Breaking News

গল্প – ভাইয়ের দেমাগি শালি || পর্ব –০৩

কলেজে এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি এমন
সময় মিঠু(আমাদের ক্লাসমেট)এসে বলল..
মিঠুঃনিলয় তোমাকে প্রিন্সিপাল স্যার ডেকেছেন
আমিঃঠিক আছে যাচ্ছি।
তারপর বন্ধুদের সাথে আর কথা না বলে প্রিন্সিপাল
স্যারের রুমে চলে গেলাম।
আমিঃস্যার আসবো?
প্রিন্সিপালঃহুম আসো।
আমিঃস্যার আমায় ডেকেছেন
প্রিন্সিপালঃহুম আগে তুমি বসো
আমিঃজ্বি স্যার এখন বলুন(বসার পর)
প্রিন্সিপালঃআমি দুদিন ধরে লক্ষ্য করছি তুমি জান্নাত
মেয়েটার সাথে বেশি কথা বলছো।এবং কি তুমি
তার হাতে মারও খেয়েছো।এই কথা যদি তোমার
বাবা মানে আমার বন্ধু জানতে পারে তাহলে কি
হবে।আর আমাকে কি বলবে বুঝতে পারছো।
আমিঃজ্বি স্যার।তবে আপনি চিন্তা করবেন না।আব্বু
জানে আমাকে একটা মেয়ে থাপ্পড় দিছে।বাট সেটা
যে জান্নাত তা জানে না।
প্রিন্সিপালঃকিন্তু কেনো?
আমিঃস্যার..আপনি আর আন্টি কিভাবে বিয়ে করেছিলেন?
প্রিন্সিপালঃপালিয়ে গিয়ে
আমিঃকেনো পালিয়ে ছিলেন?
প্রিন্সিপালঃভালোবাসি তাই
আমিঃস্যার এটাই আমার উত্তর ?
প্রিন্সিপালঃতোকে আমি দেখাচ্ছি দাড়া….
স্যার কথাটি বলার সাথে আমি ফুড়ুৎ। কারণ স্যার
যদি আমাকে ধরতে পারে।তাহলে আমার ইজ্জতে
ফালুদা বের করে ছাড়বে। তারমধ্যে একটা উদাহরণ
হলো কান ধরে ১০মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা।আর স্যারের
সাথে ফাজলামো করার কারণ হলো….আব্বু আর
স্যার খুব ভালো বন্ধু।
প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে থেকে দৌড়ে বের হয়ে বন্ধুদের
কাছে যাবো।এমন সময় কার সাথে যেনো ধাক্কা লেগে
পরে গেলাম।খেয়াল করলাম রুহি(জান্নাতের ফ্রেন্ড)
আমিঃসরি রুহি আমি আসলে তোমাকে খেয়াল করিনি
রুহিঃতবে একটু দেখে চলতে শেখো
আমিঃহুম এখন থেকে তাই করবো।আর তোমাকে
ধন্যবাদ কিছু না বলার জন্য।
রুহিঃকেনো?
আমিঃতোমার জায়গায় তোমার গুন্ডি বান্ধুবী থাকলে
আমার গালে এখন দুইটা পড়তো
রুহিঃমনে হচ্ছে এখন পরবে
আমিঃমানে?
রুহিঃপেছনে দেখো…
রুহির কথা শুনে পিছু ঘুরতেই দেখলাম ঐ বদজাত
মেয়ে মানে জান্নাত দাঁড়িয়ে আছে।
জান্নাতঃঐ আমি কি?
আমিঃতু…তুমি.. তুমি কি?
জান্নাতঃতুই তোতলাচ্ছিস কেনো…যেটা একটু আগে
বললি সেটা আবার বল..
আমিঃতুমি খুব সুন্দরী…
জান্নাতঃআমি এটা শুনতে চাইনি..তুই রুহিকে যা
বললি আমাকে নিয়ে সেটা বল
আমিঃতোমার দিব্বি এটাই বলছি
জান্নাতঃ সত্যি তো?
জান্নাতের কথা শুনে বুঝা যাচ্ছে ও তেমন কিছু শোন
নাই।এই ফাঁকে একটু পাম মারি দেখি কি বলে..
জান্নাতঃঐ কথা বলছিস না কেনো..
আমিঃআরে সত্যি বলছি।তুমি তো অনেক সুন্দরী
তোমাকে দেখলেই আমার মনটা চাই..তোমাকে
দেখেই আমার সারাজীবন কাটিয়ে দেয়।তোমার
ঐ মায়াবী চোখটা দেখলে কখনো চোখের পলক
ফেলতে ইচ্ছা করে না।আর তোমার ঐ পাপড়ির
মতো ঠোট দেখলে..(থামিয়ে দিয়ে)
জান্নাতঃতোর এতো প্রশংসা করা লাগবে না
আমিঃঠিক আছে
তারপর আর কোনো কথা না বলে বন্ধুদের সাথে
ক্লাসে আসলাম।সবগুলো ক্লাস করার পর বাইরে
আসলাম।এসে দেখি জান্নাত একা দাঁড়িয়ে আছে।
আমিঃকি করো..
জান্নাতঃতোর চোখ নেই দাঁড়িয়ে আছি।
আমিঃওহ..একটা কথা বলার ছিলো
জান্নাতঃবলে ফেল
আমিঃআই লাভ ইউ
জান্নাতঃমানে..?
আমিঃমানে আমি তোমাকে ভালোবাসি
জান্নাতঃঐ সালা কুত্তা এটার মানে আমিও জানি।
আর তুই কিভাবে ভাবলি তোর মতো লুচ্চা ছেলের
সাথে আমি প্রেম করবো (কলার ধরে)
আমিঃআচ্ছা তোমার কি লজ্জা লাগে না এমন
গুন্ডামি করতে।কথায় কথায় মারতে চাও।
জান্নাতঃতো তোকে কি আমি আদর করবো কুত্তা
আমিঃচাইলে করতেও পারো…
জান্নাতঃআমি তোকে…..ধুর আমিই চলে যাচ্ছি(কলার
ছেরে দিয়ে চলে গেলো)
আমিঃটাটা……
সেখানে আর দাঁড়িয়ে না থেকে বাসায় চলে এলাম।
বাসায় আসার পর ফ্রেস হয়ে আম্মুর সাথে কিছু
কথা বলে ঘুমিয়ে পড়লাম। সন্ধ্যার সময় ঘুম ভেঙে
যাওয়ায়।ফ্রেস হয়ে আব্বু-আম্মুর রুমে চলে গেলাম।
আমিঃআব্বু কি করো..
আব্বুঃএইতো বসে আছি।
আম্মুঃএখন আমি পর হয়ে গেছি তাই না
আমিঃআরে আম্মু কি যে বলো।তোমরাই তো সব
(আম্মুকে জড়িয়ে ধরে)
আম্মুঃহয়েছে আর বলা লাগবে না।এখন বল কি সমস্যা
আমিঃসমস্যা আমার না আম্মু,সমস্যা হলো ভাইয়ার
আব্বুঃকেনো তার আবার কি হলো
আমিঃ…..(কিছু বলতে যাবো তার আগে ভাইয়া আসলো)
ভাইয়াঃআরে তুই এখানে, আমি তো তোকেই খুজছিলাম
আমিঃকেনো
ভাইয়াঃতোর সাথে কথা আছে
আমিঃঠিক আছে পরে শুনবো।এখন কিছু পারসোনাল
কথা বলছি তুমি এখন যাও।
ভাইয়াঃকেনো আমি থাকলে সমস্যা কি
আমিঃনা তুমি যাও
ভাইয়া;না আমি।যাবো না
আমিঃঠিক আছে তাহলে শোনো..আব্বু-আম্মু
ভাইয়া একটা মেয়েকে ভালোবাসে আর মেয়েটাও
ভাইয়াকে ভালোবাসে।এখন তোমরা চাইলে তারা
এখন বিয়ে করবে……
আমার কথা শুনে আব্বু আম্মু ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে
আছে।আর ভাইয়া আমার দিকে।এটা জেনো এক
সার্কেল হচ্ছে….ভাইয়ার দিকে ভালো করে তাকাতেই
বুঝে ফেললাম অনেক লজ্জা পেয়েছে।
আমিঃভাইয়া এখনো কি দাঁড়িয়ে থাকবে?
ভাইয়া আমার কথা শুনে চলে গেলো….
ভাইয়া চলে যাওয়ার পর…
আম্মুঃনিলয় মেয়েটা কে রে?
আমিঃভাইয়ার পারসোনাল সেক্রেটারি
আব্বুঃআরে ওর তো পিএস ঠিক হয়েছে মাত্র দুদিন।
আর এই দুদিনেই ভালোবাসা হয়ে গেলো
আমিঃনা আব্বু,তারা অনেক আগে থেকেই একজন
আরেকজনকে ভালোবাসে।
আম্মুঃবুঝলাম কিন্তু কাজটা কার জন্য করেছিস?
তোর নিজের জন্য নাকি দুজনের জন্য
আমিঃদুজনের জন্যই।
আব্বুঃঠিক আছে এখন ওর বাসার ঠিকানা দাও
কালকেই তার বাসায় যাবো…
আমিঃ……(ভাইয়ার থেকে ঠিকানা নিয়েছিলাম।
সেটা আব্বুকে দিলাম)
আব্বুঃঠিক আছে..এখন তুমি বলো তুমি কি কাউকে
ভালোবাসো নাকি এই পাগলের মতোই আছো?
আম্মুঃখবর দার আমার ছেলেকে পাগল বলবে না
আব্বুঃওকে আর বলবো না।এখন তোমার ছেলেকে
জিজ্ঞাস করো কাউকে ভালোবাসে নাকি
আব্বু আম্মুর এমন কথা শুনে রুমে থেকে চুপিচাপি
চলে যাবো এমন সময় আম্মু ডাকলো…
আম্মুঃনিলয় তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?
আমিঃইয়ে..মানে…আম্মু
আম্মুঃতা মেয়েটা কে আর বাসা কোথায়
আমিঃনাম জান্নাত বাসা কোথাই জানিনা।
আব্বুঃমেয়েটাও কি তোমাকে ভালোবাসে?
আমিঃনা আব্বু।তবে আমার ধীর বিশ্বাস সেও এক
দিন আমাকে ভালোবাসবে।
তারপর আব্বু আম্মুর সাথে আরো কিছু কথা বলে।
রুমে চলে এলাম।কিছুক্ষণ পর রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডেকে গেলো।তারপর খাবার খাওয়ার
পর ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে কিছু সময় আড্ডা দেয়ার
পর ঘুমিয়ে গেলাম।
পরেরদিন…..
কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি এমন সময় সাকিব
কল করলো…..
সাকিবঃদোস্ত আমি শেষ
আমিঃশেষ মানে?
সাকিবঃআর মাত্র ৭দিন পর প্রিয়ার বিয়ে(কান্না করে)
আমিঃআরে তুই কান্না করছিস কেনো মেয়েদের মতো।
ঠিক আছে তুই রেডি হয়ে থাক আজকেই তোর
নানু বাড়ি আমরা সবাই যাবো।
সাকিবঃদোস্ত আমি প্রিয়াকে ছাড়া বাচবো না
আমি;চুপ সালা।আর যেটা বললাম সেটা কর আমরা
সবাই তোর বাসায় আসছি।
সাকিবের সাথে আর কোনো কথা না বলে জয়,
রাহুলকে ফোন দিয়ে রেডি হয়ে সাকিবের বাসায়
আসতে বললাম।আমিও রেডি হয়ে গাড়ি নিয়ে
সাকিবের বাসায় চলে এলাম।
সাকিবের বাসায় আসার পর।দেখলাম সাকিব রুমে
ভিতরে কান্না করছে।
আমিঃঐ সালা কান্না করছিস কেন?
সাকিবঃতাছারা কি করবো?(কান্না করতে করতে)
আমিঃএখন তুই কান্না থামা।আর আঙ্কেল,আন্টি
কোথাই গেছে?তারা যদি দেখে তুই এমন করছিস
তারা কি ভাববে বুঝতে অয়ারছিস?
সাকিবঃআজ সকালেই নানু বাসায় গেছে…
আমি;ঠিক আছে সমস্যা নাই।আমরাও এখন যাবো
আর জয় রাহুলকেও বলছি ওরাও আসছে।
কিছুক্ষণ পর জয়,আর রাহুল আসলো।তারপর আর
কোনো কথা না বলে সাকিবের নানু বাসার উদ্দেশ্য
রওনা দিলাম।
…..
[চলবে…]

No comments