Breaking News

ভালোবাসি প্রিয় । পর্ব - ১৪



মেহেদী শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে নাফিসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নাফিসা পিছিয়ে যেতে যেতে ধপাস করে খাটে বসে পড়লো।
- ক..কি করতে চাচ্ছো তুমি!
- কিছু না করেই যেটার অগ্রিম শাস্তি পেয়েছি, আজ সেটাই করবো!
- ত..তুমি সারাদিন খেয়েছো কিছু? তুমি বসো, আমি খাবার গরম করে আনছি।
নাফিসা মেহেদীকে হালকা ধাক্কা দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলেই মেহেদী শাড়ির আঁচল ধরে এক হেচকা টান দিয়ে খাটে ফেলে দিলো। সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়লো নাফিসার উপর।

মাঝ রাতে জানালার পাশে দাড়িয়ে একের পর এক সিগারেট জ্বালিয়ে চলেছে মেহেদী। আর এদিকে বিছানায় ছটফট করছে নাফিসা। মানুষের দাতের আঘাত এতোটা বি-*ষা-*ক্ত হয় তা এই প্রথম অনুভব করলো সে। সর্বাঙ্গে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে! হিং-*স্র প-*শু*র মতো ঝাপিয়ে পড়েছে মেহেদী কিন্তু নাফিসা একটুও বাধা দেয়নি। ব্যাথা লাগছে ঠিকই কিন্তু একটুও কষ্ট হচ্ছে না। সে মেনে নিয়েছে, এটাই তার ভাগ্য এটাই তার প্রাপ্য। আর বারবার মনে মনে একটা কথাই বলছিলো, " তুমি যা ই বলো আর যেভাবেই কাছে আসো, আমি তোমাকে মন থেকে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছি মেহেদী। আল্লাহ আমাকে ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দাও।"
জানালার দিকে তাকিয়ে দেখলো মেহেদী সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছে! সে সিগারেট খায়! আগে তো এমন ছিলো না! লাইফটাকে এভাবে নষ্ট করছে কেন! নাফিসা কিছু বলার শক্তিটুকুও পাচ্ছে না মুখে! বললেই কি শুনবে নাকি! চোখে ক্লান্তি নেমে এসেছে। চোখের পাতা এক করে ফেললো।

হঠাৎ মুখে ছিটকে পানি এসে পড়লে নাফিসা চোখ খুলে তাকালো। মেহেদী গ্লাস হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। গোসল করেছে মনে হয় মাত্র। তার চুল ভেজা ভেজা দেখাচ্ছে। বুকের লোমগুলোও ভেজা। সকাল হয়ে গেছে।
- ওই, ওঠ। এটা তোর মামুর বাড়ি না, যে আরাম করে শুয়ে থাকবি।

হয়েছে আর আরামে শোয়া! গা-*ধা একটা! আমাকে ভেজাতে গিয়ে কাথা বালিশও ভিজিয়ে ফেলেছে! মনে মনে বকতে বকতে লাগেজ থেকে একটা সুতি শাড়ি বের করে আস্তে আস্তে হেটে বাথরুমে চলে গেলো নাফিসা। গোসল সেরে এসে দেখলো মেহেদী ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে চুল ঠিক করছে। নাফিসাও চুল মুছতে মুছতে রুমে প্রবেশ করলো। নাফিসাকে আসতে দেখে মেহেদী প্যান্টের পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে পাচশত টাকার একটা নোট নাফিসার মুখে ছুড়ে মারলো।

নাফিসা ব্রু কুচকে মেহেদীর দিকে তাকিয়ে রইলো। মেহেদী শার্ট নিয়ে পড়তে পড়তে বললো,
- এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? খুশি হসনি এতে? খুশি না হলেও কিছু করার নেই। এর চেয়ে বেশি আমার কাছে নেই। বেশি লাগলে রিসাদের মতো ছেলেদের কাছে যা।
- কি বলছো তুমি এসব? টাকা কেন দিছো?
- কেন আবার! কাল রাতে আমাকে সময় দেয়ার জন্য।
- আমাকে কি রা-*স্তার প-*তি*তা মনে হয়?

- তার চেয়েও খা-*রাপ তু*ই। তারা তো টাকার জন্য প্রকাশ্যে মানুষের ধারে ঘুরে, কিন্তু তুই তো আরো বেশি ভ-*য়ং*কর! কার পেছনে কি উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়াস, বুঝাই যায় না!
কথাটা অন্তরে আঘাত করলো নাফিসার। এতো বড় অপবাদ দিয়ে তার দিকে আজ আঙুল তুলছে! সত্যিই কি এতোটাই খা-*রাপ সে! চোখ বন্ধ করে বড় একটা নিশ্বাস ছাড়লো।
- টাকা আর তোর ব্যাগপত্র নিয়ে দ্রুত বের হয়ে যা ঘর থেকে। আর এই হাটুভা-*ঙা মামলা না দিয়ে কড়াভাবে দিস। আজ তো রিসাদ নেই সাক্ষী দেয়ার জন্য। আমি নিজেই সাক্ষী দিবো তোর পক্ষে। যা...
- আমি চলে যাওয়ার জন্য আসিনি, তোমার কাছে থাকার জন্য এসেছি।
- আমার কাছে শুধু শুধু থাকবি কেন! কিছুই পাবি না এখানে। দূ-*র হ*য়ে যা, তোর এই মুখ আমাকে দ্বিতীয়বার দেখাবি না।
- যাবো না আমি। বিয়ে হয়েছে আমাদের। আমি এখানেই থাকবো।
- মানি না আমি এই বিয়ে টিয়ে। আর কি প্রমাণ আছে, আমাদের বিয়ে হয়েছে?
- আমার কোন প্রমাণের প্রয়োজন নেই। তুমি না মানলেও আমি মন থেকে মেনে নিয়েছি।
মেহেদী শার্ট পড়ে নাফিসার লাগেজ তুলে নিয়ে বাইরে ঢিল মে-*রে ফেলে দিলো। তারপর নাফিসাকেও টেনে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলো।

- মেহেদী, এমনটা করো না। আমি কোনো স্বার্থে আসিনি। তোমার সঙ্গ দিতে এসেছি। প্লিজ এমন করো না।
- চলে যা। এ বাড়ির আশেপাশেও যেন তোকে না দেখি। খবরদার দ্বিতীয়বার তালা ভা-*ঙার চেষ্টাও করবি না।
মেহেদী ঘরে তালা লাগিয়ে বেরিয়ে গেলো। নাফিসা লাগেজ তুলে সোজা করে গাছে হেলান দিয়ে রাখলো। সে ও গাছের নিচে বসে রইলো। বাড়ির চারিদিকে ছোট ছোট গাছগুলো ঝোপঝাড় হয়ে আছে। বাউন্ডারির মতো দেখাচ্ছে যার ফলে বাইরের কেউ দেখবে না।

ইচ্ছে করেই রেখেছে হয়তো এগুলো। সামনের দিকটা আবার গেইটের মতো ফাকা। যতই বলুক যাবে না সে এখান থেকে। এদিকে শরীর এখনো ব্যাথা করছেই! কাটাছেঁড়া জায়গাগুলো জ্বলছে খুব। ক্ষুধাও লেগেছে। ঘরে তো খাবার রেখেছিলো মেহেদীর জন্য। এই ছেলে তো খেলোই না। তালা খোলা থাকলে নাফিসাই খেয়ে নিতো। না, আজ তালা ভা-*ঙবে না। অপেক্ষা করবে মেহেদী না আসা পর্যন্ত। শরীরে একটু জ্বর জ্বর ভাব আসছে। ওফ্ফ! ওষুধ না খেলে রক্ষা নেই। টাকা তো আছে, কিন্তু আশেপাশে কি ডাক্তারের দোকান পাওয়া যাবে! নাহ, বসে থাকা যাবে না।

খুঁজে দেখা প্রয়োজন। নাফিসা শাড়ির আঁচলে মাথাসহ সুন্দরভাবে ঢেকে নিলো যাতে শরীরের কোন স্পট না দেখা যায়। একটা বোরকা থাকলে ভালো হতো। মোবাইলটা বের করে চেহারাটা দেখে নিলো। চেহারায় কোন দাগ নেই। থুতনির দিকটায় একটু আছে, সেটা এতোটা বুঝা যায় না। এভাবেই যাবে সে। কিন্তু এই লাগেজ কোথায় রাখবে! এখানে রেখে গেলে তো চু-*রিও হতে পারে! তাই লাগেজ সাথে নিয়েই বের হলো। রাস্তায় একজন লোকের কাছে জিজ্ঞেস করে ডাক্তারের দোকানে গেলো।

মেহেদীর বাড়ি থেকে বেশি দূরে না। সেখান থেকে জ্বরের ওষুধ ও কা-*টাছেঁ*-ড়ার মলম কিনে নিলো। আবার বাসার দিকে ফিরতেই লক্ষ্য করলো একজন মহিলা তার পিছু পিছু আসছে। তাকে ফলো করে যাচ্ছে নাকি! নাফিসা একটু আস্তে আস্তে হাটতে লাগলো। মহিলাটি তার কাছে এসে বারবার তার দিকে তাকাচ্ছে আর হাটছে।
- আন্টি, আপনি কিছু বলবেন?

- কে তুমি? কোথায় যাও?
- আমাকে চিনবেন না। আমি এদিকেই যাচ্ছি। আমার হাসব্যান্ড এর বাসায়।
- এদিকে তোমার হাসব্যান্ড এর বাসা? কে তোমার হাসব্যান্ড?
- আপনি কি এখানকার স্থানীয়?
- হ্যাঁ। আমার বাসা এখানেই। ওই যে গোলাপি রঙের বিল্ডিংটা দেখছো ওটাই আমার বাসা।
নাফিসা লক্ষ্য করলো মেহেদীর ঘরের পেছনের দিকেই ঘরটা। তাই বললো,
- ওহ, আচ্ছা। এই যে এটাই আমার হাসব্যান্ড এর বাসা।
- কি বলছো এসব! ভুল পথে আসোনি তো?
- না। সঠিক পথেই এসেছি।
- মেহেদী কি তোমার হাসব্যান্ড?
- জ্বি আন্টি।
- আমি তো মেহেদীর চাচি হই। আপন না, প্রতিবেশী আরকি।
- অহ আচ্ছা।

- তোমাদের বিয়ে হলো কবে?
- অনেক দিন আগেই।
- কিছুই তো জানলাম না। পালিয়ে বিয়ে করছো?
- না আন্টি, আসলে পড়াশোনার জন্য গোপনে বিয়েটা পড়ানো হয়েছে। পড়ে প্রোগ্রাম করার কথা ছিলো। এখন তো মা...
- ও বুঝতে পারছি। মেহেদী সম্পর্কে জানো কিছু?
- কি জানার কথা বলছেন?
- ছেলেটা অনেক ভালো ছিলো। কে জানে এমন কুকাজ করে বসবো। তারপর পুলিশ ধরে নিছে, সেই শোকেই তো মা স্ট্রোক করছে। আবার এদিকে ছাড়াও পেয়ে গেছে। এসব জানো না কিছু?
- আন্টি এটা আসলে একটা ভুল ছিলো। আমাদের বিয়ের কারণে এক মেয়ে আমার সাথে শত্রুতা করে তার নামে মিথ্যে মামলা দিছে। সে জন্যই এতো কিছু ঘটেছে। এখন তা মিথ্যে প্রমাণ হয়ে মেয়েটা নিজেই শাস্তি পাচ্ছে। আর এজন্যই পুলিশ মেহেদীকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু আশেপাশে যে দুর্নাম ছড়িয়েছে, তা তো আর সরানো যাবে না!

- এই কথা তাহলে! এজন্যই তো বলি, ছেলেটা তো এমন না। তোমাকে দেখে তো ধনী পরিবারের মেয়ে মনে হচ্ছে। মেহেদীকে হঠাৎ পছন্দ হয়ে গেলো কি করে!
- অর্থ দেখেই কি মানুষের সাথে সম্পর্ক হয়! সব কিছুর মালিক আল্লাহ।
- তা ঠিক বলছো। মাশাল্লাহ, খুব সুন্দরী বউ পেয়েছে মেহেদী। অবশ্য মেহেদীও কিন্তু যথেষ্ট সুন্দর, স্মার্ট। তার মা মা-*রা যাওয়ার পর কেমন যেন হয়ে গেছে। এখন তুমি এসেছো, আবার আগের মতো হয়ে যাবে।
- ইনাশাল্লাহ। দোয়া করবেন।
- হ্যাঁ, কিন্তু তুমি একা এলে কেন! মেহেদী নিজেও তো নিয়ে আসতে পারতো।
- সেই ঘটনার পর আমার সাথেও তেমন যোগাযোগ রাখেনি। বলেছে তাকে ভুলে যেতে। তার নিজের জীবনের কোনো অস্তিত্ব নেই। বললেই কি সব ভুলা যায়! আপনিই বলুন আন্টি। তাই আমি নিজেই চলে এসেছি।
- না এটা ঠিক করেনি। এখানে তুমিই ঠিক করেছো। মেহেদী তো মনে হচ্ছে বাসায় নেই। ঘর তালা দেওয়া দেখা যাচ্ছে। ফোন কর।

- ফোন করেছি, রিসিভ করে না।
- এখন দাঁড়িয়ে থাকবা! আমার সাথ আমাদের বাসায় চলো। মেহেদী এলে বাসায় এসো।
- না, আন্টি। আপনি যান। আমি এখানেই ওয়েট করবো। যদি আবার কিছুক্ষণের মধ্যে এসে পড়ে।
- তা ও ঠিক।
নাফিসা মনে মনে বললো, এমনিতেই যেই ঘাটাঘাটি শুরু করছেন! আপনার সাথে গেলে চৌ*-দ্দ গো-*ষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়বেন! হঠাৎ একটা লোক এদিকে রাস্তার দিকে যেতে নিলে আন্টি বললো,
- কই যাও?
- বাজারের দিকে। কেন?
- মেহেদীকে দেখলে বইলো তো তার বউ বাড়িতে এসে ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। তারাতাড়ি যেন ফিরে। ঘরে তালা লাগানো।
- মেহেদীর বউ?
- হ্যাঁ।

- আচ্ছা দেখা হলে বলবো।
লোকটি চলে গেলো। আন্টির হাসব্যান্ড হবে হয়তো। নাফিসা মনে মনে একটু খুশি হলো। আন্টি একটা কাজের কাজ করেছে। মেহেদী এবার তারাতাড়ি বাসায় ফিরবে। আন্টি চলে গেলে নাফিসা ঘরের কাছের মেহগনি গাছের নিচে বসে কেকটা খেয়ে জ্বরের ও ব্যাথার ওষুধ খেয়ে নিলো। আচল সরিয়ে হাতের দাগগুলোতে মলম লাগালো। বাকিটা পরে দেয়া যাবে।
প্রায় বিশ মিনিট পর মেহেদী বাসায় হাজির। রেগে হনহন করে বাসায় ঢুকেছে। নাফিসা বসে বসে কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছে। ওই লোক বলেছে হয়তো! মনে মনে খুশি লাগছে কিন্তু খুশিটা বাইরে প্রকাশ করছে না। মেহেদী তার সামনে এসে দাড়ালো।
- এখনো বাড়ি ছেড়ে যাসনি কেন? তোকে না বলেছি বাড়ির আশেপাশেও থাকবি না। আর তুই এসে লোকজনকে ডেকে ডেকে জানাচ্ছিস আমার বউ তুই! বে-*র হ! এই মুহুর্তে বে*-র হ... নাহলে খুব খারাপ পদ্ধতিতে বের করবো।

- হুহ্! বুঝি না আমি। বারবার তোমাকে এক কথা কেন বলতে হয়! বলেছি তো যাবো না আমি। তাছাড়া উনারা এসে যদি জিজ্ঞেস করে মেহেদী, " তোমার বউ কোথায়? " তখন কি জবাব দিবে?
- কেউ এসে জিজ্ঞেস করবে না। কেউ জানেই না, জিজ্ঞেস কি করবে! তুই এখন বে-*র হ।
- গোলাপি বিল্ডিংয়ের আন্টি কিন্তু বলে গেছে একটু পর আসবে আমার সাথে গল্প করতে। তখন কি বলবে তুমি? উনি কিন্তু অনেক প্রশংসাও করে গেছে, " মেহেদীর ভাগ্য ভালো, এতো সুন্দরী একটা বউ পেয়েছে!" এতোক্ষণে হয়তো আরো অনেকে জেনে গেছে মেহেদীর বউ এসেছে বাড়িতে। একে একে সবাই যদি নতুন বউ দেখতে আসে তাহলে কয়জনকে তাড়াবে তুমি!
- আল্লাহ! আরো কিছু বাকি রেখেছো আমার সর্বনাশের!
- ভালো কিছুকেও সর্বনাশ ভেবে নিচ্ছো! যাইহোক তালা খুলো, অনেক্ক্ষণ যাবত বাইরে রেখেছো।
- তুই যাব...

আর কিছু বলতে পারলো না মেহেদী। ইতোমধ্যে ওই আন্টির সাথে একজন মহিলা এসে পড়েছে বাসায়।
- মেহেদী এসেছো! অনেক্ক্ষণ যাবত দাড়িয়ে আছে তোমার বউ। তালা খুলো এবার।
মেহেদী নাফিসার দিকে চোখ রাঙিয়ে অবশেষে তালা খুলে দিলো। আন্টিরা নাফিসার প্রশংসা করে গেলো। মেহেদীকেও নানান বানী বুঝিয়ে গেলো। যাতে অতীতকে ভুলে ভবিষ্যৎ টা সুন্দর করে সাজায়। আন্টিরা চলে গেলো। মেহেদী ঘরে প্রবেশ করলো। নাফিসা খুশি হয়ে লাগেজটা টেনে ঘরে এলো। মেহেদী দরজা লাগিয়ে দিলো। নাফিসার চু-*লের মু-*ঠি ধরে বললো,

- আমাকে কি একটু শান্তি দিবি না! সব তো শেষ করে দিলি। এখনো পড়ে আছিস কেন!
- ব্যাথা লাগছে আমার। ছাড়ো...
- এইটুকু ব্যাথা সহ্য হয় না! আমাকে যে ব্যাথা দিয়েছিস সেটা সহ্য করে নিচ্ছি কিভাবে!
নাফিসা আর ছুটার চেষ্টা করলো না। মেহেদীর দিকে তাকিয়ে চুপচাপ দাড়িয়েই আছে। মেহেদী নিজেই তাকে ছেড়ে দিলো। সকালে ফেলে যাওয়া টাকাটা এখনো আগের জায়গাতেই আছে। নাফিসা টাকাটা উঠিয়ে মেহেদীর হাতে দিয়ে বললো,

- সারাদিন কি না খেয়েই ঘুরে বেড়াও! এভাবে জীবন চলবে! বাজার করে এনো, রান্না করে খাবো দুজন।
মেহেদী টাকাটা মুঠো করে মুড়ে আবার নাফিসার মুখে ছুড়ে মে-*রে বললো,
- খবরদার, আমার মায়ের ব্যবহার করা জিনিসে হাত লাগাবি না।
- তাহলে নতুন এনে দাও।
- কিছু পাবি না। তোকে এখানে থাকতে বলেছে কে! চলে যা।
বারবার একই কথা শুনতে ভালো লাগছে না নাফিসার। তাই তার কোন প্রতুত্তর না করে ফ্রিজ থেকে খাবারের বাটিটা বের করলো। রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে যেতে যেতে বললো,
- হাতমুখ ধুয়ে নাও। খাবার গরম করে আনছি, খেয়ে নাও।
মেহেদী রুম থেকে বেরিয়ে নাফিসার হাত থেকে বাটিটা নিয়ে দেখলো বিরিয়ানি।
- এটা কোথা থেকে এলো?

- কাল বাসা থেকে আসার সময় নিয়ে এসেছি।
মেহেদী বাটিটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়ির পেছনের ময়লায় বাটিসহ ফেলে দিলো। আবার ঘরে আসতেই নাফিসা বললো,
- খাবার কেন ফেলে দিলে? ওটা কি দোষ করেছিলো! তোমার খেতে ইচ্ছে না হলে আমি খেয়ে নিতাম।
মেহেদী কোন জবাব না দিয়ে বারান্দার দরজা বন্ধ করে ভেতরে রুমে এসে শুয়ে পড়লো। ঘরেও শান্তি নেই, এখন বাইরে গিয়েও লোকেদের জন্য শান্তি পাবে না। সব ধ্বং-*স করে দিচ্ছে এই মেয়েটা!

চলবে...

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com