Breaking News

ভালবাসার ফুল || পর্ব-০৫

আমি মিহাদকে কোন উত্তর না দিয়ে আমার হাতের তর্জনি আঙুল দিয়ে সামনের টেবিলের দিকে ইশারা করলাম,
আর সঙ্গে সঙ্গে আমি সেন্সলেস হয়ে গেলাম।

আমার যখন জ্ঞান ফিরে আমি তখন আমাদের বাসায় আমার রুমে,আমার খাটে।

-তিতিশ্মা,এই তিতিশ্মা!কি হয়েছে তোর?
-তিতিশ্মা,হঠাৎ কি হলো তোমার?
-মিহাদ,
-হুম বলো,
-মিহাদ,শি শি শিশির।
-শিশির?
শিশির কি?
-আমি আমি আমি শিশিরকে দেখেছি।
-কিহ?তুমি শিশিরকে দেখেছো?
তা কিভাবে সম্ভব?
-বিশ্বাস করুন,আপনি যখন চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার পেছনে দাঁড়ালেন,তখনই আমার সামনের টেবিলে চোখ যায়,আর আমি দেখতে পাই শিশিরকে।

-শিশির না এক মাস হয় মারা গেছে?তাহলে ও কি করে রেস্টুরেন্টে আসবে বলো?তুমি হয়তো ভুল দেখেছো।
অন্য কাউকে তুমি শিশির মনে করেছো।

-জানিনা আমি কিচ্ছু জানিনা।কিন্তু এটা জানি,ওটা শিশিরই ছিলো।
আমি শিশিরকেই দেখেছি।
স্পষ্ট দেখেছি।আমার দু চোখ ওকে চিনতে কখনোই ভুল করবেনা।কোন দিন না।
শিশির বেঁচে আছে,হ্যাঁ হ্যাঁ আমার শিশির বেঁচে আছে।

-কে এই শিশির?আমি তো কিছুই বুঝতেছিনা।

-ওই যে আম্মু,আপনি হয়তো চিনবেন না।শিশির হচ্ছে তিতিশ্মার বন্ধু।
-কি হয়েছে ওর?
-আমাদের বিয়ের দিন শুনেছিলাম ও এক্সিডেন্টে মারা গেছে।
এখন তিতিশ্মা বলছে ওকে নাকি রেস্টুরেন্টে দেখেছে।
-মৃত মানুষ রেস্টুরেন্টে আসবে কি করে?
-আমিওতো সেটাই বলছি।

-পবন ভাইয়া মিথ্যে বলেছে।শিশির তাহলে সেদিন মারা যায়নি।
কেন বল্লো মিথ্যে?
এটা আমার জানতে হবে।
আর শিশিরকেও আমার খুঁজে বের করতে হবে।
-আচ্ছা সকালে আমরা ওকে খুঁজে বের করবো।তুমি এখন একটু ঘুমাও।
-তুমিও বাবা শুয়ে পড়ো।
অনেক রাত হয়েছে।
-আচ্ছা আম্মু।

আমার তো কিছুতেই ঘুম আসছেনা।
আর আসার কথাও না,আমি কখন শিশিরকে দেখবো আমার সেই অপেক্ষা।

-তিতিশ্মা,
-হুম।
-ঘুমাও না প্লিজ।তুমি অসুস্থ।
-না আমি একদম ঠিক আছি।
-একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?
-হুম করুন।
-একটা মাস কিভাবে দেখতে দেখতে চলে গেলো তাইনা?
-হুম।
-এত দিনে আমার জন্য কি তোমার মনে একটুও ভালবাসা কিংবা মায়া জন্মেনি?
আমার জন্য কি তোমার একটুও মায়া হয়না?
-এত রাতে আর এমন একটা সিচুয়েশনে কিসব কথা বার্তা শুরু করলেন?
-আচ্ছা তাহলে এসব বাদ।
-হুম।
-আরেকটা কথা বলি?
-বলুন।
-তুমি,আমাকে আর আমার পরিবারকে ছেড়ে চলে যাবে নাতো?আমার পরিবারের সবাই কিন্তু তোমাকে খুব ভালবাসে,আর আম…

আমি এবার চুপ করে আছি।
খেয়াল করি,মানুষটার চোখ থেকে পানি পড়ছে।

-আপনি কি একটু ঘুমাবেন?
অনেক রাত হয়েছে কিন্তু।
সকালেই আমাদের আবার শিশিরকে খুঁজতে যেতে হবে।

-আচ্ছা ঘুমাচ্ছি।তুমিও ঘুমাও একটু।

সারারাত দুজনই জেগে থাকি।
ঘুম হয়না কারোই।
আমি ভাবছি শিশিরের কথা।
আর মিহাদ হয়তো ভাবছে আমারই কথা।

সকাল হতেই ফ্রেশ হয়ে মিহাদকে বলি,চলুন আমরা ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে নাস্তা করি।
যদি শিশির ওখানে থেকে থাকে।

-তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে?
এত সকালে শিশির রেস্টুরেন্টে কি করবে?
আম্মু নাস্তা বানিয়েছে মনে হয়।
চলো খেতে।

নাস্তা করে বের হবোনে।
খুশি?

-হুম।

আমি আর মিহাদ নাস্তা করেই বেরিয়ে পড়লাম শিশিরের খোঁজে।
ওকে খুঁজতে খুঁজতে দুপুর হয়ে গেলো,কোথাও খুঁজে পেলাম না।
মিহাদ আমাকে ওই রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলো।
আমরা লাঞ্চ ওখানেই করলাম।

কিন্তু আমার দু চোখ শুধু শিশিরকেই খুঁজছে।

হঠাৎ মনে হলো ওই দোকান টায় যাই,
যেখানে শিশির বসতো।

গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,শিশির কোথায়?
তারা বললেন,
শিশির তো এক দেড় মাস আগেই এই দোকান ছেড়ে চলে গেছে।
জিজ্ঞেস করলাম ওর কোন এড্রেস আছে কিনা?

তারা বললেন,
-না কোন এড্রেস জানা নেই।
কিন্তু এই ভাইয়া টা কে আপু?দেখতে কিন্তু খুব সুন্দর।আমাদের দুলাভাই নাকি?

আমি কোন উত্তর দিলাম না।
মিহাদ সবার সাথে হাত মিলিয়ে বললেন,
আমি মিহাদ।

-আপনাদের দুজনকে খুব মানিয়েছে কিন্তু।
-ওকে ব্রো,সবাই একদিন বাসায় আসবেন।আজ আসি।
-আচ্ছা ভাইয়া ভালো থাকবেন।

মন খারাপ করে চলে আসলাম।

-মন খারাপ করোনা।
শিশির যদি বেঁচে থাকে,তাহলে আমরা ঠিক খুঁজে পাবো ওকে।
দেখে নিও।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে,সন্ধ্যা থেকে রাত।
আমি আর মিহাদ রাস্তা ঘাটে,পার্কে,সব জায়গায় শিশিরকে খুঁজছি।
খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত।তবুও ওর দেখা নেই।
যেদিন পবন ভাইয়া ওর মৃত্যুর সংবাদ জানালো সেদিন থেকেই ওর মোবাইল নং টাও বন্ধ।
কতবার ট্রাই করেছি।ফোন আর ঢুকেনি।

হঠাৎ মিহাদ হাত ধরে আমাকে রাস্তার পাশে একটা ফুলের দোকানে নিয়ে গেলো।

-কি হলো?
এখানে আসলেন কেন?
-এই দেখো,কত সুন্দর ফুল।
ফুলের এই ক্রাউন টা তুমি পরলে অনেক সুন্দর লাগবে।
এই যে ভাই এটা দিন তো।

মিহাদ ক্রাউন টা নিয়ে আমার মাথায় পরিয়ে দিলো।

রাতের বেলা রাস্তায় ফুলের দোকান গুলোতে ভীড় জমে যায়।

প্রিয়তম রা প্রিয়তমাদের জন্য হয়তো ফুল কিনে নিয়ে যায় নিজ হাতে তাদের সাজানোর জন্য।
তাই হয়তো এত ভীড় জমে যায়।

মিহাদ দোকান দার কে বল্লো,
-আমাকে ১০১ টা গোলাপ ফুল দিন।
-এত ফুল দিয়ে আপনি কি করবেন?
-যা করার করবো,করলেই তো দেখবে।
এত কিছু এখন জানতে হবেনা।

দোকানদার মিহাদকে একশত একটা গোলাপ ফুল গুচ্ছ করে দিলেন।

মিহাদ দোকানদারকে টাকা দিয়ে।
ফুল গুলো হাতে নিয়ে,
আমাকে দোকান থেকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার সাইডে দাঁড় করিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে এই রাত্তিরে ১০১ টা গোলাপ আমার সম্মুখে হাত বাড়িয়ে ধরে কেবলই বলেছে,

তিতিশ্মা,আমি তোমাকে ভালবাসি।
সারাজীবন এই পাগলটাকে কি একটু একটু করে ভালবাসা দিবে?

আর সেই মুহূর্তে আমার চোখ যায় পাশের একটা ফুলের দোকানে।
শিশির ওখানে দাঁড়িয়ে,ফুল কিনছে।

আমি মিহাদ কে আবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলি,
-মিহাদ, শিশির।

মিহাদ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গোলাপ ফুল গুলো দোকানদারকে ছুড়ে দিয়ে,
ওর হাত দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে।

চলবে…

No comments