Breaking News

ডেড বডি | লেখাঃ নাজমুল নিশাদ | পর্বঃ ৩

মেয়েটি বলে, -আংকেল আমার নাম ঈশিতা। রিয়ার ক্লোজ ফ্রেন্ড। রিয়ার লাশটা যেদিন পাওয়া গেছে। তার আগের দিন আমাদের স্কুলের ইংলিশ টিচার রিয়াকে আউট অফ রুম দিয়েছে।
-আউট অফ রুম মানে?
-আসলে ওই স্যারকে যদি কেউ পড়া দিতে না পারে। তখন তাকে আউট অফ রুম শাস্তি দেয়। এটার মানে হচ্ছে সব শিক্ষার্থীকে রুম থেকে বের করে দেওয়ার পর যে পড়া পারবে না তাকেই একা রেখে অশ্লীল শাস্তি দেয়া।
-সবাইকে বাহির করে দিয়ে একজনকে শাস্তি দেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ দেখে না?
-স্যারের ক্লাস সবার শেষে। তখন ছুটি হয়। আর স্যার এই শাস্তি দেওয়ার আগে, কাউকে না বলার হুমকি দিয়েই শাস্তি দেন। যদি কেউ বলে তাহলে তাকে মেরে ফেলার ও হুমকি দেন।আংকেল আমার মনে হচ্ছে রিয়া এই কথা কাউকে বলতে চেয়েছে তাই মনে হয় স্যার রিয়াকে মেরেই ফেলেছে।
-আচ্ছা ঠিক আছে তুমি সাবধানে থেকো। আমি দেখছি কি করা যায় । কালকে তোমায় একটা কাজ করতে হবে।
-কি?
-কালকে যখনি কাউকে আউট অফ রুম এর জন্য রেখে দিবে তখনি আমাকে কল বা মেসেজ দিবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

মেয়েটিকে বাসায় রেখে আমিও বাড়ির উদ্দেশ্যে যাই।

আর ভাবতে থাকি তারমানে কি সত্যি এই স্যার খুনের সাথে জড়িত আছে?

কালকে দেখতে হবে এবং স্যার এর সাথে কথা বলতে হবে। একবারের জন্য হলেও স্কুলে যেতে হবে।

ঈশিতা ফোন দিক বা না দিক। বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পরি।

সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে প্রায় ১১:৩০ এর দিকে থানার উদ্দেশ্যে যাই।

যেতে যেতে হঠাৎ মনে পরে এই সময় তো গার্লস স্কুল ছুটি হয়, কিন্তু ঈশিতা তো ফোন দিলো না।

তবুও ভাবলাম একবার ঘুরেই আসি। স্কুলে গিয়ে দেখি সবাই বের হচ্ছে, তারমানে ছুটি হয়েছে।

ভিতরে ঢুকে দারোয়ান কে বললাম ইংলিশ রমেন্দ্র স্যার আছেন?

উনি তখন বললেন,

– স্কুল তো ছুটি দিয়েছে, স্যার মনে হয় এখন চলে গেছে।

ওহ আচ্ছা।

ছুটি যখন দিয়েছে তাহলে চলে গেছে।

আর আজকে হয়তো কাউকে আউট অফ রুম দেয় নি তাই ঈশিতাও কল দেয় নি।

স্যারটাকে হাতে নাতে ধরতে হবে, তাই আজকে থাক কাল আসবো।

হঠাৎ মনে পরে ঈশিতা তো বলেছিলো স্যার স্কুল ছুটির পর শাস্তি দেয়।

তারমানে যদি আজকে কাউকে শাস্তি দেয় তাহলে এখন দিচ্ছে।

তাই যেখানে ইংলিশ ক্লাশ হয় ঈশিতাদের সেখানে গেলাম।

গিয়ে দরজার কাছাকাছি যেতেই দেখি ভিতর

থেকে ঈশিতা বের হয়ে আসছে। তাকে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই আর ভয়ও পাই,

মেয়েটাকে আউট অফ রুম দিলো না তো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম,

ঈশিতা কি হয়েছে, কোন সমস্যা?

না।

এত দেরিতে ক্লাশ থেকে বের হলে কেনো?

কিছু না।

বলেই কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।তার এমন বিহ্যাভ দেখে ভয় পেয়ে গেলাম এই ভেবে,

যে ঈশিতাকেও আউট অফ রুম দিলো কি না।

তাই আমি দৌড়ে যাই ক্লাশ রুমের দিকে স্যারকে ধরার জন্য।

কিন্তু গিয়ে দেখি স্যার নেই। দেখে একটু চিন্তামুক্ত হলাম, যেটা ভেবেছিলাম সেটা হয় নি

তাহলে ঈশিতার সাথে, কারন স্যার তো নেই ।

যাই হোক ক্লাশ রুম থেকে তারাতারি বের হয়ে ঈশিতার কাছে গিয়ে বললাম,

ঈশিতা কিছু হয়েছে তোমার?

না তো। আর কিছু হলে তো আপনাকে কল দিতাম আংকেল।

তোমার ইংলিশ স্যার কোথায়?

আমি জানি না। আর আংকেল প্লিজ আমাকে আর এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলবেন না।

প্রয়োজনে আমি আপনাকে কল দিবো।

বলেই একটা রিকশা নিয়ে সে চলে গেলো।

হঠাৎ ঈশিতার এমন কথা সন্দেহজনক লাগলো৷

যে মেয়ে গতকাল আমাকে এতকিছু বললো কিন্তু আজকে এমন করেছে।

তারমানে কিছু একটা হয়েছে।

ঈশিতার সাথে কথা না বলে চলে যাই সেই রমেন্দ্র স্যারের বাসায় মানে যে স্যার আউট অফ রুম দেয় ছাত্রীদের,

গিয়ে দেখি স্যারের রুম তালা দেয়া। তালাটা ভেংগে ভিতরে ঢুকি৷ তার ঘরটা

দেখে কেমন জানি রহস্য জনক লাগছে।

হঠাৎ রুমের একটি টেবিলে ছুরি দেখলাম এবং ছুরিটাতে রক্তের দাগ দেখে সন্দেহ আরো বেড়ে গেলো।

তাই তার ঘরটা ভালোভাবে খুঁজার জন্য আগ্রহ তৈরি হলো৷

আলমারির ড্রয়ার খুলে দেখি কিছু সার্জিক্যাল ব্লেড আর কিছু পিন।

ঠিক এর আগের লাশ দুইটির শরীরে যে রকমটা পাওয়া গেছে।

এরপর ওয়ারড্রপের ড্রয়ার খুলে আমি আরো অবাক হয়ে যাই৷ কারন ওয়ারড্রপের ড্রয়ারে রিয়ার স্কুল ব্যাগ।

যেটাতে তার স্কুলের বই, খাতা ছিলো।

তারমানে রিয়া কোচিং থেকে যাওয়ার সময় স্যার কিডন্যাপ করেছে এবং খুন করেছে।

হঠাৎ দরজায় শব্দ হয়।তারমানে রমেন্দ্র স্যার চলে এসেছে।

আমি দরজার পিছনে গিয়ে দাড়াই। আজকে তাকে গ্রেপ্তার করবো, কিন্তু স্যার প্রচুর চালাক।

আমি ভিতরে ছিলাম সে বুঝে গেছে,তাই সে আমাকে ভিতরে রেখে

দরজাটা বন্ধ করে সাথে সাথে বাহির থেকে তালা দিয়ে দৌড়ে চলে গেলো।

আমিও দরজার কাছে এসে ভিতর থেকে রিভেলভারটা দিয়ে তালা ভেংগে বাহির হয়ে স্যার

এর পিছনে পিছনে দৌড় শুরু করি, কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে যেন কোথায় হারিয়ে গেল।

তারাতারি করে থানা থেকে কিছু ফোর্স নিয়ে চারপাশে ঘিরে তাকে আটক করি।

তারপর থানায় নিয়ে গিয়ে তার থেকে রিয়াকে হত্যা করার সব ঘটনা শোনার জন্য কন্টেইন

সেলে নিয়ে যাই। তাকে জিজ্ঞাস করি,

এত সুন্দর একটা মেয়েকে কিভাবে মারলেন, একটুও কি কষ্ট হলো না আপনার?

 

আমি রিয়াকে মারি নি?

তাহলে কে মেরেছে?

আমি জানি না। তবে সেদিন রিয়ার সাথে আমার বিকেলে দেখা হয়েছিলো বাজারে।

রিয়া একটি কোচিং থেকে আসছিলো। হঠাৎ ই আমার সাথে দেখা হয়।

রিয়া ইংলিশ গ্রামারের কি যেন একটা বিষয় বোঝে নাই সেটা বোঝার জন্য আমাকে বললো,

আমি তখন আমার বাড়ির কাছেই ছিলাম সেজন্য তাকে আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ঘরে বসতে দেই।

ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে রিয়াকে বোঝাতে শুরু করি।

রিয়া একটু নিচু হয়ে রুলস গুলো লিখতেছিলো আর তখনি আমার নজর রিয়ার বুকে পরে,

তাই রিয়ার সাথে কিছু করার কাম জেগেছিলো।

তাই তার হাতটা ধরি, আর তাতেই রিয়া বুঝে গিয়ে দরজাটা খুলেই একটা দৌড় দেয়।

অনেক চেষ্টা করেছি আটকানোর কিন্তু পারি নি। ঘর থেকে বাইরে এসে দেখি রিয়া নেই।

ভাবলাম কোন অটোতে করে চলে গেছে। তাই আর বেশি ভাবি নি।

মিথ্যা কথা। আপনি আউট অফ রুমে কি শাস্তি দিতেন মেয়েদের?

ওহ আচ্ছা আপনি আউট অফ রুম সম্পর্কে জানেন তাহলে? ঈশিতা বলেছে তাই না।

হাহাহা তাই তো ঈশিতাকেই শাস্তি দিয়েছি।

শুনেন তাহলে আউট অফ রুমের শাস্তি..
.
চলবে….

No comments