Breaking News

রিক্সাওয়ালা যখন সাকসেসফুল বিজনেসম্যান । পর্ব -০৩



আমি হিয়ার ডাক শুনে একটু একটু করে চোখ মিলে দেখি হিয়া আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে,

কি বলেন আপনেরা হিয়ার সাথে একটু মজা করাই যাক,
হাজার হলেও একটা মাত্র আদরের বউ আমার,
আমি হিয়ার হাত ধরে টান দিলাম সোজা হিয়া আমার উপরে এসে পরলো,
হিয়া:-এই তোমার মনে কি শয়তানি বুদ্ধির উদায় হলো নাকি,সকাল সকাল কি শুরু করেছো হুম,
এমন করো কেনো হুম রাতে তো আমার পাপ্য আদর থেকে দূরে রেখেছিলে,
এখন তো একটু আদর দাও,
আমি হিয়ার মুখের দিকে মুখ নিতে নিতে বললাম,
হিয়া:-এই এই একদম দুষ্টুমি না হুম,
বৃষ্টি যখন তখন আসতে পারে,
যাও তারাতাড়ি ফ্রেস হয়ে খেতে আসো,
বেলা অনেক হয়ে গেছে কাজে যেতে হবে নাকি বুঝি,
গালে ও কপালে একটা ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে চলে গেলো,আমিও মিষ্টি বউটার আদর পেয়ে মুখে একরাশ হাসি নিয়েই বিছানা থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করতে চলে আসলাম,
আমি বৃষ্টি হিয়া নাস্তা শেষ করলাম,
হিয়া:-এই শোনো আজকে আসার সময় একটু ভালো কিছু বাজার করে এনো,
হিয়ার কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে জল বেড়িয়ে আসে,আমি এমনি এক হতবাগা স্বামী যে বউ কোনো আবদার পূরণ করতে পারবো না,
কি করে ভালো কিছু আনবো বলো,
সামান্য কিছু টাকা ইনকাম, তার থেকেই সংসারের খরচ, বৃষ্টির পড়াশোনার দায়িত্ব আবার আজ থেকে তোমার দায়িত্ব,
কিছু মনে করো না আমি আজকে থেকে একটু বেশি কাজ করবো,আমার কথা শুনে হিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরলো,
চোখে পানি,
হিয়া:-শোনো তোমার এতো কষ্ট করতে হবেনা,
আর আমি পড়াশোনা করবোনা,
এতো খরচ বহন করতে পারবেনা তুমি,

হিয়া তুমি কি চাও তোমার বাবা তোমাকে বলুক,
তুমি এমন ছেলেকে বিয়ে করলে যে তোমার পড়াশোনা করাতেই পারলো না,
আমি সেটা চাইনা আমার শরিরের রক্ত বিক্রি করে হলেও তোমার পড়াশোনার খরচ চালাবো,
হিয়া:-আমি মনে হয় আগের জন্মে ভালো কোনো কাজ করেছিলাম যার জন্য তোমার মতো ভালো মনের একটা মানুষ জীবন সঙ্গী হিসাবে পেয়েছি,
চোখ মুছতে মুছতে বললাম,
আমি হিয়ার চোখের পানি মুছে দিয়ে কপালে একটা ভালোবাসার পরশ দিয়ে বৃষ্টি কে বলে রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে আসলাম,
মনের মধ্যে একটাই চিন্তা কি করে আজকে একটু ভালো কিছু বাজার করে নিয়ে যেতে পারব,
এইসব ভাবছি তখনই, সেদিনের লোকটি,
লোকটা:-এই যে রিক্সা ওয়ালা এইখানে যাবা,
একটা বস্তা আছে,
আমি কিন্তু ২০০টাকা ভাড়া দিবো,বেশি দিতে পারবো না,
হুম চলেন,
তারপর আমি বস্তা টা তুলে লোকটার কথা মতো তার গন্তব্যস্থলে রেখে আসলাম,
পুরো দুইশত টাকাই দিলো,
এইভাবে সারাদিন অনেক ভাড়া মারলাম দুপুরে দোকান থেকে কিছু খেয়ে নিলাম,
আল্লাহ রহমতে ভালোই ইনকাম হলো আজকে,
রাতে বাসাই আসলাম কিছু বাজার করে ভালো কিছু তো কিনতে পারিনি তাও যতোটা পেরেছি ততটা এনেছি,
হিয়া:-এই তুমি আজকে দুপরে আসলেনা কেনো,
যানো আমার কতো চিন্তা হচ্ছিলো তোমার জন্য,
কান্না করে,
আরে পাগলি কান্না করো কেনো,
আজকে একটু কাজের চাপ বেশি ছিলো তাই আসিনি,
হিয়া:-তাই বলে খাবার খাওয়ার জন্য আসবেনা,
যানো তোমার বন কিছু খাইতে চাইনি তুমি ছাড়া,
আর বলোনা ও আমাকে ছাড়া খাইনা,
বৃষ্টি:-কেনো খাবো,
তুই জানিস না তোর মুখে খাবার না দিয়ে আমি কখনো খাইনা,
হয়েছে এখন যাও জলদি এইসব রান্না করো,
আজকে মজা করে খাবো সবাই মিলে,
হিয়া:- বৃষ্টি তুমি পড়তে বসো আর তুমি ফ্রেস হয়ে বৃষ্টির কাছে একটু পড়া শেখো আমি বরং এইটুকু সময়ের মাঝেই রান্না টা শেরে ফেলি,
বৃষ্টি:-ভাবি তুমি একা একা রান্না করতে পারবে না,
আমি বরং তোমার সাথে রান্না করি,
হিয়া:-তোমাকে যেটা বললাম সেটা করো,
বলেই হিয়া রান্না করতে চলে গেলো,
আর ফ্রেস হয়ে বৃষ্টির কাছে পড়তে বসলাম,
পাক্কা দুই ঘন্টা পরে মহারানীর রান্না শেষ হয়,

আর
হিয়া:-এই অনেক পড়াশোনা হয়েছে এখন চলো তারাতারি খেয়ে নিবে,
তারপর সবাই একসাথে খাবার পর্ব শেষ করে শুয়ে পরলাম,
সকালে সবার আগেই ঘুম থেকে উঠে আমি রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম,
কাজ করে দুপুরে বাসাই আসলাম,
এইভাবে চলছিলো আমাদের অভাবের সংসার,
একদিন রাতে,
হিয়া:-বললাম আমি আর পড়ালেখা করবো না কিন্তু তুমি তো আমার কথা শুনলে না,
এখন কালকে দুই হাজার টাকা পরীক্ষার জন্য জমা দিতে হবে কোথায় পাবে,
শোনো আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো,
সব হয়ে যাবে আল্লাহ চাইলে কিছুই ঠেকে থাকেনা,
হিয়া:-আমি বলি কি যদি বাড়িতে একটু যোগাযোগ করে দেখতাম,
দেখো তারা তোমাকে শুধু অপমানি করবে,
তাছাড়া কিছুই না আর তারা তো বলেই দিছে তুমি তাদের সামনে গেলে মরা মুখ দেখতে হবে,
আমি সকালে টাকা দিবোনি,
হিয়া:-কোথায় পাবে এতো টাকা,
একটা না একটা ব্যবস্থা হয়েই যাবে,
তুমি যাও শুয়ে পড় চিন্তা না করে,
তারপর হিয়া আমার ঠোটে একটা কিস করে চলে যায় ঘুমাতে,
কিন্তু আমার ঘুম ধরছে না, টাকায় আছে দুই হাজার চাউল সহ বাজারের সব কিছু কেনার জন্য এখন হিয়া কে দিলে বাজার করবো কি করে,
এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি খেয়ালি নেই সকালে ফযরের আযান দিলে হিয়া আর বৃষ্টি কে নামাজ পড়তে বলে আমি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে আসলাম,
হিয়া এই নাও তোমার টাকা,
হিয়া তো অবাক আমি টাকা কোথায় পেলাম,
হিয়া:-তুমি টাকা পেলে কোথায়,
আমার কাছে ছিলো,
এখন যাও রান্না করে রেডি হয়ে নাও আমি তোমাকে কলেজে রেখে আসি,
হিয়া:-আচ্ছা

বলেই হিয়া রান্না করতে চলে গেলো,
বেশ কিছু সময় পরে রান্না শেষ হলে সবাই নাস্তা করে নিলাম, আমি হিয়া কে নিয়ে কলেজে চলে আসি,
হিয়া নামো তোমার কলেজে এসে গেছি,
হিয়া:- তুমি আমার সাথে চলো,
টাকাটা জমা দিয়েই চলে আসবো,
আমি যাবো না সবাই তোমাকে কি বলবে একটা রিক্সাওয়ালা তোমার স্বামী,
এইকথা বলছি তখনই হিয়ার বান্ধবী বিথী,
আসে,
বিথী:-কিরে হিয়া এই ছোটলোক রিক্সা ওয়ালা তোর বর,ভাবতেই তো ঘৃণা হচ্ছে আমার,
ছি তোর রুচি এতো নিচু,
বিথীর কথা শুনে হিয়ার অনেক রাগ হয়,
ঠাসসসস করে হিয়া বিথীর গালে লাগিয়ে দেয়,
হিয়া:-কি বলিস হুম,
ও ছোট লোক হোক আর যায় হোক ও আমার স্বামী, ছো ওর সম্পর্কে আর একটাও বাজে কথা বলবি না,
বিথী:-তুই ওর জন্য আমাকে মারলি,
হিয়া:-হা মারলাম,
আরশোন আমি চাইনা তোর মতো অহংকারী মেয়ে আমার বন্ধু হোক,যে কিনা মানুষ কে মানুষ মনে করেনা,
আমার চোখে তো জল চলে আসে,
মেয়েটা তো খারাপ কিছুই বলেনি,সবাই এটাই বলবে, কারণ হিয়ার মতো শিক্ষিত একটা মেয়ে আমার মতো রিক্সাওয়ালা কে বিয়ে করেছে,
হিয়া তুমি কাজ শেষ করে এসো আমি গেলাম,
এক হাত দিয়ে চোখ টা মুছে নিলাম,
হিয়া কিছু বলছেনা কারণ ও বুঝতে পারছে এখানে থাকলে আরো অপমান হতে হবে,
তারপর আমি সেখান থেকে ভাড়ার খোঁজ চলে আসি,

ঐদিকে বিথী হিয়ার বাবা কে ফোন করে সব ঘটনা খুলে বলে আর হিয়া কে বিয়ে করেছি সেটাও বলে,
হিয়ার বাবাতো সে লেবেলের রেগে যায়,
এইদিকে আমি একটা ভাড়া মেরে আসতেছি তখনই,সামনে দেখি হিয়ার বাবা
আমার দিকে তেরে আসতাছে সাথে কিছু ছেলেও আছে, ভয়ে তো আমার কলিজা শুকিয়ে গেলো,
হিয়ার বাবা:-কিরে ছোট লোকের বাচ্চা আমার মেয়ে কে ভুলিয়ে ভালিয়ে বিয়ে করে নিয়েছিস,
কি ভেবেছিস আমি কিছু বলব না,
এটা ভুল,
দেখেন আমি কিন্তু জোর করে কিছু করিনি বরং আমি হিয়া কে বিয়ে করে আপনার সম্মান হানির হাত থেকে বাঁচিয়েছি,
হিয়ার বাবা:-তোর কথা শুনতে আমি এখানে আসিনি,আমার ভাবতেও অবাক লাগে হিয়া তোর মতো এটা ছোটলোক রিক্সাওয়ালা কে বিয়ে করেছে,এই তোরা দাঁড়িয়ে কি দেখছিস হুম,যা ওর রিক্সা ভেঙ্গে ওর হাত পা ভেঙ্গে দে, ছোটলোকের বাচ্চাঠা ,পঙ্গ হয়ে পরে থাকলে এমনিতেই আমার মেয়ে আমার কাছে চলে আসবে,
ওরা আমার রিক্সা ভেঙ্গে তছনছ করে দিলো,
আমি অনেক বুঝালাম কিছুই শুনলনা ওরা,
বরং আমাকে ও অনেক মেরে রাস্তায় ফেলে চলে গেলো,আমি খোরাতে খোরাতে বাড়িতে আসলাম,
হিয়া বলে মাটিতে পড়ে গেলাম,
হিয়া আমার ডাক শুনে দৌড়ে বাইরে এসে দেখে আমার শরীর থেকে টপটপ করে রক্ত পরতেছে,
আর আমি মাটিতে পরে আছি,
হিয়া:-এই তোমার কি হয়েছে,
তুমি এইভাবে পরে গেলা কেনো,আর তোমার শরীরে রক্ত কেনো,
হিয়ার কান্না শুনে বৃষ্টি দৌড়ে চলে আসে,
বৃষ্টি:-ভাবি কান্না করতেছো কেনো কি হয়েছে,
সামনে তাকাতেই দেখতে পাই আমি মাটিতে পরে আছি,শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছে,
বৃষ্টি:-ভাইয়া কি হলো তোর,
তোর শরীরে রক্ত কেনো এভাবেই শুয়ে আছিস কেনো,
তারপর হিয়া আর বৃষ্টি আমাকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করে দিয়ে মাথায় পানি দিতে থাকে এইদিকে বৃষ্টি ডাক্তার কে নিয়ে আসে,
ডাক্তার আমার অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায়,

ডাক্তার:-এইভাবে কারা মেরেছে এনাকে,
হিয়া:-জানিনা ডাক্তার,
একটু আগে এখানে এসেই অজ্ঞান হয়ে পরে গেলো,
ডাক্তার:-খুব খারাপ ভাবে মেরেছে,
আমি ড্রেসিং করে দিয়ে গেলাম, রুগী একটু ঘুমাক, আর এই ওষুধ এনে খাওয়াবেন তবে সাবধান এক সপ্তাহের আগে যেনো বিছানা থেকে না ওঠে,
হিয়া:-আচ্ছা ঠিক আছে,
ডাক্তার ফ্রি নিয়ে চলে যায়,
হিয়া:- বৃষ্টি এখন ওষুধ আনার জন্য টাকা কোথায় পাবো কেদেঁ কেদেঁ বললাম,
বৃষ্টি:-ভাবি ভাইয়া আমাকে প্রায় কিছু কিছু টাকা দিতো কিছু কিনে খাওয়ার জন্য কিন্তু আমি সেই টাকা খরচ করতাম না এই নাও পাঁচ শত টাকা হয়েছে,
হিয়া:-আচ্ছা তুমি তোমার ভাইয়ের পাশে থাকো আমি ওষুধ নিয়ে আসি,
হিয়া তারাতাড়ি গিয়ে ওষুধ নিয়ে চলে আসে,
আমাকে ওষুধ খাইয়ে দেই,
একটু পরে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়,
এই তোমরা কান্না করতেছো কেনো,
হিয়া:-এই তোমার সাথে এই সব হলো কি ভাবে,
আর রিক্সার কি হয়েছে,
সন্ত্রাসী দল আমার রিক্সা ভেঙ্গে দিয়ে আমার এই অবস্থা করেছে,
হিয়া:-কারা এইসব করেছে,
আর কেনো করলো বলো,
এই কেদোনা প্লিজ,আর এই বৃষ্টি এইভাবে কাদিস কেনো হুম আমার কিছু হয়নি,
এইভাবে তিনদিন চলে যায়,এখন আমি একটু সুস্থ,
কিন্তু বিছানা ছাড়তে খুব কষ্ট হয়,
বৃষ্টি তোর মুখ শুকনো মনে হচ্ছে কেনো,
খাসনাই নাকি,

বৃষ্টি:-কি করে খাবো ভাইয়া রাত থেকে ঘরে কিছুই নেই,আর একটা টাকাও নেই,
তাহলে কি ভাবে খাবো বলো,
আল্লাহ এমন কেন করলে আমাদের সাথে,
আমরা তো কোনো দোষ করিনি তাহলে কেনো এতো কষ্ট দিচ্ছ
বৃষ্টি তোর ভাবি কোথায়,কিহলো তোর ভাবি কোথায়,
বৃষ্টি:-ভাবি তাদের বাড়িতে গেছে,
কি বলিস কেনো গেছে সেখানে,
তারা আমাদের কোনো উপকার করবেনা কেন বোঝেনা হিয়া কেনো বোঝেনা,
হিয়ার বাবাই আমার এই অবস্থা করেছে লোক দিয়ে,
হিয়া তখন দরজায় দাড়িয়ে আমার কথা শুনতে পায়,
হিয়া:-কি আমার বাবা তোমার সাথে এইসব করেছে,
তুমি কখন এলে,
হিয়া:-আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো,
আমার জন্যই তোমার আজ এই অবস্থা,
এইসব কি বলছো হুম এইগুলা তো আমার ভাগ্যে লেখা ছিলো, তা তুমি নাকি তোমাদের বাড়িতে গেছিলা,
হিয়া:-হুম,
চোখের জলটা মুছে নরম সুরে বললাম,
কেদোনা আমি জানি তারা তোমার সাথে কি ব্যবহার করেছে,
আল্লাহর উপর আস্থা রাখো সব ঠিক হবে,
হিয়া:-কি বেপার উঠছো কেনো তুমি,
দেখি খাবারের যদি কোনো ব্যবস্থা করতে পারি,
দেখছো না বৃষ্টির মুখটা শুখিয়ে গেছে,
বৃষ্টি:-ভাইয়া তোর কোথাও যেতে হবে না,
তুই আরো অসুস্থ হয়ে পরবি,,,,,,

চলবে....

No comments