Breaking News

দ্যা ডেন্জারাস লাভার । সিজন -২ । পার্ট-১১

তিথি মেয়েটি বেশ স্মার্ট আর সুন্দরীও বটে। তিথি কলেজ জীবনে শ্রাবনকে অনেক লাভ করতো। কিন্তু শ্রাবন তিথিকে জাস্ট ফ্রেন্ড ছারা কিছুই ভাবতো না। কলেজ জীবন শেষ হলে যে যার মতো আলাদা হয়ে যায়। তিথি অনেক চেষ্টা করে শ্রাবনের সাথে যোগাযোগ রাখতে কিন্তু শ্রাবন সব সময়ই তিথিকে এভোয়েট করে চলতো। আর শেষ পর্যন্ত তিথির সাথে সব রকম যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয় শ্রাবন।
,
,
,
পরের দিন সকালে

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে বৃষ্টি ফ্রেশ হয়ে নীলের মায়ের কাছে চলে এলো কাজে হেল্প করবে বলে।

যতই বৃষ্টিকে মেয়ের মতো ভালবাসুক না কেনো, আসলে তো বৃষ্টির সাথে এদের রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই।

তাই নিজের বাড়ির মতো বসে বসে খাওয়াটা খুব একটা ভালো লাগবে না বৃষ্টির নিজের কাছেই।

নীলের মা রান্না ঘরে সকালের নাস্তা হিসেবে পরোটা বানাচ্ছিল।

বাসায় কাজের লোক থাকলেও রান্নাটা নীলের মা নিজেই করেন।

আসলে বাসার কেউ নীলের মায়ের হাতের রান্না ছারা অন্যের রান্না খায় না।

তাই রান্নাটা নীলের মাকেই করতে হয়।

বৃষ্টি কিচেনের দরজার সামনে গিয়ে নীলের মাকে বললো

মামনি কি রান্না করছো?

আরে নীলা যে, এত সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পরেছিস আজ?

রাতে ঘুম হয়নি নাকি রে মা?

নাহ মামনি রাতে খুব ভালো ঘুম হয়েছে।

তাইতো এত তারাতারি ঘুম থেকে উঠতে পেরেছি। বলনা কি রান্না করছো?

এই তো পরোটা, সবজি আর সুজির হালুয়া করবো।

তুই রুমে গিয়ে আরেকটু ঘুমিয়ে নে আমি টেবিলে নাস্তা রেডি করে তোকে ডাকবো।

নাহ মামনি আমি তোমায় হেল্প করতে চাই।

তোমার সাথে আমিও রান্না করবো প্লিজ মামনি না করোনা।

ও বাবা আমার মেয়েটা দেখি আজ রান্না করতে আসছে এখানে।

তা বলছি যে তুই রান্না করতে পারিস তো নীলা? কি কি রান্না করতে পারিস শুনি?

নীলের মায়ের কথা শুনে বৃষ্টি মাথা চুলকাতে চুলকাতে অসহায় ভাবে বললো

ইয়ে মানে আসলে মামনি আমি তো নুডুলস আর কফি ছারা কিছুই বানাতে পারিনা।

আসলে কখনো রান্না শেখা হয়নি কারো থেকে।

হা হা হা আচ্ছা বাবা তোকে আর মাথা চুলকাতে হবে না। তুই বরং নুডুলসই রান্না কর।

নীল নুডুলস খেতে খুব ভালবাসে।

কালকে আমায় বলে ছিলো নুডুলস রান্না করতে কিন্তু সময় পাইনি তাই করিনি।

তুই তাহলে নীলের জন্যে নুডুলসটা কর।

নীলের মায়ের কথা শুনে আনন্দে লাফিয়ে উঠলো বৃষ্টি।

তারপর কোমড়ে ওড়না পেঁচিয়ে নুডুলস রান্না করতে লেগে গেলো।

বৃষ্টিকে এখন কেউ দেখলে মনে করবে যেনো কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানের রান্না ওকে একা করতে দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টির এভাবে রান্না করা দেখছে আর নীলের মা মনে মনে বলছে

এমন একটা মেয়েকে কি করে এত কষ্ট দিতে পারলো ঐ শ্রাবন নামের ছেলেটা?

নীলা মাকে দেখে মনে হচ্ছে ও এখনো একটা বাচ্চাই রয়ে গেছে শুধু হাতে পায়ে বড় হয়েছে যা।

কি মিষ্টি একটি মেয়ে ও, ওর ওপর এমন অত্যাচার কি করে করলো ঐ শ্রাবন চৌধুরী।

এসব ভাবছে আর বৃষ্টির রান্না করা দেখছে নীলের মা।

রান্না বান্না শেষ হলে টেবিলে সব খাবার রেডি করে সবাইকে খেতে ডাকলেন নীলের মা।

বৃষ্টিও নীলের মায়ের সাথে টেবিলের পাশে দাড়িয়ে রইলো।

একটু পর নীল আর নীলের বাবা এসে খেতে বসলো। খেতে বসে নীল বললো

আম্মু আমার জন্যে কি নুডুলস রান্না করেছো, নাকি আজকেও বলবে সময় হয়নি তোমার?

হুমম রে নীল সত্যিই আজকেও আমার সময় হয়নি তোর নুডুলস রান্না করার মতো।

তবে তোর নুডুলস তো রান্না হয়েছে।

এই বলছো রান্নার সময় পাওনি।

আবার বলছো রান্না হয়েছে, বলি নুডুলস কি একা একাই হেটে রান্না হয়ে গেলো নাকি আম্মু?

আরে বোকা ছেলে নুডুলসের কি হাত পা আছে যে একা একাই রান্না হবে।

আসলে তোর নুডুলস টা আজকে আমি রান্না করিনি অন্যকেউ করেছে।

কি বলছো আম্মু, তুমি ভালো করেই জানো আমি তোমার হাতের রান্না ছারা কারো হাতের রান্না খাই না।

তবুও তুমি কাজের লোকদের দিয়ে আমার নুডুলস রান্না করালে?

তোকে কে বললো নীল যে কাজের লোক তোর নুডুলস রেঁধেছে?

তোর জন্যে আজকে নীলা মামনি নুডুলস রান্না করেছে নিজের হাতে।

মায়ের কথা শুনে যেনো হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলো নীলের।

নীল বিস্ফোরিত চোখে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বললো
— নীলা আমার জন্যে নুডুলস রান্না করেছে? তাও আবার নিজের হাতে?
— হুম হুম নীলাই রেঁধেছে এবার খেয়ে দেখ কেমন হয়েছে নুডুলস টা।
নীলের মায়ের বলতে দেরি নীল নুডুলসের বাটিটা নিয়ে খেতে দেরি হলো না। নীল দুই চামচ নুডুলস খেয়ে বললো
— ওয়াও অসাধারন রেঁধেছো নীলা। নুডুলসটা জাস্ট ফাটাফাটি স্বাদ হয়েছে। এখন থেকে আমার জন্যে তুমিই নুডুলস রান্না করবে কেমন।
নীলের কথা শুনে বৃষ্টি মুচকি হেসে আনন্দিত কন্ঠে বললো
— সত্যিই আপনার নুডুলসটা ভালো লেগেছে নীল ভাইয়া? নাকি আমায় শান্তনা দিচ্ছেন?
— শান্তনা কেনো দিবো নীলা। সত্যিই তোমার নুডুলস রান্নাটা অসাধারন মজা হয়েছে। আচ্ছা আমি বরং বাটিটা নিয়ে রুমে বসে বসে খাই গিয়ে।
কথাটা বলে নুডুলসের বাটিটা নিয়ে নীল নিজের রুমে চলে গেলো। বৃষ্টি মনে মনে অনেক খুশি নীল প্রশংসা করেছে বলে। তারপর সবাই একসাথে বসে নাস্তা করে নিলো। সকালের নাস্তা শেষ করে একটু পর ছাদে চলে গেলো বৃষ্টি। আর ভাবতে লাগলো কি করে শ্রাবনের বিরুদ্ধে প্রমান জোগার করবে ও।
অনেক ভেবে বৃষ্টি সিদ্ধান্ত নিলো রাতে ও চুপি চুপি শ্রাবনের বাসায় যাবে আর শ্রাবনের রুম থেকে ছবিগুলো চুরি করে আনবে। কারন শ্রাবনের বিরুদ্ধে যদি যদি জোরালো কোনো প্রমান থাকে সেটা ঐ ছবিগুলোই। কারন সেখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে শ্রাবন ওর ভাই ভাবিকে কিভাবে হত্যা করছে। তাই বৃষ্টি মনে মনে একদম নিজেকে প্রস্তুত করে নিলো ও রাতেই যাবে শ্রাবনের বাড়িতে ঐ ছবিগুলো আনতে।
এসব কথা ভেবে বৃষ্টি নিজেকে নিজেই বাহবা দিতে লাগলো
— বাহ বৃষ্টি বাহ তোর কতো বুদ্ধি। এই না হলো ডেভিল শ্রাবন চৌধুরীর বউ।
মুখ ফসকে কথাটা বলে ফেলেই বৃষ্টি নিজের মুখটা চেপে ধরে বললো
— এ আমি কি বলছি, আমি ঐ শ্রাবন চৌধুরীর কিছু না। কিছু যদি হয়েই থাকি তাহলে আমি ওনার শত্রু আর কিছু না। কিন্তু তবুও কেনো মনটা এখনো বিশ্বাস করতে চাইছে না যে শ্রাবন আমার ভাই ভাবিকে হত্যা করেছে? কেনো বার বার মনে হচ্ছে উনি এসব কিছুই করেনি? নাহ নাহ এসব আমার মনের আবেগ গুলো বলছে। শ্রাবন চৌধুরী সত্যিই একজন খুনি। আমার ভাই ভাবিকে নির্মম ভাবে খুন করেছেন উনি।আমি নিজের চোখে দেখেছি সব। ওনার কোনো ক্ষমা নাই। আমি ওনাকে জেলের ভাত খাইয়েই ছারবো।
কথাগুলো একা একাই নিজের সাথে নিজে বললো বৃষ্টি। তারপর ভাবতে লাগলো বর্ষার কথা। বৃষ্টি চোখের জল ছেরে দিয়ে বললো
— তুই কোথায় হাড়িয়ে গেলি বর্ষা। সেদিনের পর আর কেনো ফিরে এলি না তুই। তুই আমার পাশে থাকলে যে আমার এতটা একা ফিল হতো না। প্লিজ বর্ষা তুই যেখানেই থাকিস ফিরে আয়না আমার কাছে। তোকে যে বড্ড প্রয়জন আমার এখন।
এসব কথা ভেবে ভেবে চোখের জল ফেললো কিছুক্ষণ বৃষ্টি। তারপর ছাদ থেকে নিচে নেমে এলো।
,
,
,
এদিকে শ্রাবন আর তিথি একটা কফিশপে দেখা করতে এসেছে। শ্রাবনকে এতদিন পর দেখে তো তিথি যেনো যায় যায় অবস্থা। এই কয়েক বছরে শ্রাবন যেনো কলেজ লাইফের চাইতেও আরো বেশি হ্যান্ডসাম হয়ে গেছে। তিথিও কিন্তু কম নয়। ফর্সা স্লিম বডি যথেষ্ট সুন্দরী। তবে তিথির পোষাক আসাক গুলো একটু বেশিই মর্ডান, জিমস প্যান্ট আর টিশার্ট পড়ে থাকতেই বেশি আনন্দ বোধ করে তিথি। তবে ওর এসব পরার পিছনেও একটা কারন আছে সেটা না হয় এখন গোপনই থাক।
শ্রাবনকে দেখা মাত্রই দৌড়ে শ্রাবনের কাছে গিয়ে গলা জরিয়ে ধরলো তিথি। তারপর বললো
— ও বেইবি তুমি কেমন আছো। তোমাকে আমি কত্ত মিস করেছি এতদিন তুমি জানো। I miss you so much baby,,
তিথির কথা শুনে তিথিকে নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে শ্রাবন বললো
— ওহ তিথি তোমার অভ্যাস কি কখনোই চেইন্জ হবে না? তুমি ভালো করেই জানো আমি এমন গায়ে পরা ভাব একদম পছন্দ করি না।
— আমি তো জানি বেইবি। বাট এতদিন পর তোমায় পেয়ে একটু হাগ করবো না তা কখনো হয় বলো। ইশশ তুমি তো আগের চাইতেও বেশি হ্যান্ডসাম ও কিলার লুকের অধিকারী হয়েছো।
— তোমার এসব ফালতু বক বক শেষ হয়ে থাকলে এবার একটু দরকারি কথা বলি তিথি? নাকি আমি চলে যাবো তুমি বকবক করো?
— নো বেইবি নো, তোমায় আর কোথাও যেতে দিবো না আমি। আমি আর কিছু বলবো না এই নাও একদম চুপ করলাম। এখন বলো কি বলতে আমায় শরন করলে?
,,,,,,,,,
তারপর বেশ কিছু সময় শ্রাবন আর তিথি সেখানে বসে অনেক গল্প করলো। সব গল্প শেষে কফিশপ ছেরে বের হয়ে শ্রাবন তিথিকে উদ্যেশ্য করে বললো
— তাহলে তুমি বাসায় গিয়ে রেডি হয়ে নাও তিথি। আমি সন্ধার পর গিয়ে তোমায় নিয়ে আসবো। আজ থেকে তুমি আমার বাসাতেই থাকবে।
— ওকে বেইবি, আমি তোমার জন্যে ওয়েট করবো। এখন তাহলে আসি।bye
কথাগুলো বলে বিদায় নিয়ে চলে গেলো তিথি। শ্রাবনও ফিরে গেলো নিজের বাসায়।
,
,
,
,
রাত ৯.০০টা
চুপি চুপি বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো বৃষ্টি। বৃষ্টি চায় না ওর জন্যে নীলদের বাসার কেউ বিপদে পরুক। কারন ওরা বৃষ্টির জন্যে অনেক করেছে যা আপন কেও করবে না। তাই একা একাই শ্রাবনের বিরুদ্ধে প্রমান জোগার করতে হবে ওকে। বৃষ্টি ধিরে ধিরে পা টিপে টিপে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার আগে নিজের রুমের বিছানায় কাপড় চোপড় দিয়ে এমন করে সাজিয়ে রেখে গেলো যে দেখে মনে হবে বৃষ্টি সেখানে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। তারপর দরজাটাকে চাপিয়ে বেরিয়ে গেলো।
রাস্তায় কোনো গাড়ি না পেয়ে হেটেই রওনা হলো বৃষ্টি। যেভাবেই হোক ওকে প্রমান যোগার করতেই হবে। প্রায় ২০ মিনিট হলো হেটে চলেছে বৃষ্টি। কিন্তু এখন অব্দি অর্ধেক পথই শেষ হয়নি ওর। এদিকে রাত ৯.৩০ বেজে গেছে। বৃষ্টির বেশ ভয় ভয়ও লাগছে। তবুও বৃষ্টি না থেমে মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছে আর রিক্সাও খুজে চলেছে। কিন্তু আজ যেনো রিক্সাওয়ালারাও বৃষ্টির সাথে শত্রুতা শুরু করে দিয়েছে।
অনেকটা পথ হাটার পর একটা জায়গায় এসে থমকে গেলো বৃষ্টি। বেশ কয়েকজন লোক গোল হয়ে বসে জুয়া খেলছে। আর নেশাও করেছে মনে হচ্ছে। বৃষ্টিকে দেখে বৃষ্টির দিকে এগিয়ে আসছে তারা। বৃষ্টির পা যেনো জমে গেছে সেখানে। ভয়ে আর সামনে বা পিছনে যাওয়ার শক্তি পাচ্ছে না বৃষ্টি। বৃষ্টি এবার বুঝতে পারছে ও কত বড় ভুল করেছে বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে একা বেরিয়ে এসে।

লোকগুলো বৃষ্টির একদম কাছে চলে এসেছে প্রায়। লোকগুলোকে দেখে বৃষ্টি কাপা কাপা গলায় বললো
— প্লি প্লিজ আপ আপনারা এদিকে আসবেন না। দুরে যান আপনারা।আমি কিন্তু চিৎকার করবো।
বৃষ্টির কথা শুনে লোকগুলো একে অপরের দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললো
— চিৎকার তো করবেই, চিৎকার করতে করতে তো গলা শুকিয়ে যাবে তোমার জানু। এই রাতের বেলা তোমার মতো পরীকে একা এভাবে পাবো ভাবিনি তো আমরা। আজ যে আমাদের রাতটা রঙিন হবে। তাই তোমার কাছে তো আমাদের আসতেই হবে জানেমন।

বৃষ্টির এবার ভয়ে কাপাকাপি শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টি চোখের জল ছেরে দিয়ে ধিরে ধিরে পিছাতে লাগলো।

আর তখনি বৃষ্টির সামনে এসে থামলো একটা বড় কালো রঙের প্রাইভেট গাড়ি।

আর সেই গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে বাইরের দিকে তাকালো শ্রাবন।

শ্রাবনকে দেখতে পেয়ে মুখে হাশি ফুটে উঠলো বৃষ্টির।

বৃষ্টি মনে মনে ভাবলো শ্রাবন ওকে বাচাতে এসেছে।

কিন্তু বৃষ্টির সব চিন্তায় পানি ঢেলে দিয়ে শ্রাবন ঐ লোকগুলোকে বললো

এই যে আপনাদের বলছি, রাস্তা ঘাটে এসব না করে হোটেলে নিয়ে যান না। বা কোনো জঙ্গলে।

এই সব মেয়েরা তো আপনাদের জন্যেই রাস্তায় বের হয় একা একা।

আপনাদের আনন্দ দিবে বলে। তাই রাস্তায় এমন না করে হোটেলে বা জঙ্গলে যান।

শ্রাবনের কথা শুনে যেনো মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো বৃষ্টি।

যে শ্রাবন এক সময় ওর দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে চোখ তুলে নিতো।

ওকে বাজে কিছু বললে জিব্বা কেটে দিতো।

সেই শ্রাবন আজকে এটা কি বলছে ঐ লোকগুলোকে। মানুষ এতটা বদলে যায় কি করে।

.
কথাগুলো মনে মনে ভেবে অবাকের ওপর অবাক হচ্ছে বৃষ্টি।

এদিকে শ্রাবনের কথা শুনে ঐ লোকগুলো তো দারুন খুশি।

কারন তারা শ্রাবনকে প্রথম দেখেই খুব ভয় পেয়েছিলো।

তারা শ্রাবনকে একবার দেখেই চিন্তে পেরে ছিলো।

লোকগুলো জানে শ্রাবন চাইলে ওদের সেখানেই খুন করে দিতে পারে।

কিন্তু শ্রাবন যখন ওদের হয়ে কথা বললো তখন ওদের খুশি যেনো আর ধরে না।

শ্রাবন কথাটা বলেই একটা রহশ্যময় হাসি দিয়ে গাড়ির কাচটা তুলে দিলো।

গাড়ির কাচ তোলার আগে বৃষ্টি দেখলো গাড়িতে শ্রাবনের পাশে একটি মেয়ে বসে আছে বেশ সুন্দরী ও মডার্ন।

শ্রাবন যখন গাড়ির গ্লাস তুলে দিচ্ছিলো তখন মেয়েটি শ্রাবনকে বললো

ওহ শ্রাবন বেইবি, তুমি কি ঐ বেহেনজিকে চেনো নাকি?

কি ড্রেসাপ একে বারেই বেহেনজির মতো।

মেয়েটির কথায় শ্রাবন এক নজর বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বললো

নাহ সুইটহার্ট আমি এমন রাস্তার মেয়েদের চিনিনা।

কথাটা বলেই সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো শ্রাবন।

আর বৃষ্টি সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে গাড়ির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।

এদিকে ঐ লোকগুলোও এগিয়ে আসছে বৃষ্টির কাছে সেদিকে বৃষ্টির কোনো খেয়ালই নেই,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,

No comments