চাঁদ হয়ে রবো । পর্ব-২

ডিভোর্স।ডিভোর্স চাই আমার।”
“তোর মতো মেয়েকে আমি আমার ঘরে রাখবো না”
কাল বেল্টের বারিতে ঠোটের যে অংশ কেটে গিয়ে ছিলো।তুষার সেই যায়গা শক্ত করে চেপে ধরে বললো কথা গুলো।
,
পৌষী মুর্তির মতো দাড়ীয়ে।তুষারের বলা কথা গুলো ঝংকারের মতো কানে বাজলো।শিরদাঁড়া শক্ত হয়ে দাড়ীয়ে রইলো ও।এরকম কথা আজ নতুন বলে না ও।যখন ঝগড়া হয় তখই বলে।মাঝে মাঝে উত্তর দিতে ইচ্ছা করে।দেয়না।আকাশের দিকে তাকিয়ে দির্ঘস্বাস ফেলে।
ওকে চুপচাপ থাকতে দেখে রাগে তুষারের রক্ত টগ বগ করে উঠলো।
তুষার ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।
বাজে মেয়ে মানুষ।
কথাটা গিয়ে সোজা পৌষীর ব্রেনের ভিতর লাগলো।বাকশক্তি যেনো হারিয়ে ফেলেছে সে।
তুষার চলে গলো।পৌষী উঠে ব্যলকনিতে চলে গেলো।
,
তুষার রুম থেকে চলে যাওয়ার পর।আকাশের দিকে তাকিয়ে একা একাই কথা বলে।ও মনে করে মানুষ মৃত্যুর পর আকাশে থাকে।তাই আকাশের দিকে তাকিয়ে বাবা মাকে অনেক কথা বলে।
এখানে একা ফেলে কেনো রেখে গেছে।আজ যদি তারা থাকতো।তাহলে তুষারের কাছে নিশ্চই কৈফৎ চাই তো তাদের আদরের বাচ্চা পুতুল টাকে কেনো এতো কষ্ট দেয় সে।আবার অভিমান করে বলতো।আমার জন্য একটা বড় ভাই কেনো রেখে যাওনি।তোমারা না থাকলে সেতো পারতো।তুষারের কলাট ধরে।জিজ্ঞেস করতো তার আদের বোনটাকে কেনো সে মারে।কেউ নেই বলার কেউ নেই ওর ভাবতে ভাবতে ব্যলকনির নিচে বসে কান্না করতে থাকে।
,
রুম থেকে বেরোনোর সাথে সাথেই।লিজা বেগম বলল
“কিসব কথা বলিস।রাগের মাথায় যা তা সিদ্ধান্ত নিলে হয়।”
“আমি ওকে ছেরেই দিবো মা।”
“কি করেছি কি শুনি।ছেলে মানুষ এই একটুআধটু ভুল তো সবাই করে তাই বলে”
মাকে থামিয়ে দিয়ে বলল
“ও যা করেছে কি বললবো”
“আগেই বলোছিলাম সামল দে।লাই দিস না।দেখলি তো মাথায় উঠে বসেছে।এখন বোজ”
“মেয়ে মানুষের বেশি লেখা পড়া করতে নেই।বুজলি তো এখন।বেশি বুজনে গাঁজন নষ্ট”
,
তুষারের চোখ মুখ শুকনো।দেখে লিজা বেগম বলল
“খাওয়া দাওয়া কিছু কি হয়েছে।না।না খয়ে সারাদিন টই টই করা হচ্ছে।চল খাবি চল”
“না আমি খাবো না”
“মা বলছি চল”
বাদ্ধ হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে।খাবার খেয়ে বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেলো তুষার।
,
তুষার যদিও বা কাউকে কিছু বলে না।
যা হয় সব নিজের মনে মনেই রাখে।তা দিয়ে যে আগ্নেয়গিরির লাভা ভূগর্ভ থেকে বের হয় সেটা পৌষীর উপর ঝারে।বাহিরে কিছু হলেও পৌষীর উপর সেই রাগ ঝারে।
কাল কেনো মেরেছে সবটা বুজতে না পারলোও।একটু হলেও বুজে তা হলো।
কাল সিনিয়ার ডক্টরদের সাথে একটা ওটি ছিলো।
ওখানে পেসেন্টের কাছে থেকে থেকে আর হসপিটালের ফিনাইলের গন্ধে নাড়ীভুঁড়ি মুরিয়ে।বমি হয়ে সব পেট থেকে বেরিয়ে।আসার উপক্রম।তার উপর।শ্রাবণের ভ্যপসা গরমে অস্থির হয়ে হসপিটাল থেকে ফিরে গোসল করেছিলো।
তাই।তুষারের এমন আচরনের মূল।কারণ।
,
পৌষী দির্ঘস্বাস ফেললো।কিছু বলল না।
পৌষী নিচ থেকে উঠে।বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।
,
তুষার হয়তো বা কোথাও বসে সিগারেট টানছে।
ছেলেদের নাকি সিগারেট খেতে হয় নাহলে পার্সনালিটি স্ট্রং হয় না।
ও এখন চেইন স্মোকার দিনে কয়েক প্যকেট শেষ করতে পারে।
ওর শরীরে তিব্র সিগারেটের গন্ধ থাকে।সব সময়।
,
পৌষী সাইন্স স্টুডেন্ট ছিলো।
সারাদিন ল্যব।ক্যমিকাল নিয়ে থাকে।
পড়া লেখা নিয়ে বেস সিরিয়াস।
মায়ের শেষ স্বপ্ন হিসেবে।সে নার্সিং ভর্তি হয়।
মায়ের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ওকে বড্ডো যন্ত্রনা দেয়।মাত্র একটু টাইফায়েট জ্বরের জন্য ওর মা মারা যায়।মা মৃত্যু আগে বলে ছিলো।জানিস পৌষী মা তোকে আমি ডাক্তার বানাবো।তা না পারলে ওই যে দেখছিস সাদা কাপড় পরা মহিলা গুলু আছে না সিসটার তোকপ আমি ওইগুলা বানামু।আমার হাতে ধীরে ধীরে তুই ইঞ্জাকশন দিবি।পৌষ তখন জরীয়ে ধরে বলল।
“হুম মা”
,
সারা দিনের অক্লান্ত।পরিশ্রম।পাশে ওটিও থাকে।
তুষার ওর সম্পর্কে এমন নিচ একটা কথা বলতে পারবে।স্বপ্নেও ভাবেনি।
কাউকেই কিছু বলল না।
কিছুই বলার নেই।
,
পৌষীর পুরো শরীরে ব্যথা নিয়ে।বাড়ীর সব কাজ শেষ করে কলেজের জন্য তৈরি হয়ে নিলো।
হাই নেক ড্রেস পরে।লম্বা হাতার একটা ধূসর রঙের সেলোয়া সুট পরে নিলো।
,
ডাইনিং এ তুষারের ছোটো ভাই তনয় এসেই বলল
“ছোটো আপু আজ কলেজে না গেলে কি হয়।”
“না ভাই আজ ইম্পর্টেন্ট একটা লেকচার আছে।এক ঘন্টা। জলদি আসবো।”
“না।অসুস্থ শরীর নিয়ে।না গেলেই কি নয়”
পৌষী কথা বারাল না।চার দেয়ালের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের খুটি নাটি এখন সবার জানা কারো অজানা নয়।
তনয় মুখ উলটে কিছুই বলল না।
সেদিন যদি ওরা পৌষীদের বাড়ীতে না যেতো তাহলে এসব কিছুই হতো না।
ওর পৌষীর জন্য খারাপ লাগছে।
,
তুষার নাস্তা শেষ করেই চলে গেলো।ও যতক্ষণ পৌষীকে দেখছে কিছু একটা মনে পরে।রাগ চরম পর্যায় উঠে যাচ্ছে।
,
কলেজ শেষে বাড়ী ফিরছিলো।পৌষী।
ও একাই ফিরছিলো।কশ্মিন কালেও ও ছেলেদের সাথে কথা বলে না।
বাহিরে একজন লোক ওকে জিজ্ঞেস করলো
হসপিটাল কেন দিকে দেখিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে লোকটা হঠাৎ ওর হাত টাচ করলো।
তখনই তুষার ওখানে চলে আসে।
এসেই পৌষীকে টেনে বাইকে বসিয়ে নিয়ে চলো এলো।
,
বাড়ী ফিরেই দরজা বন্ধ করে দু গলো।কসিয়ে চর মারলো।পৌষী টাল সামলাতে না পেরে মুখ থুবরে বিছানাপরে গেলো।
তুষার বলল
“তোর একসাথে কয়টা ছেলেকে লাগে।
এখন রাস্তার ছেলেদের সাথেও ডলা ডলি করা শুরু করলি।
তোর এতো গুন।
আমাকে দিয়ে তোর হয়না।
বাজারের মেয়ে।
তোকে আমি কালই ডিভোর্স দিবো”
তুষারের বলা ঘির্নতম বাক্য এটা।পৌষীর দু চোখ বেয়ে জল উপচে পরছে।ধপাস করে নিচে বসে পরলো।
তুষার পৌষীর চুল মুঠ খামচে ধরে বলল
”কাল থেকে তোর কলেজ যাওয়া বন্ধ ।ছেলে দের সঙ্গে মাখা মাখি কিভাবে করিস দেখবো”
,
,
চলবে,,