র বাড়ির লোকেদেরকে? তার ওপরে আপনার সন্তান শুনেছি না কি অবৈধ? লজ্জা করে না?
আপনার জন্য,,,,,,,, আপনার মেয়ের জন্য আমাদের সন্তানেরা খারাপ হচ্ছে।"
মিম এবার ঘরে এসে ফোন টা তুলে নিলো নিজে'র হাতে তুলে নিলো। ইমান এসে ফোন টা ওর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বললো,
- "মাথা ঠান্ডা করুণ! আমি বোঝানো'র চেষ্টা করছি ওনাদের কে।" মিম রেগে গিয়ে ইমান কে ঝাড়ি মে'রে তার হাত থেকে নিজের ফোন টা কেড়ে নিয়ে বললো,
- "উইল ইউ জাস্ট শাট আপ?
কি পার্থক্য আছে আপনার এবং তাদের মধ্যে? আমি কিন্তু সেদিনের কথা কিছু'ই ভুলিনি তাই আপনি দয়া করে ওই লোক গুলোর হ'য়ে আমার কাছে এসে সাফাই গাইবেন না। প্লিজ আসুন দরজা ওই দিকে।"
অতঃপর, সে বারান্দায় গিয়ে যেন ফোন করলো কার কাছে।পাঁচ মিনিটের মধ্যে কাছে'র থানা থেকে পুলিশ এসে মিসেস আফরান এবং তার সাঙ্গপাঙ্গে'র এরেস্ট করে নিলো।

মিম নিচে এসে তার গাল জুড়ে থুথু মে*রে বললো,
- "মাতুব্বরের বউ না আপনি? মাতুব্বরি আমি দেখা-
চ্ছি আপনি এবং আপনাদেরকে। আগেই,,,, সাবধান করেছিলাম।
কথা কানে ঢোকেনি,,,,,, এরপর মানুষের নামে বাজে কথা বলতে গেলেও কলিজা কাঁপবে। পাজি মহিলা যেন কোথাকার।
আজ থেকে আপনাদের একদিন কি আমার একদিন এ টা না মাথায় ঢুকিয়ে নিন ভালো ভাবে।
আর বাপ-দাদা চোদ্দগুষ্টি যাকে ডেকে আনার তাকে'ই ডেকে আনুন।
আমি ও দেখি কার কত ক্ষমতা আছে?"
কথা গুলো বলে'ই মেহেরিশ কে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো মিম।
তবে মেহেরিশ মেয়েকে মাথা ঠান্ডা রেখে বললেন বার কাউন্সিল পরীক্ষা'র প্রস্তুতি নিতে।
দেখতে দেখতে তিনদিন কেটে গেলো মিম আজ বার কাউন্সিল পরীক্ষা দিয়ে
মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেহেরিশ তার কাছে জানতে চাইলেন না পরীক্ষা কেমন হ'য়েছে?
কারন তিনি মেয়ে'র প্রসন্ন মুখ দেখে'ই বুঝে গেলেন হয়তো তার রেজাল্ট আশানুরূ হবে?
পরেরদিন,, মিম
কোর্টে উপস্থিত হলো।

কারন সে মিসেস আফরান এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গদে'র ওপরে মানহানি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মানুষের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্য নিয়ে গুজব রটানোর কেস দায়ের করেছে।
যার ফল স্বরুপ,,,এই কেস থেকে আপাতত তাদের খারিজ পাওয়া অত্যন্ত দুর্বিষহ ব্যাপার কারণ কোর্টে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হ'য়েছে।
কিন্তু এরি মাঝে, মিসেস আফরানের বড় ভাই তাজ আহমেদ বিষয়টি মিমাংসা করা'র উদ্দেশ্যে মিমে'র সঙ্গে কোর্টে দেখা করতে এসেছে তবে তাকে সরাসরি জানিয়ে দিলো,
- "আমার পক্ষ থেকে,,,,,,,,,,, এই বিষয় নিয়ে কোনো মীমাংস আসা একে বারে'ই অসম্ভব। আপনার বোন
কে তার প্রাপ্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে।"
- "তুমি কি জানো আমি কে?"
- "আপনি কে না কে তা জেনে আমার কি হবে? নিজের বোন কে তো একটা অপদার্থ তৈরি করেছেন,
লজ্জা করছে না কোর্টে এসে তার হ'য়ে সাফাই গাইতে?
শুনুন, আমাকে একদম নিজের পাওয়ার দেখানো'র চেষ্টা করবেন না আর এই কথা টা মগজে ঢুকিয়েনিন খুব ভালো ভাবে।" মিমে'র ক থা শুনে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন ভদ্রলোক।
তিনি দিকবিদিকশুন্য হ'য়ে আফরান সাহেবের কাছে জানতে চাইলেন,
- "সেদিন আসলে কি হয়েছে?"

আফরান সাহেব একে একে সব খুললে বললেন, শেষে আরও বললেন,
- "সব আসলে আপনার বোনের দোষ, বাচ্চা-কাচ্চা না থাকলে কবেও তালাক দিয়ে দিতান তাকে। নষ্ট মহিলা কাজকর্ম নেই সারাদিন অন্যে'র বিষয়ে নাক গলানোর ধান্দায় থাকে।
আর এখনো যদি শিক্ষা নয় হয়, আমি জানি না যে আপনার বোনেঃর উচিৎ শিক্ষা আসলে কবে হবে।"
তাদের কথার তোয়াক্কা না করে চলে এলো মিম।
সে কোর্ট চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে।
তাজ সাহেব এসে গাড়ির কাছে দাঁড়ালেন, ড্রাইভার এসে গাড়ির দরজা খুলে দিতে দিতে তিনি খেয়াল করে দেখলেন, মেহেরিশ হাসি-মুখে এগিয়ে যাচ্ছে কারোর কাছে।
মিম মা কে দেখেই হাত নাড়লো, ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো তাকে। তিনি হাসি-মুখে মেয়েকে বললেন,
- "রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে মা!
তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ আগে গেছ,
নিশ্চয়ই! তোমার সকল স্বপ্ন পূরণ হবে।" মিম বাক-
রুদ্ধ হ'য়ে তাকিয়ে রইলো,
এদিকে,,,, বিচারপতি মাহবুবে রশীদ এবং ব্যারেস্টার বসু হাসিমুখে এসে দাঁড়িয়ে গেছে।
তারা মিমকে বাহবা দিতে লাগলো। মিম বুঝতে পারছেনা সে এই মুহূর্তে কি বলবে?" তাজ সাহেব চুপ
করে দাঁড়িয়ে অবাক চোখে মা মেয়েকে দেখ ছিলেন কারন তিনি জানতেন না মেহেরিশে'র সঙ্গে ওনার কি সন্তান হয়েছে?

কেমন যেন শরীর খারাপ লাগছে তার ড্রাইভার কে বললেন,
- "আমাকে ধরে বসিয়ে দাও গাড়িতে।"
মেহেরিশ বাড়িতে ফিরে আসার পথে এিশ কেজি মিষ্টি কিনে নিয়ে এলেন।
এই মিষ্টি সে নিজে গিয়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিলি করবে। ইমান ও এই খবর পেয়ে খুব খুশি হলো। মিম এর সাফল্য তাকে অদ্ভুত এক আনন্দ দিচ্ছে। সে হুট করেই বাড়িতে এসে হাজি হলো। মিম কে শুভকামনা জানালো।
মিম বললো,
- "কি যে করোনা তোমরা,,,,,,, এখনও এম.সি.কিউ আর ভাইভা এক্সাম বাকি আছে।" ইমান মুচকি হেসে বললো,
- "এই সব আপনার জন্য কোনো ব্যাপার? এই সব তো দুধ-ভাত আপনার কাছে।
আমি আপনার সাফল্যে সত্যি'ই মন থেকে খুব খুশি। আমার খুব ভালো লাগছে।"

চলবে,,,

No comments