Breaking News

ভালোবাসি প্রিয় । পর্ব - ০৫



গত পর্বে ছিলো..... মেহেদী আর নাফিসা নতুন একটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবে। তবে তারা একে অপরকে সহ্য করতে পারেনা। এদিকে ক্যান্টিনে একা রিসাদ নাফিসাকে বসতে বলল।

তারপর....

রিসাদ একটু আশেপাশে তাকিয়ে নাফিসার পাশেই বসে পড়লো। দিনা আবিদের কাছে গিয়ে দেখলো আবিদ মেহেদীসহ আরো কয়েকজনের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে। তাই সে একটু দূরেই দাড়ালো। আবিদ তাকে দেখে সেখান থেকে উঠে এসে জিজ্ঞেস করলো,

- এখানে কেন? কিছু বলবে?
- আমি কি বলবো? তুমি নাকি ডেকেছো আমাকে তাইতো এলাম।
- আমি কখন ডাকলাম!
- রিসাদ ভাইয়া যে বললো।
- দুষ্টুমি করেছে হয়তো। আমি ডাকিনি। আমাদের এখানে বসিয়ে রেখে ফাজলামো শুরু করেছে! কোথায় সে?
- ক্যান্টিনের দিকে ছিলো। এখন কোথায়, জানি না!
- আচ্ছা তুমি যাও।
দিনা ক্যান্টিনে ফিরে এসে দেখলো নাফিসা একা বসে আছে।
নাফিসার পাশে বসতেই নাফিসা জিজ্ঞেস করলো,
- কিরে, কি এমন জরুরি তলব করলো?
- আরে কিছুই না। রিসাদ ভাইয়া দুষ্টুমি করছে। অনেক ফা-*জিল রিসাদ ভাইয়া।
- হিহিহি......

আজ দিনাদের বাসায় যাবে নাফিসা।
তাই দিনা ছুটির পর ওয়েট করলো নাফিসার প্রাক্টিস শেষ হওয়া পর্যন্ত!
প্রাক্টিস শেষ হতেই নাফিসা যখন বের হতে যাবে, মেহেদী নাফিসার কাছে একটা বই দিলো।
নাফিসা বইটি দেখে অবাক হয়ে গেলো! এটা তো তারই বই!
- আমার বই আপনার কাছে গেলো কিভাবে!
- তুমি গান গাওয়ার সময় নিয়েছিলাম তোমার ব্যাগ থেকে। না বলে নেয়ার জন্য স্যরি।
আসলে আমার এক ছোট ভাই খুজেছিলো তার প্রয়োজন থাকায়।
তাই তোমার ব্যাগে সার্চ করেছি। দেখে নাও, যেমন ছিলো তেমনই আছে।
নাফিসা একটু এলোমেলো ভাবে উল্টেপাল্টে দেখলো ঠিকই আছে।
কিন্তু মেহেদী যে মিথ্যে বলেছে এটা নাফিসা নিশ্চিত।
বই নিয়ে নাফিসা দিনার সাথে তাদের বাসায় এলো। দিনার হাত পা রীতিমতো কাপা শুরু করেছে!

দিনার মা কে সালাম দিলো। দিনার বাবা বাসায় আছে কিনা তা জিজ্ঞেস করলো।
দিনার মা দিনাকে বললো আপ্যায়নস্বরূপ খাবার দিতে
আর নাফিসাকে বসতে বলে দিনার বাবাকে ডেকে আনলেন।
পাশের রুম থেকে দিনার বাবা এলে তাকেও সালাম দিলো নাফিসা।
তারপর উনারাও পাশে বসলো। দিনা খাবার দিয়ে চলে যাচ্ছিলো,
নাফিসা তাকে ডেকে পাশে বসতে বললো। অত:পর নাফিসা বলতে লাগলো,
- আংকেল আমি দিনার ফ্রেন্ড নাফিসা। আমরা একসাথেই পড়ি।
- হ্যাঁ, দিনা বলেছিলো তোমার কথা। পড়ালেখা কেমন চলছে?
- আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আংকেল, দিনার নাকি বিয়ে ঠিক হয়েছে?
দিনার বাবার মুখটা কিছুটা মলিন হয়ে উঠলো, তবুও জবাব দিলো,
- ঠিক হয়নি এখনো। তবে কথাবার্তা চলছে।
- অহ, ভালো। আসলে আমি দিনাকে নিয়ে একটু কথা বলতে চাচ্ছিলাম। কথাটা বলতে ইতস্তত বোধ করছি। কিন্তু এটা বলাটা খুব জরুরি মনে করছি আমি। আমি অনেক ছোট, আপনাদের জ্ঞান বুদ্ধির চেয়ে আমার জ্ঞান বুদ্ধি অনেক কম। এমনকি বিষয়টা জানানো উচিত হচ্ছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই। জানিনা আপনারা কিভাবে নিবেন আমার কথাটা! আশা করি ভুল করলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
দিনার বাবা লক্ষ্য করলো নাফিসা অনেক ইতস্তত বোধ করছে। তাই হেসে সাহস যুগিয়ে বললো,
- আচ্ছা, কি বলতে চাও বলো।

- আংকেল দিনাকে একটা ছেলে খুব পছন্দ করে। মানে দিনাও...
দিনার বাবা মায়ের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল। নাফিসা আবার বলতে শুরু করলো,
- আংকেল, বাবা-মা নিশ্চয়ই সন্তানের জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
আপনারাও নিশ্চয়ই এর ব্যাতিক্রম না। কিন্তু দিনা আপনাদের এ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।
আমিও জানতাম না। গত দুদিনের মধ্যেই জেনেছি তাই বিষয়টি আপনাদের জানানো প্রয়োজন মনে করলাম।
দিনাও আপনাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে রাজি না।
সে নিজেই আমাকে বলেছে আপনারা আপনাদের সর্ব চেষ্টা তাদের মঙ্গলের জন্য করছেন,
তাই সে আপনাদের কিছুতেই ঠকাতে পারবে না।
কিন্তু দিনার বিশ্বাস সেই ছেলের কাছেই সে খুব সুখী থাকবে।
আপনারা যেন একটু ভেবে চিন্তে দেখেন। কিন্তু সেটা বলতেই পারছে না আপনাদের।
আপনারাও নিশ্চয়ই মেয়ের সুখ বিবেচনা করে পাত্র ঠিক করছেন।
জোর করে কোথাও বিয়ে হলে সে সম্পর্ক বেশিদিন টিকে না।
মনের সুখই প্রকৃত সুখ। যারা সংসার করবে তাদের যদি মতামত,
পছন্দ অপছন্দ না থাকে তাহলে সংসার টিকবে কিভাবে!
তারা আপনাদের না জানিয়ে চাপে পড়ে যেন কোন ভুল সিদ্ধান্ত না নিতে পারে সেজন্যই আমার এখানে আসা। হয়তো ছোট মুখে কথা বেশিই বলে ফেলেছি। মাফ করে দিবেন প্লিজ।
দিনার বাবা দিনার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

- ছেলেটি কে?
দিনা কোন উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করেই বসে আছে। নাফিসা দিনাকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলতে বললো। দিনা কাপা কাপা কন্ঠে জবাব দিলো,
- রিতু আপুর হাসব্যান্ড এর ফুপাতো ভাই, আবিদ।

- ছেলে কি করে?
- মাস্টার্সে পড়ছে, আমাদের ভার্সিটিতেই।
- ছেলে কাজ কি করে?
দিনা আর কোন জবাব দিচ্ছে না! কি বলবে সে! ছেলে বেকার! নাফিসা বুঝতে পেরে বললো,
- দিনা বলছিস না কেন? আংকেল না জেনে শুনেই কি সিদ্ধান্ত নিবে? বল, আবিদ যে NN গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজার।
দিনা চমকে উঠে নাফিসার দিকে তাকালো! এতোবড় মিথ্যে কেন বললো! যদি বাবা খোঁজ করার পর ধরা পড়ে যায়! দিনার বাবা নাফিসার দিকে তাকিয়ে বললো,
- মোহাম্মদপুরের NNগ্রুপ?
- হ্যাঁ, আংকেল। দিনা বলেছে আবিদের ফ্যামিলির অবস্থা নাকি তেমন ভালো না। মানে আপনাদের চেয়ে একটু নিম্ন মানের। কিন্তু জবটা নতুন পেয়েছে।
- আচ্ছা, দিনা, মেয়ের বাবা হয়ে আমি তো আর প্রস্তাব নিয়ে যাবো না। আবিদকে বলো তার বাবা-মাকে নিয়ে বাসায় আসতে। কথা বলবো আমি তাদের সাথে।নাফিসা দুপুরের খাবার খেয়ে তারপর যেয়ো। আর দিনাকে একটু সাহস যুগিয়ে দিয়ো।
দিনার মা ও নাফিসা হাসলো।
- আচ্ছা আংকেল।

দিনা নাফিসাকে নিয়ে তার রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো।
- থ্যাংক ইউ সো মাচ দোস্ত। তোকে এত্তগুলা ভালোবাসা।
- হয়েছে হয়েছে! আমার কিন্তু ক্ষুধা লেগেছে।
- হিহিহি..... আচ্ছা। বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।
কিন্তু তুই মিথ্যে বললি কেন! এখন যদি বাবা খোঁজ নিয়ে দেখে আবিদ বেকার!
আর আমি তাকে নিয়ে মিথ্যে বলেছি বাবার কাছে, এটা জানলে আবিদও রাগ করবে খুব।
নাফিসা পার্স থেকে একটা কাগজ বের করে দিনার হাতে দিয়ে বললো,
- এটা ভাইয়ার কাছে দিয়ে বলবি কাল সাড়ে দশটায় NN গ্রুপে গিয়ে ইন্টারভিউ দিতে।
- এটা কিভাবে সংগ্রহ করলি?

- আমার মামার কোম্পানি। আমি মামার সাথে কথা বলেছি, কাউকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই।
শুধু ভাইয়াকে বলবি ইন্টারভিউ দিতে।
দিনা নাফিসাকে জড়িয়ে ধরে রইল।
- এতো কিছু করছিস কেন আমার জন্য?
- এখন কি আমি অপরাধী?
- হিহিহি.... না, কিন্তু আবিদকে বলতে হবে। বেশি কিছু বলবো না, শুধু এটুকু বলবো।
এটা পেতে নাফিসা হেল্প করেছে।
- ওকে।
খাওয়াদাওয়া শেষ করে নাফিসা বিদায় নিয়ে চলে আসার সময় দিনার মা বললো,
- নাফিসা, তোমার বাবা মা কে নিয়ে এসো আবার।
- স্যরি, আন্টি। বাবা মা আসবে না।
- কেন?

- দিনার মতো আমি এতোটা ভাগ্যবতী নই।
তাই ছোট থেকেই বাবা মা কে হারিয়ে মামা মামীর কাছে আছি।
দিনার বাবা মা উভয়ই অনেক কষ্ট পেলো।
দিনার মায়ের কাছে এখন মনে হচ্ছে কথাটা বলে মেয়েটাকে আরো বেশি কষ্ট দিলো।
আর দিনা তো আরো বেশি অবাক হয়েছে, আর খুব বেশি কষ্ট পেয়েছে।
সে জানতোই না নাফিসার বাবা মা নেই!!! দিনার মা অত:পর বললো,
- মাঝে মাঝে আসবে দিনার সাথে। আর তোমার মামা মামীকে নিয়েও আসবে।
- আচ্ছা আন্টি। আল্লাহ হাফেজ।

রাতে নাফিসা পড়তে বসেছে।
হঠাৎ করেই মনে হলো মেহেদী তার বই টা কোন না কোন কারণে নিয়েছে।
তাই বইটা খুলে প্রথম থেকেই খুব ভালোভাবে দেখতে লাগলো।
প্রথম পেজ দেখে দ্বিতীয় পেজে আসতেই চোখ আটকে গেল।
খুব সুন্দর করে কিছু লেখা আছে বইয়ে।
হাতের লেখাও খুব সুন্দর। প্রশংসা না করে পারলো না নাফিসা!

"হয়েছি মুগ্ধ তোমাতে আমি,
পেরেছো কি বুঝতে কবু তুমি?
গাইবো গান, তোমারই শানে,
চির অন্তর জামি!"
---- চিরকুট দিলে তো ছুড়ে ফেলে দিতে, তাই চু-*রি করে বইটা নিয়েছি।
আশা করি এটা ফেলতে পারবে না।
প্রথম থেকেই ঝ-*গড়া দিয়ে শুরু হয়েছে তোমার আমার পরিচয়, শেষটা যেন এমন না হয়!
এভাবে আর কতো! ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না আমরা একে অপরের কাছে?
নাফিসা অনেক ভালো লাগে তোমাকে, এই ভালো লাগা শুধু ভালো লাগাতে রাখতে চাই না আমি।
পারবে কি দিতে ভালো লাগা থেকে ভালোবাসার সুযোগ???
তোমার উত্তরের আশায় আছি, মেহেদী....

চলবে...

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com