Breaking News

অনুভূতিহীন । পর্ব - ২৬

৩ মাস পর।

আজ ২২ শে ফাল্গুন।
কদমতলী এতিমখানার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।
তিথি যেখানেই থাকুক এই দিনটাতে সে এতিমখানায় উপস্থিত হবে।
তার জীবন ছন্ন ছাড়া হলেও এখান থেকে সে জীবনের মানে খুজে পেয়েছিলো পৃথিবীর
সকলে তাকে ছেড়ে গেলেও এখানেই সে আশ্রয় পেয়েছিলো।
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ছেলেকে নিয়ে কদমতলী এতিম খানায় এসেছে তিথি।
বেলা ১২ টা বাজে।এতিমখানার গেটে এসে তিথির মাঝে এক প্রশান্তি বিরাজমান করছে।
সুন্দর করে সাজানো সে গেট৷ কোন এতিমখানার গেট এতো সুন্দর
করে সাজানো হতে পারে জীবনের প্রথমবার তিথি দেখলো।
প্রান ভরে দীর্ঘ এক নিশ্বাস নিয়ে ভিতরে প্রবেশ তিথির।
ভিতরের পরিবেশ ছিলো আরো মন মুগ্ধকর।

তিথি ভেবেছিলো সে যখন এই এতিম খানায় কিছু দিবেনা তখন না জানি কত বেহাল দশা হবে।
কিন্তু না বেহাল দশা নয় অনেক উন্নয়ন হয়েছে এতিম খানার।
আল্লাহ সব পারেন, আমরা মনে করি আমি না থাকলে কিভাবে সংসার চলবে কিন্তু আমি
চলে যাবার পর সংসারকে আমার চেয়ে ভালোভাবে পরিচালনা করার
জন্য মহান আল্লাহ তালা কাউকে পাঠিয়ে দিতে পারেন সেটা আমরা বিশ্বাস করতে পারিনা।
তিথি বিশ্বাস করেছে।
তিথিকে ছাড়াই এই এতিমখানা আজ পার্কে পরিনত হয়েছে।
তিথির সকল না পাওয়া মুহুর্তের মাঝে পুর্নতা পেলো এই দৃশ্য দেখিয়া।
মাঠের চারি পাশে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নেই তিথি। অনেক রকম খেলনাসামগ্রী রয়েছে সেখানে।
মনে হচ্ছে কোন শিশু পার্ক হবে সেটা। রং বেরঙের বেলুন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে৷
হাজার রকম ফুলের মেলা বসেছে। মুগ্ধতায় পূর্নতা পেলো তিথির দু নয়ন।
কিছুটা সময় চোখের পিপাসা মিঠিয়ে চলে আসে খাদেম সাহেবের কাছে।

তিথিঃ আসসালামু আলাইকুম, খাদেম সাহেব কেমন আছেন?
খাদেমঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো তিথি মা?
তিথিঃ এ মন মুগ্ধকর পরিবেশে কে খারাপ থাকতে পারে বলুন।
খাদেমঃ সঠিক বলেছো মা। চলো বাচ্চাদের সাথে দেখা করবে।
তিথি তার ছেলে অভ্রকে নিয়ে এতিম বাচ্চাদের কাছে এলো।
এখানে এসে তিথি মুগ্ধ হওয়ায় সাথে রীতিমত চমকে যায়।
কি দেখছে সে? স্বপ্ন নাকি সত্য? নিজের শরীরে একবার চিমটি কেটে দেখে।
না এটা স্বপ্ন নই বাস্তবতা। বার বার চোখের মাঝে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে তিথি।

খাদেমঃ তিথি মা তোমার চোখে কি ময়লা পড়েছে?
তিথিঃ খাদেম সাব ময়লা পড়েনি। আমি যা দেখতিছি তা কি সত্য? আমি আমার চোখকে বিশ্বাস
করতে পারছিনা। বার বার চোখ মুছে দেখছি আমার দেখা দৃশ্য সত্য নাকি আমার
চোখ আমাকে ভুল কিছু দেখাচ্ছে।
খাদেমঃ মা তুমি যা দেখছ তার সবটা বাস্তবতা এবং সত্য।
তোমার সামনে যে বাচ্চা গুলি আছে তারা সকলেই এতিম এবং
তুমি যাদের জন্য এসেছো এ বাচ্চা গুলি তারাই।
তিথিঃ আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা এইগুলা এতিম বাচ্চা।
আমার মনে হচ্ছে আমি কোন সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাচ্চাদের মিলন মেলা দেখতে এসেছি।
এতো দামি দামি সুন্দর পোষাকে এতিম বাচ্চাগুলি সেজেছে যা দেখে চোখ ধাচিয়ে আসে।

খাদেমঃ তিথিমা এগুলো বাচ্চাদের প্রতিদিনের পোশাক।
ওরা নিয়মিত এমন পোশাক পরিধান করে ভালো খাবার খায়।
ভালো স্কুলে ভর্তি আছে অনেকে। ওদের দেখে এখন কেউ বুঝতেই পারেনা ওরা এতিম।
তিথিঃ আলহামদুলিল্লাহ। অনেক ব্যথা ভরা হৃদয় নিয়ে এখানে এসেছিলাম এখন
সে হৃদয়ে আনন্দের ঢল বয়ে চলেছে। আমার দায়িত্ব বুঝি শেষ হয়েছে আমার চেয়ে
অনেক ভালো কাউকে পাঠানো হয়েছে এই এতিমদের পাশে থাকার জন্য।
খাদেমঃ হ্যাঁ মা আমার জীবনে এমন মহান ব্যক্তি আর একটাও দেখিনি এতীমদের এতোটা
ভালোবাসা কাউকে দিতে দেখিনি। যে এতীমদের জন্য এতো কিছু করেছেন উনি সব সময়
এদের নিয়ে খেলাধুলা করে, বেড়াতে যাই। এতিমরা যা যা আবদার করে তার সবটা
পূর্ণ করে বাবার মত।

তিথিঃ সেই মহান ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেতে আমার মন হর্নে হয়ে আছে।
কোথায় উনি আমাকে নিয়ে চলুন উনার কাছে আমি উনাকে সালাম দিতে চাই।
খাদেমঃ একটু ধৈর্য ধরো মা, বাহিরে গেছে। এই শহরের সবচাইতে উন্নত রেষ্টুরেন্ট
থেকে খাবার আনতে গিয়েছেন। দুপুরের আগেই ফিরে আসবে।
তিথিঃ কি বলেন এতিমরা রেষ্টুরেন্টের খাবার খাবে!!!
শুনে হৃদয় শীতল হয়ে গেলো।
দোয়া করি সেই মহান ব্যক্তিকে যিনি এতিমদের জন্য এসব করেছেন তিনি দীর্ঘদিন বেচে থাকুন।
রহিম ভাই কোথায়?
খাদেমঃ রহিম বাবাও ওনার সাথে খাবার আনতে গেছে।
তিথিঃ আমি তা হলে বাচ্চা দের সাথে খেলা করি???
খাদেমঃ যাও মা মানা করেছে কে যত ইচ্ছা খেলা করো।
তিথি ঝাপিয়ে পড়লো এতিমবাচ্চাদের উপর।
নিজেও বাচ্চা সেজে খেলায় মেতেছে।
হাসি আনন্দ ঠাট্টা-তামাশায় মেতেছে তিথি।

তিথির আচারনে কেউ বুঝতে পারবেনা যে ৫ বছর বয়সের সন্তানের মা তিথি।
তিথির ছেলেও অনেক অনেক হ্যাপি এ-তো গুলা বাচ্চাকে এক সাথে পেয়ে অভ্রও আনন্দে আত্তহারা।
মা ছেলে মিলে এতিমদের সাথে হেব্বি মজা করছে।
এতিম বাচ্চা গুলিও অভ্র আর তিথিকে পেয়ে হেব্বি খুশি।
ওদের নাচা গাওয়া খেলাধুলা দেখে খাদেম সাহেব মুস্কি মুস্কি হাসতিছেন।
খাদেম সাহেবের খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো ওদের সাথে প্রচুর মজা করতে শুধুমাত্র নিজের দায়িত্ব
আর বার্ধক্য উনাকে দাবিতে রেখেছে।
তিথিঃ খাদেম সাহেব আপনি দুরে দাড়িয়ে কি দেখছেন?
আপনিও আসুন আমাদের সাথে খেলা করবেন।
এদিন এক সুখের দিন। হারিয়ে গেলে আর কভূ খুজে পাবেননা।
সময়কে কাজে লাগান। সুযোগ থাকতে জীবনকে বিলিয়ে দেন।
খাদেমঃ মা তোমরা আনন্দ করো। আমার দ্বারা এসব বেমানান।
তিথিঃ ফালতু কথা বাদ দিয়ে আমাদের সাথে আসুন। এতিমদের আনন্দ দিতে এসমব
বেমানান হতে পারেনা৷ আপনি নিজে দাদু হয়ে এদের সাথে খেলা করুন।
ভুলে যান নিজেকে ভুলে যান নিজের খাদেম নামক দায়িত্বকে। নিজেকে একজন সাধারণ
মানুষ ভাবুন। একজ দাদু ভাবুন দাদু হয়ে নাতি নাতনী দের সাথে খেলা করুন।
আপনার দায়িত্ব কখনোই এই নিস্পাপ বাচ্চাদের মুখের হাসি থেকে বড়
হতে পারেনা৷ সুতরাং আসুন এঞ্জয় করুন।
খাদেমঃ মা তুমি যাই বলো আমি পারবনা
তিথিঃ বাচ্চারা তোমাদের কারো দাদু নেই তাইনা?
বাচ্চারাঃ না আন্টি আমাদের কোন দাদু নেই।
তিথিঃ যাও তা হলে খাদেম সাহেবের কাছে যাও। আজ থেকে উনি তোমাদের দাদু।
তোমার দাদুর কাছে সকল অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে আসো।
দাদুর সাথে ইচ্ছামতো খেলাধুলা করো।

সকল বাচ্চারা এক সাথে বলে ওঠেঃ ইয়াহু।
বাচ্চারা খাদেম সাহেবের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে।
কেউ হাত কেউ বা কেউ দাড়ি মুখ চুল নাক মাথা ধরে টানাটানি শুরু করেছে। খাদেম নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছেনা। নিজের বার্ধক্য ভুলে তিনিও হয়ে যায় এক বাচ্চা শিশু নিজের দায়িত্ব ভুলে বাচ্চাদের সাথে আনন্দে মেতেছেন।

অরশ এবং রহিম খাবার নিয়ে গেটে এসেছে মাত্রই।
ভিতরে বাচ্চাদের হৈ-হুল্লোড়ের আওয়াজ শুনে দ্রুত ছুটে যায় সেখানে।
আপনাদের ধারনা সঠিক এতিমদের পাশে এসে অরশ দাড়িয়েছে।
অরশ তার অফিসের দায়িত্ব বড় ভাই সিহাবের হাতে তুলে দিয়ে নিজে এসেছে এতিমদের কাছে।
টাকা পয়সা শ্রম ভালোবাসা সব কিছু বিলিয়ে এতিমদের আপন করে নিয়েছে৷ সাথী যেদিন
এসেছিলো অরশের বাসায় সেদিন অরশ বাসা থেকে বেরিয়ে আসে কখনোই আর নিজের
বাসায় ফিরে যায়নি। সব সময় এতিমদের সাথে থেকেছে খেয়েছে খেলেছে। নিজের পরিবার ভুলে
এতিমদের আপন করে নিয়েছে অরশ। এখানেই প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে অরশ, কবে তার ছেলে
অভ্র ফিরে আসবে কবে তার তিথি ফিরবে। সব ভুলে অরশকে ক্ষমা করে আবারো
ভালোবাসবে। নতুন করে নতুন এক জীবন সাজাবে)
বারান্দার মেঝেতে দাড়িয়ে আছে অরশ।
সামনে তাকিয়ে দেখছে বাচ্চারা খুব আনন্দ উল্লাসে মেতেছে।
বাচ্চারা খুশিতে চিৎকার চেচামেচি করছে।
বাচ্চাদের সে আনন্দ অরশের হৃদয়ে প্রভাব ফেলছে।
ভিতর থেকে অরশকে টানছে।
অরশের আত্তা অরশকে জানান দিচ্ছে যা অরশ তুই যা ওদের সাথে নিজেকে ভাগ করে নে।
এই মুহুর্ত হাত ছাড়া করিস না।
দু পা এগিয়ে অরশ আবার থেমে যায়।
বাচ্চাদের সাথে আজকে খাদেম চাচাও আছেন।
অরশ কখনোই খাদেম চাচাকে এইরুপে দেখেনি।।।।

অরশের বুঝতে বাকি নেই, পৃথিবীর সকল সুখ এই মুহুর্তে এখানে বিরাজমান।
খাদেম চাচার ড্যান্স দেখে অরশের হেব্বি হাসি পাচ্ছে। বাচ্চাদের মাঝে শাড়ি পরাহিত এক রমনী।
মুখ দেখা যাচ্ছেনা। পিছনের চুল গুলি উড়ছে দেহের তালে তালে।
শাড়ী পরাহিত কোন রমনী বাচ্চা সুলভ আচারন করতে পারে, অরশের জানা ছিলোনা।।
এক দিয়ে খাদেম চাচা অন্য দিকে ওই পাগল করা কেশময়ী রমনীর নৃত্য অরশকে মাতিয়ে তুলেছে।
অরশ সেখানে দাড়িয়ে প্রান খুলে হেসে চলেছে।

খাদেম সাহেবের চোখ যায় অরশের দিকে।
অরশকে দেখে খাদেম সাহেব থেমে যায়।
তিথিঃ কি হল খাদেম সাহেব থামলেন কেন?
খাদেমঃ মা পিছু ফিরে দেখো।
তিথি হাসির তালে তালে পিছু ফিরে তাকোলো।
দুরে দাড়িয়ে হাসতে থাকা অরশের চোখ জলে ছলছল হয়ে যায়।৷
অরশ এতোক্ষন যে কেশময়ী রমনী বাচ্চামি সভাব দেখে হাসতেছিলো তার মুখ দেখার পর
মুহুর্তেই অরশের হাসি মিটিয়ে যায়। অরশের চোখে নোনাজল জমেছে।
এ কোন কষ্ট বা দুক্ষের জল নই। এ হলো সীমাহীন আনন্দের অশ্রুপাত।
চাতক পাখির মুখে এক বিন্দু বৃষ্টির ছোঁয়া। অরশের হার্টবিট দ্রুত গতিতে পাম্পস করছে।
এখনি বুঝি কলিজা ফেটে প্রান পাখি বেরিয়ে যাবে। হাজার প্রতিক্ষিত বস্তুটি যখন কারো
সামনে ধরা দেই তখন এমই হয়। চোখে মুখে ঝাপসা। খুশিতে রক্ত চলাচল বেড়ে প্রেসার হাই
টেম্পাচারে পৌঁছায়। তিথিকে দেখে অরশের বর্তমান অবস্থা তাই।

তিথি পিছন ফিরে দেখতে পাই অরশ দাঁড়িয়ে আছে।
হাসি হাসি আনন্দমিসৃত মুখ খানে ক্রোধে গর্জনরত হয়ে উঠেছে। চোখে লাভা পিন্ড ফুটেছে তিথির।
নিজের ভাগ্যকে গালাগাল দিতে শুরু করেছে তিথি।
তিথি যখনই কোন সুখের ছোয়া পেতে যায় তখনই উনি এসে তিথির জীবন লণ্ডভণ্ড করে দেই।
তিথিঃ খাদেম সাহেব ঐ লোকটা এখানে দাঁড়িয়ে কেন?? (রাগান্বিত স্বরে)
খাদেমঃ তিথি মা উনি অরশ সাহেব যিনি এতিমদের জন্য এসব করেছেন।
তিথিঃ ওহ শীট আগে জানলে, কখনোই আসতাম না এখানে (চিল্লিয়ে)
খাদেমঃ কি হয়েছে মা, তুমি রেগে যাচ্ছো কেন?
তিথিঃ আমি ঐ মানুষটার মুখও দেখতে চাইনা৷

খাদেমঃ তিথিমা কি হয়েছে তোমার? কিছুক্ষন আগেই তুমি অরশকে মহান ব্যক্তি বললে অরশের
সাথে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠলে। অরশকে সালাম দিতে চাইলে।
এখন যখন অরশ তোমার সামনে এসেছে তখন তুমি তার মুখ দেখছে চাইতেছোনা কেন?
তিথিঃ ওই ব্যক্তি কখনো মানুষ হতে পারেনা। ভালোবাসার অর্থ তার অজানা সে শুধুই বিজনেস
চেনে৷ যে নিজের সন্তানকে সহ্য করতে পারেনা সে কি ভাবে এতিমদের ভালোবাসা দিবে।
যদি জানতাম এইসব উনি করেছেন তা হলে কোন দিন আসতাম না এখানে কোন দিন না।
উনাকে বেরিয়ে যেতে বলুন। আমি সহ্য করতে পারছিনা উনাকে আমার চোখের
সামনে থেকে বেরিয়ে যেতে বলুন।

খাদেমঃ মা জানিনা তুমি কেন এইসব বলছ। আমার মনে হয় তুমি কোথাও ভুল করছো।
উনার মত মহৎপ্রাণ ব্যক্তি আমি দেখিনি। তুমি যেদিন বলেছিলে তুমি আর টাকা পয়সা
দিতে পারবেনা সেদিনের পর থেকে অনেক দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিছুদিন পর
থেকে বাচ্চাদের ঠিক মত খাবার দিতে পারতাম না অনেক খারাপ সময় অতিবাহিত হচ্ছিলো
আমাদের। মাস খানেকের মধ্যে অরশ আসে আমাদের মাঝে।
ওই খারাপ অবস্থাকে বর্তমান এই রূপ দিয়েছে।
অরশ না থাকলে বাচ্চারা হয়তো না খেয়ে মারা যেতো।
তিথির ভিতরে আগুনের ঝড় বয়ে চলেছে। চোখে মুখের বিস্পরিত আভা।
অরশ এক পলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিয়েছে। তিথি মনে হয় অরশকে চিবিয়ে খেতে চাচ্ছে।
রাগ ক্রোধে তিথির চোখের কোন অশ্রুসিক্ত। চোখ বন্ধ করে কয়েবার
নিশ্বাস ফেললো তিথি। চোখ তুলে এতিমবাচ্চাদের দিকে তাকায় তিথি।
এতিমদের নিস্পাপ চাহুনি তিথির বুকের অনল দাবিয়ে দেয়।
কয়েক মুহুর্ত নিরব তিথি।
ভাবছে
অরশ যা করার আমার সাথে করেছে তার জন্য এই বাচ্চা গুলিকে সাজা দেওয়া যাবেনা।
অরশ খুব খারাপ, খুব খুব খুব খারাপ। কিন্তু সে এতিমদের জন্য কিছু করেছে তার এ কর্ম মহৎকর্ম।
এই মুহুর্তে অরশের কর্মে তিথি মুগ্ধ কিন্তু অরশের উপর রয়েছে তিথির
হাজার হাজার রাগ। তিথির একবার ভালো লাগছে আরেকবার ঘৃনা করছে
অরশ যাই করুক সে ভালো মানুষ হতে পারেনা। যে বাবা হবার সংবাদ শুনে বলে যে
ইন্টারেস্ট নেই। সে কখনোই মানুষের সেবা করতে পারেনা। তবে এতিমদের জন্য যা
করেছে তা অনেক। সুতরাং এই মুহুর্তে কিছু বলতে চাইনা। জীবনে ভালো খারাপ দুটোই
ঘটবে আমরা সব সময় ভালোটা গ্রহন করব। খারাপ টা কে মনে রেখে শুধু শুধু কষ্ট পাবোনা।
অরশকে কিছু বলাটা বোকামি হবে। তার চেয়ে ভালো এখান থেকে চলে যায়।

চলবে...

No comments